📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ ও বিশ্বস্ত শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে

📄 সৎ ও বিশ্বস্ত শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে


কেননা এরাও এক ধরনের সঙ্গী। তাই দেখেশুনে তাদের নির্বাচন করা উচিত। বিশ্বস্ত, মেহনতি ও পরিশ্রমী লোকদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে কাজে নিয়োগের পূর্বে তার প্রতি হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালামের কন্যার উক্তিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য,
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
অর্থ: নারীদ্বয়ের একজন বলল, হে আমার পিতা! আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাদের মজুর নিযুক্ত করবেন, তাদের মধ্যে সে উত্তম, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত。

তাই কাজের জন্য বিশ্বস্ত, মেহনতি এবং শক্তিশালী লোক নির্বাচন আবশ্যক। বিশেষত যাদের দিয়ে নিজ বাড়িতে কাজ করাতে চায়। সুতরাং কর্মচারী যদি বিশ্বস্ত, আমানতদার এবং চরিত্রবান হয়, তাহলে বাড়ির মালিক, পরিবার ও আশপাশের মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হবে। তার থেকে কোনো অন্যায়- অনাচারের আশঙ্কা করতে হবে না। কোনো চুরির ভয় করতে হবে না। সে ঘরের নারীদের প্রতি কখনো লোলুপ দৃষ্টি দেবে না। বরং তাদের দেখে সে পালিয়ে থাকবে। কখনো তাকে ঘরের ত্রুটিবিচ্যুতি বাহিরে ছড়িয়ে বেড়াতে দেখবে না।

পক্ষান্তরে শ্রমিক যদি চরিত্রহীন ও খেয়ানতকারী হয়, তাহলে তার অনিষ্টের শেষ নেই। সে আপনার পরিবার এবং সম্পদে আপনার অনুপস্থিতিতে অকল্যাণ বয়ে আনবে।

নববি সোনালি যুগের ঘটনা। বাড়ির কাজের ছেলে (আসিফ) মালিকের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। অতঃপর তাকে বেত্রাঘাত করা হয় এবং মালিকের স্ত্রীকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়েছিল। যা বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাযি. হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমি আপনাকে (আল্লাহর) কসম দিয়ে বলছি! আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন। তখন তার বিপক্ষের লোকটি দাঁড়াল। আর সে ছিল তারচেয়ে বুদ্ধিমান। তাই সে বলল, আপনি আমাদের ফয়সালা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী করে দিন। আর আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বললেন, বলো। সে বলল, আমার ছেলে ওই ব্যক্তির অধীনে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে। আমি একশ ছাগল ও একজন গোলামের বিনিময়ে তার সঙ্গে মীমাংসা করি। তারপর আমি আলেমদের অনেককে জিজ্ঞেস করলে তারা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর ওই ব্যক্তির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর মেরে হত্যা করা। তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কসম ওই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের ফয়সালা করব। একশ ছাগল ও গোলাম তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তোমার ছেলের ওপর একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি সকালে ওই লোকের স্ত্রীর কাছে যাবে। যদি সে স্বীকার করে, তাহলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে। পরদিন সকালে তিনি তার কাছে গেলেন। আর সে স্বীকার করল। ফলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো。

টিকাঃ
২৫১. সুরা কাসাস: ২৬।
২৫২. বুখারি শরিফ: ৬৮২৭-৬৮২৮; মুসলিম শরিফ: ১৬৯৭-১৬৯৮।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া

📄 কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া


কিছু কিছু কাজের জন্য কাফেরকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা ইসলামে রয়েছে, যদি তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সফরে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বনি আবদে দাইলের এক ব্যক্তিকে ভাড়া নিয়েছিলেন। বুখারি শরিফে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আমি আমার মাতাপিতাকে কখনো ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন পালন করতে দেখিনি... হাদিসের এক পর্যায়ে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রাযি. বনি আবদ ইবনু আদি গোত্রের এক ব্যক্তিকে মজুরির বিনিময়ে 'খিররিত' নিযুক্ত করেছিলেন। দক্ষ পথপ্রদর্শককে 'খিররিত' বলা হয়। আস ইবনু ওয়েল আস-সাহামির সাথে তার সন্ধি ছিল। সে ছিল কাফের কুরাইশের ধর্মাবলম্বী। তারা উভয়ে তাকে বিশ্বস্ত মনে করে তাদের উট দুটি তার হাতে দিয়ে দিলেন এবং তৃতীয় রাতের পর সকালে উট দুটি সাওর গুহার নিকট নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। আর সে যথাসময়ে তা পৌঁছে দিয়ে উভয়ের সঙ্গে নিয়ে উপকূলের পথ ধরে চলতে লাগল。

অনুরূপভাবে তুমিও নেককার ভালো মানুষ ব্যতীত কারও কাজের শ্রমিক হয়ো না। কেননা নেককার মালিক তোমাকে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে সহযোগিতা করবে। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার নাফরমানি এবং অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখবে। আর যদি মালিক খারাপ পাপাচারী হয়, তাহলে সে তোমাকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে এবং তার হুকুম পালনে বাধা দেবে। জুমা এবং জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

ইমাম বুখারি রহ. 'ইজারা অধ্যায়' শিরোনাম লিখেছেন, দারুল হরবে মুশরিকের কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা বৈধ কি না? তাতে তিনি হযরত খাব্বাব রাযি.-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন। হযরত খাব্বাব রাযি. বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। আমি আস ইবনু ওয়েলের তরবারি বানিয়ে দিই। তার নিকট আমার পাওনা কিছু মজুরি জমে যায়। আমি পাওনা টাকার তাগাদা দিতে তার কাছে গেলে সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে টাকা দেব না, যে পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করবে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তা করব না, যে পর্যন্ত না তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তারপর পুনরুত্থিত হবে। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও হবে। তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করে দেব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, 'আপনি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, আমাকে পরকালে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে।

টিকাঃ
২৫৩. বুখারি শরিফ: ৩৯০৫, ২২৬৩। ইমাম বুখারি রহ. অন্যত্র এই হাদিস উল্লেখ করে শিরোনাম দিয়েছেন: প্রয়োজনে কিংবা কোনো মুসলমান পাওয়া না গেলে মুশরিককে ভাড়া করা বৈধ।
২৫৪. বুখারি শরিফ: ২২৫৭। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনু হাজার রহ. লেখেন, ইমাম মাহলাব রহ. বলেছেন, উলামায়ে কেরাম বিষয়টি অপছন্দ করেছেন। তবে তারা দুইটি শর্তের সাথে প্রয়োজনে অমুসলিমের কাজের শ্রমিক হওয়া বৈধ বলেন: এক. মুসলমানের জন্য বৈধ এমন কাজ হতে হবে। দুই. মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজে সহযোগিতা না হতে হবে। আল্লামা ইবনুল মুনির রহ. বলেন, সকল মাজহাব এ বিষয়ে একমত যে, মুসলিম দেশে বসবাসরত জিম্মি কাফের মুশরিকদের কলকারখানায় মুসলমানরা কাজ করতে পারবে। কেননা এটাকে লজ্জা বা অপমান মনে করা হয় না। তবে তাদের সেবক বা খাদেম হিসেবে তাদের ঘরের কাজ করা বৈধ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00