📄 সৎ বন্ধু আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম
মুসলিম শরিফে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমরা বললাম, আমরা যদি তার সাথে ইশার নামাজ আদায় করা পর্যন্ত উপবিষ্ট হতে পারতাম, তাহলে কতই না ভালো হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বসে থাকলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা এখনো পর্যন্ত এখানে উপবিষ্ট আছ? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছি। তারপর আমরা ভাবলাম, ইশার নামাজও আপনার সাথে আদায় করার জন্যে বসে অপেক্ষা করি। তিনি বললেন, তোমরা অনেক ভালো করেছ কিংবা তোমরা ঠিকই করেছ। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং তিনি অধিকাংশ সময়ই আকাশের দিকে তার মাথা তুলতেন। অতঃপর তিনি বললেন, তারকারাজি অবস্থানের কারণেই আকাশ স্থিতিশীল রয়েছে। তারকারাজি যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে, তখন আকাশের জন্য ওয়াদাকৃত বিপদ আসন্ন হবে। অর্থাৎ কেয়ামত এসে যাবে এবং আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর আমি আমার সাহাবাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তাস্বরূপ। আমি যখন বিদায় নেব তখন আমার সাহাবাদের ওপর ওয়াদাকৃত সময় এসে উপস্থিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ফেতনা-ফ্যাসাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে যাবে। আর আমার সাহাবাগণ সকল উম্মতের জন্য রক্ষাকবচস্বরূপ। আমার সাহাবাগণ যখন বিদায় হয়ে যাবে, তখন আমার উম্মাতের ওপর ওয়াদাকৃত বিষয় উপস্থিত হবে。
টিকাঃ
২২১. মুসলিম শরিফ: ২৫৩১।
📄 সৎ বন্ধুর সাহচর্য গুনাহ থেকে বিরত রাখে
নেককার লোকদের সাথে উঠাবসার অন্যতম একটি ফায়দা হলো, তুমি তার লজ্জায় এবং তার সাথে সম্পর্কের খাতিরে অন্যায়-অপরাধ এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। তাই দ্বীনদার সৎ বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক করবে এবং চলাফেরা করবে। এতে বহু পাপ ও অন্যায় থেকে বেঁচে যাবে।
মুসলিম শরিফে হযরত আবু মাসউদ বদরি রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক ক্রীতদাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পেছনে থেকে একটি শব্দ শোনলাম, হে আবু মাসউদ। জেনে রেখো! রাগের কারণে আমি শব্দটি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার কাছাকাছি এলেন তখন দেখতে পেলাম, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি বলছেন, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চাবুকটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এ গোলামের ওপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার ওপর আল্লাহ তাআলা অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এরপর কখনো কোনো কৃতদাসকে আমি প্রহার করব না。
মুসলিম শরিফের অন্যত্র হযরত আবু মাসউদ বদরি রাযি. থেকে এই হাদিস এভাবে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আমার এক দাসকে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পেছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শোনলাম। হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার ওপর যেরূপ শক্তিমান, আল্লাহ তাআলা তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক শক্তিমান। হঠাৎ পেছন দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাবধান! যদি তুমি তা না করতে, তাহলে অবশ্যই জাহান্নام তোমাকে গ্রাস করত। কিংবা জাহান্নাম তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করত。
টিকাঃ
২২২. মুসলিম শরিফ: ১৬৫৯。
২২৩. মুসলিম শরিফ: ১৬৫৯।
📄 শয়তান সালেহিনদের মজলিসকে ভয় পায়
ইমাম আহমদ রহ. প্রমুখ বিশুদ্ধ সনদে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর হাদিস বর্ণনা করেন। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উপস্থিত মানুষদের লক্ষ্য করে ঘোষণা করলেন, আমার সাহাবাদের সম্মান করো... অতঃপর একাংশে বলেন, সাবধান! যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলের আকাঙ্ক্ষী, সে যেন সাহাবা, তাবেয়ি, তাবে তাবেয়িন ও সালাফে সালেহিনের অনুসরণ করে চলে। কেননা শয়তান বিচ্ছিন্ন লোকের সাথে থাকে। আর দুইজনের জামাত হতে অধিক দূরে থাকে...।
হযরত মুআয রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসেও এই হাদিসের সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন,
إن الشيطان ذئب ابن آدم كذئب الغنم، وإن ذئب الغنم يأخذ من الغنم الشاة المهزولة والقاصية، ولا يدخل في الجماعة، فالزموا العامة والجماعة والمساجد.
অর্থ: নিঃন্দেহে শয়তান আদমসন্তানের জন্য বকরির পালের জন্য অপেক্ষারত বাঘের ন্যায়। আর বকরির পালের জন্য অপেক্ষারত বাঘ সেই বকরিকে আক্রমণ করে, যে দল থেকে বিচ্ছিন্ন এবং শীর্ণকায় দুর্বল থাকে। দলবদ্ধ বকরির পালে সে আক্রমণ করতে সাহস করে না। তাই তোমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সাথে থেকো এবং দলবদ্ধ হয়ে থেকো। আর মসজিদে জামাতে নামাজের পাবন্দি করো。
টিকাঃ
۲۲۴. মুসনাদে আহমদ: ১/২৬।
২২৫. মুনতাখাবে আবদ ইবনে হুমায়িদ: ১১৪।
📄 সালেহিনের মজলিসে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা
আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম নবী। তাই তার যুগটা যেমন সর্বোত্তম যুগ, তেমনই তার উম্মতও সর্বোত্তম উম্মত। আর এই উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ, সর্বোত্তম নবীর সাহচর্য এবং তাঁর পবিত্র মজলিসগুলো। এমনইভাবে সকল নবী, নেককার, আলেম, শহিদ এবং ইমামের সাথিরাও একই কারণে মর্যাদাবান হয়।
হযরত আবু দারদা রাযি.-এর নিকট কুফাবাসীকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আম্মার ও হযরত হুযায়ফা রাযি.-এর বরকতময় উপস্থিতিকে তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বুখারি শরিফে হযরত আলকামা রাযি.-এর হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একবার আমি সিরিয়ায় গেলাম এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে দুআ করলাম, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে একজন নেককার সাথি মিলিয়ে দিন। অতঃপর আমি এক কওমের নিকট এসে বসলাম। তখন একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা উত্তরে বললেন, ইনি আবু দারদা রাযি.। আমি তখন তাকে বললাম, একজন সৎ সঙ্গীর জন্য আমি আল্লাহর নিকট দুআ করছিলাম। আল্লাহ আপনাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কোথাকার অধিবাসী? আমি বললাম, আমি কুফার অধিবাসী। তিনি বললেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুতা, বালিশ এবং ওজুর পাত্র বহনকারী সার্বক্ষণিক সাহচর্যপ্রাপ্ত ইবনু উম্মে আবদ রাযি. কি তোমাদের ওখানে নেই? তোমাদের মাঝে কি ওই ব্যক্তি নেই, যাকে আল্লাহ শয়তান হতে নিরাপত্তা দান করেছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনু ইয়াসির রাযি.) তোমাদের মধ্যে কি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন তথ্যবিদ লোকটি নেই? যিনি ছাড়া অন্য কেউ এসব রহস্য জানেন না। [অর্থাৎ হুযায়ফা রাযি.]
টিকাঃ
২২৬. বুখারি শরিফ: ৩৭৪২।