📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সালেহিনদের সাহচর্যে থাকা আল্লাহর নির্দেশ

📄 সালেহিনদের সাহচর্যে থাকা আল্লাহর নির্দেশ


আল্লাহ তাআলা মানুষদেরকে আল্লাহভীরু লোকদের সাথে উঠাবসা ও তাদের সাহচর্য গ্রহণের নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেন,
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا .
অর্থ: আর আপনি নিজেকে ধৈর্যশীল রাখুন তাদের সাথে, যারা সকাল- সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে। আপনার দুচোখ যেন তাদের থেকে ঘুরে না যায়। আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না, যার অন্তরকে আমি আমার জিকির থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে。

তিনি আরও বলেন,
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ. وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَيَقُولُوا أَهْؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّن بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ.
অর্থ: আর আপনি তাড়িয়ে দেবেন না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল- সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি চায়। তাদের কোনো হিসাব আপনার ওপর নেই এবং আপনার কোনো হিসাব তাদের ওপর নেই, ফলে আপনি তাদের তাড়িয়ে দিলে এবং আপনি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর এভাবেই আমি এককে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে, এরাই কি, আমাদের মধ্য থেকে, যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত নন?

এই আয়াতগুলো মুশরিকদের বিরুদ্ধে সে সময় নাজিল হয়, যখন তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থাকা গরিব ও দুর্বল শ্রেণির লোকদেরকে তাড়িয়ে দিতে বলে। তাদের ধারণা অনুযায়ী যেন এরা ধনী ও বড়লোকদের ওপর দুঃসাহস দেখাতে না পারে। সহিহ মুসলিম শরিফে হযরত সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত,
فِي نَزَلَتْ ( وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ) قَالَ نَزَلَتْ فِي سِتَّةٍ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ مِنْهُمْ وَكَانَ الْمُشْرِكُونَ قَالُوا لَهُ تُدْنِي هَؤُلَاءِ.
অর্থ: যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না-এ আয়াতটি আমার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

বর্ণনাকারী অন্য বর্ণনায় বলেন, এই আয়াতটি ছয় ব্যক্তি প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়। তন্মধ্যে আমি এবং আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ছিলেন। মুশরিকরা বলত, এসব ছোট লোককে আপনি সাথে রাখবেন না।

হযরত সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযি. থেকে মুসলিম শরিফের অন্য এক স্থানে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, একদা আমরা ছয়জন লোক নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। ইতিমধ্যে মুশরিকরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, এদেরকে আপনার মজলিস থেকে তাড়িয়ে দিন, যেন এরা আমাদের ব্যাপারে দুঃসাহসী হতে না পারে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি, ইবনু মাসউদ, হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি, বেলাল এবং আরও দুজন ছিলেন, যাদের নাম আমি উল্লেখ করছি না। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে আল্লাহ যা ইচ্ছা করলেন তাই ঘটল। সুতরাং তিনি মনে মনে তাদেরকে তাড়ানোর কথা ভাবলেন। যার জন্য আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন, 'যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না'।

আম্বিয়ায়ে কেরামদের ও নবীদের থেকে দুর্বল গরিব মানুষদের তাড়ানো ও বহিষ্কারের এই সুপারিশ কাফের-মুশরিকদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ বিষয় ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। হযরত নুহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় তার কাছেও এই দাবি করেছিল। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়,
قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ. قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَى رَبِّي لَوْ تَشْعُرُونَ. وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُبِينٌ.
অর্থ: তারা বলল, আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেনির লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে? নুহ বলল, তারা কী করে তা জানা আমার কী প্রয়োজন? তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা জানতে। আর আমি তো মুমিনদের তাড়িয়ে দেওয়ার নই। আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী。

এ ছাড়াও আল্লাহ তাআলা তার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সতর্ক করেছেন। যখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম রাযি.-কে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করেন এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। কেননা তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন এমন সময়, যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইসলামের দাওয়াত গ্রহণের জন্য উপস্থিত হয়েছিল। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপেক্ষা করে তাদের প্রতি মনোযোগী হন। ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সতর্ক করে এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেন।

হযরত আয়েশা রাযি. থেকে তিরমিজি শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা রাযি. বলেন, 'আবাসা' সুরাটি ইবনু উম্মে মাকতুম রাযি.-এর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলতে লাগলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সত্যপথের সঠিক পথ-নির্দেশ করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কয়েকজন মুশরিক নেতা ছিল। তাই তিনি তাকে উপেক্ষা করে তাদের দিকে মনোযোগী হয়ে বলেছিলেন, আপনারা আমার বক্তব্যে কোনো সমস্যা মনে করছেন? তারা বলেছিল, না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়,
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ. وَمَنْ يَتَوَلَّ الله وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ.
অর্থ: তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনগণ, যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে বিনীত হয়ে। আর যে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী。

এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ.
অর্থ: আর অনুসরণ করো তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়。

টিকাঃ
১৫৯. সুরা কাহাফ: ২৮।
১৬০. সুরা আনআম: ৫২-৫৩।
১৬১. মুসলিম শরিফ: ২৪১৩।
১৬২. মুসলিম শরিফ: ২৪১৩; ইবনু মাজাহ: ৪১২৮।
১৬৩. সুরা শুআরা: ১১১-১১৫।
১৬৪. তিরমিজি শরিফ: ৩৩৩১।
১৬৫. সুরা মায়েদা: ৫৫-৫৬।
১৬৬. সুরা লোকমান: ১৫।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব আল্লাহর জন্য

📄 ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব আল্লাহর জন্য


হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। সে যখন ফেরেশতার কাছে পৌঁছল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছ? সে বলল, আমি ওই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেশতা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অবদান আছে, যা তুমি আরও প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার দূত হয়ে তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তারই সম্ভষ্টির জন্য ভালোবেসেছ。

অন্য এক বর্ণনায় হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার সম্মান ও আনুগত্যের কারণে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া প্রদান করব। আজ এমন দিন, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া নেই。

এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তাআলা এমন একদিন তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। তাদের এক প্রকার হলো ওই দুই ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে। তাঁর জন্যই পরস্পর মিলিত হয় এবং তাঁর জন্যেই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়。

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করবে। সেগুলোর একটি হলো, যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তাঁর বান্দাকে ভালোবাসে。

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আনাস ইবনু মালেক রাযি. থেকে অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আমি এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ে মসজিদে নববি হতে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় মসজিদের দরজায় এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলো। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কেয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কেয়ামতের জন্যে কী সম্বল সংগ্রহ করেছ? তখন লোকটি নীরব থাকল। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি তো সে জন্যে খুব বেশি নামাজ, রোজা ও দান-সদকা করিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন, তুমি তার সাথেই থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাসো। হযরত আনাস রাযি. বলেন, নবীজির এই ঘোষণা শুনে যতটা আনন্দিত হয়েছি, আমরা ইসলাম গ্রহণের পর আর কখনো এতটা আনন্দিত হইনি। তিনি বলেন, সুতরাং আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি, আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসি। আশা করি আমি পরকালে তাদের সঙ্গেই থাকব; যদিও আমি তাদের মতো আমল করতে পারি না。

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে ব্যক্তি কোনো এক সম্প্রদায়কে ভালোবাসে অথচ সে তাদের মতো আমল করতে পারে না? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে যাকে ভালোবাসে সে তার সঙ্গী হবে। অর্থাৎ, জান্নাতে সে তার সঙ্গী হবে。

মুসনাদু আহমাদে হযরত বারা ইবনু আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের সবচেয়ে মজবুত রশি হচ্ছে কাউকে আল্লাহ জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করা。

মুসনাদু আহমাদে হযরত আবু মুসলিম আল-খাওলানি রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার দামেশকের মসজিদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৃদ্ধ সাহাবাগণের একটি মজলিসে কাজল কালো চোখ ও উজ্জ্বল শুভ্র দাঁতের অধিকারী এক যুবককে দেখলাম। যখনই তাদের কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হতো, তারা এই যুবকের নিকট সে বিষয়টি ন্যস্ত করতেন। তখন আমি আমার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই যুবক কে? উত্তরে সে বলল, তিনি মুআয ইবনু জাবাল রাযি.। এরপর সন্ধ্যায় আবার আমি এলাম, কিন্তু তারা তখন কেউ ছিলেন না। পরদিন সকালে আবার এলাম; তখনও তারা কেউ ছিলেন না। হঠাৎ আমি সেই যুবককে একটি দলের মাঝে নামাজ পড়তে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। নামাজ শেষে তার কাছে গিয়ে সালাম করে বললাম, আল্লাহর জন্য আমি আপনাকে ভালোবাসি। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললেন, তুমি এ কী কথা বললে?!

আমি আবার বললাম, অবশ্যই আল্লাহর জন্য আমি আপনাকে ভালোবাসি! তখন তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, আল্লাহর জন্য মহব্বতকারীগণ আরশের ছায়ায় নুরের মিম্বরে অবস্থান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না।

তিনি বলেন, সেখান থেকে বের হয়ে উবাদাহ ইবনু সামেতের সাথে দেখা করি এবং তাকে মুআয ইবনু জাবালের হাদিস বলি। তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি; আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মহব্বতকারীদের জন্য আমার মহব্বত অবধারিত। আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খরচকারীদের জন্য আমার মহব্বত অবধারিত। আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারীদের জন্য আমার মহব্বত অবধারিত। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পর মহব্বতকারীগণ আরশের ছায়ার নিচে নুরের মিম্বরে অবস্থান করবে, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না。

তিরমিজি শরিফে হযরত মুআয ইবনু জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি; আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মহব্বতকারীদের জন্য নুরের মিম্বর রয়েছে, যাদের সাথে ঈর্ষা করবে নবী ও শহিদগণ。

টিকাঃ
১৬৭. মুসলিম শরিফ: ২৫৬৭।
১৬৮. মুসলিম শরিফ: ১৫৬৬।
১৬৯. বুখারি শরিফ: ৬৬০; মুসলিম শরিফ: ১০৩১। পূর্ণ হাদিস- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তাআলা এমন একদিন তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। এক. ন্যায়পরায়ণ শাসক। দুই. ওই যুবক, যে তার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে কাটিয়েছে। তিন. ওই ব্যক্তি, যার অন্তর সর্বদা মসজিদের দিকে ধাবিত থাকে। চার. ওই দুই ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে একে অপরকে ভালোবাসে। তাঁর জন্যই পরস্পর মিলিত হয় এবং তাঁর জন্যেই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়। পাঁচ, ওই ব্যক্তি, যাকে কোনো অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী ব্যভিচারের জন্য আহ্বান জানায়, আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ছয়. ওই ব্যক্তি, যে এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে, তা তার বাম হাত টের পায় না। সাত, যে ব্যক্তি নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখদুটো আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসায় অশ্রুপাত করে।
১৭০. বুখারি শরিফ: ১৬; মুসলিম শরিফ: ৪৩।
১৭১. বুখারি শরিফ: ৭১৫৩; মুসলিম শরিফ: ৬২৩৯।
১৭২. বুখারি শরিফ: ৬১৬৯; মুসলিম শরিফ: ২৬৪০।
১৭৩. মুসনাদু আহমদ: ৪/২৮৬।
১৭৪. মুসনাদে আহমদ: ২৩৬/৫।
১৭৫. তিরমিজি শরিফ: ২৩৯০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00