📄 বদান্যতা
যেমন কার্পণ্য একটি মন্দ গুণ, তেমনি বদান্যতা একটি মহৎ গুণ। যা সাধারণত: অর্থ ব্যয় করার মাধ্যমে হয়ে থাকে। তা ছাড়াও ১০টি জিনিস ব্যয় ও দান করার মাধ্যমে বদান্যতা হয়ে থাকে।
১। সঠিক পথে জান কুরবানী ক'রে বদান্যতা। আর এ হল সবার চাইতে বড় বদান্যতা।
২। নেতৃত্ব দ্বারা বদান্যতা। নেতৃত্বের প্রতাপ ও প্রভাব দ্বারা মানুষের উপকার করা।
৩। নিজ পদাধিকার দ্বারা বদান্যতা। পদমর্যাদার মাধ্যমে সুপারিশ আদি ক'রে মানুষের উপকার করা।
৪। নিজের আরাম কুরবানী ক'রে বদান্যতা। নিজের আরামকে হারাম ক'রে পরোপকার করা।
৫। নিজ ইল্ল্ম ও শিক্ষা দ্বারা বদান্যতা। আর এ দান অর্থদান করা অপেক্ষা অনেক উচ্চ।
৬। কায়িক শ্রম দ্বারা পরোপকার ক'রে বদান্যতা।
৭। নিজ মান-সম্ভ্রম দ্বারা বদান্যতা। কেউ গালি দিলে অথবা গীবত বা চুগলী করলে তাকে মাফ ক'রে দেওয়া।
৮। পরের কষ্টদানে ধৈর্য ধারণ করা, পরের মূর্খামি সহ্য ক'রে নেওয়া ও রাগ সংবরণ করার মাধ্যমে বদান্যতা।
৯। সচ্চরিত্রতা, হাস-মুখ ও ভদ্র ব্যবহার দ্বারা বদান্যতা।
১০। লোকের হাতে যা আছে, তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে লোভ, পরশ্রীকাতরতা ও হিংসা বর্জনের মাধ্যমে বদান্যতা।
উক্ত সকল প্রকার বদান্যতা ছিল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এর মাঝে। তবে মালধন ব্যয় করার মাধ্যমে তাঁর দানশীলতা ছিল তুলনাবিহীন। তিনি বলেছেন,
يَعْدِلُ بَيْنَ الاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ وَيُعِينُ الرَّجُلَ عَلَى دَابَّتِهِ فَيَحْمِلُ عَلَيْهَا أَوْ يَرْفَعُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ وَكُلُّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ وَيُمِيطُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ
"দু'জন মানুষের মধ্যে তোমার মীমাংসা ক'রে দেওয়াটাও সাদকাহ, কোন মানুষকে নিজ সওয়ারীর উপর বসানো অথবা তার উপর তার সামান উঠিয়ে নিয়ে সাহায্য করাও সাদকাহ, ভাল কথা বলা সাদকাহ, স্বলাতের জন্য কৃত প্রত্যেক পদক্ষেপ সাদকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূরীভূত করাও সাদকাহ।”২৭১
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ وَإِنَّ مِنْ الْمَعْرُوفِ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ وَأَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ
"প্রত্যেক কল্যাণমূলক কর্মই হল সদকাহ (করার সমতুল্য)। আর তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতির সাহায্যে (কুয়ো থেকে পানি তুলে) তোমার ভাইয়ের পাত্র (কলসী ইত্যাদি) ভরে দেওয়াও কল্যাণমূলক (সৎ) কর্মের পর্যায়ভুক্ত।”২৭২
দান করা একটি সুচরিত্রবান মানুষের সুন্দর আচরণ। যেহেতু তাতে রয়েছে মহান স্রষ্টার আনুগত্য, মহানবী এর অনুসরণ এবং দেওয়ার এক প্রকার সুখ ও আনন্দ। নিজে খরচ করার চাইতে বিতরণ করার মাঝেই বেশী সুখ নিহিত আছে।
অবশ্য চরিত্রবানের দান করাতে রয়েছে অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য। যেমন:-
> তার দানে থাকে আন্তরিকতা ও খোলা মনের মুচকি হাসি। কারণ দানের সাথে যদি মিষ্টি হাসি থাকে, তাহলে তার পুণ্য দ্বিগুণ।
> কেউ কিছু চাইলে, সে সত্বর দান করে। যেহেতু কিছু চাইলে যে খুব তাড়াতাড়ি দেয়, সে আসলে দুই বার দেয়।
> সে গোপনে দান করে, যেহেতু যাঞাকারীকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচিয়ে দান হল উত্তম দান।
> সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, সেই জিনিস দান করে। অনেকে ডিমের লালা ও কুসুম খেয়ে কেবল খোসাটা দান ক'রে থাকে। এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস দান ক'রে সে দাতা হতে চায় না। অবশ্য সে জিনিস যদি কারো কাজে লাগে, তাহলে সে কথা আলাদা। যেমন অপ্রয়োজনীয় ব্যবহৃত পোশাক, যন্ত্র বা অন্য কিছু ফেলে না রেখে অথবা ফেলে দিয়ে নষ্ট না ক'রে তা তাদেরকে দান করা উচিত, যাদের কাজে লাগবে।
চরিত্রবান এমন দান করে না, যাতে সে নিজেই অভাবী হয়ে যায়। ভিক্ষা দেওয়ার একটা সীমা আছে, ভিক্ষা দিতে দিতে যদি নিজেকে ভিখারী হতে হয়, তাহলে সে ভিক্ষা অবশ্যই দেওয়া যায় না। আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا تَحْسُورًا
“তুমি বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না; হলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে।”২৭৩
টিকাঃ
২৭১. বুখারী ২৯৮৯, মুসলিম ২৩৮২
২৭২. আহমাদ ১৪৮-৭৭, তিরমিযী ১৯৭০
২৭৩. সূরা বানী ইস্রাঈল: ২৯
📄 কৃতজ্ঞতা
চরিত্রবান মানুষ কৃতজ্ঞ হয়, শুকরগুযার ও নেমকহালাল হয়। উপকারীর উপকারে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং কৃতঘ্ন হয় না। যার নুন খায়, তার গুণ গায়, তার নেমকহারামী করে না। দুশ্চরিত্ররাই অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। উপকারীর উপকারকে ভুলে বসে।
এমনিতে বহু মানুষের বহু ধরনের অকৃতজ্ঞতা দেখা যায়, কিন্তু সবচেয়ে বড় অকৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বড় অনুগ্রহকর্তার।
বহু মানুষ আপন সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালকের অকৃতজ্ঞ। বহু সন্তান নিজ জন্মদাতা ও পালনকর্তা পিতামাতার অকৃতজ্ঞ। বহু স্ত্রী নিজ ভরণপোষণকারী স্বামীর অকৃতজ্ঞ। এ সকল মানুষের চরিত্র সচ্চরিত্র নয়।
মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি ক'রে দুনিয়াতে খেতে-পরতে দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ মানুষ তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। সবচেয়ে বড় নেমকহারাম সে মানুষ। মহান আল্লাহ মানুষকে বলেছেন,
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرُكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ
অর্থাৎ, তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর কৃতঘ্ন হয়ো না। ২৭৪
তিনি মহাদাতা, বান্দাকে দান করেন সব কিছু। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও তিনি দান করেন। তবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি দান আরো বৃদ্ধি করেন। নচেৎ তিনি চাইলে আযাব দিয়ে তা ধ্বংস করতে পারেন। তিনি বলেছেন,
لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
অর্থাৎ, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। ২৭৫
আল্লাহ সম্পদ দান ক'রে পরীক্ষা করেন। ২৭৬
যে তাঁর শুক্রিয়া আদায় করে, সে লাভবান হয়। আর যে নাশুক্র হয়, সে হয় ক্ষতিগ্রস্ত।
মহানবী বলেছেন, "বানী ইস্রাঈলের মধ্যে তিন ব্যক্তি ছিল। একজন ধবল-কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত, দ্বিতীয়জন টেকো এবং তৃতীয়জন অন্ধ ছিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। ফলে তিনি তাদের কাছে একজন ফিরিস্তা পাঠালেন। ফিরিস্তা (প্রথমে) ধবল-কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে বললেন, 'তোমার নিকট প্রিয়তম বস্তু কী?' সে বলল, 'সুন্দর রং ও সুন্দর ত্বক। আর আমার নিকট থেকে এই রোগ দূরীভূত হোক---যার জন্য মানুষ আমাকে ঘৃণা করছে।' অতঃপর তিনি তার দেহে হাত ফিরালেন, যার ফলে (আল্লাহর আদেশে) তার ঘৃণিত রোগ দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর রং দেওয়া হল। অতঃপর তিনি বললেন, 'তোমার নিকট প্রিয়তম ধন কী?' সে বলল, 'উট অথবা গাভী।' (এটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ।) সুতরাং তাকে দশ মাসের গাভিন একটি উটনী দেওয়া হল। তারপর তিনি বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত (প্রাচুর্য) দান করুন।'
অতঃপর তিনি টেকোর কাছে এসে বললেন, 'তোমার নিকট প্রিয়তম জিনিস কী?' সে বলল, 'সুন্দর কেশ এবং এই রোগ দূরীভূত হওয়া---যার জন্য মানুষ আমাকে ঘৃণা করছে।' অতঃপর তিনি তার মাথায় হাত ফিরালেন, যার ফলে তার (সেই রোগ) দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর কেশ দান করা হল। (অতঃপর) তিনি বললেন, 'তোমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় ধন কোন্টা?' সে বলল, 'গাভী।' সুতরাং তাকে একটি গাভিন গাই দেওয়া হল এবং তিনি বললেন, 'আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দান করুন।'
অতঃপর তিনি অন্ধের কাছে এলেন এবং বললেন, 'তোমার নিকটে প্রিয়তম বস্তু কী?' সে বলল, 'এই যে, আল্লাহ তাআলা যেন আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন যার দ্বারা আমি লোকেদেরকে দেখতে পাই।' সুতরাং তিনি তার চোখে হাত ফিরালেন। ফলে আল্লাহ তাকে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। ফিরিস্তা বললেন, 'তুমি কোন্ ধন সবচেয়ে পছন্দ কর?' সে বলল, 'ছাগল।' সুতরাং তাকে একটি গাভিন ছাগল দেওয়া হল।
অতঃপর ঐ দু'জনের (কুষ্ঠরোগী ও টেকোর) পশু (উটনী ও গাভীর) পাল বৃদ্ধি পেতে লাগল এবং এই অন্ধেরও ছাগলটিও বাচ্চা প্রসব করল। ফলে এর এক উপত্যকা ভরতি উট, এর এক উপত্যকা ভরতি গরু এবং এর এক উপত্যকা ভরতি ছাগল হয়ে গেল।
পুনরায় ফিরিস্তা (পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তাঁর পূর্বের চেহারা ও আকৃতিতে) কুষ্ঠরোগীর কাছে এলেন এবং বললেন, 'আমি মিসকীন মানুষ, সফরে আমার সকল পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। ফলে স্বদেশে পৌঁছনোর জন্য আল্লাহ অতঃপর তোমার সাহায্য ছাড়া আজ আমার কোন উপায় নেই। সেজন্য আমি ঐ সত্তার নামে তোমার কাছে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং ও সুন্দর ত্বক দান করেছেন; যার দ্বারা আমি আমার এই সফরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই।' সে উত্তর দিল যে, '(আমার দায়িত্বে আগে থেকেই) বহু অধিকার ও দাবি রয়েছে।'
(এ কথা শুনে) ফিরিস্তা বললেন, 'তোমাকে আমার চেনা মনে হচ্ছে। তুমি কি কুষ্ঠরোগী ছিলে না, লোকেরা তোমাকে ঘৃণা করত? তুমি কি দরিদ্র ছিলে না, আল্লাহ তাআলা তোমাকে ধন প্রদান করেছেন?' সে বলল, 'এ ধন তো আমি পিতা ও পিতামহ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।' ফিরিস্তা বললেন, 'যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিন!'
অতঃপর তিনি তার পূর্বেকার আকার ও আকৃতিতে টেকোর কাছে এলেন এবং তাকেও সে কথা বললেন, যে কথা কুষ্ঠরোগীকে বলেছিলেন। আর টেকোও সেই জবাব দিল, যে জবাব কুষ্ঠরোগী দিয়েছিল। সে জন্য ফিরিস্তা তাঁকেও বললেন যে, 'যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিন!'
পুনরায় তিনি তাঁর পূর্বেকার আকার ও আকৃতিতে অন্ধের নিকট এসে বললেন যে, আমি একজন মিসকীন ও মুসাফির মানুষ, সফরের যাবতীয় পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। ফলে স্বদেশে পৌঁছনোর জন্য আল্লাহ অতঃপর তোমার সাহায্য ছাড়া আজ আমার আর কোন উপায় নেই। সুতরাং আমি তোমার নিকট সেই সত্তার নামে একটি ছাগল চাচ্ছি, যিনি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন; যার দ্বারা আমি আমার এই সফরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই।' সে বলল, 'নিঃসন্দেহে আমি অন্ধ ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। (আর এই ছাগলও তাঁরই দান।) অতএব তুমি ছাগলের পাল থেকে যা ইচ্ছা নাও ও যা ইচ্ছা ছেড়ে দাও। আল্লাহর কসম! আজ তুমি আল্লাহ আয্যা অজাল্লার জন্য যা নেবে, সে ব্যাপারে আমি তোমাকে কোন কষ্ট বা বাধা দেব না।' এ কথা শুনে ফিরিস্তা বললেন, 'তুমি তোমার মাল তোমার কাছে রাখ। নিঃসন্দেহে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হল (যাতে তুমি কৃতকার্য হলে)। ফলে আল্লাহ তাআলা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার সঙ্গীদ্বয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন।”২৭৭
যুগে যুগে অকৃতজ্ঞ কোন কোন মানুষকে আল্লাহ ধ্বংস করেছেন। কারূনকে তার প্রাসাদ সহ ভূগর্ভস্থ করা হয়েছে। ২৭৮
কত বাগান-ওয়ালার বাগানও ধ্বংস হয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করে কৃতঘ্ন হওয়ার ফলে। আর তাদের ইতিহাস রয়েছে আল-কুরআনে। ২৭৯
এই জন্য মানুষের উচিত মহান আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং যার মাধ্যমে সে অনুগ্রহ লাভ হয়, তারও কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ হওয়া। কৃতজ্ঞতা আদায় হয় পাঁচভাবে ৪
> ১. দাতার দানের কথা স্বীকার করতে হবে। তা অস্বীকার করলে অথবা 'আমি নিজের যোগ্যতা বলে লাভ করেছি' মনে করলে কৃতঘ্নতা হয়।
➤ ২. সে কথা প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে দাতার প্রশংসা করতে হবে। অবশ্য তাতে যেন গর্ব মিশ্রিত না হয়।
> ৩. দাতার প্রতি বিনয়ী হতে হবে। উদ্ধত ব্যক্তি নেমকহারাম।
> ৪. দাতার প্রতি মহব্বত রাখতে হবে। যে দাতাকে ভালোবাসে না, সে আসলে একজন অকৃতজ্ঞ।
> ৫. দাতার আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে দেওয়া জিনিস ব্যয় করতে হবে। নচেৎ অনুগ্রহদাতার অবাধ্যাচরণ করলে অথবা তার দেওয়া জিনিস তার অপছন্দনীয় স্থলে ব্যয় করলে অকৃতজ্ঞতা হয়।
মহান অনুগ্রহশীল প্রতিপালক কৃতজ্ঞতা চান। চরিত্রবান বান্দা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করে। ফলে তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ اللهَ لَيَرْضَى عَن العَبْدِ يَأْكُلُ الأَكْلَةَ ، فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا ، وَيَشْرَبُ الشَّرْبَة ، فَيَحْمَدُهُ عَلَيْهَا
“নিশ্চয় আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন, যে বান্দা কিছু খেলে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং কিছু পান করলেও আল্লাহর প্রশংসা করে (অর্থাৎ, আল- হামদু লিল্লাহ পড়ে)। "২৮০
চরিত্রবান মু'মিন বান্দা শুকর ও সবর প্রয়োগ ক'রে জীবনধারণ করে এবং তাতে সে প্রভূত কল্যাণ লাভে ধন্য হয়। মহানবী বলেছেন,
عَجَباً لأَمْرِ المُؤمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خيرٌ وَلَيسَ ذَلِكَ لأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِن : إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ ، وإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ
"মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু'মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।”২৮১
কেবল সুখেই নয়, দুঃখ এলেও বান্দা মহান প্রতিপালকের দেওয়া দুঃখে শোকাহত মনে তাঁর প্রশংসা করে। এ হল কৃতজ্ঞতার উচ্চ পর্যায়ের সচ্চরিত্রতা। কারণ বান্দা জানে, মহান আল্লাহ যা করেন, তা বান্দার মঙ্গলের জন্য করেন এবং সুখ-দুঃখ যাই আসুক, তাতে তার মঙ্গল আছে। আর এই শ্রেণীর শুকরগুযারের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। মহানবী বলেছেন,
إِذَا مَاتَ وَلَدُ العَبْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلائِكَتِهِ : قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي ؟ فَيَقُولُونَ : نَعَمْ ، فَيَقُولُ : قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ ؟ فَيَقُولُونَ : نَعَمْ ، فَيَقُولُ : مَاذَا قَالَ عَبْدِي ؟ فَيَقُولُونَ : حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : ابْنُوا لِعَبْدِي بَيتاً فِي الجَنَّةِ، وَسَمُّوهُ بَيْتَ الحَمْدِ
"যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন মহান আল্লাহ স্বীয় ফিরিস্তাদেরকে বলেন, 'তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জীবন হনন করেছ কি?' তাঁরা বলেন, 'হ্যাঁ।' তিনি বলেন, 'তোমরা তার হৃদয়ের ফলকে হনন করেছ?' তাঁরা বলেন, 'হ্যাঁ।' তিনি বলেন, 'সে সময় আমার বান্দা কী বলেছে?' তারা বলে, 'সে আপনার হাম্দ (প্রশংসা) করেছে ও ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন (অর্থাৎ, আমরা তোমার এবং তোমার কাছেই অবশ্যই ফিরে যাব) পাঠ করেছে।' মহান আল্লাহ বলেন, 'আমার (সন্তানহারা) বান্দার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ কর, আর তার নাম রাখ, 'বায়তুল হাম্দ' (প্রশংসাভবন)।”২৮২
এমন উচ্চ মানের চরিত্রের অধিকারী, যে ধূপের মতো জ্বললেও সুগন্ধ বিতরণ করে, শোকাহত হয়েও মহান আল্লাহর প্রশংসা করে, সে তো উপযুক্ত পুরস্কার পাবেই।
এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়, কিন্তু সরাসরি নয়, কারো মাধ্যমে। সে ক্ষেত্রে উচিত হল, মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। তারপর ঐ মাধ্যম ব্যক্তির কৃতজ্ঞতা করা। কিন্তু অনেক এমন অনুগ্রহপ্রাপ্ত আছে, যারা কেবল মাধ্যমের প্রশংসা করে এবং আসল দাতা মহান আল্লাহকে ভুলে যায়। তারা অবশ্যই অকৃতজ্ঞ। অনুরূপ আরো এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা অনুগ্রহ প্রাপ্তির পর মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, কিন্তু ঐ মাধ্যমের কোন শুকরিয়া আদায় করে না। পরন্তু মাধ্যম দ্বারা অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হলে তখন তারই নিন্দা করে। এরা কি আদৌ চরিত্রবান বলছেন? কক্ষনই না। চরিত্রবান মানুষ সকলের অনুগ্রহ ও উপকার স্বীকার করে এবং সকলের কৃতজ্ঞতা আদায় করে। যেহেতু মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় না ক'রে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা করলেও আসলে তা আদায় হয় না। মহানবী বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ ، لَمْ يَشْكُرِ اللَّهِ
"যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের শুক্র করল না, সে আল্লাহর শুক্র করল না।”২৮৩
তিনি আরো বলেছেন,
مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيَجْزِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَجِدُ مَا يَجْزِيهِ ، فَلْيُثْنِ عَلَيْهِ ، فَإِنَّهُ إِذَا أَثْنَى عَلَيْهِ فَقَدْ شَكَرَهُ ، وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ ، وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَ ، فَكَأَنَّمَا لَبِسَ ثَوْبَى زُورٍ
"যে ব্যক্তিকে কোন উপহার দান করা হয় সে ব্যক্তির উচিত, দেওয়ার মত কিছু পেলে তা দিয়ে তার প্রতিদান (প্রত্যুপহার) দেওয়া। দেওয়ার মত কিছু না পেলে দাতার প্রশংসা করা উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি (দাতার) প্রশংসা করে সে তার কৃতজ্ঞতা (বা শুকরিয়া) আদায় করে দেয়, যে ব্যক্তি (উপহার) গোপন করে (প্রতিদান দেয় না বা শুক্র আদায় করে না) সে কৃতঘ্নতা (বা নাশুক্রী) করে। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু প্রকাশ করে, যা তাকে দেওয়া হয়নি সে ব্যক্তি দু'টি মিথ্যা লেবাস পরিধানকারীর মতো।”২৮৪
এ হল আদর্শ ও চরিত্রবানদের নীতি। কিন্তু আদর্শহীনদের নীতি এর বিপরীত। তাদের অধিকার আছে ধারণা ক'রে অতিরিক্ত অধিকার ফলায়। ফলে তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ধারণা ক'রে অনুগ্রহকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। যার নেমক খায়, তার নেমকহারামি করে। এ ক্ষেত্রে আপনি কৃতজ্ঞতার স্থলে কৃতঘ্নতা ও নিন্দার আশা করতে পারেন। যাকে তীর শিক্ষা দেন, সে আপনাকেই তীর মারতে পারে। যাকে দুধ দিয়ে পোষণ করেন, সেই আপনাকে দংশন করতে পারে। যার জন্য চুরি করেন, সেই আপনাকে 'চোর' বলতে পারে। যার জন্য বনবাসী, সেই দিতে পারে গলায় ফাঁসি। যার জন্য বুক ফাটে, সে আপনাকে এঁকে কাটে---এমনও হতে পারে।
তাদের মধ্যে একজন হল অবাধ্য সন্তান। সন্তানের প্রতি মহান আল্লাহর নির্দেশ ছিল, সে পিতামাতার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে।
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ
অর্থাৎ, আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী কষ্টের পর কষ্ট বরণ ক'রে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং তার স্তন্যপান ছাড়াতে দু'বছর অতিবাহিত হয়। সুতরাং তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ২৮৫
কিন্তু সে তা না ক'রে পিতামাতার অবাধ্য হয়। পিতামাতাকে খেতে-পরতে দেয় না। তাদেরকে নারাজ ক'রে পৃথক সংসার গড়ে। তাদেরকে কষ্টে রেখে নিজে আনন্দ করে ইত্যাদি। নিশ্চয় সে সন্তান, ছেলে অথবা মেয়ে কুসন্তান এবং আদর্শহীন ও চরিত্রহীন।
তাদের মধ্যে আর একজন হল স্ত্রী। অধিকার ফলিয়ে স্বামীর মর্যাদা অস্বীকার করে। তার কৃতজ্ঞতা করা তো দূর কী বাত, উল্টে তার নিন্দা গায়। কিছু স্ত্রীলোকের এমনই স্বভাব, হাজার দিলেও যায় না অভাব।
অবিবাহিতা নারী একটি মনোমতো স্বামী ছাড়া দুনিয়ার অন্য কিছু চায় না। কিন্তু যখনই স্বামী পায়, তখনই সে তার নিকট থেকে সবকিছু চাইতে শুরু করে। আর বায়না ধরার পর পায় না বলে, অকৃতজ্ঞতা করতে শুরু করে। পরন্তু আগে যা পেয়েছে তাও ভুলে বসে!
যা পাওয়ার অধিকারিণী সে, শুধু তাই চায়, তা নয়। অন্যায়ভাবেও সে চায়, আমার নামে সম্পত্তি লিখে দাও, আমার নামে বাড়ি লিখে দাও। তাতে যে অন্য ওয়ারেসীন বঞ্চিত হবে, তাতে তার কিছু যায়-আসে না। এমন বউ কি চরিত্রবতী হতে পারে? সে কি চাইবে, তার ছেলে পুত্রবধূর নামে ঘর-বাড়ি লিখে দিক?
নেমকহারাম বিবি যা পেয়েছে তার হিসাব করে না, যা পায়নি কেবল তারই হিসাব করে। আর তার ফলে তার কাছে স্বামীর শুধু অভিযোগ ছাড়া অন্য কিছু শোনা যায় না। অনেক কিছু পাওয়ার পরেও সে তার শুকরিয়া আদায় করে না। কারণ সে ভাবে, সে সব তার প্রাপ্য জিনিস। তাছাড়া পরস্ত্রীর দেখে সে পেতে চায়। কিন্তু সে উপরের দিকে তাকায় এবং নিচের দিকে তাকায় না। ফলে নিজের লব্ধ সমূহ নিয়ামতকে সামান্য ও নগণ্য জ্ঞান করে।
এমন সহধর্মিণী নিজের বেহেস্তকে ধ্বংস করে, নিজের ভোজন পাত্রে ছিদ্র করে, নিজের বসার জায়গা কাদা করে এবং নিজের পায়ে কুঠারাঘাত করে। এমন স্ত্রী তার প্রতিপালকের নিকটেও ক্রোধভাজন হয়। মহনবী বলেছেন,
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا وَهِيَ لَا تَسْتَغْنِي عَنْهُ
"আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি চেয়েও দেখবেন না, যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না; অথচ সে তার মুখাপেক্ষিণী।"২৮৬
হ্যাঁ, স্বামীই তার ভরণ-পোষণ করে। কত কষ্ট বরণ ক'রে উপার্জন ক'রে আনে। অতঃপর নিজের সাধ্যমতো তার পরিচর্যা করে। তার চিকিৎসায় ত্রুটি করে না। সাংসারিক কাজে নিজের অথবা কাজের লোক দ্বারা সহযোগিতা করতে ত্রুটি করে না।
ছুটির দিন সেও ছুটি নিতে চায়। অথচ ছুটির দিন পরিবারের সবাই ছুটি নিতে চাইলে ছুটির আনন্দ থাকে না। তবুও ছুটির বায়না কোন রকম মিটাতে না পারলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
স্বামী খরচে-উপহারে কোন প্রকার কার্পণ্য করে না, তবুও যেন বিচারপতি স্ত্রীর কাছে স্বামী আসামী। প্রভাবশালিনী স্ত্রীর কাছে বিদ্বান স্বামী যেন নির্বোধ শিশু। কৃতঘ্ন স্ত্রীর অভাবই পূরণ হয় না।
একদা রাসূলুল্লাহ (মহিলাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন,
يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ
"হে মহিলা সকল! তোমরা সাদকাহ-খয়রাত করতে থাক ও অধিকমাত্রায় ইস্তিগফার কর। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীরূপে দেখলাম।"
একজন জ্ঞানী মহিলা নিবেদন করল, 'আমাদের অধিকাংশ জাহান্নামী হওয়ার কারণ কী? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبِّ مِنْكُنَّ
"তোমরা অভিশাপ বেশি কর এবং নিজ স্বামীর অকৃতজ্ঞতা কর। বুদ্ধি ও ধর্মে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিচক্ষণ ব্যক্তির উপর তোমাদের চাইতে আর কাউকে বেশি প্রভাব খাটাতে দেখিনি।"২৮৭
অকৃতজ্ঞতা যেন স্ত্রীর জাতস্বভাব। অনেক কিছু পেয়েও সামান্য কিছু না পেয়ে বলে বসে, 'সে কিছুই পায়নি।' অনেক ভালোবাসা পেয়েও তারই কোন দোষে সামান্য কোন শাসানি বা ধমক পেয়েই বলে বসে, 'তুমি আজীবন ভালোবাসলে না।' এই অকৃতজ্ঞতার পরিণামে স্ত্রী দোযখবাসিনী হবে।
ইবনে আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত, নবী বলেন, "আমাকে জাহান্নাম দেখানো হল। আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসিনী হল মহিলা।" সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তা কী জন্য হে আল্লাহর রসূল?' উত্তরে তিনি বললেন, "তাদের কুফরীর জন্য।" তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর সাথে কুফরী?' তিনি বললেন,
يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ
"(না,) তারা স্বামীর কুফরী (অকৃতজ্ঞতা) ও নিমকহারামি করে। তাদের কারো প্রতি যদি সারা জীবন এহসানী কর, অতঃপর সে যদি তোমার নিকট সামান্য ত্রুটি লক্ষ্য করে, তাহলে ব'লে বসে, তোমার নিকট কোন মঙ্গল দেখলাম না আমি!”২৮৮
নিশ্চয়ই জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাসিনী স্ত্রীর চরিত্র নেমকহারামি হতে পারে না। অকৃতজ্ঞ হতে পারে না স্বামীর। তুলনা দিয়ে প্রশংসা করতে পারে না স্বামীর সম্মুখে অন্য পুরুষের।
চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামী-সংসারে যতই কষ্ট পাক, তবুও অকৃতজ্ঞ হয় না কারো, না মহান প্রতিপালকের, আর না তার দায়িত্বশীল প্রতিপালকের। নচেৎ অকৃতজ্ঞ স্ত্রী মর্যাদার অধিকারিণী নয়।
সকলের জানা আছে ঘরের চৌকাঠ বদলানোর ইতিহাস। ইসমাঈল (আ:) এর বিবাহের পর ইব্রাহীম (আ:) তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনকে দেখার জন্য মক্কায় এলেন। কিন্তু এসে ইসমাঈলকে পেলেন না। পরে তাঁর স্ত্রীর নিকট তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলেন। স্ত্রী বললেন, 'তিনি আমাদের রুযীর সন্ধানে বেরিয়ে গেছেন। আমাদের জন্য শিকার করতে গেছেন।' আবার তিনি পুত্রবধূর কাছে তাঁদের জীবনযাত্রা ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। বধূ বললেন, 'আমরা অতিশয় দুর্দশা, দুরবস্থা, টানাটানি এবং ভীষণ কষ্টের মধ্যে আছি।' পুত্রবধূ শ্বশুর ইব্রাহীম (আ:) এর নিকট নানা অভিযোগ করলেন। তিনি তাঁর পুত্রবধূকে বললেন, 'তোমার স্বামী বাড়ি এলে তাঁকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে, সে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠ বদলে নেয়।' এই বলে তিনি চলে গেলেন।
ইসমাঈল যখন বাড়ি ফিরে এলেন, তখন তিনি ইব্রাহীমের আগমন সম্পর্কে একটা কিছু ইঙ্গিত পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের নিকট কেউ কি এসেছিলেন?' স্ত্রী বললেন, 'হ্যাঁ, এই এই আকৃতির একজন বয়স্ক লোক এসেছিলেন। আপনার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন। আমি তাঁকে আপনার খবর দিলাম। পুনরায় আমাকে আমাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে জানালাম যে, আমরা খুবই দুঃখ-কষ্ট ও অভাবে আছি।' ইসমাঈল বললেন, 'তিনি তোমাকে কোন কিছু অসিয়ত ক'রে গেছেন কি?' স্ত্রী জানালেন, 'হ্যাঁ, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আপনাকে তার সালাম পৌঁছাতে এবং আরো বলেছেন, আপনি যেন আপনার দরজার চৌকাঠ বদলে ফেলেন।' ইসমাঈল (আ:) বললেন, 'তিনি ছিলেন আমার পিতা এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যেন তোমাকে আমি তালাক দিয়ে দিই। কাজেই তুমি তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও!'
সুতরাং ইসমাঈল (আ:) তাঁকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং 'জুরহুম' গোত্রের অন্য একটি মেয়েকে বিবাহ করলেন। অতঃপর যতদিন আল্লাহ চাইলেন ইব্রাহীম (আ:) ততদিন এঁদের থেকে দূরে থাকলেন। পরে আবার দেখতে এলেন। কিন্তু ইসমাঈল সেদিনও বাড়িতে ছিলেন না। তিনি পুত্রবধূর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ইসমাঈল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। স্ত্রী জানালেন তিনি আমাদের খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে গেছেন। ইব্রাহীম জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমরা কেমন আছ?' তিনি তাঁর নিকট তাঁদের জীবনযাত্রা ও সাংসারিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চাইলেন? পুত্রবধূ উত্তরে বললেন, 'আমরা ভাল অবস্থায় এবং সচ্ছলতার মধ্যে আছি।' এ বলে তিনি আল্লাহর প্রশংসাও করলেন। ইব্রাহীম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমাদের প্রধান খাদ্য কী?' পুত্রবধূ উত্তরে বললেন, 'গোশ্।' বললেন, 'তোমাদের পানীয় কী?' বধূ বললেন, 'পানি।' ইব্রাহীম দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ! এদের গোশ্ ও পানিতে বরকত দাও।'
আলাপ শেষে ইব্রাহীম পুত্রবধূকে বললেন, 'তোমার স্বামীকে আমার সালাম বলবে এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে হুকুম করবে, সে যেন তার দরজার চৌকাঠ বহাল রাখে।'
অতঃপর ইসমাঈল যখন বাড়ি এসে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমাদের নিকট কেউ এসেছিলেন কি?' স্ত্রী বললেন, 'হ্যাঁ, একজন সুন্দর আকৃতির বৃদ্ধ এসেছিলেন। (অতঃপর স্ত্রী তাঁর প্রশংসা করলেন ও বললেন,) তারপর তিনি আপনার সম্পর্কে জানতে চাইলেন, আমি তখন তাঁকে আপনার খবর বললাম। অতঃপর তিনি আমাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে খবর দিলাম যে, আমরা ভালই আছি।' স্বামী বললেন, 'আর তিনি তোমাকে কোন অসিয়ত করেছেন কি?' স্ত্রী বললেন, 'তিনি আপনাকে সালাম বলেছেন এবং আপনার দরজার চৌকাঠ অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।' ইসমাঈল তাঁর স্ত্রীকে বললেন, 'তিনি আমার আব্বা, আর তুমি হলে চৌকাঠ। তিনি নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমি যেন তোমাকে স্ত্রী হিসাবে বহাল রাখি।'২৮৯
প্রত্যেক অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তির উচিত, জীবনে যা পেয়েছে, তার হিসাব করা এবং যা পায়নি, তার হিসাব না করা। কারণ হিসাব নিলে দেখো যায়, যা সে পায়নি, তার তুলনায় যা পেয়েছে, তা অনেকানেক বেশি। আর সে জন্যই অনেক বঞ্চনা সত্ত্বেও অনুগ্রহদাতার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হয়। অল্পে তুষ্ট হতে পারলে মানুষ শুকরগুযার হতে পারে, তা না হলে নাশুকরির অনল-দহনে আজীবন কষ্ট ভোগ করতে হয়।
মহানবী আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে অসিয়ত ক'রে বলেছিলেন,
يَا أَبَا هُرَيْرَةَ كُنْ وَرِعًا تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ ، وَكُنْ قَنِعًا تَكُنْ أَشْكَرَ النَّاسِ ، وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا ، وَأَحَسِنُ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ تَكُنْ مُسْلِمًا ، وَأَقِلَّ الضَّحِكَ ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ
“হে আবু হুরাইরা! তুমি নিজের মধ্যে আল্লাহভীরুতা নিয়ে এস, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবেদ হয়ে যাবে। আর অল্পে পরিতুষ্ট হও, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সব থেকে বেশী কৃতজ্ঞ হয়ে যাবে। মানুষের জন্যও তা-ই পছন্দ কর, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মু'মিন গণ্য হবে। তোমার প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মুসলিম বিবেচিত হবে। আর হাসি কম কর, কারণ, অধিক হাসি অন্তরকে মেরে দেয়।”২৯০
টিকাঃ
২৭৪. সূরা সূরা বাক্বারা ১৫২
২৭৫. সূরা সূরা ইব্রাহীম ৭
২৭৬. সূরা নাম্ফ্ল ৪০
২৭৭. বুখারী ৩৪৬৪, মুসলিম ৭৬২০
২৭৮. সূরা সূরা ক্বস্বাস ৭৬-৮২
২৭৯. দেখুন: সূরা কাহফ ৩২-৪৩, সূরা সাবা' ১৫-১৯, সূরা ক্বালাম ১৭-৩৩
২৮০. মুসলিম ৭১০৮
২৮১. মুসলিম ৭৬৯২
২৮২. তিরমিযী ১০২১
২৮৩. আহমাদ ১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫
২৮৪. তিরমিযী ২০৩৪, আবু দাউদ ৪৮১৩, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তারগীব ৯৫৪
২৮৫. সূরা লুকমান ১৪
২৮৬. নাসাঈ কুবরা ৯১৩৫, ত্বাবারানী, বায্যার ২৩৪৯, হাকেম ২৭৭১, বাইহাকী ১৪৪৯৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৯
২৮৭. মুসলিম ২৫০, বুখারী ২০৪
২৮৮. বুখারী ২৯, মুসলিম ২১৪৭
২৮৯. বুখারীর ৩৩৬৪-৩৩৬৫
২৯০. বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ ২৫২, ইবনে মাজা ৪২17
📄 অধিকার আদায়
চরিত্রবান মুসলিম নর-নারী তাদের প্রতি সৃষ্টির অধিকার আদায় করে। আদায় করে নিজের দেহের অধিকার, পিতামাতার অধিকার, স্ত্রীর অধিকার, স্বামীর অধিকার, সন্তানের অধিকার, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের অধিকার, প্রতিবেশীর অধিকার, পাওনাদারের অধিকার, গরীব-মিসকীনের অধিকার, শাসকের অধিকার এবং সকল মুসলিমের যাবতীয় অধিকার। মহানবী (সাঃ) বলেছেন,
حَقُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ ، وَتَشْمِيتُ العَاطِسِ
"এক মুসলমানের অধিকার অপর মুসলমানের উপর পাঁচটি: সালামের জবাব দেওয়া, রুগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচলে তার জবাব দেওয়া।"২৯১
সমূহ অধিকার আদায় করাটা সত্যই কঠিন ব্যাপার। তবুও চরিত্রবান হতে হলে তা করতেই হবে।
'বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার, সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার।'
টিকাঃ
২৯১. বুখারী ১২৪০, মুসলিম ৫৭৭৭
📄 আন্তরিকতা
প্রত্যেক কথা ও কাজে আন্তরিক হওয়া সচ্চরিত্র মানুষের লক্ষণ। যে কথা বলে, তা আন্তরিকতার সাথে বলে এবং যে কাজ করে, তা আন্তরিকতার সাথে করে। দ্বীনের কাজে যেমন সে আন্তরিক হয়, তেমনি দুনিয়ার কাজেও আন্তরিক হয়। কারো উপকার করলে বিনা স্বার্থে করে এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারো কাজ করলেও আন্তরিকতার সাথে করে।
পরোপকার করলে আন্তরিকতার সাথে করে। তার পশ্চাতে প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা লাভের আশা রাখে না। চরিত্রবানেরা নিজ কর্মে কেবল মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। কারো উপকার করলে অথবা কাউকে অন্নদান করলে তাদের মন বলে,
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاء وَلَا شُكُورًا
"শুধু আল্লাহর মুখমণ্ডল (দর্শন বা সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে অন্নদান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়। ২৯২
চরিত্রবান নিজের কাজ যেমন মন দিয়ে করে, তেমনি পরের কাজও মন দিয়ে সম্পাদন করে। নিজের জিনিস যেমন আন্তরিকতার সাথে হিফাযত করে, তেমনি পরের বা সরকারের জিনিসও আন্তরিকতার সাথে হিফাযত করে। নিজের গাড়ি চালানোর সময় যেমন তার হিফাযতের খেয়াল রাখে, তেমনি মালিক, কোম্পানি বা সরকারী গাড়ি চালানোর সময়ও একই খেয়াল রাখে। নিজের বাড়িতে বাস করার সময় যেমন তার হিফাযতের খেয়াল রাখে, তেমনি ভাড়া-বাড়ি, কোম্পানির দেওয়া বা সরকারী বাসায় বাস ক'রে তার হিফাযতের খেয়াল রাখে। নিজে বিল দিতে হলে যেমন পানি ও বিদ্যুত ব্যবহার করে, তেমনি কোম্পানি বা সরকার বিল মিটালেও একই মন নিয়ে তা ব্যবহার করে।
যেহেতু আন্তরিকতা ছাড়া কোন কাজ 'ভালো কাজ' হয় না। মহান আল্লাহর দরবারে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ الله لا يَنْظُرُ إِلى أَجْسَادِكُمْ ، وَلَا إِلَى صُوَرِكُمْ ، وَلَكِن يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُم
"নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।"২৯৩
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ ما فيها إلا مَا ابْتُغِي بِهِ وَجْهُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
"পৃথিবী অভিশপ্ত এবং অভিশপ্ত তার মধ্যে যা কিছু আছে সে সকল (পার্থিব বিষয় ও) বস্তুও। তবে সেই বস্তু (বা কর্ম) নয় যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশা করা হয়।"২৯৪
কোনও কাজে আন্তরিক না হওয়া মুনাফিকের লক্ষণ। ইবনে উমার হতে বর্ণিত, কিছু লোক তাঁর নিকট নিবেদন করল যে, 'আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। (সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?)' ইবনে উমার উত্তর দিলেন, 'রাসূলুল্লাহ এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা 'মুনাফিক্বী' আচরণ বলে গণ্য করতাম।'২৯৫
সুতরাং কোন চরিত্রবান মুসলিম মুনাফিকের আচরণ গ্রহণ করতে পারে না। 'উপরে সালামাল্কি ও ভিতরে হারামজাদকি'র ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারে না।
চরিত্রবান মুসলিম কোন দায়িত্বশীল হলে নিজ দায়িত্বে অবহেলা প্রদর্শন করে না। কর্তব্যরত কোন কর্মচারী হলে নিজ কর্তব্যে অবজ্ঞা বা অনীহা প্রদর্শন করে না। যেহেতু সে হয় নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান এবং নৈতিকতার নীতিতে দায়বদ্ধ।
চরিত্রবান শিক্ষক, নিজ শিক্ষাদানে আন্তরিক হন। চরিত্রবান চিকিৎসক, নিজ চিকিৎসায় আন্তরিক হন। চরিত্রবান কর্মচারী, নিজ কর্মে আন্তরিক হন। চরিত্রবান ব্যবসায়ী, নিজ ব্যবসায় আন্তরিক হন। চরিত্রবান কৃষক, নিজ কৃষিকার্যে আন্তরিক হন। চরিত্রবান শিল্পী, নিজ শিল্পকর্মে আন্তরিক হন। চরিত্রবতী স্ত্রী, নিজ সংসারে আন্তরিক হন।
যে আন্তরিক নয়, তার অন্তর নেই অথবা মৃত। আর অন্তরহীন মানুষ কি চরিত্রবান হতে পারে?
টিকাঃ
২৯২. সূরা দাহর: ৯
২৯৩. মুসলিম ৬৭০৭-৬৭০৮
২৯৪. তাবারানী, সহীহ তারগীব ৯
২৯৫. বুখারী ৭১৭৮