📄 সভ্য পোশাক পরিধান
সভ্য ও ভালো পোশাক পরিধান চরিত্রবান নারী-পুরুষের পরিচয়। মহান স্রষ্টা সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। সুতরাং সুন্দর থাকা সুন্দর চরিত্রের মানুষের আচরণ অবশ্যই হবে।
কিন্তু সভ্য পোশাক বলে কাকে?
আমরা সাধারণভাবে জানি, আমাদের বিবেক যেটাকে সভ্য বা ভালো বলে, সেটাই কিন্তু সভ্য বা ভালো নয়। তাছাড়া যত মানুষ, তত রকমের মন, তত রকমের বিবেক। বিবেকে-বিবেকে ও পছন্দে-পছন্দে তফাৎ আছে। তাই আমাদের সৃষ্টিকর্তা তথা শরীয়ত যেটাকে ভালো বলে, সেটাকেই ভালো বলে মেনে নিতে হয়। আর শরীয়তে সভ্য ও ভালো লেবাস-পোশাকের কিছু শর্ত আছে।
মহিলাদের পোশাকে শর্ত হল,
১। লেবাস যেন (বেগানার সামনে) দেহের সর্বাঙ্গকে ঢেকে রাখে।
২। লেবাস যেন এমন পাতলা না হয়, যাতে কাপড়ের উপর থেকেও ভিতরের চামড়া নজরে আসে।
৩। পোশাক যেন এমন আঁট-সাঁট (টাইটফিট) না হয়, যাতে দেহের উঁচু-নিচু ব্যক্ত হয়।
৪। লেবাস যেন কোন কাফের মহিলার অনুকৃত না হয়।
৫। তা যেন পুরুষদের লেবাসের অনুরূপ না হয়।
৬। লেবাস যেন জাঁকজমকপূর্ণ প্রসিদ্ধিজনক না হয়।
৭। যে লেবাস মহিলা পরিধান করবে সেটাই যেন (বেগানা পুরুষের সামনে) সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি-আকর্ষী না হয়।
৮। তা যেন সুগন্ধিত না হয়।
আর পুরুষদের লেবাসের শর্তাবলী হল,
১। লেবাস যেন নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অবশ্যই আবৃত রাখে।
২। এমন পাতলা না হয়, যাতে ভিতরের চামড়া নজরে আসে।
৩। এমন আঁট-সাঁট না হয়, যাতে দেহের উঁচু-নিচু ব্যক্ত হয়।
৪। কাফেরদের লেবাসের অনুকৃত না হয়।
৫। মহিলাদের লেবাসের অনুরূপ না হয়।
৬। জাঁকজমকপূর্ণ প্রসিদ্ধিজনক না হয়।
৭। গাঢ় হলুদ বা জাফরানী রঙের না হয়।
৮। লেবাস যেন রেশমী কাপড়ের না হয়।
৯। পরিহিত লেবাস (পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি, কামীস প্রভৃতি) যেন পায়ের গাঁটের নিচে না যায়।
উক্ত শর্তাবলী পালন ক'রে যে নারী-পুরুষ পোশাক পরিধান করবে, তাদেরকে চরিত্রবান বলে গণ্য করা হবে।
তবে এ কথাও ঠিক যে, পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে, মানুষের মনের দর্পণ। মন যে প্রকৃতির হবে, তার ছাপ ফুটে উঠবে দেহের পোশাকে। মনে পরহেযগারি না থাকলে, কেউ পরহেযগারের পোশাক পরিধান করতে পারে না। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ
“হে বনী আদম! (হে মানবজাতি) তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি। আর সংযমশীলতার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট। ৩৯১
অবশ্য ঢঙ ও সঙ করার নিমিত্তে অনেকে ভালো সাজার ভালো লেবাস পরতে পারে। কিন্তু আচরণে প্রকাশ পেয়ে যাবে তাদের আসল পরিচয়।
সভ্য ও ভদ্র মানুষের পরিচয় পাওয়া যাবে ভদ্র ও শালীন পোশাকের ভিতরে। যেমন অসভ্য ও অভদ্র লোকের পরিচয় পাওয়া যাবে তার অসভ্য ও অশালীন পোশাকের ভিতরে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করার বহুবিদ পন্থার মধ্যে অশালীন পোশাক পরিধান করা অন্যতম। মহান আল্লাহ তাই বিধান দিয়েছেন, যাতে নারী-পুরুষ সুসভ্য পোশাক পরিধান করে এবং উভয়েই নিজ নিজ দৃষ্টি সংযত রাখে। নারীর জন্য বিধান দিয়েছেন পর্দার। পর্দা হল পবিত্রতা ও শালীনতার পরিচয়। অবশ্যই সেই সাথে শর্ত হল মনের পর্দা ও পবিত্রতা।
টিকাঃ
৩৯১. সূরা আ'রাফ: ২৬
📄 দৃষ্টি-সংযম
অবৈধ নারী অথবা সুদর্শন বালকের প্রতি পুরুষের এবং অবৈধ পুরুষের প্রতি নারীর সকাম দৃষ্টিপাত অসচ্চরিত্রতার অন্যতম লক্ষণ। এই জন্য মহান আল্লাহর মু'মিনদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে স্বীয় নবী কে আদেশ দিলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ
"বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে।"৩৯৮
আর মহানবী এর নির্দেশ হল,
لا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ ، وَلاَ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ ، وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، وَلاَ تُفْضِي المَرْأَةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ
"কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে। (অনুরূপভাবে) কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে।"৩৯৯
যেখানে গেলে বা বসলে অবৈধ দৃষ্টিপাত হতে পারে, সে জায়গায় যাওয়া বা বসা উচিত নয়। যাতে নজরাগ্নির সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে না বসে এবং আঁখির বাঁকা ছুরি দ্বারা কারো হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত না হয়ে যায়। আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত, একদা নবী বললেন, "তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।" লোকেরা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা (ওখানে) বসে বাক্যালাপ করি।' রাসূলুল্লাহ বললেন, "যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর।" তারা নিবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! রাস্তার হক কী?' তিনি বললেন,
غَضُّ البَصَرِ، وَكَفُّ الأذى، وَرَدُّ السَّلامِ ، وَالأَمرُ بِالْمَعْرُوفِ ، وَالنَّهْي عَنِ الْمُنْكَرِ
"দৃষ্টি অবনত রাখা, (অপরকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।"৪০০
ব্যভিচার করা দুশ্চরিত্র লম্পটের কাজ। মূল ব্যভিচারের বহু ভূমিকা আছে। তার মধ্যে তার প্রাথমিক পর্যায়ের ভূমিকা হল সকাম দৃষ্টিপাত। আর তা হল চক্ষুর ব্যভিচার। মহানবী বলেছেন,
كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكُ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ : العَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأَذْنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ ، وَاللَّسَانُ زِنَاهُ الكَلَامُ، وَاليَدُ زِنَاهَا البَطْشُ، وَالرَّجُلُ زِنَاهَا الخطا ، وَالقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى ، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ
"নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকথা) শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) কথন, হাতের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ পথে) গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।"৪০১
বলা বাহুল্য, চরিত্রবান নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় অবৈধ কিছু তাকিয়ে দেখে না। কিন্তু দেখার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও যদি চোখ পড়ে যায়, তাহলে কী করার আছে? জারীর বিন আব্দুল্লাহ বলেন, 'আচমকা দৃষ্টি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেন আমি আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই।'৪০২
রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে বলেছিলেন,
يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ
“হে আলী! একবার নজর পড়ে গেলে আর দ্বিতীয়বার তাকিয়ে দেখো না। প্রথমবারের (অনিচ্ছাকৃত) নজর তোমার জন্য বৈধ। কিন্তু দ্বিতীয়বারের নজর বৈধ নয়। ৪০০
প্রকাশ থাকে যে, যা দেখা হারাম, তার ছবি দেখা হারাম। বিশেষ ক'রে নগ্ন ও অশ্লীল ছবি দর্শন কোন চরিত্রবান নারী-পুরুষের অভ্যাস হতে পারে না। কারণ পর্ণগ্রাফী দর্শন মাদকদ্রব্য সেবনের মতো তীব্র নেশায় পরিণত হয়। মাদকদ্রব্য সেবন না ক'রে যেমন অভ্যাসীর স্বস্তি আসে না, শান্তি আসে না, ঠিক তেমনই অবস্থা ঘটে পর্ণগ্রাফী দর্শনে অভ্যাসীর।
মাদকাসক্তরা যতটা আসক্তি মাদকদ্রব্যের প্রতি রাখে, তার থেকে বেশি আসক্তি আসে নগ্ন নারীদেহ ও অভিনীত যৌন-মিলন দর্শনের প্রতি। মাদকদ্রব্য মাদকাসক্তদের যতটা ক্ষতি করে, তার থেকে বেশি ক্ষতি করে নগ্ন নারীদেহ ও যৌনমিলন দর্শনের মাধ্যমে উষ্ণ তৃপ্তি গ্রহণকারীদের। কিন্তু নেশার ঘোরে ক্ষতিগ্রস্তরা সে ক্ষতির কথা অনুভবও করতে পারে না। পরিশেষে সর্বনাশই তাদের ভাগ্য হয়।
বলা বাহুল্য, অশ্লীল সেক্সী ছবি দর্শনে অভ্যাসী হওয়ার ফলে যে সকল ভয়ঙ্কর ক্ষতি রয়েছে, তার মধ্যে কতিপয় নিম্নরূপ :
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে।
> নগ্ন ছবি দেখার ফলে মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ নষ্ট হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর দাম্পত্য জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধী ব্যভিচারের মতো বড় পাপ ঘটায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধী ধর্ষণের মতো বড় পাপ ঘটায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে নাবালক শিশুদের ভবিষ্যৎ বরবাদ হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং সে অবৈধ দর্শনে অভ্যাসী কি কোন চরিত্রবান নারী-পুরুষ হতে পারে? কক্ষনো না।
টিকাঃ
৩৯৮. সূরা নূর: ৩০-৩১
৩৯৯. মুসলিম ৭৯৪
৪০০. বুখারী ৬২২৯, মুসলিম ৫৬৮৫
৪০১. মুসলিম ৬৯২৫, বুখারী ৬২৪৩, ৬৬১২
৪০২. মুসলিম ৫৭৭০
৪০০. আহমাদ, আবু দাউদ ২১৫১, তিরমিযী ২৭৭৭, হাকেম ২৭৮৮, বাইহাক্বী ১৩২৯৩, সহীহুল জামে' ৭৯৫৩
📄 লজ্জাস্থানের হিফাযত
চরিত্রবান পুরুষ ও চরিত্রবতী নারী নিজেদের গোপনাঙ্গের হিফাযত করে।
একজন পুরুষ তার সারা দেহ কেবল নিজ স্ত্রীকে দেখাতে পারে। অন্যান্যের কাছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অবশ্যই ঢেকে রাখে।
একজন নারী তার সারা দেহ কেবল স্বামীকে দেখাতে পারে। এ ছাড়া মাথা, হাত-পা মাহরাম বা এগানা অথবা মহিলাকে দেখাতে পারে। বেগানা পুরুষের কাছে মহিলার সর্বাঙ্গ গোপনাঙ্গ। মহান আল্লাহর নির্দেশ হল,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطَّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। তারা যা সাধারণততঃ প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য যেন প্রদর্শন না করে, তারা তাদের বক্ষঃস্থল যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনী পুত্র, তাদের নারীগণ, নিজ অধিকারভুক্ত দাস, যৌনকামনা-রহিত অনুচর পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমন সজোরে পদক্ষেপ না করে, যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।৪০৪
বাহ্য বিন হাকীমের দাদা একদা বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের গোপনাঙ্গ কী গোপন করব, আর কী বর্জন করব?' তিনি বললেন, "তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর।” সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?' তিনি বললেন, "যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।" সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?' তিনি বললেন,
اللهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ
"মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।"৪০৫
হ্যাঁ, একাকী থাকলেও নগ্ন থাকা উচিত নয়। এমনকি গোসলের সময়েও উলঙ্গ হওয়া উচিত নয়। বন্ধ বাথরুমের ভিতরকার কথা অবশ্য আলাদা। তবুও সেখানে লজ্জাস্থানে কাপড় রেখে গোসল করা উচিত। যেহেতু সেখানে কেউ না দেখলে মহান প্রতিপালক দেখছেন। সুতরাং তাঁকে লজ্জা করা উচিত। মহানবী বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَيٌّ سِتِّيرٌ يُحِبُّ الْحَيَاءَ وَالسَّتْرَ فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَتِرُ
"নিশ্চয় আল্লাহ আয্যা অজাল্লু লজ্জাশীল, গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতা ও গোপনীয়তাকে পছন্দ করেন। সুতরাং যখন তোমাদের কেউ গোসল করবে, তখন সে যেন গোপনীয়তা অবলম্বন করে (পর্দার সাথে করে)।"৪০৬
আর মহিলা? তার ব্যাপারে মহানবী বলেন,
المَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
"মেয়ে মানুষ (সবটাই) লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে।"৪০৭
"মহিলা হল গোপনীয় জিনিস। বাইরে বের হলে শয়তান তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে নির্নিমেষ তাকিয়ে দেখতে থাকে।"৪০৮
এই জন্য আম গোসলখানা, পুকুর, নদী, হ্রদ, ঝিল বা সমুদ্র ঘাটে বা তীরে গোসল করা কোন মহিলার জন্য জায়েয নয়। কারণ সেখানে জ্বিন ও মানুষ শয়তানের দৃষ্টি তার দেহে পড়ে। মহানবী বলেন,
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُدْخِلُ حَلِيلَتَهُ الْحَمَّامَ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ গোসলখানায় প্রবেশ করতে না দেয়।"৪০৯
উম্মে দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, "কোথেকে, হে উম্মে দারদা?!" আমি বললাম, 'গোসলখানা থেকে।' তিনি বললেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا إِلَّا وَهِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرِ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ
"সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও পরম দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।”৪১০
নারীর জন্য বৈধ নয় কোন কলেজ বা ক্লাবে শরীরচর্চার নামে নিজ পোশাক খোলা। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِهَا خَرَقَ اللَّهُ عَنْهَا سِتْرًا
"যে নারী স্বগৃহ ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে) আল্লাহ তার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেন। (অথবা সে নিজে করে দেয়। ৪১১
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا هَتَكَتْ سِتْرَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ رَبِّهَا
"যে মহিলা নিজের স্বামীগৃহ ছাড়া অন্য গৃহে নিজের কাপড় খোলে, সে আল্লাহ আয্যা অজাল্লা ও তার নিজের মাঝে পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।"৪১২
তাহলে বলুন, বেপর্দা নারী কি সুচরিত্রবতী হতে পারে? চরিত্রহীনা, অসতী, ভ্রষ্টা বা নষ্টা না হলেও বাইরে কাপড় খোলা মেয়ের সচ্চরিত্রতা কি পবিত্র থাকতে পারে?
যে আলোকপ্রাপ্তাদের দেহে পরপুরুষদের চোখের সামনে সূর্যের আলো পড়ে, তারা কি আদৌ চরিত্রবতী থাকতে পারে?
যারা বোরকার আঁধারও ও হেরেম ছেড়ে বাইরে এসে পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলায়, তাদের চরিত্র ও সতীত্ব কি নির্মল থাকতে পারে? উত্তর আপনার কাছে। রুচি আপন আপন।
টিকাঃ
৪০৪. সূরা নূর: ৩০-৩১
৪০৫. আবু দাউদ ৪০১৯, তিরমিযী ২৭৯৪, ইবনে মাজাহ ১৯২০, মিশকাত ৩১১৭
৪০৬. আবু দাউদ, নাসাঈ ৪০৬, মিশকাত ৪৪৭
৪০৭. তিরমিযী ১১৭৩, মিশকাত ৩১০৯
৪০৮. ত্বাবারানী, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমা, সহীহ তারগীব ৩৩৯, ৩৪১, ৩৪২
৪০৯. আহমাদ ১৪৬৫১, সহীহ তারগীব ১৬০
৪১০. আহমাদ ২৭০৩৮, ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ১৬২
৪১১. আহমাদ ২৬৬১১, তাবারানী ৭১০, হাকেম ৭৭৮২, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৭৭৭৪
৪১২. আহমাদ ২৪১৪০, তিরমিযী ২৮০৩, ইবনে মাজাহ ৩৭৫০, হাকেম, সঃ জামে' ২৭১০
📄 যৌন সচ্চরিত্রতা
চরিত্রবান মানুষ বলতে আমরা সাধারণত সেই মানুষকে বুঝি, যে কোন প্রকার অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয় না অথবা তার নিকটবর্তী কোন কাজে জড়িত হয় না।
যে মানুষ অবৈধ প্রেম-পীরিতে জড়ায় না।
যে দাম্পত্য জীবনে পরকীয় প্রেমে খেয়ানত করে না।
এমনকি বন্ধু-বন্ধু, ভাই-বোন, মা-বেটা, বাপ-বেটি, ধর্মের বাপ অথবা দ্বীনী ভাই-বোনের নামেও কোন অবৈধ বা সন্দিগ্ধ সম্পর্কে লিপ্ত হয় না।
চরিত্রবান কোন প্রকার অশ্লীলতা বা নারী ও যৌন সংক্রান্ত কোন অবৈধ আচরণের নিকটবর্তী হয় না। নগ্নতা ও বেলেল্লাপনাকে সমর্থন করে না।
নচেৎ চরিত্র ধ্বংসের মূল কারণ হল অবৈধ যৌনতা। আর যুবক-যুবতীকে চরিত্রহীন করার মূল প্রবৃত্তি হল যৌবনের উন্মাদনা। যৌবনকাল বড় উন্মত্ততার। যৌবনের পথ বড় পিচ্ছিল। এখানেই তাদের পদস্খলন ঘটে। মন বড় মন্দপ্রবণ। যুবক-যুবতীর আকর্ষণ বড় শক্তিশালী। তাদের মাঝে সহায়ক শয়তান বড় তৎপর। যৌনতৃষ্ণা নিবারণ করার বৈধ পন্থা আছে, কিন্তু তা অতি সহজ নয়। এই জন্য মহানবী বলেছেন,
إِنَّ مِمَّا أَخْشَى عَلَيْكُمْ شَهَوَاتِ الْغَيِّ فِي بُطُونِكُمْ وَفُرُوجِكُمْ وَمُضِلَّاتِ الْفِتَنِ
“আমি তোমাদের জন্য যে সকল জিনিস ভয় করি, তার মধ্যে অন্যতম হল তোমাদের উদর ও যৌন-সংক্রান্ত ভ্রষ্টকারী কুপ্রবৃত্তি এবং ভ্রষ্টকারী ফিতনা।”৪১৩
চরিত্রহীনতার সব চাইতে বড় অশ্লীলতা হল বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে যৌন-মিলন বা সহবাসে লিপ্ত হয়ে পড়া। আর এমন মহাপাপে কোন মু'মিন নারী-পুরুষ লিপ্ত হতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
لا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ
"কোন ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন মু'মিন থাকা অবস্থায় সে ব্যভিচার করতে পারে না। কোন চোর যখন চুরি করে, তখন মু'মিন থাকা অবস্থায় সে চুরি করতে পারে না এবং কোন মদ্যপায়ী যখন মদ্যপান করে, তখন মু'মিন থাকা অবস্থায় সে মদ্যপান করতে পারে না।"৪১৪
ব্যভিচার এমন একটি অপরাধ যা অবিবাহিত অবস্থায় করলে একশত চাবুক ও এক বছর দেশান্তরের শাস্তি ভুগতে হয়। আর বিবাহিত অবস্থায় করলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নষ্ট হয়ে যায়। চরিত্রহীন ব্যভিচারীদের জন্য মধ্যজগতে অপেক্ষা করছে আগুনের চুল্লি, যেখানে তারা উলঙ্গ অবস্থায় আগুনের দহন-প্রবাহে উঠানামা করবে! পরন্তু তার স্থান হবে জাহান্নামে। কিন্তু মহানবী বলেছেন,
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحَيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
"যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (অঙ্গ জিভ) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ) সম্বন্ধে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। ৪১৫
মহান আল্লাহ ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। হারাম করেছেন তার নিকটবর্তী হতে। তিনি বলেছেন,
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً
"তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।”৪১৬
ব্যভিচারের বহু ভূমিকা আছে। আর তার মাধ্যমেই ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয় যুবক-যুবতী। যেমন মেয়েদের বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করা, নির্জনতা অবলম্বন করা, সরাসরি অথবা কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা ক'রে চলা, অবৈধ সম্পর্ক কায়েম করা, প্রেম-ভালোবাসার জাল সৃষ্টি করা, যৌন-কথা বলা, কামদৃষ্টিতে দেখাদেখি করা, একে অন্যের ছবি বিনিময় করা, অবাধে মিলামেশা করা, ভ্রমণ করা, একে অন্যের দেহ স্পর্শ করা ইত্যাদি। মহানবী বলেছেন,
كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكُ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ: العَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذْنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ، وَالنِّسَانُ زِنَاهُ الكَلَامُ، وَاليَدُ زِنَاهَا البَطْشُ، وَالرَّجُلُ زِنَاهَا الخطا ، وَالقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى ، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ
"নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকথা) শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) কথন, হাতের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ পথে) গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।” ৪১৭
ব্যভিচারের কোন ভূমিকাতেই চরিত্রবান থাকতে পারে না। কোন চরিত্রবান অভিসারিকার অভিসারে সাড়া দিতে পারে না; যদিও তা কঠিন। বিশেষ ক'রে যুবতী সম্ভ্রান্তা ও সুন্দরী হলে। আর কঠিন বলেই এহেন ক্ষেত্রে নিজের চরিত্র পবিত্র রাখার মহাপুরস্কার রয়েছে কিয়ামতে। মহানবী বলেছেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ ، فَقَالَ : إِنِّي أَخَافُ الله
"সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর (ঐ) ছায়া ভিন্ন অন্য কোন ছায়া থাকবে না; তন্মধ্যে--- একজন সেই ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভান্তা সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৪১৮
চরিত্রবান যুবক-যুবতী কোন সন্ধিগ্ধ বিবাহের ফাঁদে পড়ে সহবাসকে বৈধ মনে করে না। যেমন মুতা (সাময়িক চুক্তির) বিবাহ, অভিভাবকহীন বিবাহ বা মন্দিরের সামনে বিবাহের অনুকরণে মসজিদের সামনে বিবাহ ক'রে সহবাস করে না।
কোনও মুসলিম বিকৃত যৌনাচারেও লিপ্ত হতে পারে না। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর উদ্দেশ্যে কোন বিরল প্রকৃতির যৌনাচারে নিজের পিপাসা নিবারণ করে না। একমাত্র চরিত্রহীনেরাই তা করতে পারে। আর তার শাস্তিও চরম ইসলামের সংবিধানে।
দুশ্চরিত্র পশুগমনকারীদের ব্যাপারে নির্দেশ হল,
مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ مَعَهُ
"যে ব্যক্তিকে কোন পশু-সঙ্গমে লিপ্ত পাবে, সে ব্যক্তি ও সে পশুকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। ৪১৯
চরিত্রহীন সমকামীদের ব্যাপারে নির্দেশ হল,
مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ
"তোমরা যে ব্যক্তিকে লুত নবীর উম্মতের মত সমকামে লিপ্ত পাবে, সে ব্যক্তি ও তার সহকর্মীকে হত্যা করে ফেলো। ৪২০
নিজের বিয়ে করা বউয়ের সাথেও বিকৃত রুচির যৌনাচার করা যাবে না। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى رَجُلًا أَوْ امْرَأَةً فِي الدُّبُرِ
“আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির দিকে চেয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি কোন পুরুষের মলদ্বারে অথবা কোন স্ত্রীর পায়খানা-দ্বারে সঙ্গম করে।”৪২১
তিনি আরো বলেছেন,
مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أُنْزِلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ
“যে ব্যক্তি কোন ঋতুমতী স্ত্রী (মাসিক অবস্থায়) সঙ্গম করে অথবা কোন স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে, অথবা কোন গণকের নিকট উপস্থিত হয়ে (সে যা বলে তা) বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ এর অবতীর্ণ কুরআনের সাথে কুফরী করে।” (অর্থাৎ কুরআনকেই সে অবিশ্বাস ও অমান্য করে। কারণ, কুরআনে এ সব কুকর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।) ৪২২
যেহেতু কুরআনে বলা হয়েছে,
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاء فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
“লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থিগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরকে পছন্দ করেন। ৪২৩
আর বলেছেন,
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
"বল, 'আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং ওরা কখন পুনরুত্থিত হবে (তাও) ওরা জানে না।”৪২৪
এ ছাড়া এক প্রকার বিকৃত যৌনাচার হল হস্তমৈথুন করা। চরিত্রবান যুবক-যুবতী তা করে না এবং অন্যান্য সকল প্রকার অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হয় না। যেহেতু মহান আল্লাহ মু'মিনদের গুণ বর্ণনায় বলেছেন,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ - فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ -
"যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী।"৪২৫
চরিত্রবান অবিবাহিত যুবক-যুবতী অথবা দূরে থাকা স্বামী-স্ত্রী যৌন-পীড়নে পীড়িত হলে মহান প্রতিপালককে ভয় করে এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা দমনের উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করে। নচেৎ আমভাবে তারা জানে, গোপনে এমন কিছুতে লিপ্ত থেকে মানুষের চক্ষুকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও প্রতিপালকের চক্ষুকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। আর এমনও হতে পারে যে, শাস্তি স্বরূপ দুনিয়াতেই তার দেহে সংক্রমিত হতে পারে এমন রোগ, যার নাম সে ইতিপূর্বে কখনো শোনেনি। মহানবী সাহাবাগণকে সতর্ক ক'রে বলেছিলেন,
يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا
"হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর।
(তার মধ্যে একটি হল,) যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না।” ৪২৬
আশা করি, কোন মানুষই এ ভবিষ্যৎ-বাণীর সত্যতা অস্বীকার করতে পারে না।
টিকাঃ
৪১৩. আহমাদ ১৯৭৭২
৪১৪. বুখারী ২৪৭৫, মুসলিম ২১১, আসহাবে সুনান
৪১৫. বুখারী ৬৪৭৪
৪১৬. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৩২
৪১৭. মুসলিম ৬৯২৫, বুখারী ৬২৪৩, ৬৬১২
৪১৮. বুখারী ৬৬০, মুসলিম ২৪২৭
৪১৯. তিরমিযী ১৪৫৫, ইবনে মাজাহ ২৫৬৪, বাইহাক্বী ১৭৪৯১, ১৭৪৯২, সহীহুল জামে' ৬৫৮৮
৪২০. আহমাদ ২৭৩২, আবু দাউদ ৪৪৬৪, তিরমিযী ১৪৫৬, ইবনে মাজাহ ২৫৬১, সহীহুল জামে' ৬৫৮৯
৪২১. তিরমিযী ১১৬৫, নাসাঈর কুবরা ৯০০১, ইবনে হিব্বান ৪৪১৮, সহীহুল জামে' ৭৮০১
৪২২. আহমাদ ৯২৯০, আবু দাউদ ৩৯০৬, তিরমিযী ১৩৫, ইবনে মাজাহ ৬৩৯, বাইহাক্বী ১৪৫০৪
৪২৩. সূরা বাক্বারাহ-২: ২২২
৪২৪. সূরা নামল: ৬৫
৪২৫. সূরা মু'মিনূন: ৫-৭, মাআরিজ ২৯-৩১
৪২৬. বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯, সহীহ তারগীব ৭৬৪