📄 এসব আড্ডা থেকে বেঁচে থাকা উচিত
এ ছাড়াও মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী, অনর্থক ও অন্যায় কাজে লিপ্ত খারাপ লোকদের আড্ডা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ.
অর্থ: আর তারা সফল, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত。
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرِضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ.
অর্থ: তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্য আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না。
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا.
অর্থ: আর যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়。
এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইবাদুর রহমান অর্থাৎ আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের সম্পর্কে বলেন,
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا.
অর্থ: আর আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারাই, যারা মিথ্যা কাজে যোগদান করে না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়。
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ লেখেন, এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যারা মুশরিকদের সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয় না, তারা আল্লাহ তাআলার প্রকৃত বান্দা।
কেননা যে সকল সভা-সমাবেশে আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কাউকে শরিক করা হয়, আল্লাহকে বাদ দিয়ে মাবুদ হিসেবে অন্য কাউকে ডাকা হয় এবং অন্য কারও ইবাদত করা হয়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য কামনা করা হয়, এমন মজলিস ও সভা-সমাবেশ বর্জন করা আবশ্যক। এমন মজলিস ও সভা-সমাবেশে উপস্থিত হওয়া বৈধ নয়। তবে কুফরির অসারতা প্রমাণের জন্য, আল্লাহ তাআলার হকের আলোচনার জন্য এবং কুফর ও শিরকের ভয়াবহতা তুলে ধরে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়া বৈধ।
কেননা সুনানে আবু দাউদ-সহ হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি বুয়ানাহ নামক জায়গায় একটি উট কুরবানি করার মানত করেছি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন? সেখানে কি জাহেলি যুগের কোনো পূজ্যমান প্রতিমা ছিল? লোকেরা বলল, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, সেখানে কি সে যুগের কোনো ঈদ তথা মেলা হতো? লোকেরা বলল, না। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তোমার মানত পালন করো। আল্লাহর নাফরমানি করে কোনো মানত পালন করা যাবে না এবং আদমসন্তানের সাধ্যের বাইরে কোনো মানত পালন করতে হয় না。
টিকাঃ
১৩৯. সুরা মুমিন: ৩।
১৪০. সুরা কাসাস: ৫৫।
১৪۱. সুরা ফুরকান: ৭২।
১৪২. সুরা ফুরকান: ৭২।
১৪৩. আবু দাউদ শরিফ: ৩৩১৪-৩৩১৫; ইবনে মাজাহ: ২১৩১।
📄 বেদাত-কুসংস্কারের মজলিস থেকেও বেঁচে থাকতে হবে
অনুরূপভাবে বেদাতি, ভণ্ড ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িকারী, ফাসেক এবং পাপাচারীদের সভা-সমাবেশ থেকেও দূরে থাকা জরুরি।
তাই যে সমস্ত মজলিসে মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে মানুষের দোষচর্চা ও নিন্দা করা হয়, ইজ্জত-সম্মান নষ্ট করা হয়, নিঃসন্দেহে এমন মজলিসে বসায় কোনো কল্যাণ নেই। কেননা তাতে এমন অনেক বিষয় দেখতে পাবে যা তোমাকে কষ্ট দেবে। অনেক এমন কথা শুনবে যা তোমাকে ব্যথিত করবে। তাই এসব থেকে দূরে থাকাই কল্যাণকর।
গান-বাদ্যকে হালাল মনে করে এমন লোকদের সাথে উঠাবসা থেকে বেঁচে থাকবে। গিবতকারী ও চোগলখোরদের মজলিস থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা এমন মজলিসে উপবেশনকারীরা মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করে এবং দুর্গন্ধযুক্ত মৃত লাশ গিলে খায়। অথচ তারা জানে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণী,
أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ.
অর্থ: তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো。
এমনইভাবে ফেতনাস্থল যেমন, নাটক, সিনেমা ও গুনাহের সমাবেশ থেকে বেঁচে থাকতে হবে, যেগুলো মন্দ এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে পরিপূর্ণ। এগুলো অন্তরে কদর্যপূর্ণ দুষ্কর্মের নিকৃষ্ট প্রভাব ফেলে এবং কান ও চোখকে কলুষিত করে。
টিকাঃ
১৪৪. সুরা হুজুরাত: ১২।
📄 ফায়দাহীন বিতর্ক থেকেও বেঁচে থাকতে হবে
এমনইভাবে ফায়দাহীন অনর্থক বিতর্কের মজলিস থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। কেননা এই সমস্ত মজলিস উপস্থিত লোকদের মূল্যবান সময়কে অনর্থক কাজকর্মে নষ্ট করে দেয়। যেমন: একদল মানুষ সামান্য বল নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠে এবং বিপক্ষ দলের সাথে এ নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে তারা ব্যথিত অন্তর ও অস্থির-উদ্বিগ্ন হৃদয়ে বের হয় এবং বিনা কারণে শত্রুতে পরিণত হয়। আর তাদেরকে এ কাজে নির্বুদ্ধিতা, জ্ঞানের স্বল্পতা এবং আত্ম-পরাজয় ও শয়তানের পদস্খলন ছাড়া আর কিছুই উদ্বুদ্ধ ও প্ররোচিত করে না।
📄 বিলাসীদের মজলিস থেকেও বেঁচে থাকতে হবে
বিলাসিতায় অভ্যস্ত প্রাচুর্যের অধিকারী ধনী লোকদের সাথে উঠাবসা থেকে বিরত থাকবে। কেননা তাদের সাথে মেলামেশার কারণে গর্ব এবং অহংকার সৃষ্টি হয়। অন্যায়-অপরাধ ও অবাধ্যতায় উদ্বুদ্ধ হয়। এটি সর্বদা মানুষকে তাদের প্রতি উৎসুক ও তাদের হাতের দিকে মনোযোগী করে তোলে। ফলে সে তার সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালনকারী ও তার রিজিকদাতা রবের শুকরিয়া আদায় করেন না।
যে ব্যক্তি মহান রাব্বুল আলামিনের আনুগত্য থেকে উদাসীন এবং যে স্থান আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে ও দূরে সরিয়ে দেয় অবশ্যই সেই ব্যক্তি ও স্থান পরিত্যাগ করা এবং তা থেকে দূরে থাকা জরুরি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِي وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُونِ. كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ.
অর্থ : হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো। জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে。
এখানে আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, পাপের মজলিসে মৃত্যু হওয়ার ভয়ে যেন পাপ কাজের স্থান ও অসৎ সঙ্গী থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুমিন বান্দার জন্য সহজ হয়ে যায়。
টিকাঃ
১৪৫. সুরা আনকাবুত: ৫৬-৫৭।