📄 হযরত জাকারিয়া ও মারইয়াম আলাইহিমুস সালামের ঘটনা
আল্লাহ তাআলার নবী হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম থেকে উপকৃত হয়েছেন। তদ্রূপ তিনিও তার থেকে উপকৃত হন। হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালামের লালনপালনের দায়িত্ব নেন। তাই তিনি বরকতময় ও পবিত্র নবীর ঘরে লালিতপালিত হন। তিনি হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম থেকে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আল্লাহর আনুগত্য, খোদাভীতি ও আমানতদারিতার শিক্ষা পান। আর এ জন্যই লজ্জাস্থানের হেফাজত করা তার জন্য সহজ হয়েছিল। অপরদিকে হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামও তাঁর থেকে উপকৃত হন। যখনই তিনি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করতেন তাঁকে আল্লাহর দেওয়া রিজিকপ্রাপ্ত পেতেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন, হে মারইয়াম! কোথা থেকে তুমি এগুলো পেলে? উত্তরে হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম বললেন, এগুলো আমার রবের পক্ষ থেকে দেওয়া। তাঁর এই উত্তর হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলার নিকট নেককার ও উত্তম সন্তানের কামনায় দুআ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সাহস জোগায়। তখন তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করলেন,
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ. فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ.
অর্থ: হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বলল, সে যখন কক্ষে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা ও নারী সম্ভোগমুক্ত এবং নেককারদের মধ্য থেকে একজন নবী।
তখন আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাঁকে পুত্রসন্তান হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামকে দান করেন।
হে মহান রব! যিনি হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালামকে বেহিসাব রিজিক দান করেছেন! হযরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে নিজ অনুগ্রহে পুত্রসন্তান দান করেছেন! আমাদেরও বেহিসাব রিজিক দান করুন। আমাদেরও পূত-পবিত্র সন্তান দান করুন আপনার পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণ করেন। হে আমাদের মহান রব! দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ আমাদের দান করুন। জাহান্নামের আজাব ও শান্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন。
টিকাঃ
১৮৯. সুরা আলে ইমরান: ৩৮-৩৯।
📄 সৎ সঙ্গী পরনিন্দা ও অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত রাখে
কেননা সে নিজ মুসলিম ভাইয়ের গিবত শুনতে যেমন রাজি হয় না, তেমনই সে তার মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার গোশত খেতেও রাজি হয় না। এ জন্য সে এতেও রাজি হয় না যে, তার সামনে কেউ অন্যের গিবত করবে বা শুনবে। বরং সে উভয় থেকেই নিজেকে হেফাজতে রাখে। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গী এসবের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। কারও ইজ্জত-সম্মানের তোয়াক্কা করে না। তাই সে অন্যকে নিজ ভাইদের গোশত খেতে দেখে চুপ থাকে। বরং সে নিজেও তা খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। এমনকি আগ্রহের সাথে তা খেতে অংশ নেয়। এর জন্য এখানে-সেখানে হামলে পড়ে। যার-তার গিবত করে করে বেড়ায়। আর তার সামনে কেউ গিবত করলে সে তাকে প্রতিহতও করে না। ফলে মৃতের গোশত খেয়ে পেট ফুলিয়ে সে ঘুমায়। মুসলমানদের ইজ্জত ও সম্মান সে ক্ষতবিক্ষত করে।
📄 সৎ সঙ্গী বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়
সৎ সঙ্গী তোমার বিচ্ছেদের কারণে ব্যথিত হয় এবং তোমার খোঁজখবর নেয়। তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। এমনকি একটি গাছের কাণ্ড তার নেককার সাথি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচ্ছেদে ভীষণভাবে ব্যথিত হয়েছিল। বুখারি শরিফে হযরত জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস তৈরি করে দেব না, যার ওপর আপনি উপবেশন করবেন? কেননা, আমার একজন সূত্রধর গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি ইচ্ছা করো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মিম্বর বানিয়ে দিলেন। জুমার দিন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মিম্বরে বসলেন, তখন যে খেঁজুর গাছের কাণ্ডের ওপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে কান্না করতে লাগল, যেন তা ফেটে পড়বে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, খেজুরকাণ্ডটি যে জিকির-উপদেশ শুনত, তা হারানোর কারণে কেঁদেছিল。
পক্ষান্তরে জালিম ব্যক্তির মৃত্যুতে আসমান-জমিন কান্না করে না। বরং তার মৃত্যুতে তার অনিষ্ট থেকে সবাই শান্তি ও মুক্তি পায়। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত কাতাদাহ ইবনু রিবয়ি আনসারি রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি বললেন, 'মুস্তারিহ' ও 'মুস্তারাহ মিনহু'। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল। 'মুস্তারিহ' ও 'মুস্তারাহ মিনহু'-এর অর্থ কী? তিনি বললেন, মুমিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তিপ্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দার আচার-আচরণ থেকে সকল মানুষ, শহর-বন্দর, বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু মুক্তি পায়。
টিকাঃ
১৯০. বুখারি শরিফ: ২০৯৫।
১৯১. বুখারি শরিফ: ৬৫১২; মুসলিম শরিফ ৯৫০।
📄 সৎ সঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করে
এ জন্যই হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট ভাই হারুনকে তাঁর কাজের সহযোগী হিসেবে আবেদন করে বলেন,
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي هَارُونَ أَخِي. اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا. وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا. إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا.
অর্থ: আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন। আমার ভাই হারুন দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন এবং তাঁকে আমার কাজে শরিক করুন। যাতে আমরা বেশি করে আপনার তাসবিহ পাঠ করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনিই তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা。
টিকাঃ
১৯২. সুরা তোয়াহা: ২৯-৩৫।