📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 মৃত্যুর পরও মানুষ সালেহিনদের পাশে দাফন হতে চায়

📄 মৃত্যুর পরও মানুষ সালেহিনদের পাশে দাফন হতে চায়


হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা উপস্থিত হলে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলেন, প্রভু দয়াময়! আমার কবরটা যেন পবিত্র মক্কার মাটির সেই জায়গাতেই হয়, যার পাশেই বিতারিত শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযি.-এর নিকট অনুমতি চেয়ে পত্র লিখেছেন, যদি আপনার অনুমতি হয় তাহলে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও প্রিয় বন্ধু আবু বকরের পাশেই আমি শেষ নিদ্রা যেতে চাই।

আজ লাখো মুসলমান হযরত উমর রাযি.-এর ওপর সালাম পাঠ করছেন! যারা আজ মদিনায় যাচ্ছেন মসজিদে জিয়ারত করছেন, তাদের প্রায় সকলেই প্রিয় নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করছেন। সেই সাথে আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি.-এর ওপরও সালাম পাঠ করছে। রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম আজমাইন。

টিকাঃ
২৩৩. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মালাকুল মওত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে তাকে বললেন, আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেন, অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম মালাকুল মওতকে থাপ্পড় মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, অতঃপর মালাকুল মওত আল্লাহর নিকট ফিরে গেল এবং বলল, আপনি আমাকে আপনার এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যে মরতে চায় না, সে আমার চোখ উপড়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, আল্লাহ তার চোখ তাকে ফিরিয়ে দেন, আর বলেন, আমার বান্দার নিকট ফিরে যাও এবং বলো, আপনি হায়াত চান? যদি আপনি হায়াত চান তাহলে ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখুন, আপনার হাত যে পরিমাণ চুল ঢেকে নেবে তার সমান বছর আপনি জীবিত থাকবেন। তিনি বলেন, অতঃপর? মালাকুল মতে বলল, অতঃপর মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি বলেন, তাহলে এখনই দ্রুত করো। হে আমার রব, পবিত্র ভূমির সন্নিকটে পাথর নিক্ষেপের নিকটবর্তী স্থানে মৃত্যু দান করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ আমি যদি তাঁর নিকট হতাম, তাহলে রাস্তার পাশে লাল বালুর স্তূপের নিকট তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম।-মুসলিম শরিফ: ১৮৪৩; বুখারি শরিফ: ১৩৩৯, ৩৪০৭।
২৩৪. আমর ইবনে মায়মুন থেকে ইমাম বুখারি রহ. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব রাযি.-কে আহত হবার কিছুদিন পূর্বে মদিনায় দেখেছি... অতঃপর হযরত উমর রাযি.-এর শাহাদতের ঘটনা বর্ণনা করেন। যেখানে উল্লেখ রয়েছে, হযরত উমর রাযি. তার ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনু উমরকে বলছেন, উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে গিয়ে বলো, উমর আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন। তবে আমিরুল মুমিনিন শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মুমিনদের আমির নই। তাকে বলো, উমর ইবনু খাত্তাব তার সাথিদ্বয়ের পাশে দাফন হবার অনুমতি চাচ্ছেন। ইবনু উমর রাযি. আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ করো। তিনি দেখলেন, আয়েশা রাযি. বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব রাযি. আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তার সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন হবার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। আয়েশা রাযি. বললেন, এটা তো আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপারে আমার ওপর তাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. যখন ফিরে আসছেন, তখন বলা হলো, এই যে আবদুল্লাহ ফিরে এসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। উমর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, কী সংবাদ? তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আপনি যা কামনা করেছেন, তাই হয়েছে; তিনি অনুমতি দিয়েছেন। উমর রাযি. বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বড় কোনো বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনু খাত্তাব রায়ি, আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তাহলে আমাকে প্রবেশ করাবে, আর যদি তিনি অনুমতি না দেন, তাহলে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে।-বুখারি শরিফ: ৩7০০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00