📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে সতী স্ত্রীর আচরণ

📄 বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে সতী স্ত্রীর আচরণ


বিবাহের পর স্বামীর সাথে এই খোদাভীরু নেককার রমণী হযরত উম্মে সুলাইম রাযি.-এর আচরণ ছিল আরও চমৎকার ও অসাধারণ। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আনাস রাযি. হতে বর্ণিত হয়েছে, আবু তালহার এক ছেলে অসুস্থ হয়। কোনো কাজে আবু তালহা বাইরে গেলে ছেলেটি মারা যায়। আবু তালহা ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের কী অবস্থা? উম্মু সুলাইম বললেন, সে আগের চেয়ে শান্ত। তারপর তাকে রাতের খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। তারপর উম্মু সুলাইমের সঙ্গে সহবাস করলেন। সহবাস শেষে উম্মু সুলাইম বললেন, ছেলেটিকে দাফন করে এসো। সকালে আবু তালহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে ঘটনা শোনালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, গত রাতে তুমি কি স্ত্রী সঙ্গম করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! তাদের জন্য তুমি বরকত দান করো। কিছুদিন পর উম্মু সুলাইম ছেলেসন্তান প্রসব করলে আবু তালহা আমাকে বললেন, তাকে তুমি দেখাশোনা করো, যতক্ষণ না তাকে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন। উম্মু সুলাইম সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোলে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সঙ্গে কিছু আছে কি? তারা বললেন, হ্যাঁ, খেজুর আছে। তিনি খেজুর নিয়ে চিবিয়ে বাচ্চাটির মুখে দিলেন। তিনি এর দ্বারাই তার তাহনিক করলেন এবং তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ。

টিকাঃ
২৫০. বুখারি শরিফ: ৫৪৭০; মুসলিম শরিফ: ২১৪৪。

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 উম্মে দাহদাহ রাযি.-এর পতিভক্তি

📄 উম্মে দাহদাহ রাযি.-এর পতিভক্তি


তিনি তার স্বামীকে কৃপণতায় উদ্বুদ্ধ করেননি। বরং স্বামীর দানশীলতার প্রশংসা করেছেন, সুসংবাদ শুনিয়েছেন।

আবদ ইবনু হুমাইদ তার 'আল-মুনতাখাব' কিতাবে বিশুদ্ধ সনদে হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, এক সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার দেয়ালের ওপর অমুক ব্যক্তির একটি খেজুর গাছ আছে। আপনি তাকে বলুন, সে যেন তার গাছটি আমাকে দান করে দেয়। যাতে আমি তা দ্বারা আমার দেয়াল সোজা করতে পারি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, জান্নাতে একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে তাকে এই খেজুর গাছ দিয়ে দাও। কিন্তু সে তাতে অস্বীকৃতি জানায়। আবু দাহদাহ ওই ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তুমি আমার বাগানের বিনিময়ে ওই খেজুর গাছটি বিক্রি করে দাও। এতে সে সম্মত হয়। আবু দাহদাহ তখন আনন্দচিত্তে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তার খেজুর বৃক্ষটি আমার একটি বাগানের বিনিময়ে কিনে নিয়েছি। এখন আমি তা আপনাকে দিয়ে দিলাম। আপনি ওই ব্যক্তিকে দান করে দিন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে তার জন্য বারবার এই দুআ করলেন, জান্নাতে আল্লাহ তাআলা আবু دাহদাহকে ফুল-ফলে সমৃদ্ধ অনেক অনেক বৃক্ষ দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার স্ত্রী উম্মে দাহদাহকে সেই বাগানে ঘুরতে দেখলে তাকে ডেকে বললেন, হে উম্মে দাহদাহ! এই বাগান থেকে দ্রুত বের হয়ে যাও। আমি একে জান্নাতের একটি বৃক্ষের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, কতই-না উত্তম বিনিময়! অত্যন্ত লাভজনক বেচাকেনা! অথবা এ ধরনের কোনো বাক্যের মাধ্যমে তিনি স্বামীর কাজের প্রশংসা করেছিলেন।

নিঃসন্দেহে স্ত্রী যখন গভীর রাতে স্বামীকে নামাজরত দেখতে পায় এবং যখন সে দেখতে পায় তার স্বামী আল্লাহ তাআলার কাছে আশা এবং ভয় নিয়ে প্রার্থনা করছে, তখন তার এই আমল স্ত্রীর জন্য এক মূল্যবান উপদেশ হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। এমনইভাবে স্বামী যখন ইবাদতগুজার, রোজাদার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় যত্নবান, দানশীল, পরোপকারী ও চরিত্রবান ইত্যাদি উত্তম গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য নিজের স্ত্রীর মাঝে দেখতে পায়, তখন স্বামী এসবের দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়। পক্ষান্তরে স্ত্রী যখন স্বামীকে নামাজ ছেড়ে দিতে দেখে, নেশাজাতীয় দ্রব্য, বিড়ি-সিগারেট খেতে দেখে, তখন অবশ্যই এসবের মন্দ প্রভাব তার মধ্যে প্রতিক্রিয়া করে। তবে আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে যাদের হেফাজত করেন তাদের কথা ভিন্ন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00