📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 আত্মসমালোচনা

📄 আত্মসমালোচনা


প্রত্যেক মানুষের ভিতরে আত্মসমালোচনা, আত্মবিচার ও আত্মশুদ্ধি থাকা উচিত সচ্চরিত্রতার অধিকারী হওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক যে, আগামীকালের (কিয়ামতের) জন্য সে কি অগ্রিম পাঠিয়েছে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।"৩০৪
তিনি আত্মশুদ্ধির প্রতি উদ্বুদ্ধ ক'রে বলেছেন,
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَاهَا - وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
"সে সফলকাম হবে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে এবং সে ব্যর্থ হবে, যে তাকে কলুষিত করবে।"৩০৫
উমার বিন খাত্ত্বাব বলেছেন, "(মরণের পর) তোমাদের হিসাব নেওয়ার পূর্বে তোমরা নিজেদের হিসাব নাও। তোমাদের আমল ওজন করার পূর্বে তোমরা নিজেরা ওজন ক'রে দেখে নাও। কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় নিজের হিসাব নিজে নেবে, তার জন্য কিয়ামতের হিসাব হাল্কা হয়ে যাবে। যেদিন তোমাদেরকে পেশ করা হবে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না, সেদিনকার জন্য তোমরা সুসজ্জিত হও।"৩০৬
মাইমূন বিন মিহরান বলেছেন, 'বান্দা পরহেযগার হতে পারে না, যতক্ষণ না সে নিজের হিসাব গ্রহণ করেছে; যেমন সে তার শরীকের হিসাব গ্রহণ ক'রে থাকে, তার খাদ্য কোথা হতে আসছে, তার পোশাক কোথা হতে পাচ্ছে?৩০৭
মানুষ আত্মসমীক্ষা করলে পাপাচারিতা, অতি বিলাসিতা ও আত্মমুগ্ধতা থেকে বিরত থাকতে পারবে। আর তা হলেই সে সহজে চরিত্রবান ও ভদ্র মানুষ হয়ে প্রতিষ্ঠালাভ করবে সমাজে।
আত্মবিচার করলে মানুষ নিজ মনে মহান আল্লাহর তা'যীম অনুভব করবে এবং পরকাল সম্বন্ধে উদাসীনতা দূরীভূত হবে। আর তা হলেই সে অনায়াসে সদাচারী হয়ে বিকাশ লাভ করবে।
যে ব্যক্তি পরের ছিদ্র অন্বেষণ করা থেকে বিরত থাকবে, সে ব্যক্তি নিজের ছিদ্র সংশোধনে প্রয়াসী হবে। আর যে নিজের ছিদ্র অন্বেষণ করবে, সে পরের ছিদ্র অন্বেষণ করতে পারবে না। আর সেই হবে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।
যে ব্যক্তি পরকে ছেড়ে নিজের দোষ গণনা করায় ব্যাপৃত হয়, সেই হয় মানুষের মতো মানুষ।
জ্ঞানী মানুষ নিজেকে চিনতে চেষ্টা করে। কিন্তু নিজেকে চেনা আসলেই কঠিন কাজ।
যে মানুষ চেনে, সে বড় বুদ্ধিমান। কিন্তু যে নিজেকে চেনে, সে সবথেকে বড় বুদ্ধিমান।
মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝগড়া করে নিজের সাথে। জ্ঞানী মানুষ নিজের মনকেই অধিক শাসিয়ে থাকে। আর যে মানুষ নিজ মনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, সেই হল উল্লেখযোগ্য মানুষ। সেই হল সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাহিদ। মহানবী বলেছেন,
أَفضَلُ الجِهَادِ أَن يُجَاهِدَ الرَّجُلُ نَفْسَهُ وَهَوَاهُ
“স্বীয় আত্মা ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।”৩০৮
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের সমালোচনা করতে পারে, সেই সর্বাপেক্ষা বেশী বুদ্ধিমান।
তাই চরিত্রবানের উচিত, লোকে যখন তার বাহ্যিক গুণগ্রাম দেখে প্রশংসা করবে, তখন নিজের আভ্যন্তরীণ ত্রুটি অন্বেষণ ও বিচার করা। যাতে সে তার নিজের গোপন ত্রুটি সংশোধন ক'রে নিজের আত্মার কাছে বিশ্বস্ত হতে পারে। আর তা লোকের ঐ প্রশংসা থেকে বহুগুণ উত্তম।
আমরা জেনেছি, যে স্ত্রীর কাছে ভালো, সে সবার চাইতে ভালো। কারণ সে তার গোপন অনেক তথ্য সম্বন্ধে অন্যান্যের তুলনায় বেশি অবহিতা। আর যে ভালো স্ত্রীর কাছে চরিত্রবান, তার চাইতেও বেশি বড় চরিত্রবান সেই ব্যক্তি, যে নিজের সুস্থ বিবেকের বিচারে চরিত্রবান। কারণ 'মনে জানে পাপ, আর মায়ে জানে বাপ।'

টিকাঃ
৩০৪. সূরা হাশর: ১৮
৩০৫. সূরা শামস: ৯-১০
৩০৬. তিরমিযী ২৪৫৯, ইবনে আবী শাইবা ৩৪৪৫৯
৩০৭. তিরমিযী ২৪৫৯
৩০৮. ইবনে নাজ্জার, সঃ জামে' ১০১৯

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 আমানত আদায় করা

📄 আমানত আদায় করা


আমানত আদায় করা মু'মিনের দায়িত্ব এবং আমানতে খিয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ। এই জন্য চরিত্রবান মু'মিন আমানত আদায় করে এবং সে সেই ব্যক্তিরও খিয়ানত করে না, যে তার খিয়ানত করেছে। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
أَدَّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَحْنُ مَنْ خَانَكَ
"যে তোমার কাছে আমানত রেখেছে, তার আমানত তাকে ফেরৎ দাও এবং যে তোমার খিয়ানত করেছে, তুমি তার খিয়ানত করো না।"৩০৯
আর যেহেতু আমানত আদায় করা সচ্চরিত্রতার একটি মহৎ গুণ, যে গুণে গুণান্বিত হলে আল্লাহ ও তাঁর রসূল এর ভালোবাসা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ أَنْ يَحِبَّكُمُ اللهُ وَرَسُولُهُ فَحَافِظُوا عَلَى ثَلاثَ خِصَالٍ : صِدْقُ الْحَدِيثِ ، وَأَدَاءُ الأَمَانَةِ ، وَحُسْنُ الجَوَارِ
"যদি তোমরা পছন্দ কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে ভালবাসুন, তাহলে তিনটি গুণের হিফাযত কর; ১। সত্য কথা বলা, ২। আমানত আদায় করা এবং ৩। প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করা। "৩১০
বলা বাহুল্য, চরিত্রবান মুসলিম সেই আমানতে খিয়ানত করে না, যা তার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়।
সরকার, জনগণ বা কোন প্রতিষ্ঠানের অর্থে কোন প্রকার খিয়ানত করে না। চাকরি বা অর্পিত কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে না।
রাজা হয়ে প্রজার প্রতি, স্বামী হয়ে স্ত্রীর প্রতি, স্ত্রী হয়ে স্বামীর প্রতি, পিতামাতা হয়ে সন্তানের প্রতি, সন্তান হয়ে পিতামাতার প্রতি, প্রভু হয়ে ভৃত্যের প্রতি, ভৃত্য হয়ে প্রভুর প্রতি কর্তব্য পালনে কোন প্রকার ত্রুটি করে না।
প্রত্যেকের প্রাপ্য আমানত প্রত্যর্পণ করে চরিত্রবান মুসলিম। যেহেতু তার প্রতিপালকের নির্দেশ,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا
"নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার-কার্য পরিচালনা করবে, তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন, তা কত উৎকৃষ্ট! নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"৩১১

টিকাঃ
৩০৯. আবু দাউদ ৩৫৩৭, তিরমিযী ১২৬৪, দারেমী, মিশকাত ২৯৩৪
৩১০. সিলসিলাহ সহীহাহ ২৯৯৮
৩১১.সূরা নিসা: ৫৮

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 উপহার বিনিময়

📄 উপহার বিনিময়


আপোসে উপহার-উপঢৌকন বিনিময় করা সুচরিত্রের একটি সুন্দর আচরণ। যেহেতু তার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়।
'স্মৃতি দিয়ে বাঁধা থাকে প্রীতি, প্রীতি দিয়ে বাঁধা থাকে মন, উপহারে বাঁধা থাকে প্রীতি, তাই দেওয়া প্রয়োজন।'
মহানবী বলেছেন,
تَهَادُوا تَحَابُّوا
"তোমরা উপহার বিনিময় কর, পারস্পরিক সম্প্রীতি লাভ করবে।"৩১২
সা'ব ইবনে জাষ্যামাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (শিকার করা) এক জংলী গাধা উপঢৌকন দিলাম। কিন্তু তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আমার চেহারায় (বিষণ্ণতার চিহ্ন) দেখে বললেন,
إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلَّا لِأَنَّا حُرُمٌ
"আমরা ইহরামের অবস্থায় আছি, তাই আমরা এটি তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।"৩১৩
যেহেতু ইহরাম অবস্থায় শিকার করা ও তার গোশ্ত খাওয়া নিষিদ্ধ, সেহেতু মহানবী সেই উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নচেৎ তিনি কারো উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করতেন না।
যে জিনিস উপহারে দেওয়া হয়, তার প্রয়োজন না থাকলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ তাতে দাতার মন ভেঙ্গে যায়।
'তোমায় কিছু দেব বলে চায় যে আমার মন, নাই বা তোমার থাকল প্রয়োজন।'
বিভিন্ন উপলক্ষ্যে উপহার বিনিময় একটি সুন্দর লোকাচার। কিন্তু তা লোভে পরিণত হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আপোসে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান হওয়া গ্রহণীয় নয়। উপহারের বিনিময়ে কেউ উপহার দিতে না পারলে যেন চরিত্রবানের মনঃক্ষুণ্ণ না হয়। উপহারের লোভে বেছে বেছে কেবল বড়লোকদেরকেই দাওয়াত না দেওয়া হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী যে যা উপহার দেবে, তা যেন সাদরে গ্রহণ করা হয়। নচেৎ উপহার বিনিময় সম্প্রীতির জায়গায় বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করবে। আর সে কাজ কোন চরিত্রবান-চরত্রিবতীর হতে পারে না।

টিকাঃ
৩১২. বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ৫৯৪, আবু য়‍্যা'লা ৬১৪৮, সহীহুল জামে' ৩০০৪
৩১৩. বুখারী ১৮২৫, মুসলিম ২৯০২

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 পরার্থপরতা

📄 পরার্থপরতা


পরার্থপরতা একটি সুন্দর চরিত্র, একটি সুন্দর আদর্শ। এতে আছে পরম সুখ, এতে আছে আত্মতৃপ্তি। কবি বলেছেন, 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি- এ জীবন-মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।'
অবশ্য এ হল পরার্থপরতার পরাকাষ্ঠা। নচেৎ ইসলাম বলে না যে, তুমি নিজেকে ধ্বংস ক'রে অপরকে বাঁচাও। নিজেকে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে অপরকে আলো দাও। নিজেকে আগরবাতির মতো জ্বালিয়ে অপরকে সুগন্ধি বিতরণ কর। বরং ইসলামের নীতি হল, নিজে বাঁচো, অপরকেও বাঁচাও। মহানবী বলেছেন,
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
"কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু'জনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।"৩১৪
এর একটা অর্থ হল, ক্ষতি করব না, ক্ষতিগ্রস্তও হব না। তবুও উচ্চ মানের চরিত্রবান মানুষ নিজের স্বার্থ ত্যাগ ক'রে অপরের উপকার ক'রে থাকে। নিজের মাঝে কিছু অসুবিধা আনয়ন ক'রে অপরের সুবিধা করে, নিজে কিছু কষ্ট বরণ ক'রে অপরকে আরামে রাখে, নিজেকে বসা থেকে বঞ্চিত রেখে অপরকে আসন ছেড়ে দেয়, নিজেকে ক্ষুধায় রেখে অপরকে পরিতৃপ্ত করে।
আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল এর মেহমান হয়ে এল। তিনি উম্মুল মুমিনীনদের কাছে কিছু আছে কি না তা জানতে চাইলেন। তাঁরা বললেন, তাঁদের কিছু পানি ছাড়া খাবার কিছু নেই। ফলে তিনি ঘোষণা ক'রে বললেন, “কে এর মেহমান-নেওয়াযী করবে?” এ কথা শুনে আনসারদের এক ব্যক্তি বলল, 'আমি, হে আল্লাহর রসূল!' অতঃপর তাকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বলল, 'আল্লাহর রসূল এর মেহমানের খাতির কর।' স্ত্রী বলল, 'কিন্তু ঘরে তো বাচ্চাদের খাবার মত খাবার ছাড়া অন্য কিছু নেই।' স্বামী বলল, 'খাবার তৈরী কর। বাতি জ্বালিয়ে দাও। অতঃপর বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও!' মহিলা তাই করল। অতঃপর বাতি ঠিক করার ভান করে উঠে বাতিটাকে নিভিয়ে দিল। (নিয়ম হচ্ছে মেহমানের সাথে খাওয়া। কিন্তু খাবার ছিল মাত্র একজনের। ফলে মেহমানকে খেতে আদেশ করল এবং অন্ধকারে) তারা স্বামী-স্ত্রীতে এমন ভাব প্রকাশ করল যে, তারাও খানা খাচ্ছে! অতএব তারা উভয়ে বাচ্চাসহ উপবাসে রাত্রি অতিবাহিত করল! সকাল হলে লোকটি আল্লাহর রসূল এর খিদমতে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, "গত রাত্রে তোমাদের উভয়ের কাণ্ড দেখে আল্লাহ হেসেছেন।" এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিল,
وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থাৎ, (মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে) যারা এ (মদীনা) নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না; আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। ৩১৫
মহান চরিত্রের এ হল সর্বোচ্চ পর্যায়ের নমুনা। যে নমুনা পেশ করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁরা সন্তোষভাজন হয়েছেন এবং মানুষের ইতিহাসে হয়েছেন প্রসিদ্ধ।
মুসলিমরা যখন মদীনায় এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ আব্দুর রহমান বিন আওফ ও সা'দ বিন রাবী'র মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ক'রে দিলেন। তিনি আব্দুর রহমানকে বললেন, 'আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। আমার মালধন দুইভাগে ভাগ করে অর্ধেক তোমার রইল। আর আমার দুই স্ত্রী, তোমার যেটা পছন্দ, আমি সেটাকে তালাক দিয়ে দেব। অতঃপর তার ইদ্দত অতিবাহিত হলে তুমি তাকে বিবাহ কর! '৩১৬
এর চাইতে বড় পরার্থপরতা, স্বার্থত্যাগ তথা সচ্চরিত্রতা আর কিছু কি হতে পারে? চরিত্রবান আত্মকেন্দ্রিক হয় না। সে একা সুখ পেয়ে সুখী হয় না। বরং সে তার সুখে অপরকে শরীক ক'রে সুখী হয়। আর এ কথা ঠিক যে, নিজের আনন্দে অপরকে অংশী করতে পারলে আনন্দের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যে জীবন নিজের কাজে লাগে না, সে জীবনকে পরের কাজে লাগিয়ে আনন্দিত হওয়া যায়।
'আত্মসুখ অন্বেষণে আনন্দ নাহিরে বারে বারে আসে অবসাদ, পরার্থে যে করে কর্ম তিতি ঘর্ম নীরে সেই লভে স্বর্গের প্রাসাদ।'

টিকাঃ
৩১৪. আহমাদ ২৮৬৫, ইবনে মাজাহ ২৩৪০, ২৩৪১
৩১৫. সূরা হাশ্র ৯ আয়াত, বুখারী ৩৭৯৮, ৪৮৮৯
৩১৬. বুখারী ৩৭৮০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00