📄 সালেহদের মজলিসে বসো
নেককার লোকদের মজলিস ও সভাগুলোতে অংশগ্রহণ করো। এ সকল মজলিসের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মজলিস আল্লাহ তাআলার ঘরগুলো। যেখানে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, নামাজ পড়া হয় এবং কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ. رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ.
অর্থ : সেসব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে আল্লাহর নাম জিকির করতে আল্লাহই অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবিহ পাঠ করে সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর জিকির, সালাত কায়েম করা ও জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে。
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهُ فَعَسَى أُولَئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ.
অর্থ: একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে。
আর তাতে উপবেশনকারীদের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত নাজিল হয়। ফেরেশতারা তাদের জন্য দুআ করেন। ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রহমতের প্রার্থনা করেন। তাতে নবীরা বিভিন্ন সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন। হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার ঘরে থাকা অবস্থায় ডাক দিয়ে সুসংবাদ দেন। পবিত্র কুরআনে সে কথাই বলা হয়েছে,
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ.
অর্থ: অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বলল, সে যখন কক্ষে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা ও নারী সম্ভোগমুক্ত এবং নেককারদের মধ্য থেকে একজন নবী。
আল্লাহর ঘরের জিয়ারত, নেককার দরিদ্র ব্যক্তিদের সান্নিধ্য গ্রহণ এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন ও তাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার দ্বারা বান্দার ভেতর নম্রতা, ভদ্রতা ও বিনয় তৈরি করে। এমনইভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদ-আপদ ও পরীক্ষায় লিপ্ত, অসুস্থ, ঋণগ্রস্ত, অভাবী, দরিদ্রদের সাহচর্য গ্রহণ করা এবং বিধবা ও এতিমদের খোঁজখবর নেওয়া উত্তম কাজ। মানুষের অন্তরে এসবের প্রভাব কাজ করে এবং তার স্বভাব-চরিত্র এগুলোর মাধ্যমে উত্তম ও সুন্দর হয়।
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَيْتَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِي صَالِحًا يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ.
অর্থ: আমার সাহাবিদের মধ্যে কোনো নেককার সৎ ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত।
বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত অবস্থায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি যখন মদিনায় এলেন, এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবিদের মধ্যে কোনো যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত। এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? ব্যক্তিটি বলল, আমি সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস, আপনার পাহারার জন্য এসেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে গেলেন。
এমনইভাবে হযরত আলি ইবনু হুসাইন রহ. জ্ঞান-গরিমা, দ্বীনদারি ও খোদাভীতিতে ছিলেন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশের প্রদীপ নবীদৌহিত্র জয়নুল আবেদিন রহ.। নিজ বংশীয় আলেমদের সভা ও মজলিস অতিক্রম করে যায়েদ ইবনু আসলাম রহ.-এর মজলিসেও বসতেন। তার থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন এবং বিভিন্নভাবে উপকৃত হতেন। অথচ হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম রহ. ছিলেন মদিনার একজন ক্রীতদাস গোলাম মাত্র। তা সত্ত্বেও এতে তিনি কারও তিরস্কার ও ভর্ৎসনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না।
'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে যায়েদ ইবনু আসলাম রহ.-এর জীবনীতে রয়েছে, হিশাম ইবনু উরওয়া তার সম্পর্কে বলেন, আলি ইবনু হুসাইন রহ. তার বাহনে চড়ে মদিনা থেকে মক্কায় যেতেন এবং সেখান থেকে ফিরে আসতেন; কিন্তু কারও সঙ্গে মিশতেন না। মক্কায় তিনি হযরত উমর রাযি.-এর গোলাম হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম রহ.-এর মজলিসে বসতেন। একবার কেউ তাকে বলল, আপনি মক্কার কুরাইশদের মজলিস ছেড়ে আবদে বনি আদির মজলিসে বসছেন কেন? জবাবে তিনি বললেন, মানুষ সেখানেই বসে যেখান থেকে সে উপকৃত হয়।
আবদুর রহমান ইবনু আরদাক বলেন, হযরত আলি ইবনু হুসাইন রহ. মসজিদে প্রবেশ করে মানুষের ভিড় ঠেলে হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম রহ.-এর মজলিসে বসতেন। একদিন তাকে নাফে ইবনু যুবাইর বললেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি হলেন নবীদৌহিত্র এবং মুসলমানদের নেতা। এরপরও মানুষদের ভিড় ঠেলে আপনি কেন এই ক্রীতদাসের মজলিসে বসেন! তিনি জবাবে বললেন, ইলম এমন সম্পদ, যে অন্বেষণ করে, তাকে প্রদান করা হয়। আর তাকে সেখানেই খুঁজতে হয়, যেখানে তা আছে。
টিকাঃ
১৯৮. সুরা নূর: ৩৬-৩৭।
১৯৯. সুরা তাওবা-১৮।
২০০. সুরা আলে ইমরান: ৩৯।
২০১. বুখারি শরিফ: ২৮৮৫; মুসলিম শরিফ: ২৪১০।
📄 কুরআনের মজলিসে প্রতি আগ্রহী হও
কেননা কুরআনের জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় মানুষ এবং তাঁর বিশেষ বান্দা। যেমনটা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আনাস রাযি. হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু বিশিষ্ট বান্দা রয়েছে। তারা হলো আহলে কুরআন তথা কুরআন তেলাওয়াতকারী ও তদনুযায়ী আমলকারী। তারাই আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা।
আর ফেরেশতারা কুরআনের মজলিসকে ঘিরে রাখে। আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়।
এ সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাযি. থেকে মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, পরস্পরে অধ্যয়ন করে, তখন তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়, আর ফেরেশতাগণ তাদের ঘিরে রাখেন। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাগণের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।
ভালো সঙ্গী-সাথিরা পরস্পরে ভালো ও কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করে। পরস্পর এই ধরনের প্রতিযোগিতা এবং ঈর্ষা রাখা প্রশংসনীয় কাজ। এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও সাথে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তেলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়! আমাদের যদি এরূপ জ্ঞান দেওয়া হতো, যেরূপ জ্ঞান অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। আর অন্য ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করে। এ অবস্থা দেখে অন্য এক ব্যক্তি বলে, হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদশালী করা হতো, তাহলে সে যেরূপ দান-সদকা করছে, আমিও সেরূপ দান-সদকা করতাম。
তদুপরি কুরআনের মজলিসগুলো আল্লাহওয়ালাদেরও মজলিস। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلكِن كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلَّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ.
অর্থ: বরং সে বলবে, তোমরা রব্বানি হও। কেননা তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে。
তা ছাড়া কুরআনের মজলিসগুলো দুনিয়ার সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ মানুষদের মজলিস। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন মাজিদ শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়。
অন্য এক বর্ণনায় এভাবে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়。
টিকাঃ
২০২. মুসনাদে আহমদ: ৩/ ১২৭; নাসায়ি শরিফ, বাইহাকি, হাকেম, সহিহুল জামে: ২১৬৫।
২০৩. মুসলিম শরিফ: ৭০২৮; আবু দাউদ: ১৪৫৭।
২০৪. বুখারি শরিফ: ৫০২৬।
২০৫. সুরা আলে ইমরান: ৭৯।
২০৬. ফাতহুল বারি: ৯/৭৩।
২০৭. ফাতহুল বারি: ৯/৭৪।
📄 নবীজির সুন্নাহ শেখানোর মজলিসগুলোও মূল্যবান
একইভাবে নবীজির সুন্নাহ শেখানোর মজলিসগুলোও অত্যন্ত মূল্যবান এবং দামি মজলিস। যেসব মজলিসে আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ শেখানো হয়, সেসব মজলিস দ্বারা আল্লাহ তাআলা মজলিসে উপবেশনকারীদের চেহারাগুলো আলোকোজ্জ্বল করে দেন। যেমনটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
نضر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির চেহারা সমুজ্জ্বল করুন, যে আমার বক্তব্য শুনল ও তা স্মরণ রাখল। অতঃপর সে যেভাবে শুনেছে সেভাবে পৌঁছে দিলো。
এমনইভাবে এই মজলিসগুলাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বারবার দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয়। যেগুলো নিজ রবের পক্ষ থেকে বান্দার জন্য রহমত ও শান্তি বয়ে আনে। এমনইভাবে এগুলোর প্রতিউত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বান্দার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির দুআ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ তাআলা আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন, ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই。
টিকাঃ
২০৮. সহিহ মুতাওয়াতির।
২০৯. মুসনাদু আহমদ: ৪/১৪৪, ১৫৩ ও আবু দাউদ: ২/৫৩৪।
📄 ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মজলিসের প্রতি আগ্রহী থাকা
আপনি যখন ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মজলিসগুলোর প্রতি অনুরাগী হবেন, নিয়মিত যাতায়াত করবেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জন্য দ্বীনের পথে চলাকে সহজ করে দেবেন। আর যখন অলসতা, অবহেলাবশত এসব এড়িয়ে চলবেন, উপেক্ষা করবেন, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে গৌণ জ্ঞান করবেন, মনে রাখবেন, আল্লাহ তাআলাও আপনার থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেবেন।
বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু ওয়াকিদ লাইসি রাযি. থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগত তিনটি দলের ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবু ওয়াকিদ লাইসি রাযি. বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন। দ্বীনি বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় তিনটি জামাত এল। দুটি জামাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে অবস্থান করল। আর তৃতীয় জামাতটি ফিরে চলে গেল। প্রথম দুটি জামাতের একটি জামাত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই মজলিসের এক কোণে জায়গা করে বসে পড়ল। দ্বিতীয় জামাতটি দোদুল্যমান অবস্থায় প্রথম জামাতটির অনুসরণে বসে পড়ল। আর তৃতীয় জামাতটি যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবেই ফিরে চলে গেল।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষ করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই তিনটি জামাতের অবস্থার কথা বলে দেব না? তাহলে শোনো! প্রথম জামাতটি আল্লাহর কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাও তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় জামাত ইচ্ছা-অনিচ্ছার মধ্য দিয়ে সংকোচে ভুগছিল। আল্লাহ তাআলাও তাদের ব্যাপারে সংকোচবোধই করেছেন। আর তৃতীয় জামাত যখন বিমুখতা প্রদর্শন করে ফিরে চলে গেল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
তাই ইলমে দ্বীন অর্জনের সুযোগপ্রাপ্ত হওয়া নিঃসন্দেহে তোমার প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও অনুকম্পার বর্হিপ্রকাশ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّههُ فِي الدِّينِ.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে ধর্মীয় জ্ঞানের গভীরতা ও সক্ষমতা দান করেন。
টিকাঃ
২১০. উদ্ধৃতি সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।
২১১. বুখারি শরিফ: ৭১; মুসলিম শরিফ: ১০৩৭।