📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী পরনিন্দা ও অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত রাখে

📄 সৎ সঙ্গী পরনিন্দা ও অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত রাখে


কেননা সে নিজ মুসলিম ভাইয়ের গিবত শুনতে যেমন রাজি হয় না, তেমনই সে তার মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার গোশত খেতেও রাজি হয় না। এ জন্য সে এতেও রাজি হয় না যে, তার সামনে কেউ অন্যের গিবত করবে বা শুনবে। বরং সে উভয় থেকেই নিজেকে হেফাজতে রাখে। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গী এসবের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। কারও ইজ্জত-সম্মানের তোয়াক্কা করে না। তাই সে অন্যকে নিজ ভাইদের গোশত খেতে দেখে চুপ থাকে। বরং সে নিজেও তা খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। এমনকি আগ্রহের সাথে তা খেতে অংশ নেয়। এর জন্য এখানে-সেখানে হামলে পড়ে। যার-তার গিবত করে করে বেড়ায়। আর তার সামনে কেউ গিবত করলে সে তাকে প্রতিহতও করে না। ফলে মৃতের গোশত খেয়ে পেট ফুলিয়ে সে ঘুমায়। মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্মান সে ক্ষতবিক্ষত করে।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়

📄 সৎ সঙ্গী বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়


সৎ সঙ্গী তোমার বিচ্ছেদের কারণে ব্যথিত হয় এবং তোমার খোঁজখবর নেয়। তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। এমনকি একটি গাছের কাণ্ড তার নেককার সাথি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচ্ছেদে ভীষণভাবে ব্যথিত হয়েছিল। বুখারি শরিফে হযরত জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস তৈরি করে দেব না, যার ওপর আপনি উপবেশন করবেন? কেননা, আমার একজন সূত্রধর গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি ইচ্ছা করো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মিম্বর বানিয়ে দিলেন। জুমার দিন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মিম্বরে বসলেন, তখন যে খেঁজুর গাছের কাণ্ডের ওপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে কান্না করতে লাগল, যেন তা ফেটে পড়বে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, খেজুরকাণ্ডটি যে জিকির-উপদেশ শুনত, তা হারানোর কারণে কেঁদেছিল。

পক্ষান্তরে জালিম ব্যক্তির মৃত্যুতে আসমান-জমিন কান্না করে না। বরং তার মৃত্যুতে তার অনিষ্ট থেকে সবাই শান্তি ও মুক্তি পায়। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত কাতাদাহ ইবনু রিবয়ি আনসারি রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি বললেন, 'মুস্তারিহ' ও 'মুস্তারাহ মিনহু'। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল। 'মুস্তারিহ' ও 'মুস্তারাহ মিনহু'-এর অর্থ কী? তিনি বললেন, মুমিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তিপ্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দার আচার-আচরণ থেকে সকল মানুষ, শহর-বন্দর, বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু মুক্তি পায়。

টিকাঃ
১৯০. বুখারি শরিফ: ২০৯৫।
১৯১. বুখারি শরিফ: ৬৫১২; মুসলিম শরিফ ৯৫০।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করে

📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করে


এ জন্যই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট ভাই হারুনকে তাঁর কাজের সহযোগী হিসেবে আবেদন করে বলেন,
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي هَارُونَ أَخِي. اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا. وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا. إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا.
অর্থ: আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন। আমার ভাই হারুন দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন এবং তাঁকে আমার কাজে শরিক করুন। যাতে আমরা বেশি করে আপনার তাসবিহ পাঠ করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনিই তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা。

টিকাঃ
১৯২. সুরা তোয়াহা: ২৯-৩৫।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী ভালো কাজে প্রেরণা জোগাবে

📄 সৎ সঙ্গী ভালো কাজে প্রেরণা জোগাবে


এতে দিনদিন ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহ তাআলার স্মরণ এবং নেক আমল বৃদ্ধি পাবে। যেমন: রাতে তুমি যদি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে। এরপর যখন তোমার বন্ধুকে প্রতিদিন চার রাকাত পড়তে দেখবে, তখন তুমিও দুই রাকাতের পরিবর্তে চার রাকাত নফল নামাজ পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এমনইভাবে যদি তুমি দুই-চার টাকা দান করতে। অতঃপর তুমি যখন তোমার মতোই অবস্থার এক বন্ধুকে পাঁচ-দশ টাকা দান করতে দেখবে, তখন নিঃসন্দেহে তুমিও আরও বেশি দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।

যেমনটা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দানের জন্য সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেন, তখন তিনি তার অর্ধেক সম্পদ এনে উপস্থিত করেন। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-কে তখন সম্পূর্ণ সম্পদ নিয়ে উপস্থিত হতে দেখলেন। এ সম্পর্কে হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি হযরত উমর রাযি.-কে বলতে শুনেছি, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি আবু বকর রাযি.-এর চাইতে অগ্রগামী হব, যদিও কোনোদিন দানের ক্ষেত্রে আমি তার অগ্রগামী হতে পারিনি। তাই আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ সম্পদ রেখে এসেছি। উমর রাযি. বলেন, আর আবু বকর রাযি. আনলেন তার সমস্ত সম্পদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ? তিনি বলেন, আমি তাদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি। উমর রাযি. বলেন, তখন আমি মনে মনে নিজেকে নিজে বললাম, ভবিষ্যতে কোনোদিন কোনো ব্যাপারে অধিক ফজিলতের অধিকারী হওয়ার জন্য আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করব না。

টিকাঃ
১৯৩. আবু দাউদ শরিফ: ১৬৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00