📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 ন্যায়পরায়ণতা

📄 ন্যায়পরায়ণতা


মহান আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ বাদশা, তিনি ন্যায়পরায়ণকে ভালোবাসেন। সুতরাং ন্যায়পরায়ণ হল একজন সুচরিত্রবান মানুষ। এমনই সচ্চরিত্রতার আদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
"নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।"৩৮৫
রাগ ও শান্তির সময় উচিত ও ন্যায্য কথা বলা আবশ্যক। বিরোধী হলেও তার সাথে সচ্চরিত্রতা তথা ইনসাফ বজায় রাখা কর্তব্য। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তার সাথে ইনসাফ বজায় রাখা সচ্চরিত্রতার লক্ষণ।
আপনার ভাষাভাষী নয় বলে, আপনি তার সাথে ন্যায় ব্যবহার করেন না, তাহলে আপনি সুচরিত্রবান হতে পারেন না।
আপনার স্বদেশী নয় বলে আপনি তার সাথে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখবেন না, তাকে স্বদেশী সমান মর্যাদা দেবেন না, ভালো কাজে তার সহযোগিতা করবেন না, তার বিপদে সাহায্য করবেন না, তাহলে আপনি সচ্চরিত্রের অধিকারী হতে পারবেন না।
আপনার স্বজাতি নয় বলে আপনি তার ন্যায্য অধিকার দেবেন না, তাহলে আপনি সুন্দর চরিত্রের মালিক হতে পারবেন না।
আপনার গায়ের রঙের সাথে মিলে না, তার সাথে আপনি ইনসাফপূর্ণ আচরণ করবেন না, তাহলে আপনি বর্ণ-বৈষম্যের শিকার, আপনি চরিত্রবান নন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاء بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে (হকের উপর) দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত (এবং) ন্যায়পরায়ণতার সাথে সাক্ষ্যদাতা হও। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনও সুবিচার না করাতে প্ররোচিত না করে। সুবিচার কর, এটা আত্মসংযমের নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন। ৩৮৬
গঠনমূলক সমালোচনার ক্ষেত্রেও চরিত্রবান সচ্চরিত্রতা বজায় রাখে। সেখানেও সে ন্যায়পরায়ণতার ভারসাম্য রক্ষা ক'রে কথা বলে। কোন ব্যক্তি, জামাআত, মযহাব, দল, বই ইত্যাদির সমালোচনা করার ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে মুখ খোলা চরিত্রবানের উচিত নয়।
নিজের স্বার্থে ঘা লাগলে অসৎ লোকেরা ইনসাফের নিক্তি ঠিক রাখতে পারে না। আপনজনের পাতে ঝোল টানার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার নীতি ধ্বংস ক'রে বসে।
দেওয়া-নেওয়ার সময়, কথা বলার সময় বা মন্তব্য করার সময় আপন খেয়াল-খুশীর অনুবর্তী না হয়ে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখে প্রত্যেক মুসলিম। যেহেতু তা মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
"যখন তোমরা কথা বলবে, তখন স্বজনের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায় কথা বল এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।"৩৮৭
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاء لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَفَقِيرًا فَالله أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَن تَعْدِلُوا وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীনই হোক, আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়-বিচার করতে খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কেটে চল, তাহলে (জেনে রাখ) যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন। "৩৮৮
অতএব কেউ আপনার কোন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে আপনি তার প্রতি সদ্ব্যবহার বা ন্যায়াচরণ করবেন না, তা উচিত নয়।
আপনার পণ্য নেয় না বলে, আপনার গাড়ি ভাড়া নেয় না বলে আপনি কারো প্রতি ইনসাফ করবেন না, তা সচ্চরিত্রতা নয়।
আপনার প্রশংসা করেনি বলে, যদিও আপনার নিন্দা করেনি, তবুও আপনি তাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন, তা বৈধ নয়।
আপনাকে দাওয়াত দেয়নি বলে আপনি তাকে তার ন্যায়াধিকার প্রদান করবেন না, তা হয় না।
আপনার বা আপনার কোন আত্মীয়র বিরুদ্ধে বিচার করেছে বলে, যদিও সেটা ন্যায় বিচার ছিল, তবুও তার প্রতি অন্যায়াচরণ করবেন, তাহলে সচ্চরিত্রের মালিক হতে পারবেন না।
আপনার সুবিধা করেনি বলে, আপনার ভুল ধরেছে বলে, আপনাকে কোন মন্দ কাজে বাধা দিয়েছে বলে, আপনার কাছে ন্যায্য অধিকার দাবি করেছে বলে, আপনার কাছে শরীক হিসাবে সঠিক ভাগ চেয়েছে বলে, আপনার কাছে ঋণ পরিশোধ চেয়েছে বলে, সে খারাপ হয়ে গেল। এতদিন যে ‘ভালো’ ছিল, নিজের অধিকার চাওয়ার ফলে সে ‘কালো’ হয়ে গেল। এমন আচরণ চরিত্রবানের হতে পারে না।
কথা বললে, সঠিক কথা বলতে হবে, স্পষ্ট কথায় কষ্ট যেন না হয়, হক কথা বলতে যেন স্বার্থপরতার শিকার না হন। তবেই আপনি সৎ লোক, চরিত্রবান লোক। নচেৎ আপনার শ্লোগান যদি, ‘সুবিধাবাদ, জিন্দাবাদ’ হয় তাহলে- 'স্বার্থের বালাই তরে কহিতে উচিত কথা কুণ্ঠিত যারা তারা সৎলোক নহে, যেদিকে পেটের সেবা সেই দিকে বলে কথা যেমতো সুবিধা দেখে সেই মতো কহে।'
অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
"হে বিশ্বাসিগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।"৩৮৯
আর মহানবী বলেছেন,
صِلْ مَنْ qَطَعَكَ وَأَحْسِنُ إِلَى مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَقُلِ الْحَقَّ وَلَوْ عَلَى نَفْسِكَ
"তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক জুড়ে চল যে তোমার সাথে তা নষ্ট করতে চায়, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হক কথা বল; যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে হয়।"৩৯০

টিকাঃ
৩৮৫. সূরা নাহল: ৯০
৩৮৬. সূরা মায়িদাহ: ৮
৩৮৭. সূরা আনআম: ১৫২
৩৮৮. সূরা নিসা: ১৩৫
৩৮৯. সূরা আহযাব: ৭০
৩৯০. ইবনে নাজ্জার, সহীহুল জামে ৩৭৬৯

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 সভ্য পোশাক পরিধান

📄 সভ্য পোশাক পরিধান


সভ্য ও ভালো পোশাক পরিধান চরিত্রবান নারী-পুরুষের পরিচয়। মহান স্রষ্টা সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। সুতরাং সুন্দর থাকা সুন্দর চরিত্রের মানুষের আচরণ অবশ্যই হবে।
কিন্তু সভ্য পোশাক বলে কাকে?
আমরা সাধারণভাবে জানি, আমাদের বিবেক যেটাকে সভ্য বা ভালো বলে, সেটাই কিন্তু সভ্য বা ভালো নয়। তাছাড়া যত মানুষ, তত রকমের মন, তত রকমের বিবেক। বিবেকে-বিবেকে ও পছন্দে-পছন্দে তফাৎ আছে। তাই আমাদের সৃষ্টিকর্তা তথা শরীয়ত যেটাকে ভালো বলে, সেটাকেই ভালো বলে মেনে নিতে হয়। আর শরীয়তে সভ্য ও ভালো লেবাস-পোশাকের কিছু শর্ত আছে।
মহিলাদের পোশাকে শর্ত হল,
১। লেবাস যেন (বেগানার সামনে) দেহের সর্বাঙ্গকে ঢেকে রাখে।
২। লেবাস যেন এমন পাতলা না হয়, যাতে কাপড়ের উপর থেকেও ভিতরের চামড়া নজরে আসে।
৩। পোশাক যেন এমন আঁট-সাঁট (টাইটফিট) না হয়, যাতে দেহের উঁচু-নিচু ব্যক্ত হয়।
৪। লেবাস যেন কোন কাফের মহিলার অনুকৃত না হয়।
৫। তা যেন পুরুষদের লেবাসের অনুরূপ না হয়।
৬। লেবাস যেন জাঁকজমকপূর্ণ প্রসিদ্ধিজনক না হয়।
৭। যে লেবাস মহিলা পরিধান করবে সেটাই যেন (বেগানা পুরুষের সামনে) সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি-আকর্ষী না হয়।
৮। তা যেন সুগন্ধিত না হয়।
আর পুরুষদের লেবাসের শর্তাবলী হল,
১। লেবাস যেন নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অবশ্যই আবৃত রাখে।
২। এমন পাতলা না হয়, যাতে ভিতরের চামড়া নজরে আসে।
৩। এমন আঁট-সাঁট না হয়, যাতে দেহের উঁচু-নিচু ব্যক্ত হয়।
৪। কাফেরদের লেবাসের অনুকৃত না হয়।
৫। মহিলাদের লেবাসের অনুরূপ না হয়।
৬। জাঁকজমকপূর্ণ প্রসিদ্ধিজনক না হয়।
৭। গাঢ় হলুদ বা জাফরানী রঙের না হয়।
৮। লেবাস যেন রেশমী কাপড়ের না হয়।
৯। পরিহিত লেবাস (পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি, কামীস প্রভৃতি) যেন পায়ের গাঁটের নিচে না যায়।
উক্ত শর্তাবলী পালন ক'রে যে নারী-পুরুষ পোশাক পরিধান করবে, তাদেরকে চরিত্রবান বলে গণ্য করা হবে।
তবে এ কথাও ঠিক যে, পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে, মানুষের মনের দর্পণ। মন যে প্রকৃতির হবে, তার ছাপ ফুটে উঠবে দেহের পোশাকে। মনে পরহেযগারি না থাকলে, কেউ পরহেযগারের পোশাক পরিধান করতে পারে না। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ
“হে বনী আদম! (হে মানবজাতি) তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি। আর সংযমশীলতার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট। ৩৯১
অবশ্য ঢঙ ও সঙ করার নিমিত্তে অনেকে ভালো সাজার ভালো লেবাস পরতে পারে। কিন্তু আচরণে প্রকাশ পেয়ে যাবে তাদের আসল পরিচয়।
সভ্য ও ভদ্র মানুষের পরিচয় পাওয়া যাবে ভদ্র ও শালীন পোশাকের ভিতরে। যেমন অসভ্য ও অভদ্র লোকের পরিচয় পাওয়া যাবে তার অসভ্য ও অশালীন পোশাকের ভিতরে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করার বহুবিদ পন্থার মধ্যে অশালীন পোশাক পরিধান করা অন্যতম। মহান আল্লাহ তাই বিধান দিয়েছেন, যাতে নারী-পুরুষ সুসভ্য পোশাক পরিধান করে এবং উভয়েই নিজ নিজ দৃষ্টি সংযত রাখে। নারীর জন্য বিধান দিয়েছেন পর্দার। পর্দা হল পবিত্রতা ও শালীনতার পরিচয়। অবশ্যই সেই সাথে শর্ত হল মনের পর্দা ও পবিত্রতা।

টিকাঃ
৩৯১. সূরা আ'রাফ: ২৬

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 দৃষ্টি-সংযম

📄 দৃষ্টি-সংযম


অবৈধ নারী অথবা সুদর্শন বালকের প্রতি পুরুষের এবং অবৈধ পুরুষের প্রতি নারীর সকাম দৃষ্টিপাত অসচ্চরিত্রতার অন্যতম লক্ষণ। এই জন্য মহান আল্লাহর মু'মিনদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে স্বীয় নবী কে আদেশ দিলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ
"বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে।"৩৯৮
আর মহানবী এর নির্দেশ হল,
لا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ ، وَلاَ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ ، وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، وَلاَ تُفْضِي المَرْأَةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ
"কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে। (অনুরূপভাবে) কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে।"৩৯৯
যেখানে গেলে বা বসলে অবৈধ দৃষ্টিপাত হতে পারে, সে জায়গায় যাওয়া বা বসা উচিত নয়। যাতে নজরাগ্নির সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে না বসে এবং আঁখির বাঁকা ছুরি দ্বারা কারো হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত না হয়ে যায়। আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত, একদা নবী বললেন, "তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।" লোকেরা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা (ওখানে) বসে বাক্যালাপ করি।' রাসূলুল্লাহ বললেন, "যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর।" তারা নিবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! রাস্তার হক কী?' তিনি বললেন,
غَضُّ البَصَرِ، وَكَفُّ الأذى، وَرَدُّ السَّلامِ ، وَالأَمرُ بِالْمَعْرُوفِ ، وَالنَّهْي عَنِ الْمُنْكَرِ
"দৃষ্টি অবনত রাখা, (অপরকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।"৪০০
ব্যভিচার করা দুশ্চরিত্র লম্পটের কাজ। মূল ব্যভিচারের বহু ভূমিকা আছে। তার মধ্যে তার প্রাথমিক পর্যায়ের ভূমিকা হল সকাম দৃষ্টিপাত। আর তা হল চক্ষুর ব্যভিচার। মহানবী বলেছেন,
كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكُ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ : العَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأَذْنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ ، وَاللَّسَانُ زِنَاهُ الكَلَامُ، وَاليَدُ زِنَاهَا البَطْشُ، وَالرَّجُلُ زِنَاهَا الخطا ، وَالقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى ، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ
"নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকথা) শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) কথন, হাতের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ পথে) গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।"৪০১
বলা বাহুল্য, চরিত্রবান নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় অবৈধ কিছু তাকিয়ে দেখে না। কিন্তু দেখার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও যদি চোখ পড়ে যায়, তাহলে কী করার আছে? জারীর বিন আব্দুল্লাহ বলেন, 'আচমকা দৃষ্টি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেন আমি আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই।'৪০২
রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে বলেছিলেন,
يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ
“হে আলী! একবার নজর পড়ে গেলে আর দ্বিতীয়বার তাকিয়ে দেখো না। প্রথমবারের (অনিচ্ছাকৃত) নজর তোমার জন্য বৈধ। কিন্তু দ্বিতীয়বারের নজর বৈধ নয়। ৪০০
প্রকাশ থাকে যে, যা দেখা হারাম, তার ছবি দেখা হারাম। বিশেষ ক'রে নগ্ন ও অশ্লীল ছবি দর্শন কোন চরিত্রবান নারী-পুরুষের অভ্যাস হতে পারে না। কারণ পর্ণগ্রাফী দর্শন মাদকদ্রব্য সেবনের মতো তীব্র নেশায় পরিণত হয়। মাদকদ্রব্য সেবন না ক'রে যেমন অভ্যাসীর স্বস্তি আসে না, শান্তি আসে না, ঠিক তেমনই অবস্থা ঘটে পর্ণগ্রাফী দর্শনে অভ্যাসীর।
মাদকাসক্তরা যতটা আসক্তি মাদকদ্রব্যের প্রতি রাখে, তার থেকে বেশি আসক্তি আসে নগ্ন নারীদেহ ও অভিনীত যৌন-মিলন দর্শনের প্রতি। মাদকদ্রব্য মাদকাসক্তদের যতটা ক্ষতি করে, তার থেকে বেশি ক্ষতি করে নগ্ন নারীদেহ ও যৌনমিলন দর্শনের মাধ্যমে উষ্ণ তৃপ্তি গ্রহণকারীদের। কিন্তু নেশার ঘোরে ক্ষতিগ্রস্তরা সে ক্ষতির কথা অনুভবও করতে পারে না। পরিশেষে সর্বনাশই তাদের ভাগ্য হয়।
বলা বাহুল্য, অশ্লীল সেক্সী ছবি দর্শনে অভ্যাসী হওয়ার ফলে যে সকল ভয়ঙ্কর ক্ষতি রয়েছে, তার মধ্যে কতিপয় নিম্নরূপ :
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে।
> নগ্ন ছবি দেখার ফলে মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ নষ্ট হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর দাম্পত্য জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধী ব্যভিচারের মতো বড় পাপ ঘটায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধী ধর্ষণের মতো বড় পাপ ঘটায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে নাবালক শিশুদের ভবিষ্যৎ বরবাদ হয়ে যায়।
> সেক্সী ফ্লিম্ দেখার অভ্যাস করার ফলে অপরাধীর নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং সে অবৈধ দর্শনে অভ্যাসী কি কোন চরিত্রবান নারী-পুরুষ হতে পারে? কক্ষনো না।

টিকাঃ
৩৯৮. সূরা নূর: ৩০-৩১
৩৯৯. মুসলিম ৭৯৪
৪০০. বুখারী ৬২২৯, মুসলিম ৫৬৮৫
৪০১. মুসলিম ৬৯২৫, বুখারী ৬২৪৩, ৬৬১২
৪০২. মুসলিম ৫৭৭০
৪০০. আহমাদ, আবু দাউদ ২১৫১, তিরমিযী ২৭৭৭, হাকেম ২৭৮৮, বাইহাক্বী ১৩২৯৩, সহীহুল জামে' ৭৯৫৩

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 লজ্জাস্থানের হিফাযত

📄 লজ্জাস্থানের হিফাযত


চরিত্রবান পুরুষ ও চরিত্রবতী নারী নিজেদের গোপনাঙ্গের হিফাযত করে।
একজন পুরুষ তার সারা দেহ কেবল নিজ স্ত্রীকে দেখাতে পারে। অন্যান্যের কাছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অবশ্যই ঢেকে রাখে।
একজন নারী তার সারা দেহ কেবল স্বামীকে দেখাতে পারে। এ ছাড়া মাথা, হাত-পা মাহরাম বা এগানা অথবা মহিলাকে দেখাতে পারে। বেগানা পুরুষের কাছে মহিলার সর্বাঙ্গ গোপনাঙ্গ। মহান আল্লাহর নির্দেশ হল,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ - وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطَّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। তারা যা সাধারণততঃ প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য যেন প্রদর্শন না করে, তারা তাদের বক্ষঃস্থল যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনী পুত্র, তাদের নারীগণ, নিজ অধিকারভুক্ত দাস, যৌনকামনা-রহিত অনুচর পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমন সজোরে পদক্ষেপ না করে, যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।৪০৪
বাহ্য বিন হাকীমের দাদা একদা বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের গোপনাঙ্গ কী গোপন করব, আর কী বর্জন করব?' তিনি বললেন, "তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর।” সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?' তিনি বললেন, "যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।" সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?' তিনি বললেন,
اللهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ
"মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।"৪০৫
হ্যাঁ, একাকী থাকলেও নগ্ন থাকা উচিত নয়। এমনকি গোসলের সময়েও উলঙ্গ হওয়া উচিত নয়। বন্ধ বাথরুমের ভিতরকার কথা অবশ্য আলাদা। তবুও সেখানে লজ্জাস্থানে কাপড় রেখে গোসল করা উচিত। যেহেতু সেখানে কেউ না দেখলে মহান প্রতিপালক দেখছেন। সুতরাং তাঁকে লজ্জা করা উচিত। মহানবী বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَيٌّ سِتِّيرٌ يُحِبُّ الْحَيَاءَ وَالسَّتْرَ فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَتِرُ
"নিশ্চয় আল্লাহ আয্যা অজাল্লু লজ্জাশীল, গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতা ও গোপনীয়তাকে পছন্দ করেন। সুতরাং যখন তোমাদের কেউ গোসল করবে, তখন সে যেন গোপনীয়তা অবলম্বন করে (পর্দার সাথে করে)।"৪০৬
আর মহিলা? তার ব্যাপারে মহানবী বলেন,
المَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
"মেয়ে মানুষ (সবটাই) লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে।"৪০৭
"মহিলা হল গোপনীয় জিনিস। বাইরে বের হলে শয়তান তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে নির্নিমেষ তাকিয়ে দেখতে থাকে।"৪০৮
এই জন্য আম গোসলখানা, পুকুর, নদী, হ্রদ, ঝিল বা সমুদ্র ঘাটে বা তীরে গোসল করা কোন মহিলার জন্য জায়েয নয়। কারণ সেখানে জ্বিন ও মানুষ শয়তানের দৃষ্টি তার দেহে পড়ে। মহানবী বলেন,
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُدْخِلُ حَلِيلَتَهُ الْحَمَّامَ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ গোসলখানায় প্রবেশ করতে না দেয়।"৪০৯
উম্মে দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, "কোথেকে, হে উম্মে দারদা?!" আমি বললাম, 'গোসলখানা থেকে।' তিনি বললেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا إِلَّا وَهِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرِ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ
"সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও পরম দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।”৪১০
নারীর জন্য বৈধ নয় কোন কলেজ বা ক্লাবে শরীরচর্চার নামে নিজ পোশাক খোলা। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِهَا خَرَقَ اللَّهُ عَنْهَا سِتْرًا
"যে নারী স্বগৃহ ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে) আল্লাহ তার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেন। (অথবা সে নিজে করে দেয়। ৪১১
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا هَتَكَتْ سِتْرَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ رَبِّهَا
"যে মহিলা নিজের স্বামীগৃহ ছাড়া অন্য গৃহে নিজের কাপড় খোলে, সে আল্লাহ আয্যা অজাল্লা ও তার নিজের মাঝে পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।"৪১২
তাহলে বলুন, বেপর্দা নারী কি সুচরিত্রবতী হতে পারে? চরিত্রহীনা, অসতী, ভ্রষ্টা বা নষ্টা না হলেও বাইরে কাপড় খোলা মেয়ের সচ্চরিত্রতা কি পবিত্র থাকতে পারে?
যে আলোকপ্রাপ্তাদের দেহে পরপুরুষদের চোখের সামনে সূর্যের আলো পড়ে, তারা কি আদৌ চরিত্রবতী থাকতে পারে?
যারা বোরকার আঁধারও ও হেরেম ছেড়ে বাইরে এসে পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলায়, তাদের চরিত্র ও সতীত্ব কি নির্মল থাকতে পারে? উত্তর আপনার কাছে। রুচি আপন আপন।

টিকাঃ
৪০৪. সূরা নূর: ৩০-৩১
৪০৫. আবু দাউদ ৪০১৯, তিরমিযী ২৭৯৪, ইবনে মাজাহ ১৯২০, মিশকাত ৩১১৭
৪০৬. আবু দাউদ, নাসাঈ ৪০৬, মিশকাত ৪৪৭
৪০৭. তিরমিযী ১১৭৩, মিশকাত ৩১০৯
৪০৮. ত্বাবারানী, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমা, সহীহ তারগীব ৩৩৯, ৩৪১, ৩৪২
৪০৯. আহমাদ ১৪৬৫১, সহীহ তারগীব ১৬০
৪১০. আহমাদ ২৭০৩৮, ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ১৬২
৪১১. আহমাদ ২৬৬১১, তাবারানী ৭১০, হাকেম ৭৭৮২, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৭৭৭৪
৪১২. আহমাদ ২৪১৪০, তিরমিযী ২৮০৩, ইবনে মাজাহ ৩৭৫০, হাকেম, সঃ জামে' ২৭১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00