📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া

📄 কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া


কিছু কিছু কাজের জন্য কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা ইসলামে রয়েছে, যদি তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সফরে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বনি আবদে দাইলের এক ব্যক্তিকে ভাড়া নিয়েছিলেন। বুখারি শরিফে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আমি আমার মাতাপিতাকে কখনো ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন পালন করতে দেখিনি... হাদিসের এক পর্যায়ে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রাযি. বনি আবদ ইবনু আদি গোত্রের এক ব্যক্তিকে মজুরির বিনিময়ে 'খিররিত' নিযুক্ত করেছিলেন। দক্ষ পথপ্রদর্শককে 'খিররিত' বলা হয়। আস ইবনু ওয়েল আস-সাহামির সাথে তার সন্ধি ছিল। সে ছিল কাফের কুরাইশের ধর্মাবলম্বী। তারা উভয়ে তাকে বিশ্বস্ত মনে করে তাদের উট দুটি তার হাতে দিয়ে দিলেন এবং তৃতীয় রাতের পর সকালে উট দুটি সাওর গুহার নিকট নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। আর সে যথাসময়ে তা পৌঁছে দিয়ে উভয়ের সঙ্গে নিয়ে উপকূলের পথ ধরে চলতে লাগল。

অনুরূপভাবে তুমিও নেককার ভালো মানুষ ব্যতীত কারও কাজের শ্রমিক হয়ো না। কেননা নেককার মালিক তোমাকে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে সহযোগিতা করবে। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার নাফরমানি এবং অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখবে। আর যদি মালিক খারাপ পাপাচারী হয়, তাহলে সে তোমাকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে এবং তার হুকুম পালনে বাধা দেবে। জুমা এবং জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

ইমাম বুখারি রহ. 'ইজারা অধ্যায়' শিরোনাম লিখেছেন, দারুল হরবে মুশরিকের কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা বৈধ কি না? তাতে তিনি হযরত খাব্বাব রাযি.-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন। হযরত খাব্বাব রাযি. বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। আমি আস ইবনু ওয়েলের তরবারি বানিয়ে দিই। তার নিকট আমার পাওনা কিছু মজুরি জমে যায়। আমি পাওনা টাকার তাগাদা দিতে তার কাছে গেলে সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে টাকা দেব না, যে পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করবে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তা করব না, যে পর্যন্ত না তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তারপর পুনরুত্থিত হবে। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও হবে। তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করে দেব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, 'আপনি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, আমাকে পরকালে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে।

টিকাঃ
২৫৩. বুখারি শরিফ: ৩৯০৫, ২২৬৩। ইমাম বুখারি রহ. অন্যত্র এই হাদিস উল্লেখ করে শিরোনাম দিয়েছেন: প্রয়োজনে কিংবা কোনো মুসলমান পাওয়া না গেলে মুশরিককে ভাড়া করা বৈধ।
২৫৪. বুখারি শরিফ: ২২৫৭। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনু হাজার রহ. লেখেন, ইমাম মাহলাব রহ. বলেছেন, উলামায়ে কেরাম বিষয়টি অপছন্দ করেছেন। তবে তারা দুইটি শর্তের সাথে প্রয়োজনে অমুসলিমের কাজের শ্রমিক হওয়া বৈধ বলেন: এক. মুসলমানের জন্য বৈধ এমন কাজ হতে হবে। দুই. মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজে সহযোগিতা না হতে হবে। আল্লামা ইবনুল মুনির রহ. বলেন, সকল মাজহাব এ বিষয়ে একমত যে, মুসলিম দেশে বসবাসরত জিম্মি কাফের মুশরিকদের কলকারখানায় মুসলমানরা কাজ করতে পারবে। কেননা এটাকে লজ্জা বা অপমান মনে করা হয় না। তবে তাদের সেবক বা খাদেম হিসেবে তাদের ঘরের কাজ করা বৈধ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00