📄 সতী নারী বিবাহ করা জীবনকে সুখী করে
সতী নারী বিবাহ করা যেমনইভাবে পুরুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুখময় করে, তেমনই সৎ চরিত্রবান স্বামী নির্বাচন করাও নারীর ভবিষ্যৎ জীবনকে সুখময় করে। তদুপরি এ ক্ষেত্রে দ্বীনকে প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারে শরিয়তের নির্দেশনা রয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সুতরাং তুমি দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে, নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে。
অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : الدُّنْيَا مَتَاعٌ، وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ.
অর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া উপভোগের উপকরণ এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী。
এ ছাড়াও দ্বীনদার স্ত্রী আপনাকে দ্বীনি কাজে সহযোগিতা করবে এবং তার সংস্পর্শ রাব্বুল আলামিনের স্মরণ তাজা করবে। একজন দ্বীনদার স্ত্রী দুনিয়াতে জান্নাতস্বরূপ। সে আপনার অবর্তমানে আপনার সন্তান, সম্পত্তির পূর্ণ হেফাজত করবে। কোনো পর-পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়াবে না ইনশাআল্লাহ! এমনইভাবে একজন সতী স্ত্রী সর্বপ্রথম আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে আত্মসমর্পণ করবে এবং আনুগত্য করবে। তারপর সে তার স্বামীর আনুগত্য করবে, যতক্ষণ সে সৎপথে চলবে。
টিকাঃ
২৩৯. বুখারি শরিফ: ৫০৯০; মুসলিম শরিফ: ১৪১৬。
২৪০. মুসলিম শরিফ: ১৪৬৭।
📄 অসৎ স্ত্রী দুনিয়াতেই সাক্ষাৎ জাহান্নাম
সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের অনুগত হবে না। সে তার স্বামীকে ভালো কাজের প্রতি, অনুগ্রহ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দান-সদকা করতে উদ্বুদ্ধ করবে না। সে নিজের সতীত্ব হেফাজত করবে না এবং তার সন্তানাদির প্রতি অনুগ্রহশীল হবে না। এ জন্যই সে একজন মন্দ সঙ্গী। আপনার মান-মর্যাদার জামায় সে আগুন ধরিয়ে দেবে। অথবা তার মাঝে তুমি অবাধ্যতার দুর্গন্ধ অনুভব করবে। যেমনটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ সঙ্গীর বিষয়ে বলেছেন।
এমনইভাবে মন্দ স্ত্রী তোমার বন্ধুত্বে এবং সম্পদে খেয়ানত করবে। তোমাকে ফরজ নামাজ, ঐক্য এবং জামাতে শরিক হতে বাধা দেবে। দান- সদকা করলে সম্পদ কমে যাওয়ার ভয় দেখাবে। জিহাদ, সত্য কথা বলা এবং সত্য স্বাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তোমার সহমর্মিতা ও অনুগ্রহকে অপছন্দ করবে। এগুলো স্ত্রীর এমন সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা স্বামী অপছন্দ করে।
📄 চরিত্রহীন নারীকে বিবাহের ক্ষতি
আলেমগণ অসৎ দুশ্চরিত্রবান নারীদের বিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা সেগুলো এখানে উপস্থাপন করব। হয়তো কোনো সাবধানী মানুষ সতর্কতা অবলম্বন করবে। কোনো উপদেশপ্রার্থী উপদেশ গ্রহণ করবে। সেগুলো হলো,
এক. এমন নারীদের জেনেশুনে বিবাহ করা তো মহা অন্যায়। কুরআনের ভাষায়,
الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكْ وَحُرَّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ.
অর্থ: ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের ওপর এটা হারাম করা হয়েছে。
দুই. ভেবেছেন, সেই চরিত্রহীন নারীর সাথে মিলনের পর জন্ম নেওয়া সন্তানের উত্তরাধিকারী কার থেকে সাব্যস্ত হবে? সে তো আগেই অন্য পুরুষের সাথে বহু রাত কাটিয়েছে। হতে পারে গর্ভের সন্তানটি পরপুরুষের। কিন্তু জন্ম নেওয়া শিশুটি তো আপনার সন্তান বলেই গণ্য হবে। সে আপনার পরিচয়েই বড় হবে। আপনার ঘরের বউ মেয়ের সাথে মাহরাম হিসেবে বেড়ে উঠবে অথচ সে তো আপনার আপন কেউ না।
তিন. এমন চরিত্রহীন নারী স্বামীকে কেবল উপেক্ষা করেই চলবে। এটা হয়ে উঠবে তার চরিত্র, অভ্যাস এবং জীবনের অংশ। কত পুরষকে সে এভাবেই ফাঁদে ফেলে এসেছে ইতিপূর্বে। স্বামীর সামান্য শাসন সহ্য করার মতো সদ্গুণ এদের থাকে না, ফলে যা হবার তাই হয়। মন চাইলেই বাড়ির বাহিরে চলে যাবে এবং পরপুরুষের সঙ্গে ব্যভিচার করবে। সে স্বামীর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এবং অবাধ্যতা করবে। এমনকি সে তার স্বামীর ওপর তার লম্পট ও পাপিষ্ঠ প্রেমিকদের লেলিয়ে দেবে।
চার. অনেক সময়ই এসব নারীরা স্বামীদের হারাম কাজে বাধ্য করে। অন্যথায় স্বামী থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। এক পর্যায়ে স্ত্রীর ক্রমাগত উপেক্ষা স্বামীকে স্ত্রী ব্যতীত অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। ফলে সে শারীরিক চাহিদা মেটাতে হারামে লিপ্ত হয়। এমনইভাবে ব্যভিচারী পুরুষও পরনারীর আসক্ত হয়ে উপেক্ষার মাধ্যমে তার স্ত্রীকে সতী থাকতে দেয় না। ফলে স্ত্রীও পরপুরুষের মধ্যে স্বামীর বিকল্প খুঁজতে থাকে।
পাঁচ. এরা কখনো তাদের-ই মতো নির্লজ্জ ব্যভিচারিণী বান্ধবীদের বাসায় নিয়ে আসে। যেন স্বামীও তাদের মতো একজন ব্যভিচারী হয়ে যায়। ব্যভিচারিণী স্ত্রী স্বামীকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি স্বামীর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করে না। সুতরাং যখন স্বামীও তার মতো অন্য কোনো নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করে তখন এটাকে কৃতিত্বের বিষয় মনে করে। যেমনটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাফেরদের ব্যাপারে বলে দিয়েছেন,
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً.
অর্থ: তারা কামনা করে, নিজেরা যেমন কুফরি অবলম্বন করেছে, তেমনই তোমরাও কাফের হয়ে যাও。
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,
وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا.
অর্থ: তারা চায় তোমরা যেন সঠিক পথ থেকে বহু দূরে সরে যাও。
ছয়. ধীরে ধীরে স্বামী তার স্ত্রীর ব্যাপারে ব্যক্তিত্ববোধ হারাতে থাকে। একপর্যায়ে তার স্ত্রী বেপর্দা নারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর কোনো বেপর্দা নারীর স্বামী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে না।
সাত. ব্যভিচারী নারী তার সন্তানদেরও ব্যভিচার শেখায়। সে ব্যভিচারকে তাদের সামনে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ব্যভিচারকে তাদের জন্য সহজলভ্য করে তোলে। ফলে পাপের ঘরে লালিত-পালিত হয়ে এক পাপিষ্ঠ প্রজন্ম গড়ে ওঠে। আর সমাজ হয়ে ওঠে পারিবারিক বন্ধনহীন। আর পাপিষ্ঠদের ওপর নেমে আসে দয়াময়ের ভয়ংকর আজাব।
আট. ব্যভিচারী নারী তার স্বামীকে ব্যভিচার শেখায়। আর তা এভাবে যে, সে তার স্বামীর সামনে অন্য নারী-পুরুষের গোপন বিষয়গুলো বর্ণনা করে। আর মানুষের আত্মা অপরাধপ্রবণ। তদুপরি প্রত্যেক মানুষ তার বন্ধুকেই অনুসরণ করে।
নয়. পরিবারে দেখা দেয় কলহ। অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অমিল। আর নানা জটিল সমস্যা আর বিভিন্ন রোগবালাই। এ তো কেবল দুনিয়ার সামান্য শাস্তি। ব্যভিচারের কারণে বর্তমান সময়ের সবচে' মারাত্মক রোগের নাম এইডস। আল্লাহ তাআলা আমাদের এর থেকে নিরাপদ রাখুন।
দশ. আর আখেরাতের যে ভয়াবহ শাস্তি ব্যভিচারী স্ত্রী তার স্বামীর জন্য ডেকে আনে তা হলো, আল্লাহ তাআলার সামনে পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়া। যেমনটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
كلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته.
অর্থ: শুনে রাখো, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে。
অনুরূপভাবে আল্লাহর কুরআনে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ.
অর্থ: মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর。
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন,
احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ.
অর্থ: একত্রিত করো গোনাহগার, তাদের দোসর এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত তাদের। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত করো জাহান্নামের পথে。
ব্যভিচারী নারী যদিও সে কাফের নয়, কিন্তু অবশ্যই সে বড় ধরনের অপরাধ ও সমাজে অশ্লীলতা বিস্তারকারী। আর আয়াতে বর্ণিত “وَأَزْوَاجَهُمْ” শব্দ দ্বারা কাজ-কর্মে এবং বিশ্বাসে জালেমদের অনুরূপ ও তাদের মতো ব্যক্তিরা উদ্দেশ্য।
এগারো. মানুষের সামনে স্বামীর প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ হয়। যখন মুসলমানরা তার ঘৃণিত এই অপকর্মের কথা জানতে পারে, তখন তাদের চোখে তার মর্যাদা কমে যায়। তার সাথের কুটুম্বিতা এবং উঠাবসা তারা ত্যাগ করে। তার মতো পাপাচারী ব্যতীত কেউ তার সাথে উঠাবসা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী হয় না।
বারো. ব্যভিচারী নারীকে বিয়ের কারণে স্বামী ও তার পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজন লজ্জার সম্মুখীন হয়。
টিকাঃ
২৪১. সুরা নুর: ৩।
২৪২. সুরা নিসা: ৮৯।
২৪৩. সুরা নিসা: ২৭।
২৪৪. বুখারি শরিফ: ২৫৪৫; মুসলিম শরিফ: ১৮২৯।।
২৪৫. সুরা তাহরিম: ৬।
২৪৬. সুরা সফফাত: ২২-২৩।
📄 নবীজির জীবনে খাদিজা রাযি.-এর প্রভাব
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে উম্মুল মুমিনিন আম্মাজান হযরত খাদিজা রাযি.-এর অনেক বড় প্রভাব ছিল। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতি জীবনের সূচনালগ্নে নবুওয়তপ্রাপ্তির শুরুর দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহস জোগাতে তার বলা পবিত্র বাক্যগুলোর প্রতি লক্ষ করুন,
... হযরত খাদিজা রাযি. বললেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায়-দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদিজা রাযি. তার চাচাতো ভাই ওরাকাহ ইবনু নাওফালের নিকট গেলেন。
এ জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মাজান খাদিজা রাযি.-এর ভূয়সী প্রশংসা করতেন এবং তার ভালো গুণের কথা বলে বেড়াতেন। মুসলিম শরিফে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাদিজা ব্যতীত নবীজির সহধর্মিণীদের মধ্যে আর কারও প্রতি ঈর্ষান্বিত হইনি, অথচ আমার সাথে তার সাক্ষাৎই হয়নি। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরি জবাই করতেন, তখন বলতেন, এর গোশত খাদিজার বান্ধবীদের ঘরে পাঠিয়ে দাও। একদা আমি তাকে রাগিয়ে দিলাম এবং বললাম, খাদিজার কথা এত স্মরণ হয় কেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, তার ভালোবাসা আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে。
মুসলিম শরিফের অপর এক হাদিসে ভিন্ন শব্দে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একবার খাদিজা রাযি.-এর বোন হালাহ বিনতু খুওয়াইলিদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হলো যেন, খাদিজা রাযি.-ই প্রবেশের অনুমতি চেয়েছেন। নবীজি উদ্বেলিত হয়ে বললেন, হায় আল্লাহ! এ তো খুওয়াইলিদের কন্যা হালাহ। এতে আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে বললাম, আপনি কুরাইশের সরু পায়ের গোছাওয়ালী লাল বৃদ্ধাকে কেন স্মরণ করছেন? তিনি তো অনেক পূর্বেই মারা গেছেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তার থেকে উত্তম স্ত্রী দান করেননি?
এমনকি স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হযরত খাদিজা রাযি.-এর কর্ম ও অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে তাকে সালাম জানান। হযরত আনাস রাযি.-এর সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম নাসায়ি রহ. বর্ণনা করেন, একবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। তখন হযরত খাদিজা রাযি. সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, আল্লাহ তাআলা খাদিজাকে সালাম জানিয়েছেন। এ কথা শুনে খাদিজা রাযি. আনন্দে আত্মহারা হয়ে বললেন, নিঃন্দেহে আল্লাহ তাআলাই শান্তি বর্ষণকারী। জিবরাইলের ওপরও আল্লাহ তাআলা শান্তি বর্ষণ করুন। ওয়া আলাইকাস সালাম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
উম্মে সুলাইম রাযি. একজন নারী সাহাবি। দেখুন আবু তালহার সাথে কেমন ছিল তার আচরণ? কী অসাধারণ প্রভাব ছিল তার কথাবার্তার। হযরত আনাস রাযি. থেকে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম নাসায়ি রহ. বর্ণনা করেন, আবু তালহা উম্মে সুলাইম রাযি.-কে বিয়ের প্রস্তাব করল। উম্মে সুলাইম রাযি. জবাবে তাকে বলল, হে আবু তালহা! নিঃসন্দেহে তুমি একজন সুপুরুষ। আল্লাহর শপথ! তোমার মতো সুদর্শন যুবকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সমীচীন নয়। কিন্তু তুমি একজন কাফের। আর আমি আল্লাহতে বিশ্বাসী একজন মুসলিম নারী। তাই তোমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আমার জন্য বৈধ নয়। যদি তুমি ঈমান এনে মুসলমান হও, তাহলে আমি তোমার সাথে বিবাহে সম্মত আছি। আর সেটাই হবে আমার বিবাহের দেনমোহর। এরপর তিনি মুসলমান হয়ে যান। এটাই ছিল তাদের বিবাহের দেনমোহর। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত উম্মে সুলাইম রাযি. থেকে অধিক সম্মান ও মর্যাদার কোনো দেনমোহরের কথা আমি কোনো নারীর জন্য শুনিনি। আবু তালহার ইসলাম ছিল তার দেনমোহর। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ঘরে নেককার সন্তান দান করেন।
'তবাকাতে ইবনে সাদ' গ্রন্থে হযরত আনাস রাযি. থেকে ঘটনাটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে; আবু তালহা উম্মে সুলাইম রাযি.-কে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এলে উম্মে সুলাইম রাযি. তাকে বললেন, একজন মূর্তিপূজারি মুশরিককে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। হে আবু তালহা, তুমি তো জানো তোমরা যে সমস্ত মূর্তির পূজা করো, সেগুলোকে অমুক কাঠমিস্ত্রির দাস তৈরি করে দেয়। তোমরা যদি তাতে আগুন ধরিয়ে দাও সেগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এ কথা শুনে আবু তালহা সেখান থেকে ফিরে আসে। তবে উম্মে সুলাইমের এ কথা তার ভেতর কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে। যখনই সে তার কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসত উম্মে সুলাইম রাযি. তাকে পুনরায় সেই কথাগুলো শুনিয়ে দিতেন। তারপর একদিন আবু তালহা এসে তাকে বলল, তোমার প্রস্তাবে আমি রাজি। বর্ণনাকারী বলেন, আবু তালহার ইসলাম গ্রহণই ছিল তাদের বিবাহের দেনমোহর。
টিকাঃ
২৪৭. বুখারি শরিফ: ৩; মুসলিম শরিফ: ১৬০।
২৪৮. মুসলিম শরিফ: ২৪৩৫।
২৪৯. মুসলিম শরিফ: ২৪৩৭।