📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কল্যাণকর কাজে অংশগ্রহণ আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম

📄 কল্যাণকর কাজে অংশগ্রহণ আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম


সাধারণত ভালো ও কল্যাণকর কাজের মজলিসের আয়োজন করা এবং দলবদ্ধভাবে তাতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ করাকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। উম্মে আতিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত; নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যুবতি, পর্দানশীন ও ঋতুবতী নারীরা বের হবে এবং ভালো স্থানে ও মুমিনদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করবে। তবে ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে。

টিকাঃ
২১৮. বুখারি শরিফ: ৩২৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সালেহিনদের মজলিসে মানুষকে সম্মানিত করে

📄 সালেহিনদের মজলিসে মানুষকে সম্মানিত করে


সৎ ও নেককারদের সাথে উঠাবসা ও চলাফেরার কারণে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়।

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু সায়িদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকদের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের জন্য বের হবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে। অতঃপর জনগণের ওপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছেন? তখন তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে। অতঃপর লোকদের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের সাহচর্যপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছেন? বলা হবে, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে。

মুসান্নাফু ইবনে আবি শাইবাতে হযরত ওয়াসেল ইবনু আসকা রাযি. থেকে হাসান সনদে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لا تزالون بخير ما دام فيكم من رآني وصاحبني، والله لا تزالون بخير ما دام فيكم من رأى من رآني وصاحب من صاحبني.
অর্থ : আমাকে এবং আমার সাহাবাদের যারা দেখেছে, তারা যতদিন তোমাদের মাঝে থাকবে, ততদিন তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহর শপথ! তোমাদের মাঝে যতদিন আমার সাহাবা এবং তাবেয়িরা থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের অধিকারী হবে。

টিকাঃ
২১৯. বুখারি শরিফ: ৩৬৪৯; মুসলিম শরিফ: ২৫৩২。
২২০. মুসান্নাফু ইবনে আবি শায়বা: ১২/১৭৮।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ বন্ধু আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম

📄 সৎ বন্ধু আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম


মুসলিম শরিফে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমরা বললাম, আমরা যদি তার সাথে ইশার নামাজ আদায় করা পর্যন্ত উপবিষ্ট হতে পারতাম, তাহলে কতই না ভালো হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বসে থাকলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা এখনো পর্যন্ত এখানে উপবিষ্ট আছ? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছি। তারপর আমরা ভাবলাম, ইশার নামাজও আপনার সাথে আদায় করার জন্যে বসে অপেক্ষা করি। তিনি বললেন, তোমরা অনেক ভালো করেছ কিংবা তোমরা ঠিকই করেছ। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং তিনি অধিকাংশ সময়ই আকাশের দিকে তার মাথা তুলতেন। অতঃপর তিনি বললেন, তারকারাজি অবস্থানের কারণেই আকাশ স্থিতিশীল রয়েছে। তারকারাজি যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে, তখন আকাশের জন্য ওয়াদাকৃত বিপদ আসন্ন হবে। অর্থাৎ কেয়ামত এসে যাবে এবং আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর আমি আমার সাহাবাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তাস্বরূপ। আমি যখন বিদায় নেব তখন আমার সাহাবাদের ওপর ওয়াদাকৃত সময় এসে উপস্থিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ফেতনা-ফ্যাসাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে যাবে। আর আমার সাহাবাগণ সকল উম্মতের জন্য রক্ষাকবচস্বরূপ। আমার সাহাবাগণ যখন বিদায় হয়ে যাবে, তখন আমার উম্মাতের ওপর ওয়াদাকৃত বিষয় উপস্থিত হবে。

টিকাঃ
২২১. মুসলিম শরিফ: ২৫৩১।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ বন্ধুর সাহচর্য গুনাহ থেকে বিরত রাখে

📄 সৎ বন্ধুর সাহচর্য গুনাহ থেকে বিরত রাখে


নেককার লোকদের সাথে উঠাবসার অন্যতম একটি ফায়দা হলো, তুমি তার লজ্জায় এবং তার সাথে সম্পর্কের খাতিরে অন্যায়-অপরাধ এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। তাই দ্বীনদার সৎ বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক করবে এবং চলাফেরা করবে। এতে বহু পাপ ও অন্যায় থেকে বেঁচে যাবে।

মুসলিম শরিফে হযরত আবু মাসউদ বদরি রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক ক্রীতদাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পেছনে থেকে একটি শব্দ শোনলাম, হে আবু মাসউদ। জেনে রেখো! রাগের কারণে আমি শব্দটি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার কাছাকাছি এলেন তখন দেখতে পেলাম, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি বলছেন, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চাবুকটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এ গোলামের ওপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার ওপর আল্লাহ তাআলা অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এরপর কখনো কোনো কৃতদাসকে আমি প্রহার করব না。

মুসলিম শরিফের অন্যত্র হযরত আবু মাসউদ বদরি রাযি. থেকে এই হাদিস এভাবে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আমার এক দাসকে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পেছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শোনলাম। হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার ওপর যেরূপ শক্তিমান, আল্লাহ তাআলা তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক শক্তিমান। হঠাৎ পেছন দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাবধান! যদি তুমি তা না করতে, তাহলে অবশ্যই জাহান্নام তোমাকে গ্রাস করত। কিংবা জাহান্নাম তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করত。

টিকাঃ
২২২. মুসলিম শরিফ: ১৬৫৯。
২২৩. মুসলিম শরিফ: ১৬৫৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00