📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অনর্থক কথাবার্তার মজলিস থেকেও বেঁচে থাকবে

📄 অনর্থক কথাবার্তার মজলিস থেকেও বেঁচে থাকবে


এমনইভাবে অনর্থক কথাবার্তার মজলিস ও সভা থেকে দূরে থাকতে হবে। এ সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। এক. অনর্থক কথাবার্তা। দুই. সম্পদ নষ্ট করা। তিন. অত্যধিক সুওয়াল করা。

এ সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে。

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ.
অর্থ: তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ আছে; যে নির্দেশ দেয় সদাকা কিংবা ভালো কাজ অথবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার。

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ صَمَتَ نَجَا.
অর্থ: যে নীরব থাকল, সে মুক্তি পেল。

অন্য এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ؟
অর্থ: মানুষকে তাদের জবান-সংশ্লিষ্ট পাপ ছাড়া অন্য কিছু কি তাদের মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?

টিকাঃ
১৪৬. বুখারি শরিফ: ৭২৯২; মুসলিম শরিফ: ১৩৪১, ৫৯৩।
১৪৭. বুখারি শরিফ: ৬৪৭৫; মুসলিম শরিফ: ৪৭।
১৪৮. সুরা নিসা: ১১৪।
১৪৯. হাদিসটি হাসান পর্যায়ের। মুসনাদু আহমদ: ৩/১৫৮-১৭৭। আল-মুনতাখাব, মুসনাদু আবদ বিন হুমাইদ: ৩৪৫।
১৫০. তিরমিজি শরিফ: ২৬১৬, হাসান সহিহ, মুসনাদে হাকিম: ২৮৬/৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 রাস্তাঘাটে বসা পরিহার করবে

📄 রাস্তাঘাটে বসা পরিহার করবে


রাস্তাঘাট ও তার আশেপাশে বসা অপছন্দনীয় কাজ। একান্ত যদি কারও বসতেই হয়, তাহলে সে যেন রাস্তার হক আদায় করে। বুখারি ও মুসলিমে হযরত আবু সায়িদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আমরা ওখানে বসে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পারো, তাহলে রাস্তার হক আদায় করো। তারা নিবেদন করল, হে আল্লাহর রাসুল! রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।

হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় লেখেন, হাদিসে বর্ণিত রাস্তার হকগুলো হলো দৃষ্টি অবনত রাখা, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা। আবু তালহা থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রথম ও দ্বিতীয় হকের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে 'উত্তম কথা বলা' অংশটি বেশি এসেছে।

আর আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে ১ম ও ৩য় অংশের সাথে 'পথিককে পথ দেখানো ও হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া যখন সে রব্বানা লাকাল হামদ বলে' অংশটি বেশি এসেছে। আবু দাউদ শরিফে হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে একইভাবে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার রহ.-এর হাদিসে, 'তোমরা দুঃখী মানুষকে সহায়তা করো ও পথহারাকে পথ দেখাও' অংশটুকু অতিরিক্ত এসেছে। আর মুসনাদে বাজ্জারে এসেছে, 'পথহারাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা।'

মুসনাদু আহমাদ ও সুনানু তিরমিজিতে হযরত বারা ইবনু আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে 'তোমরা পথিককে পথ দেখাও, মজলুম ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করো এবং পরস্পরে সালাম বিনিময় করো' অতিরিক্ত আছে।

মুসনাদু বাজ্জারে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে 'তোমরা বোঝা বহনকারী পশুকে সহযোগিতা করো' অতিরিক্ত আছে।

তাবরানিতে হযরত সাহল ইবনু হানিফ রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে 'অধিক পরিমাণে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করবে' অংশটি অতিরিক্ত এসেছে। আর তবরানিতে ওহশি ইবনু হারব রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে 'নির্বোধ লোকদের সঠিক পরামর্শ দাও এবং মজলুমকে সহযোগিতা করো' অংশটুকু অতিরিক্ত এসেছে।

উপর্যুক্ত হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা মিলিয়ে সর্বমোট ১৪টি আদবের কথা উল্লেখ রয়েছে। যেগুলোকে নিম্নে কবিতা আকারে উপস্থাপন করা হলো,
جمعت آداب من رام الجلوس على ... الطريق من قول خير الخلق إنسانا أفش السلام وأحسن في الكلام ... وشمت عاطسا وسلاما رد إحسانا في الحمل عاون ومظلوما أعن وأغث .... لهفان اهد سبيلا واهد حيرانا بالعرف مر وانه عن نكر وكف أذى ... وغض طرفا وأكثر ذكر مولانا

অর্থ: যাদের পথে বসতে হয়, তাদের জন্য আমি সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে কিছু আদব একত্রিত করেছি।

কথার মাঝে মাঝে সালামের প্রচলন করো, হাঁচির উত্তর দাও আর উত্তম কথা বলো।

বোঝা বহনে সহযোগিতা করো, মজলুমকে সাহায্য করো এবং পীড়িতজনের প্রতি অনুগ্রহ করো, পথ হারানো ব্যক্তি পথ দেখিয়ে দাও, উদ্ভ্রান্তকে দিক-নির্দেশনা দাও।

সৎকাজের আদেশ করো, অসৎকাজে বাধাপ্রদান করো এবং কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করো, চোখ নিম্নগামী করে রাখো এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহ তাআলার জিকির করো।

রাস্তায় বসতে নিষেধ করার অন্যতম কারণ হলো, যুবতি নারীদের ফেতনার সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা এবং তাদের প্রতি দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার ভয়। কেননা নারীদেরকে প্রয়োজনে রাস্তাঘাটে চলাচল নিষেধ করা হয়নি। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে মানুষ আল্লাহ তাআলা ও মুসলমানদের এমন কিছু হকের সম্মুখীন হয়, যেগুলো একাকী বাড়ি থাকাকালীন অথবা কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন তার ওপর আবশ্যকীয় নয়। তা ছাড়া রাস্তা-ঘাটে অন্যায়-অপরাধ ও সৎকাজ অবহেলিত হতে দেখা যায়। তখন মুসলমান হিসেবে তার ওপর সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে বাধাপ্রদান করা আবশ্যক হয়। যদি এ থেকে সে বিরত থাকে, তাহলে গুনাহগার হবে। এমনইভাবে এতে বহু পথচারীর সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং প্রচুর লোক সালাম দেয়। ফলে সকলের সালামের উত্তর প্রদান সম্ভব হয় না; অথচ সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। এতে সে গুনাহগার হবে।

আর মানুষকে পরীক্ষায় পতিত হওয়া থেকে দূরে থাকতে এবং নিজের ওপর সাধ্যাতীত কাজ চাপিয়ে নেওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে। তাই এই নির্দেশ পালনার্থে রাস্তাঘাটে বসা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। যখন সাহাবায়ে কেরাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের রাস্তাঘাটে বসার প্রয়োজনীয়তা; যেমন পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ, দ্বীনি ও দুনিয়াবি প্রয়োজনীয় কথা-বার্তা এবং বৈধ বিনোদনমূলক আলাপচারিতা ইত্যাদি উল্লেখ করলেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উল্লেখিত অনিষ্ট ও মন্দ বিষয়গুলো দূর করে দিতে কিছু আদবের প্রতি তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। উপর্যুক্ত প্রত্যেকটি আদব ও শিষ্টাচারের নির্দেশনা অন্যান্য হাদিসেও উল্লেখ রয়েছে। হাফেজ ইবনু হাজার রহ. সবগুলো হাদিস সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন।

টিকাঃ
১৫۱. বুখারি শরিফ: ৬২২৯, ২৪৬৫; মুসলিম শরিফ: ২১২১।
১৫২. ফাতহুল বারি: ৬২২৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00