📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 পরস্পর উপদেশ বিনিময়

📄 পরস্পর উপদেশ বিনিময়


মু'মিন মু'মিনের ভাই। মু'মিনা মু'মিনার বোন। তারা একে অন্যের জন্য আয়না স্বরূপ। একে অন্যের ত্রুটি সংশোধনে প্রয়াসী হয়। একে অপরের সুখে সুখানুভব করে। একে অন্যের কষ্টে কষ্টানুভব করে। বিপদে সান্ত্বনা দেয় ও ধৈর্যের তাকীদ দান করে এবং একে অন্যকে সত্যের পরামর্শ দেয়, হকের অসিয়ত করে, উপকারী উপদেশ দান করে।
সারা বিশ্বের সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উক্ত শ্রেণীর চরিত্রবান নারী-পুরুষ বড় লাভবান থাকে।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَالْعَصْرِ، إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ ، إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অর্থাৎ, মহাকালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়। আর উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের। ৩৩১
ঈমানচোর পকেটমারের অভাব নেই দুনিয়াতে। যাদেরকে নিয়ে শয়তানের বাজার বড় সরগরম। ভ্রষ্টকারী ফিতনা যেন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ন্যায় সারা পৃথিবীকে গ্রাস ক'রে রেখেছে। হক-বাতিলের বিভ্রাটে পড়ে মুসলিম সরল পথচ্যুত হচ্ছে। সুশোভনকারী বাতিলের চমকে পথিকের পথ ভুল হয়ে যাচ্ছে। এই সময় সুচরিত্রবান বন্ধু হকপথ প্রদর্শন ক'রে বন্ধুকে ফিতনা থেকে রক্ষা করে। বিশেষ উপদেশ দিয়ে তাকে ভ্রষ্টতার পথে যেতে বাধা দেয়।
বিপদ যখন ঘনিয়ে আসে। মহান প্রতিপালকের পরীক্ষা যখন মু'মিনকে পরীক্ষা করতে চায়।
আপন যখন পর হয়ে যায়।
শয্যাসঙ্গিনী স্ত্রী যখন শত্রুতে পরিণত হয়।
জীবন-যৌবনের অধিকারী স্বামী যখন ভালোবাসার বাঁধনহারা হয়।
সন্তান ও আপনজন যখন স্বার্থের তরে দূরে সরে যায়।
অত্যাচারীর অত্যাচারের চাবুক যখন উন্মুক্ত পিঠে বারবার আঘাত হানে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে যখন ধনজন সহায়-সম্বল সব কিছু কেড়ে নেয়।
ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যখন মানুষ দেউলিয়া হয়ে যায়।
ঋণে জর্জরিত হয়ে যখন খালি থলের মতো উঠে দাঁড়াতে পারে না।
শারীরিক অসুস্থতা ও রোগ-যন্ত্রণায় যখন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
মানসিক পীড়া ও প্রতিকূল পরিবেশের পীড়ন যখন পিষ্ট করে।
রাজনৈতিক কোন ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়ে যখন অন্যায়ভাবে শাস্তিভোগ করতে হয়।
হিংসুকের হিংসা-বিষ যখন জীবন-যন্ত্রণা বৃদ্ধি করে।
জীবন-তরীর বিপরীত মুখে যখন সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয়।
তখন মহান প্রভুর আশ্রয় ছাড়া আর কী থাকতে পারে? অতঃপর একজন চরিত্রবান নিঃস্বার্থ বন্ধু ছাড়া এহেন দুঃখে-শোকে আর কে সান্ত্বনা দিতে পারে? যে বন্ধু পাশে বসে সাহস দেয়, দূরে থেকে প্রবোধ দান করে, এস-এম-এস ক'রে শান্তির বাণী প্রেরণ করে।
যে বন্ধুর উৎসাহদানে মৃত্যুশয্যায় শায়িত থেকেও নতুন ক'রে বাঁচার ইচ্ছা জেগে ওঠে।
লতার মতো ছুঁয়ে গড়াগড়ি খেয়ে যে বন্ধুর অবলম্বন পেয়ে পুনরায় উঠে দাঁড়াতে সাহস হয়।
এমন বন্ধু কোন আর্থিক সাহায্য না করতে পারলেও, মানসিক সহযোগিতা কম কিছু নয়।
হকের অসিয়ত, ধৈর্যের অসিয়ত। সৎভাবে বাঁচার প্রেরণা।

টিকাঃ
৩৩১. সূরা আস্র

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা ও ঘৃণা করা

📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা ও ঘৃণা করা


সুচরিত্রবান মানুষের একটি মহৎ গুণ হল, সে কাউকে বা কোন কিছুকে ভালোবাসে, তখন কেবল মহান আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসে, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ভালোবাসে, আর যখন কাউকে বা কোন কিছুকে ঘৃণা করে, তখন কেবল মহান আল্লাহকেই রাজি-খুশী করার জন্যই ঘৃণা করে।
যখন কাউকে ভালোবাসে, তখন এই জন্য ভালোবাসে যে, তাকে মহান আল্লাহ ভালোবাসেন অথবা সে মহান আল্লাহকে ভালোবাসে। আর যখন কাউকে ঘৃণা করে, তখন এই জন্য ঘৃণা করে যে, মহান আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন অথবা সে মহান আল্লাহকে ঘৃণা করে।
যখন কোন জিনিস বা কাজকে ভালোবাসে, তখন এই জন্য ভালোবাসে যে, তা মহান আল্লাহ ভালোবাসেন। আর যখন কোন জিনিস বা কাজকে ঘৃণা করে, তখন এই জন্য ঘৃণা করে যে, মহান আল্লাহ তা ঘৃণা করেন।
কারণ এ হল ঈমান পরিপূর্ণতার লক্ষণ, পূর্ণ ঈমানদার মানুষের কর্ম। মহানবী বলেছেন,
مَنْ أَعْطَى اللَّهِ وَمَنَعَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهِ وَأَبْغَضَ اللَّهِ وَأَنْكَحَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ إِيمَانَهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে কিছু দান করে, কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকে, কাউকে ভালোবাসে অথবা ঘৃণাবাসে এবং তাঁরই সন্তুষ্টিলাভের কথা খেয়াল করে বিবাহ দেয়, তার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ঈমান।"৩৩২
ঈমানের বন্ধন আত্মীয়তার বন্ধনের অনেক ঊর্ধ্বে। আত্মীয়তাকেও বিচার করতে হবে ঈমানের কষ্টিপাথরে। যে আত্মীয় আল্লাহকে চায় না, সে আত্মীয়কে মু'মিন চাইতে পারে না। তাই এমন সম্প্রীতি ও বিদ্বেষ কায়েম করার কাজ হল ঈমানের মজবুত হাতল। মহানবী বলেছেন,
أوثَقُ عُرَى الإِيمَانِ الْمُوَالاةُ فِي اللهِ، وَالْمُعَادَاةُ فِي اللهِ، وَالْحُبُّ فِي اللهِ، وَالْبُغْضُ فِي اللهِ
ঈমানের সবচাইতে মজবুত হাতল হল, আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব স্থাপন করা, আল্লাহর ওয়াস্তে শত্রুতা স্থাপন করা, আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা রাখা এবং আল্লাহরই ওয়াস্তে ঘৃণা পোষণ করা।"৩৩৩
দুর্বলতম ঈমানের দাবী হল মন্দকে মন্দ জানা, মন্দকে ঘৃণা করা, মন্দের প্রতিবাদ করা। মন্দ দূর করার এটাও এক পদ্ধতি। তা না ক'রে যদি 'এক হাতে মোর কোরান শরীফ মদের গ্লাস অন্য হাতে, পুণ্য-পাপের সৎ-অসতের দোস্তি সমান আমার সাথে।' এই রীতি হয়, তাহলে তার ঈমান যে বর্তমান আছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? মহানবী বলেছেন,
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ
"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন ক'রে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা (উপদেশ দিয়ে পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা (ঘৃণা করে)। আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।"৩৩৪
তিনি আরো বলেছেন,
مَا مِنْ نَبِي بَعَثَهُ اللهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ
"আমার পূর্বে আল্লাহ যে কোন নবীকে যে কোন উম্মতের মাঝে পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে তাঁর (কিছু) সহযোগী ও সহচর হতো। তারা তাঁর সুন্নতের উপর আমল করত এবং তাঁর আদেশের অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরে এমন অপদার্থ লোক সৃষ্টি হয় যে, তারা যা বলে, তা করে না এবং তারা তা করে, যার আদেশ তাদেরকে দেওয়া হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ হাত দ্বারা সংগ্রাম করবে সে মু'মিন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ জিভ দ্বারা সংগ্রাম করবে সে মু'মিন এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ অন্তর দ্বারা জিহাদ করবে সে মু'মিন। আর এর পর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই।"৩৩৫
বলা বাহুল্য, বন্ধুত্ব করা ও বজায় রাখার ক্ষেত্রে, জীবন-সাথী এখতিয়ার ও দাম্পত্য বন্ধন অটুট রাখার ক্ষেত্রে এবং আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত করার ক্ষেত্রে চরিত্রবান যদি এই নীতি অবলম্বন করে, তাহলে সে সুখী হয়, দুনিয়াতে ও আখেরাতে।
সতর্কতার বিষয় যে, যদি কোন নারী-পুরুষের ভালোবাসা আল্লাহর ওয়াস্তে হয়, কিন্তু তা প্রকাশ করা অবৈধ হয়, তাহলে তা গোপন রাখাই ওয়াজেব। যাতে অন্তর ছাপিয়ে বের হয়ে এসে অপবিত্রতার নর্দমায় পড়ে তিনিই অসন্তুষ্ট হয়ে না যান, যাঁর ওয়াস্তে সেই ভালোবাসার সৃষ্টি।

টিকাঃ
৩৩৩. ত্বাবারানী ১১৩৭২, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯৯৮, ১৭২৮
৩৩৪. আহমাদ ১১০৭৪, মুসলিম ১৮-৬, আসহাবে সুনান
৩৩৫. মুসলিম ১৮৮

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধাদান

📄 সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধাদান


সুচরিত্রবান যে হবে, প্রকৃতিগতভাবে অথবা নৈতিকভাবে সে কুচরিত্রতাকে ঘৃণা করবে। নোংরা কাজ হতে দেখলে সে বাধা দেবে, তা দূর করার চেষ্টা করবে। হ্যাঁ, সে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর অভিভাবক। স্বঘোষিত নয়, মহান স্রষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী সে সকলের অভিভাবক। তিনি বলেছেন,
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
"বিশ্বাসী পুরুষরা ও বিশ্বাসী নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের অভিভাবক, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে। আর যথাযথভাবে স্বলাত আদায় করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এসব লোকের প্রতিই আল্লাহ অতি সত্বর করুণা বর্ষণ করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, হিকমতওয়ালা।"৩৩৬
আর মহানবী বলেছেন,
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَراً فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ
"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন ক'রে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা (উপদেশ দিয়ে পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা (ঘৃণা করে)। আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।"৩৩৭
অবশ্য হিকমতের সাথে ও কৌশলে সে কাজ করতে হবে। নচেৎ তা করতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত বড় ফিতনা সৃষ্টি করা চরিত্রবানের লক্ষণ নয়।

টিকাঃ
৩৩৬. সূরা তাওবাহ: ৭১
৩৩৭. আহমাদ ১১০৭৪, মুসলিম ১৮-৬, আসহাবে সুনান

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 আল্লাহর দিকে দাওয়াত

📄 আল্লাহর দিকে দাওয়াত


আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া সচ্চরিত্রতার একটি লক্ষণ। কারণ সে সৃষ্টির মঙ্গল চায়। সে জানে এক আল্লাহর প্রতি সঠিক বিশ্বাস ও সঠিক ইসলাম অবলম্বন ছাড়া মুক্তির কোন পথ নেই। আর সেই আশংকায় অমুসলিম ও নামসর্বস্ব মুসলিমদেরকে সঠিক ইসলামের দিকে আহবান করে। তাদের প্রতি দয়াপূর্বকই সত্যের দিকে আহবান করে। তাতে তার কোন পার্থিব স্বার্থ থাকে না। আর সে জন্যই তার কথা ও কর্ম হয় সর্বশ্রেষ্ঠ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
"যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকাজ করে এবং বলে, 'আমি তো আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)' তার অপেক্ষা কথায় উত্তম আর কোন্ ব্যক্তি?”৩৩৮
মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন সচ্চরিত্রতার একটি মহৎ গুণ, মানুষের হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া চরিত্রবান মানুষের অন্যতম লক্ষণ। এমন মানুষ চায়, সকল মানুষ আল্লাহর কিতাব কুরআন পড়ুক, কুরআন শিখুক। আর তাই সে তা শিক্ষা দেয়, শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সে জন্যও সে হয় সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। মহানবী বলেছেন,
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
"তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে অপরকে শিক্ষা দেয়। "৩৩৯
চরিত্রবান কেবল নিজেকেই বাঁচায় না, সে অপরকেও বাঁচাতে চেষ্টাবান হয়। সে স্বার্থপর নয়, সে পরের পরিত্রাণের জন্য নিজের শ্রম, বুদ্ধি ও কথাকে কাজে লাগায়। বিশ্বমানবতার শান্তি ও সাফল্যের জন্য নিরলস প্রচেষ্টায় মহান স্রষ্টা ও তাঁর বিধানের প্রতি মানুষকে সনির্বন্ধ আহবান জানায়।
চরিত্রবান মানুষ জানে, 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'
আমরা যেমন বিশ্বশান্তির জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করব, তেমনি চিরশান্তির জন্যও একে অন্যকে পথপ্রদর্শন করব সজ্ঞানে ও সুকৌশলে। আর আল্লাহই তওফীকদাতা ও হিদায়াতকর্তা।

টিকাঃ
৩৩৮. সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৩
৩৩৯. বুখারী ৫০২৭-৫০২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00