📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করে

📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করে


এ জন্যই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট ভাই হারুনকে তাঁর কাজের সহযোগী হিসেবে আবেদন করে বলেন,
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي هَارُونَ أَخِي. اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا. وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا. إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا.
অর্থ: আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন। আমার ভাই হারুন দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন এবং তাঁকে আমার কাজে শরিক করুন। যাতে আমরা বেশি করে আপনার তাসবিহ পাঠ করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনিই তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা。

টিকাঃ
১৯২. সুরা তোয়াহা: ২৯-৩৫।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী ভালো কাজে প্রেরণা জোগাবে

📄 সৎ সঙ্গী ভালো কাজে প্রেরণা জোগাবে


এতে দিনদিন ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহ তাআলার স্মরণ এবং নেক আমল বৃদ্ধি পাবে। যেমন: রাতে তুমি যদি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে। এরপর যখন তোমার বন্ধুকে প্রতিদিন চার রাকাত পড়তে দেখবে, তখন তুমিও দুই রাকাতের পরিবর্তে চার রাকাত নফল নামাজ পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এমনইভাবে যদি তুমি দুই-চার টাকা দান করতে। অতঃপর তুমি যখন তোমার মতোই অবস্থার এক বন্ধুকে পাঁচ-দশ টাকা দান করতে দেখবে, তখন নিঃসন্দেহে তুমিও আরও বেশি দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।

যেমনটা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দানের জন্য সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেন, তখন তিনি তার অর্ধেক সম্পদ এনে উপস্থিত করেন। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-কে তখন সম্পূর্ণ সম্পদ নিয়ে উপস্থিত হতে দেখলেন। এ সম্পর্কে হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি হযরত উমর রাযি.-কে বলতে শুনেছি, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি আবু বকর রাযি.-এর চাইতে অগ্রগামী হব, যদিও কোনোদিন দানের ক্ষেত্রে আমি তার অগ্রগামী হতে পারিনি। তাই আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ সম্পদ রেখে এসেছি। উমর রাযি. বলেন, আর আবু বকর রাযি. আনলেন তার সমস্ত সম্পদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ? তিনি বলেন, আমি তাদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি। উমর রাযি. বলেন, তখন আমি মনে মনে নিজেকে নিজে বললাম, ভবিষ্যতে কোনোদিন কোনো ব্যাপারে অধিক ফজিলতের অধিকারী হওয়ার জন্য আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করব না。

টিকাঃ
১৯৩. আবু দাউদ শরিফ: ১৬৭৮।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ বন্ধু সালেহিনদের সাথে পরিচয় করাবে

📄 সৎ বন্ধু সালেহিনদের সাথে পরিচয় করাবে


একজন সৎ বন্ধু তোমাকে ভালো মানুষদের মজলিসে নিয়ে যাবে। তাদের পথে পরিচালিত করবে। হযরত আনাস রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর রাযি. উমর রাযি.-কে বললেন, চলো উম্মু আইমানের নিকট যাই, তার সাথে সাক্ষাৎ করব। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে দেখা করতেন। যখন আমরা তার নিকট গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারা উভয়ে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহ তাআলার নিকট যা কিছু আছে তা তার রাসুলের জন্য সর্বাধিক উত্তম। উম্মু আইমান রাযি. বললেন, এ জন্য আমি কাঁদছি না, বরং আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওহি আসা বন্ধ হয়ে গেল। উম্মু আইমানের এ কথা তাদেরকে কান্নাপ্লুত করে তুলল। অতএব তারাও তার সঙ্গে কাঁদতে শুরু করলেন。

টিকাঃ
১৯৪. মুসলিম শরিফ: ২৪৫৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর পুরস্কারপ্রাপ্তির পথ দেখাবে

📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর পুরস্কারপ্রাপ্তির পথ দেখাবে


হযরত ইবনু আবি মুলাইকা রাযি. থেকে বুখারি শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ইবনু আব্বাস রাযি. আয়েশা রাযি.-এর ওফাতের পূর্বে তার কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। এ সময় আয়েশা রাযি. মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভয় করছি, তিনি আমার কাছে এসে আমার প্রশংসা করবেন। তখন আয়েশা রাযি.-এর কাছে বলা হলো, তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই এবং সম্মানিত মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন, তাহলে তাকে অনুমতি দাও। তিনি এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে আপনার অবস্থা কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমি যদি নেককার হই, তাহলে ভালোই আছি। ইবনু আব্বাস রাযি. বললেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি নেককারই আছেন। আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী এবং তিনি আপনাকে ব্যতীত আর কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি এবং আপনার নির্দোষিতা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তার পেছনে ইবনু যুবায়ের রাযি. প্রবেশ করলেন। তখন আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনু আব্বাস রাযি. আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমি এটাই পছন্দ করি যে, আমি যেন মানুষের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যাই。

টিকাঃ
১৯৫. বুখারি শরিফ: ৪৭৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00