📄 উপহার বিনিময়
আপোসে উপহার-উপঢৌকন বিনিময় করা সুচরিত্রের একটি সুন্দর আচরণ। যেহেতু তার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়।
'স্মৃতি দিয়ে বাঁধা থাকে প্রীতি, প্রীতি দিয়ে বাঁধা থাকে মন, উপহারে বাঁধা থাকে প্রীতি, তাই দেওয়া প্রয়োজন।'
মহানবী বলেছেন,
تَهَادُوا تَحَابُّوا
"তোমরা উপহার বিনিময় কর, পারস্পরিক সম্প্রীতি লাভ করবে।"৩১২
সা'ব ইবনে জাষ্যামাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (শিকার করা) এক জংলী গাধা উপঢৌকন দিলাম। কিন্তু তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আমার চেহারায় (বিষণ্ণতার চিহ্ন) দেখে বললেন,
إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلَّا لِأَنَّا حُرُمٌ
"আমরা ইহরামের অবস্থায় আছি, তাই আমরা এটি তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।"৩১৩
যেহেতু ইহরাম অবস্থায় শিকার করা ও তার গোশ্ত খাওয়া নিষিদ্ধ, সেহেতু মহানবী সেই উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নচেৎ তিনি কারো উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করতেন না।
যে জিনিস উপহারে দেওয়া হয়, তার প্রয়োজন না থাকলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ তাতে দাতার মন ভেঙ্গে যায়।
'তোমায় কিছু দেব বলে চায় যে আমার মন, নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।'
বিভিন্ন উপলক্ষ্যে উপহার বিনিময় একটি সুন্দর লোকাচার। কিন্তু তা লোভে পরিণত হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আপোসে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান হওয়া গ্রহণীয় নয়। উপহারের বিনিময়ে কেউ উপহার দিতে না পারলে যেন চরিত্রবানের মনঃক্ষুণ্ণ না হয়। উপহারের লোভে বেছে বেছে কেবল বড়লোকদেরকেই দাওয়াত না দেওয়া হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী যে যা উপহার দেবে, তা যেন সাদরে গ্রহণ করা হয়। নচেৎ উপহার বিনিময় সম্প্রীতির জায়গায় বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করবে। আর সে কাজ কোন চরিত্রবান-চরত্রিবতীর হতে পারে না।
টিকাঃ
৩১২. বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ৫৯৪, আবু য়্যা'লা ৬১৪৮, সহীহুল জামে' ৩০০৪
৩১৩. বুখারী ১৮২৫, মুসলিম ২৯০২
📄 পরার্থপরতা
পরার্থপরতা একটি সুন্দর চরিত্র, একটি সুন্দর আদর্শ। এতে আছে পরম সুখ, এতে আছে আত্মতৃপ্তি। কবি বলেছেন, 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি- এ জীবন-মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।'
অবশ্য এ হল পরার্থপরতার পরাকাষ্ঠা। নচেৎ ইসলাম বলে না যে, তুমি নিজেকে ধ্বংস ক'রে অপরকে বাঁচাও। নিজেকে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে অপরকে আলো দাও। নিজেকে আগরবাতির মতো জ্বালিয়ে অপরকে সুগন্ধি বিতরণ কর। বরং ইসলামের নীতি হল, নিজে বাঁচো, অপরকেও বাঁচাও। মহানবী বলেছেন,
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
"কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু'জনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।"৩১৪
এর একটা অর্থ হল, ক্ষতি করব না, ক্ষতিগ্রস্তও হব না। তবুও উচ্চ মানের চরিত্রবান মানুষ নিজের স্বার্থ ত্যাগ ক'রে অপরের উপকার ক'রে থাকে। নিজের মাঝে কিছু অসুবিধা আনয়ন ক'রে অপরের সুবিধা করে, নিজে কিছু কষ্ট বরণ ক'রে অপরকে আরামে রাখে, নিজেকে বসা থেকে বঞ্চিত রেখে অপরকে আসন ছেড়ে দেয়, নিজেকে ক্ষুধায় রেখে অপরকে পরিতৃপ্ত করে।
আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল এর মেহমান হয়ে এল। তিনি উম্মুল মুমিনীনদের কাছে কিছু আছে কি না তা জানতে চাইলেন। তাঁরা বললেন, তাঁদের কিছু পানি ছাড়া খাবার কিছু নেই। ফলে তিনি ঘোষণা ক'রে বললেন, “কে এর মেহমান-নেওয়াযী করবে?” এ কথা শুনে আনসারদের এক ব্যক্তি বলল, 'আমি, হে আল্লাহর রসূল!' অতঃপর তাকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বলল, 'আল্লাহর রসূল এর মেহমানের খাতির কর।' স্ত্রী বলল, 'কিন্তু ঘরে তো বাচ্চাদের খাবার মত খাবার ছাড়া অন্য কিছু নেই।' স্বামী বলল, 'খাবার তৈরী কর। বাতি জ্বালিয়ে দাও। অতঃপর বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও!' মহিলা তাই করল। অতঃপর বাতি ঠিক করার ভান করে উঠে বাতিটাকে নিভিয়ে দিল। (নিয়ম হচ্ছে মেহমানের সাথে খাওয়া। কিন্তু খাবার ছিল মাত্র একজনের। ফলে মেহমানকে খেতে আদেশ করল এবং অন্ধকারে) তারা স্বামী-স্ত্রীতে এমন ভাব প্রকাশ করল যে, তারাও খানা খাচ্ছে! অতএব তারা উভয়ে বাচ্চাসহ উপবাসে রাত্রি অতিবাহিত করল! সকাল হলে লোকটি আল্লাহর রসূল এর খিদমতে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, "গত রাত্রে তোমাদের উভয়ের কাণ্ড দেখে আল্লাহ হেসেছেন।" এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিল,
وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থাৎ, (মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে) যারা এ (মদীনা) নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না; আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। ৩১৫
মহান চরিত্রের এ হল সর্বোচ্চ পর্যায়ের নমুনা। যে নমুনা পেশ করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁরা সন্তোষভাজন হয়েছেন এবং মানুষের ইতিহাসে হয়েছেন প্রসিদ্ধ।
মুসলিমরা যখন মদীনায় এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ আব্দুর রহমান বিন আওফ ও সা'দ বিন রাবী'র মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ক'রে দিলেন। তিনি আব্দুর রহমানকে বললেন, 'আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। আমার মালধন দুইভাগে ভাগ করে অর্ধেক তোমার রইল। আর আমার দুই স্ত্রী, তোমার যেটা পছন্দ, আমি সেটাকে তালাক দিয়ে দেব। অতঃপর তার ইদ্দত অতিবাহিত হলে তুমি তাকে বিবাহ কর! '৩১৬
এর চাইতে বড় পরার্থপরতা, স্বার্থত্যাগ তথা সচ্চরিত্রতা আর কিছু কি হতে পারে? চরিত্রবান আত্মকেন্দ্রিক হয় না। সে একা সুখ পেয়ে সুখী হয় না। বরং সে তার সুখে অপরকে শরীক ক'রে সুখী হয়। আর এ কথা ঠিক যে, নিজের আনন্দে অপরকে অংশী করতে পারলে আনন্দের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যে জীবন নিজের কাজে লাগে না, সে জীবনকে পরের কাজে লাগিয়ে আনন্দিত হওয়া যায়।
'আত্মসুখ অন্বেষণে আনন্দ নাহিরে বারে বারে আসে অবসাদ, পরার্থে যে করে কর্ম তিতি ঘর্ম নীরে সেই লভে স্বর্গের প্রাসাদ।'
টিকাঃ
৩১৪. আহমাদ ২৮৬৫, ইবনে মাজাহ ২৩৪০, ২৩৪১
৩১৫. সূরা হাশ্র ৯ আয়াত, বুখারী ৩৭৯৮, ৪৮৮৯
৩১৬. বুখারী ৩৭৮০
📄 অন্ধ পক্ষপাতিত্ব বর্জন
চরিত্রবান মুসলিম কেবল হক ও সহীহ দলীলের পক্ষপাতিত্ব করে। এ ছাড়া অন্য কোন বিষয়কে কেন্দ্র ক'রে অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে না।
দেশগত, ভাষাগত, পার্টি, দল বা জামাআতগত, মযহাবগত, বংশ, রঙ, বর্ণ বা জাতিগত কোন অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করা কোন চরিত্রবানের চরিত্র হতে পারে না।
মুসলিমরা ভাই-ভাই। তাদের মাঝে গৌণ বিষয় নিয়ে কোন ভেদাভেদ নেই। ভৌগলিক সীমারেখা, জাতীয়তাবাদ, ভাষা বা বর্ণভেদ নিয়ে যারা বৈষম্য ও বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা আলেম, দায়ী বা আরো কিছু হলে হতে পারে, কিন্তু সুচরিত্রের অধিকারী হতে পারে না।
মহান আল্লাহ কেবল 'তাক্বওয়া' বা 'পরহেযগারি'কেই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি বলে ঘোষণা করেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।”৩১৭
আল্লাহর নিকট মর্যাদা ও উৎকৃষ্টতার মাপকাঠি এমন বংশ, গোত্র ও আভিজাত্য নয়, যা গ্রহণ করা কোন মানুষের এখতিয়ারেই নেই, বরং মাপকাঠি হল আল্লাহ-ভীরুতা; যা অবলম্বন করা মানুষের ইচ্ছা ও এখতিয়ারভুক্ত। মহানবী এর ঘোষণা হল,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِي عَلَى عَجَمِيٌّ وَلَا لِعَجَمِيٌّ عَلَى عَرَبِيٌّ وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى
“হে লোক সকল! শোনো, তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক। শোনো, আরবীর উপর অনারবীর এবং অনারবীর উপর আরবীর, কৃষ্ণকায়ের উপর শ্বেতকায়ের এবং শ্বেতকায়ের উপর কৃষ্ণকায়ের কোন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা আছে তো কেবল 'তাক্বওয়ার' কারণেই।”৩১৮
দ্বীনদার লোকেরাই প্রকৃত মর্যাদার অধিকারী, চাহে তাদের বর্ণ যাই হোক, দেশ যাই হোক, বংশ যাই হোক। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ أَهْلَ بَيْتِي هَؤُلاءِ يَرَوْنَ أَنَّهُمْ أَوْلَى النَّاسِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، إِنَّ أَوْلِيَائِيَ مِنْكُمُ الْمُتَّقُونَ
“আমার পরিবারের লোক মনে করে, ওরা আমার বেশি ঘনিষ্ঠতম। অথচ তোমাদের মধ্যে আমার বেশি ঘনিষ্ঠ হল পরহেযগার লোকেরা। ৩১৯
إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِي الْمُتَّقُونَ مَنْ كَانُوا وَحَيْثُ كَانُوا
"নিশ্চয় আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী মুত্তাক্বীনগণ; তারা যেই হোক, যেখানেই থাক। "৩২০
সুচরিত্রবান উদার হয়, সে কোন ব্যক্তি-বিশেষের অন্ধপক্ষপাতিত্ব করে না, কোন দল-বিশেষের অন্ধ তরফদারি করে না। যেহেতু তার নিকট থাকে ইসলাম ও ইনসাফের কষ্টিপাথর।
টিকাঃ
৩১৭. সূরা হুজুরাত: ১৩
৩১৮. আহমাদ ২৩৪৮৯, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৫১৩৭
৩১৯. তাবারানীর কাবীর ২৪১, ইবনে হিব্বান ৬৪৭, যিলালুল জান্নাহ ২১২
৩২০. আহমাদ ২২০৫২, সঃ জামে' ২০১২
📄 ভালো কাজে সহযোগিতা
সুচরিত্রবান মানুষ ভালো কাজে অপরের সহযোগিতা করে। কোন মন্দকাজে কোন প্রকার সহযোগিতা করে না। যেহেতু মহান প্রতিপালকের নির্দেশ,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
"সৎ কাজ ও আত্মসংযমে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অতি কঠোর।"৩২১
সুতরাং চরিত্রবান নারী-পুরুষকে দেখবেন, তারা প্রত্যেক সৎকার্যে সাহায্য করার জন্য আগ্রহী থাকে। দ্বীনদারীর কাজে তো বটেই, দুনিয়াদারীর বৈধ কাজেও সহযোগিতা ক'রে থাকে।
আবু যার বলেন, একদা আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল কোন্ আমল সর্বোত্তম?' তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ও তাঁর পথে জিহাদ করা।” আমি বললাম, 'কোন্ গোলাম (কৃতদাস) স্বাধীন করা সর্বোত্তম?' তিনি বললেন, “যে তার মালিকের দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অধিক মূল্যবান।” আমি বললাম, 'যদি আমি এ সব (কাজ) করতে না পারি।' তিনি বললেন,
تُعِينُ صَانِعاً أَوْ تَصْنَعُ الأَخْرَقَ
"তুমি কোন কারিগরের সহযোগিতা করবে অথবা অকারিগরের কাজ ক'রে দেবে।"
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি (এর) কিছু কাজে অক্ষম হই (তাহলে কী করব)?' তিনি বললেন, "তুমি মানুষের উপর থেকে তোমার মন্দকে নিবৃত্ত কর। তাহলে তা হবে তোমার পক্ষ থেকে তোমার নিজের জন্য সাদকাহস্বরূপ। "৩২২
অপরের সহযোগিতা করা মু'মিনের চরিত্র এই জন্যই যে, সে অপরকে সাহায্য করলে, মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। আল্লাহর রসূল বলেছেন,
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ
"আল্লাহ তাঁর বান্দার সহায় থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।"৩২৩
মানুষ একা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না। মহান প্রতিপালকের সাহায্যের পর সামাজিক সাহায্যের মুখাপেক্ষী সে। মহানবী বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضَاً
"এক মু'মিন অপর মু'মিনের জন্য অট্টালিকার ন্যায়, যার এক অংশ অন্য অংশকে মজবুত ক'রে রাখে।" তারপর তিনি (বুঝাবার জন্য) তাঁর এক হাতের আঙ্গুলগুলিকে অপর হাতের আঙ্গুলগুলির ফাঁকে ঢুকালেন। ৩২৪
সহযোগিতা করতে হবে, তবে দেখে-শুনে, ভেবে-বুঝে। নচেৎ অন্যায় ও অসৎ কাজে কোন প্রকার সহযোগিতা করা যাবে না। পারিশ্রমিক নিয়ে না, না নিয়েও না।
সুতরাং চরিত্রবান এমন চাকরি করে না, যে চাকরি করাতে কোন অবৈধ ও মন্দ কাজে সহযোগিতা হয়।
এমন ব্যবসা করে না, যার মাধ্যমে কোন হারাম খাওয়ানোতে সহযোগিতা হয় অথবা নিষিদ্ধ কোন কর্মে কোন প্রকার সহযোগিতা হয়।
এমন ভাড়া বা মজুর খাটে না, যাতে হারাম কোন ব্যবসা বা কর্মে সহযোগিতা হয়।
নিজের গাড়ি, বাড়ি বা অন্য কিছু এমন কাউকে ভাড়া দেয় না, যে তা কোন প্রকার অন্যায় বা হারাম কাজ করতে ব্যবহার করবে।
এমন কাউকে ঋণদান করে না, যে তার টাকা কোন হারাম কাজ বা ব্যবসায় ব্যবহার করবে।
টিকাঃ
৩২১. সূরা মায়িদাহ: ২
৩২২. বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ২৬০
৩২৩. আহমাদ ৭৪২৭, মুসলিম ৭০২৮, আবু দাউদ ৪৯৪৮, তিরমিযী ১৪২৫, ইবনে মাজাহ ২২৫, সহীহুল জামে' ৬৫৭৭
৩২৪. বুখারী ৪৮১, মুসলিম ৬৭৫০