📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী 📄 সচ্চরিত্রতার মূলসূত্র

📄 সচ্চরিত্রতার মূলসূত্র


সচ্চরিত্রতার মূলসূত্র চারটি সদ্গুণ ৪
> এক : হিকমত
হিকমত বলতে বুঝানো হয়, এমন সুকৌশল ও বিচক্ষণতা প্রয়োগ করার ক্ষমতা, যার দ্বারা সকল স্বেচ্ছাধীন কর্মে ভুল থেকে সঠিককে চিহ্নিত করা যায়। অর্থাৎ হিকমত-ওয়ালা মানুষ ভুলে পতিত হয় না, তার পদস্খলন ঘটে না, ভুল সিদ্ধান্ত নেয় না, ফিতনায় পড়ে না, ফিতনা সৃষ্টি করে না। যেহেতু সে লাঠির মাঝখানে ধরে সমতা বজায় রাখে, প্রত্যেক জিনিসকে তার স্বস্থানে রাখে।
> দুই : ন্যায়পরায়ণতা
ন্যায়পরায়ণতা এমন একটি সদ্গুণ, যার অধিকারী কাম-ক্রোধ-লোভ-মদ-মোহ-মাৎসর্য ষডুবর্গের আক্রমণের সময় নিজেকে বিজয়ী রাখতে পারে। উক্ত রিপুসমূহকে পরাজিত ও দমন ক'রে প্রয়োজনানুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে।
> তিন : বীরত্ব ও সাহসিকতা
এ গুণটিও রাগ ও ক্রোধ দমনে সহায়ক হয়। যেহেতু আসল বীর হল সেই, যে নিজ ক্রোধ দমনে বীরত্ব প্রদর্শন করে। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ
"শক্তিশালী (বা বীর) সে নয় যে কুন্তীতে জয়লাভ করে। বরং প্রকৃত শক্তিশালী (বা বীর) হল সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সামলে নিতে পারে।"১২০
যেমন উক্ত গুণটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ও বাতিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সহযোগিতা করে।
> চার : চারিত্রিক পবিত্রতা
উল্লিখিত সদ্‌গুণটি যৌন-সংক্রান্ত পদস্খলন থেকে রক্ষা করে। নিজ সুস্থ বিবেক ও দ্বীনদারী দ্বারা নিজেকে সকল প্রকার যৌন-নোংরামি থেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত চারটি মৌলিক সদ্গুণ প্রয়োগে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। নচেৎ কম-বেশি হলে অভীষ্ট লাভে সফল হওয়া সম্ভব হবে না।
বলা বাহুল্য, মধ্যমভাবে হিকমত ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করতে পারলে মানুষ বিচক্ষণ হবে, সুবুদ্ধির অধিকারী হবে, ধারণার সঠিকতায় পৌঁছতে সক্ষম হবে, সজাগ ও সতর্ক হবে ইত্যাদি। পক্ষান্তরে উক্ত ব্যাপারে বাড়াবাড়ি হলে মন্দ গুণ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন কূট ষড়যন্ত্র, কুচক্রান্ত, ধোঁকাবাজি, ফন্দিবাজি, চালাকি, চাতুর্য, প্রতারণা ইত্যাদি। আর উক্ত ব্যাপারে শৈথিল্য হলে অন্য কিছু বদগুণ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন বোকামি, মেড়ামি, আহাম্মকি, অসতর্কতা ইত্যাদি।
সাহসিকতাকে মধ্যমভাবে ব্যবহার করতে পারলে মানুষ দানশীল হবে, মহানুভব হবে, অপরের প্রাণ রক্ষা করতে আগ্রহী ও সাহসী হবে, স্বার্থপরতাকে কুরবানী দিয়ে পরার্থপর হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে অনুপ্রাণিত হবে, ধৈর্যশীল ও সহ্যশীল হবে, রাগদমনকারী ও গম্ভীর হবে, ধীর-স্থির হবে ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে তাতে অতিরঞ্জন করলে দুঃসাহসিক হবে, বেপরোয়া ও উন্নাসিক হবে, দাম্ভিক ও অহংকারী হবে ইত্যাদি। আর তাতে শৈথিল্য করলে লাঞ্ছনা ও অপমান হজমে অভ্যস্ত হবে, অল্প শোকে কাতর হয়ে পড়বে, নীচতা, হীনতা ও পরাধীনতা বরণ করতে আগ্রহী হবে, কর্তব্যপালনে পিছপা থাকবে ইত্যাদি।
চারিত্রিক পবিত্রতাকে পরিমিতভাবে ব্যয় করলে মানুষের মাঝে দানশীলতা, লজ্জাশীলতা, ধৈর্যশীলতা, উদারতা, ক্ষমাশীলতা ইত্যাদি সৃষ্টি হবে। নিজের যা আছে তাই নিয়ে তুষ্ট থাকতে উদ্বুদ্ধ হবে, অর্থাৎ লোভী হবে না। হারামের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে ইত্যাদি। আর তাতে বাড়াবাড়ি করলে লোভী হবে, তার মাঝে অশ্লীলতা ও নোংরামি দেখা যাবে, ভেড়ামি ও ঈর্ষাহীনতার শিকার হবে, স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যে অসচেতন হবে, হিংসাপরায়ণ হবে, ধনীর পাচাঁটা গোলামে পরিণত হবে, দরিদ্রকে ঘৃণা করবে ইত্যাদি।
মোটকথা উক্ত মৌলিক চারটি সদ্গুণের অধিকারী হলে অবশিষ্ট শাখায়িত গুণাবলীতে মানুষ গুণান্বিত হবে। তবে সাধারণ মানুষ পরিপূর্ণরূপে উক্ত চারটি সদ্‌গুণের অধিকারী হতে সক্ষম হবে না। একমাত্র তার অধিকারী ছিলেন একজনই। আর তিনি হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। মহান আল্লাহ যাঁকে বলেছেন,
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
"তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। "১২১

টিকাঃ
১২০. আহমাদ, বুখারী ৬১১৪, মুসলিম ৬৮০৯, মিশকাত ৫১০৫
১২১. সূরা ক্বালামঃ৪, দ্রঃ মাকারিমুল আখলাক্ব ২৮পৃ

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية