📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কুরআনের মজলিসে প্রতি আগ্রহী হও

📄 কুরআনের মজলিসে প্রতি আগ্রহী হও


কেননা কুরআনের জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় মানুষ এবং তাঁর বিশেষ বান্দা। যেমনটা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আনাস রাযি. হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু বিশিষ্ট বান্দা রয়েছে। তারা হলো আহলে কুরআন তথা কুরআন তেলাওয়াতকারী ও তদনুযায়ী আমলকারী। তারাই আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা।

আর ফেরেশতারা কুরআনের মজলিসকে ঘিরে রাখে। আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়।

এ সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাযি. থেকে মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, পরস্পরে অধ্যয়ন করে, তখন তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়, আর ফেরেশতাগণ তাদের ঘিরে রাখেন। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাগণের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।

ভালো সঙ্গী-সাথিরা পরস্পরে ভালো ও কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করে। পরস্পর এই ধরনের প্রতিযোগিতা এবং ঈর্ষা রাখা প্রশংসনীয় কাজ। এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও সাথে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তেলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়! আমাদের যদি এরূপ জ্ঞান দেওয়া হতো, যেরূপ জ্ঞান অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। আর অন্য ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করে। এ অবস্থা দেখে অন্য এক ব্যক্তি বলে, হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদশালী করা হতো, তাহলে সে যেরূপ দান-সদকা করছে, আমিও সেরূপ দান-সদকা করতাম。

তদুপরি কুরআনের মজলিসগুলো আল্লাহওয়ালাদেরও মজলিস। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلكِن كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلَّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ.
অর্থ: বরং সে বলবে, তোমরা রব্বানি হও। কেননা তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে。

তা ছাড়া কুরআনের মজলিসগুলো দুনিয়ার সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ মানুষদের মজলিস। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন মাজিদ শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়。

অন্য এক বর্ণনায় এভাবে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়。

টিকাঃ
২০২. মুসনাদে আহমদ: ৩/ ১২৭; নাসায়ি শরিফ, বাইহাকি, হাকেম, সহিহুল জামে: ২১৬৫।
২০৩. মুসলিম শরিফ: ৭০২৮; আবু দাউদ: ১৪৫৭।
২০৪. বুখারি শরিফ: ৫০২৬।
২০৫. সুরা আলে ইমরান: ৭৯।
২০৬. ফাতহুল বারি: ৯/৭৩।
২০৭. ফাতহুল বারি: ৯/৭৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 নবীজির সুন্নাহ শেখানোর মজলিসগুলোও মূল্যবান

📄 নবীজির সুন্নাহ শেখানোর মজলিসগুলোও মূল্যবান


একইভাবে নবীজির সুন্নাহ শেখানোর মজলিসগুলোও অত্যন্ত মূল্যবান এবং দামি মজলিস। যেসব মজলিসে আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ শেখানো হয়, সেসব মজলিস দ্বারা আল্লাহ তাআলা মজলিসে উপবেশনকারীদের চেহারাগুলো আলোকোজ্জ্বল করে দেন। যেমনটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
نضر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির চেহারা সমুজ্জ্বল করুন, যে আমার বক্তব্য শুনল ও তা স্মরণ রাখল। অতঃপর সে যেভাবে শুনেছে সেভাবে পৌঁছে দিলো。

এমনইভাবে এই মজলিসগুলাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বারবার দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয়। যেগুলো নিজ রবের পক্ষ থেকে বান্দার জন্য রহমত ও শান্তি বয়ে আনে। এমনইভাবে এগুলোর প্রতিউত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বান্দার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির দুআ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ তাআলা আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন, ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই。

টিকাঃ
২০৮. সহিহ মুতাওয়াতির।
২০৯. মুসনাদু আহমদ: ৪/১৪৪, ১৫৩ ও আবু দাউদ: ২/৫৩৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মজলিসের প্রতি আগ্রহী থাকা

📄 ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মজলিসের প্রতি আগ্রহী থাকা


আপনি যখন ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মজলিসগুলোর প্রতি অনুরাগী হবেন, নিয়মিত যাতায়াত করবেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জন্য দ্বীনের পথে চলাকে সহজ করে দেবেন। আর যখন অলসতা, অবহেলাবশত এসব এড়িয়ে চলবেন, উপেক্ষা করবেন, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে গৌণ জ্ঞান করবেন, মনে রাখবেন, আল্লাহ তাআলাও আপনার থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেবেন।

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু ওয়াকিদ লাইসি রাযি. থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগত তিনটি দলের ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবু ওয়াকিদ লাইসি রাযি. বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন। দ্বীনি বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় তিনটি জামাত এল। দুটি জামাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে অবস্থান করল। আর তৃতীয় জামাতটি ফিরে চলে গেল। প্রথম দুটি জামাতের একটি জামাত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই মজলিসের এক কোণে জায়গা করে বসে পড়ল। দ্বিতীয় জামাতটি দোদুল্যমান অবস্থায় প্রথম জামাতটির অনুসরণে বসে পড়ল। আর তৃতীয় জামাতটি যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবেই ফিরে চলে গেল।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষ করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই তিনটি জামাতের অবস্থার কথা বলে দেব না? তাহলে শোনো! প্রথম জামাতটি আল্লাহর কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাও তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় জামাত ইচ্ছা-অনিচ্ছার মধ্য দিয়ে সংকোচে ভুগছিল। আল্লাহ তাআলাও তাদের ব্যাপারে সংকোচবোধই করেছেন। আর তৃতীয় জামাত যখন বিমুখতা প্রদর্শন করে ফিরে চলে গেল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

তাই ইলমে দ্বীন অর্জনের সুযোগপ্রাপ্ত হওয়া নিঃসন্দেহে তোমার প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও অনুকম্পার বর্হিপ্রকাশ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّههُ فِي الدِّينِ.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে ধর্মীয় জ্ঞানের গভীরতা ও সক্ষমতা দান করেন。

টিকাঃ
২১০. উদ্ধৃতি সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।
২১১. বুখারি শরিফ: ৭১; মুসলিম শরিফ: ১০৩৭।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 ঝগড়া-ফ্যাসাদ মীমাংসার মজলিসও কল্যাণময়

📄 ঝগড়া-ফ্যাসাদ মীমাংসার মজলিসও কল্যাণময়


মানুষের পারস্পরিক মনোমালিন্য ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ মীমাংসা এবং কল্যাণের পথে আহ্বানকারী মজলিসে অংশগ্রহণ-অত্যন্ত উপকারী ও কল্যাণকর মজলিস এগুলো। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
অর্থ: তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশে কোনো কল্যাণ নেই। তবে (কল্যাণ আছে) যে নির্দেশ দেয় সদকা কিংবা ভালো কাজ অথবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার। আর যে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করবে, অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব。

এ ছাড়াও যারা নিজেদের কথাবার্তায় সততা বজায় রাখে, পরিবার-পরিজন এবং অধীনস্তদের ব্যাপারে সুবিচার করে, তারা কেয়ামত দিবসে অবস্থান করবে আলোকিত বিশাল বিশাল উঁচু অট্টালিকায়। যেমনটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে মুসলিম শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ন্যায়বিচারকগণ কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকটে নুরের মিম্বরসমূহে মহামহিম দয়াময় প্রভুর ডানপাশে উপবিষ্ট থাকবেন। তাঁর উভয় হাতই ডান হাত। যারা তাদের শাসনকার্যে তাদের পরিবারের লোকদের ব্যাপারে এবং তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বসমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে。

টিকাঃ
২১২. সুরা নিসা: ১১৪।
২১৩. মুসলিম শরিফ: ১৮২৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00