📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সালেহিনের মজলিসে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা

📄 সালেহিনের মজলিসে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা


আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম নবী। তাই তার যুগটা যেমন সর্বোত্তম যুগ, তেমনই তার উম্মতও সর্বোত্তম উম্মত। আর এই উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ, সর্বোত্তম নবীর সাহচর্য এবং তাঁর পবিত্র মজলিসগুলো। এমনইভাবে সকল নবী, নেককার, আলেম, শহিদ এবং ইমামের সাথিরাও একই কারণে মর্যাদাবান হয়।

হযরত আবু দারদা রাযি.-এর নিকট কুফাবাসীকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আম্মার ও হযরত হুযায়ফা রাযি.-এর বরকতময় উপস্থিতিকে তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

বুখারি শরিফে হযরত আলকামা রাযি.-এর হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একবার আমি সিরিয়ায় গেলাম এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে দুআ করলাম, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে একজন নেককার সাথি মিলিয়ে দিন। অতঃপর আমি এক কওমের নিকট এসে বসলাম। তখন একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা উত্তরে বললেন, ইনি আবু দারদা রাযি.। আমি তখন তাকে বললাম, একজন সৎ সঙ্গীর জন্য আমি আল্লাহর নিকট দুআ করছিলাম। আল্লাহ আপনাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কোথাকার অধিবাসী? আমি বললাম, আমি কুফার অধিবাসী। তিনি বললেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুতা, বালিশ এবং ওজুর পাত্র বহনকারী সার্বক্ষণিক সাহচর্যপ্রাপ্ত ইবনু উম্মে আবদ রাযি. কি তোমাদের ওখানে নেই? তোমাদের মাঝে কি ওই ব্যক্তি নেই, যাকে আল্লাহ শয়তান হতে নিরাপত্তা দান করেছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনু ইয়াসির রাযি.) তোমাদের মধ্যে কি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন তথ্যবিদ লোকটি নেই? যিনি ছাড়া অন্য কেউ এসব রহস্য জানেন না। [অর্থাৎ হুযায়ফা রাযি.]

টিকাঃ
২২৬. বুখারি শরিফ: ৩৭৪২।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কল্যাণের মজলিস উপেক্ষা করাকে আল্লাহ তাআলা উপেক্ষা করেন

📄 কল্যাণের মজলিস উপেক্ষা করাকে আল্লাহ তাআলা উপেক্ষা করেন


বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু ওয়াকিদ লাইসি রাযি. হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদে বসে ছিলেন। তাঁর সাথে আরও লোকজন ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এল। তন্মধ্যে দুজন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে এলেন এবং একজন চলে গেলেন। আবু ওয়াকিদ রাযি. বলেন, তারা দুজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাদের একজন মজলিসের মধ্যে কিছুটা খালি জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অপরজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হয়ে সাহাবিদের লক্ষ্য করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব না? তাদের একজন আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করল, আল্লাহ তাকে আশ্রয় দিলেন। অন্যজন লজ্জাবোধ করল, তাই আল্লাহও তার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করলেন। আর অপরজন মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তাই আল্লাহ তাআলাও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন。

হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযি. থেকে অনেক অকল্পনীয় বিস্ময়কর ঘটনাবলি প্রকাশ পেয়েছে। এসব অর্জন প্রিয় নবীজির অনুসরণ, অনুকরণ, তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ এবং তাঁর সাহচর্য অবলম্বনের বরকতেই হয়েছে। যেমন: হযরত খালেদ রাযি. কর্তৃক বিষ পান করা এবং কোনো ক্ষতি না হওয়ার ঘটনা। 'ফাজায়েলে সাহাবা' গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম আহমদ রহ. হযরত কায়েস রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মহাবীর হযরত খালেদ ইবনু ওয়ালিদ রাযি.-এর সামনে বিষ আনা হলো। তিনি তখন জানতে চাইলেন, এটা কী? উত্তর এল, বিষ। তিনি অমনই তা পান করে নিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কোনো প্রতিক্রিয়াই হলো না。

আরেক সাহাবি হযরত ইমরান ইবনু হুসাইন রাযি.। তিনি যখন বাহিরে বের হতেন ফেরেশতারা তাকে সালাম করত। হযরত মুতাররিফ রহ.-এর সূত্রে মুসলিম শরিফে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসাইন রাযি. মৃত্যুকালীন রোগে আমাকে ডেকে পাঠান। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কয়েকটি হাদিস বলব, আশা করি আল্লাহ তাআলা আমার পরে তোমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন। আমি বেঁচে থাকলে তুমি আমার সূত্রে বর্ণনা করা গোপন রাখবে। আর আমি মারা গেলে তুমি চাইলে তা বর্ণনা করতে পারো। আমাকে সালাম করা হতো。

হযরত উসাইদ ইবনু হুযাইর এবং আববাদ ইবনু বিশর রাযি. যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্ধকার রাত্রে ফিরছিলেন তখন তাদের দুজনের হাতের লাঠি আলোকোজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়াতে লাগল।

মুসনাদু আহমাদে বিশুদ্ধ সনদে হযরত আনাস রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসাইদ ইবনু হুযাইর এবং আববাদ ইবনু বিশর নামক দুই ব্যক্তি এক অন্ধকার রজনিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখা করতে এসেছিল। কথা শেষে তারা যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন তাদের একজনের হাতের লাঠি আলো ছড়াচ্ছিল এবং সেই আলোতে তারা পথ চলছিল। এক পর্যায়ে তাদের দুজনের পথ যখন আলাদা হয়ে গেল, তখন দুজনের হাতের লাঠিই আলোকোজ্জ্বল হয়ে গেল।

তবে বুখারিতে সাহাবাদ্বয়ের নাম উল্লেখ ব্যতীত হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস রাযি. বলেন,
أَنَّ رَجُلَيْنِ خَرَجًا مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ وَإِذَا نُوْرُ بَيْنَ أَيْدِيهِمَا حَتَّى تَفَرَّقَا فَتَفَرَّقَ النُّوْرُ مَعَهُمَا.
অর্থ: দুই ব্যক্তি অন্ধকার রাতে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বের হলেন। হঠাৎ তারা তাদের সম্মুখে একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলেন। রাস্তায় তারা যখন আলাদা হলেন তখন আলোটিও তাদের উভয়ের সাথে আলাদা আলাদা হয়ে গেল。

টিকাঃ
২২৭. বুখারি শরিফ: ৬৬; মুসলিম শরিফ: ২১৭৬。
২২৮. ইমাম আহমদের ফাজায়েলে সাহাবা: ১৪৮২।
২২৯. মুসলিম শরিফ: ১২২৬। মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইমাম নববি রহ. লেখেন, হযরত ইমরান ইবনু হুসাইন রাযি. অর্শ্বরোগী ছিলেন। আর তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তখন ফেরেশতারা তাকে সালাম করত। রোগের কারণে তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করলে সালাম দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন দাগ দেওয়া বন্ধ করেন, পুনরায় সালাম দেওয়া শুরু হয়।
২৩০. অর্থাৎ আমার জীবদ্দশায় তুমি কাউকে এ কথা বলো না যে, আমাকে ফেরেশতারা সালাম করে। কেননা এ কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পরলে ফেতনা সৃষ্টি হতে পারে। এই ভয়ে তিনি তাকে এ কথা বলেছেন যে, আমি বেঁচে থাকলে তুমি আমার সূত্রে বর্ণনা করা গোপন রাখবে। আর আমি মারা গেলে তুমি চাইলে তা বর্ণনা করতে পার। এ ছাড়াও মুসলিম শরিফের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রোগের কারণে তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ, করার পূর্ব পর্যন্ত আমাকে ফেরেশতাগণ কর্তৃক সালাম দেওয়া অব্যাহত ছিল। আমি দাগ গ্রহণ করলে সালাম দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন দাগ দেওয়া বন্ধ করলাম, পুনরায় সালাম দেওয়া শুরু হয়।
২৩۱. মুসনাদু আহমদ: ৩/১৯০।
২৩২. বুখারি শরিফ: ৩৮০৫।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 মৃত্যুর পরও মানুষ সালেহিনদের পাশে দাফন হতে চায়

📄 মৃত্যুর পরও মানুষ সালেহিনদের পাশে দাফন হতে চায়


হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা উপস্থিত হলে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলেন, প্রভু দয়াময়! আমার কবরটা যেন পবিত্র মক্কার মাটির সেই জায়গাতেই হয়, যার পাশেই বিতারিত শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযি.-এর নিকট অনুমতি চেয়ে পত্র লিখেছেন, যদি আপনার অনুমতি হয় তাহলে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও প্রিয় বন্ধু আবু বকরের পাশেই আমি শেষ নিদ্রা যেতে চাই।

আজ লাখো মুসলমান হযরত উমর রাযি.-এর ওপর সালাম পাঠ করছেন! যারা আজ মদিনায় যাচ্ছেন মসজিদে জিয়ারত করছেন, তাদের প্রায় সকলেই প্রিয় নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করছেন। সেই সাথে আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি.-এর ওপরও সালাম পাঠ করছে। রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম আজমাইন。

টিকাঃ
২৩৩. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মালাকুল মওত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে তাকে বললেন, আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেন, অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম মালাকুল মওতকে থাপ্পড় মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, অতঃপর মালাকুল মওত আল্লাহর নিকট ফিরে গেল এবং বলল, আপনি আমাকে আপনার এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যে মরতে চায় না, সে আমার চোখ উপড়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, আল্লাহ তার চোখ তাকে ফিরিয়ে দেন, আর বলেন, আমার বান্দার নিকট ফিরে যাও এবং বলো, আপনি হায়াত চান? যদি আপনি হায়াত চান তাহলে ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখুন, আপনার হাত যে পরিমাণ চুল ঢেকে নেবে তার সমান বছর আপনি জীবিত থাকবেন। তিনি বলেন, অতঃপর? মালাকুল মতে বলল, অতঃপর মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি বলেন, তাহলে এখনই দ্রুত করো। হে আমার রব, পবিত্র ভূমির সন্নিকটে পাথর নিক্ষেপের নিকটবর্তী স্থানে মৃত্যু দান করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ আমি যদি তাঁর নিকট হতাম, তাহলে রাস্তার পাশে লাল বালুর স্তূপের নিকট তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম।-মুসলিম শরিফ: ১৮৪৩; বুখারি শরিফ: ১৩৩৯, ৩৪০৭।
২৩৪. আমর ইবনে মায়মুন থেকে ইমাম বুখারি রহ. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব রাযি.-কে আহত হবার কিছুদিন পূর্বে মদিনায় দেখেছি... অতঃপর হযরত উমর রাযি.-এর শাহাদতের ঘটনা বর্ণনা করেন। যেখানে উল্লেখ রয়েছে, হযরত উমর রাযি. তার ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনু উমরকে বলছেন, উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে গিয়ে বলো, উমর আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন। তবে আমিরুল মুমিনিন শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মুমিনদের আমির নই। তাকে বলো, উমর ইবনু খাত্তাব তার সাথিদ্বয়ের পাশে দাফন হবার অনুমতি চাচ্ছেন। ইবনু উমর রাযি. আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ করো। তিনি দেখলেন, আয়েশা রাযি. বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব রাযি. আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তার সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন হবার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। আয়েশা রাযি. বললেন, এটা তো আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপারে আমার ওপর তাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. যখন ফিরে আসছেন, তখন বলা হলো, এই যে আবদুল্লাহ ফিরে এসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। উমর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, কী সংবাদ? তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আপনি যা কামনা করেছেন, তাই হয়েছে; তিনি অনুমতি দিয়েছেন। উমর রাযি. বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বড় কোনো বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনু খাত্তাব রায়ি, আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তাহলে আমাকে প্রবেশ করাবে, আর যদি তিনি অনুমতি না দেন, তাহলে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে।-বুখারি শরিফ: ৩7০০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00