📄 অসুস্থদের খোঁজ-খবর নেওয়াও বরকতময়
যে মজলিসে অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া হয় এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা হয়, তা অত্যন্ত বরকতময় এবং উত্তম মজলিস। ইমাম মুসলিম রহ. হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কঠিন পরিস্থিতির সেই কেয়ামত দিবসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমগ্র মানবজাতির প্রতি লক্ষ করে বলবেন, আদমসন্তানেরা! দুনিয়াতে আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; তোমরা তো আমার সেবা-শুশ্রূষা করোনি!
বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! এটা কী করে সম্ভব? আমি কীভাবে আপনার সেবা করতে পারি? আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল। তোমরা কি জানতে না? তা সত্ত্বেও তোমরা তার সেবা করোনি। তোমাদের কি জানা ছিল না যে তোমরা তার সেবার মধ্যে দিয়েই আমাকে কাছে খুঁজে পেতে? আল্লাহ তাআলা আরও বলবেন, হে আদমসন্তান! আমি তো ক্ষুধার তাড়নায় কাতর হয়ে তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার দান করোনি। মানুষ অবাক হয়ে জানতে চাইবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি কীভাবে আপনাকে আহার দান করব? আপনিই তো সমগ্র সৃষ্টিজীবের রিজিকদাতা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, আমার এক ক্ষুধার্ত বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল। তুমি তাকে আহার দান করেছিলে? সেদিন যদি তাকে আহার দান করতে, তাহলে আজ আমার কাছে সেটার প্রতিদান পেয়ে যেতে। এমনইভাবে আল্লাহ তাআলা আরও জিজ্ঞেস করবেন, হে মানবজাতি! আমি তো পিপাসায় কাতর অবস্থায় তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। মানুষ বলবে, হে আমাদের রব! আপনাকে আমরা কীভাবে পানি পান করাব? অথচ আপনি মহান প্রতিপালক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তখন বান্দাকে বলবেন, মনে আছে? আমার অমুক বান্দা তৃষ্ণার্থ অবস্থায় তোমার কাছে পানি চেয়েছিল; কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। সেদিন তাকে পানি পান করালে আজ আমার কাছে তার প্রতিদান পেতে。
এ জন্য একজন ন্যায়-নিষ্ঠাবান সৎ চরিত্রের মুমিনের জন্য উচিত, দরিদ্র, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের সুখে-দুঃখে এগিয়ে যাওয়া। তাদের খোঁজখবর নেওয়া। তাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। কেউ অসুস্থ হলে তাদের সেবা করা। পাশাপাশি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নেয়ামতের কথাও স্মরণ করা। এতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় অন্তর থাকবে কৃতজ্ঞ। আর অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবার ফলে তাদের নেক দুআ ও ভালোবাসায় অন্তর হবে সিক্ত।
'শিফাউল কুলুব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর যন্ত্রণা- ভোগান্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে মানুষ কেবল বিত্তশালী প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী ক্ষমতাবানদের পেছনে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের সাথে উঠাবসা করতে পারাটা নিজের জন্য বিশাল অর্জন বলে মনে করে। এতে ধীরে ধীরে তার অন্তর হয়ে ওঠে উচ্চবিলাসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর চরম ভোগবাদী। ফলে সে কখনই অল্পে তুষ্ট থাকতে পারে না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ، فَلْيَنْظُرُ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ مِمَّنْ فُضِلَ عَلَيْهِ.
অর্থ: তোমাদের কারও দৃষ্টি যদি এমন লোকের ওপর পড়ে, যাকে ধন- সম্পদ ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তাহলে সে যেন এমন লোকের দিকে দৃষ্টি দেয়, যে তার চেয়ে নিম্নস্তরে রয়েছে。
মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় এভাবে এসেছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ؛ فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ.
অর্থ: তোমরা নিজেদের তুলনায় নিম্ন অবস্থার লোকের প্রতি তাকাও। এমন ব্যক্তির দিকে তাকিয়ো না, যে তোমাদের চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের। তাহলে এটাই হবে আল্লাহর নেয়ামতকে অবজ্ঞা না করার এক উত্তম পন্থা।
এ জন্যই কেউ যদি উচ্চপদস্থ এবং সম্পদশালীদের সাথে চলাফেরা করতে অধিক আগ্রহী হয়, তাহলে এই অভ্যাস তাকে সর্বক্ষণ তাদের দানের প্রত্যাশী বানিয়ে দেয়। এতে সে নিজের প্রতি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে ছোট মনে করতে থাকে। ফলে সে কখনই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। এমনকি এর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করে না。
পক্ষান্তরে একজন মানুষের উঠাবসা যখন অল্পে তুষ্ট ব্যক্তিদের সাথে হবে, তখন অন্তর থাকবে শান্ত, শীতল এবং মন থাকবে নম্র ও বিনয়ী। এর অর্থ এই নয় যে, নিজের কাজকর্ম, আয়-রোজগার আর ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে অলস বসে থাকতে হবে। বরং কথা হলো, মানুষ সদাসর্বদা হালাল উপার্জন, উত্তম রিজিকের অন্বেষণের চেষ্টা করবে। এটাই তার দায়িত্ব। এতে ভাগ্যে কিছু জুটে গেলে সেটা যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ ও দয়া মনে করতে হবে, অপরদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন না হলে সেটাও তাকদির হিসেবে মেনে নিতে হবে। এ বিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন,
شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الْأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ.
অর্থ: যে ওলিমায় কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং গরিবদের দাওয়াত করা হয় না, সেই ওলিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট。
তাই কেউ ওলিমার দাওয়াত-আয়োজন ইত্যাদি করলে বিত্তবান ধনাঢ্য লোকদের পাশাপাশি গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষদেরকেও শরিক করা উচিত। কত অসহায় গরিব মানুষ আছে যারা বেশ-ভূষণে গরিব, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট অতি প্রিয়। যাদের দুআ আল্লাহ তাআলার কাছে মকবুল। তাদের দুআ ও আপ্যায়নের বদৌলতে আল্লাহ তাআলা মেজবানকে মর্যাদা-সম্মানের অধিকারী করেন。
টিকাঃ
২১৪. মুসলিম শরিফ: ১২০৬।
২১৫. বুখারি শরিফ: ৬৪৯০; মুসলিম শরিফ: ২৯৬৩।
২১৬. ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হযরত আউন ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন, যখন আমি ধনীদের সাথে মেলামেশা করেছি, তখন তাদের মাঝে আমার থেকে দুঃখী কাউকে দেখিনি। কেননা তাদের বাহন আমার বাহনের চেয়ে ভালো হতো। তাদের পোশাক-পরিচ্ছেদ আমার চেয়ে ভালো থাকত। আর যখন আমি গরিবদের সাথে মিশতাম, তখন আমি তাদের মাঝে সবচে' সুখী মানুষ থাকতাম।-তুহফাতুল আহওয়াজি: ৫/৪৭৭
লেখক বলেন। আমি মনে করি হযরত আউন রহ. যথার্থই বলেছেন। কেননা একজন মধ্যবিত্ত যদি পাঁচশ টাকা দিয়ে নতুন ভালো কোনো পোশাক পরিধান করে তারচে' ধনী কারও পাশে বসে, যার গায়ের পোশাকের দাম হাজার টাকা, তাহলে অবশ্যই নিজের নতুন পোশাককেও তার নিকট ধনীর হাজার টাকার পোশাকের সামনে তুচ্ছ মনে হবে। ফলে সে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া এবং তার প্রশংসার কথা ভুলে যাবে। বিপরীতে এই ব্যক্তিই যখন তার চেয়ে দরিদ্র কারও পাশে বসবে, যার গায়ের পোশাকের দাম দুইশ টাকা; তখন সে অন্যের তুলনায় নিজের পোশাককে মূল্যবান মনে করবে এবং মনে মনে খুশি হবে। এর জন্য আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে।
২১৭. বুখারি শরিফ: ৫১৭৭; মুসলিম শরিফ: ১৪৩২।
📄 কল্যাণকর কাজে অংশগ্রহণ আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম
সাধারণত ভালো ও কল্যাণকর কাজের মজলিসের আয়োজন করা এবং দলবদ্ধভাবে তাতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ করাকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। উম্মে আতিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত; নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যুবতি, পর্দানশীন ও ঋতুবতী নারীরা বের হবে এবং ভালো স্থানে ও মুমিনদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করবে। তবে ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে。
টিকাঃ
২১৮. বুখারি শরিফ: ৩২৪।
📄 সালেহিনদের মজলিসে মানুষকে সম্মানিত করে
সৎ ও নেককারদের সাথে উঠাবসা ও চলাফেরার কারণে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়।
বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু সায়িদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকদের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের জন্য বের হবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে। অতঃপর জনগণের ওপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছেন? তখন তারা বলবেন, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে। অতঃপর লোকদের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের সাহচর্যপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছেন? বলা হবে, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয়ী করা হবে。
মুসান্নাফু ইবনে আবি শাইবাতে হযরত ওয়াসেল ইবনু আসকা রাযি. থেকে হাসান সনদে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لا تزالون بخير ما دام فيكم من رآني وصاحبني، والله لا تزالون بخير ما دام فيكم من رأى من رآني وصاحب من صاحبني.
অর্থ : আমাকে এবং আমার সাহাবাদের যারা দেখেছে, তারা যতদিন তোমাদের মাঝে থাকবে, ততদিন তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে। আর আল্লাহর শপথ! তোমাদের মাঝে যতদিন আমার সাহাবা এবং তাবেয়িরা থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের অধিকারী হবে。
টিকাঃ
২১৯. বুখারি শরিফ: ৩৬৪৯; মুসলিম শরিফ: ২৫৩২。
২২০. মুসান্নাফু ইবনে আবি শায়বা: ১২/১৭৮।
📄 সৎ বন্ধু আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম
মুসলিম শরিফে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমরা বললাম, আমরা যদি তার সাথে ইশার নামাজ আদায় করা পর্যন্ত উপবিষ্ট হতে পারতাম, তাহলে কতই না ভালো হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বসে থাকলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা এখনো পর্যন্ত এখানে উপবিষ্ট আছ? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছি। তারপর আমরা ভাবলাম, ইশার নামাজও আপনার সাথে আদায় করার জন্যে বসে অপেক্ষা করি। তিনি বললেন, তোমরা অনেক ভালো করেছ কিংবা তোমরা ঠিকই করেছ। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং তিনি অধিকাংশ সময়ই আকাশের দিকে তার মাথা তুলতেন। অতঃপর তিনি বললেন, তারকারাজি অবস্থানের কারণেই আকাশ স্থিতিশীল রয়েছে। তারকারাজি যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে, তখন আকাশের জন্য ওয়াদাকৃত বিপদ আসন্ন হবে। অর্থাৎ কেয়ামত এসে যাবে এবং আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর আমি আমার সাহাবাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তাস্বরূপ। আমি যখন বিদায় নেব তখন আমার সাহাবাদের ওপর ওয়াদাকৃত সময় এসে উপস্থিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ফেতনা-ফ্যাসাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে যাবে। আর আমার সাহাবাগণ সকল উম্মতের জন্য রক্ষাকবচস্বরূপ। আমার সাহাবাগণ যখন বিদায় হয়ে যাবে, তখন আমার উম্মাতের ওপর ওয়াদাকৃত বিষয় উপস্থিত হবে。
টিকাঃ
২২১. মুসলিম শরিফ: ২৫৩১।