📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অসৎ সঙ্গীর পরকালবন্ধনও অন্যায়

📄 অসৎ সঙ্গীর পরকালবন্ধনও অন্যায়


খারাপ সাথি-সঙ্গীদের পক্ষে বিতর্ক করা অন্যায়। এ থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা জরুরি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا. وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا. وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا. يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا. هَا أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَنْ يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْ مَنْ يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا.
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করো সে অনুযায়ী, যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না। আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যারা নিজেদের প্রতি খেয়ানত করে তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন না তাকে, যে খেয়ানতকারী পাপী। তারা মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চায়, আর আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে চায় না। অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে, যা তিনি পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন। হ্যাঁ, তোমরাই তো তারা, যারা দুনিয়ার জীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করেছ। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে কে বিতর্ক করবে? কিংবা কে হবে তাদের তত্ত্বাবধায়ক?

দুর্বল সনদে এই আয়াতগুলো অবতীর্ণের বেশকিছু প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। আমরা সেগুলো থেকে কয়েকটি বর্ণনা করব ইনশাআল্লাহ।

ইমাম তাবারি রহ. তার তাফসিরগ্রন্থে কাতাদা ইবনু নুমান রাযি.-এর সূত্রে একটি হাদিস উদ্ধৃত করেন। হযরত কাতাদা ইবনু নুমান রাযি. বলেন, আমাদের মাঝে বিশির, বাশির ও মুবাশশির নামে আবয়াকের তিন পুত্র ছিল। এদের মধ্যে বাশির ছিল মুনাফিক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীদের ব্যঙ্গ করে কবিতা লিখে অন্য কোনো আরব্য কবির নাম উল্লেখ করে বলত, অমুকে বলেছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ এগুলো শুনে বলল, আল্লাহর শপথ! একমাত্র খবিশ প্রকৃতির মানুষই এই কবিতাগুলো বানিয়েছে। তখন একজন তাকে উদ্দেশ্য করে কবিতা বানাল,
أوكلما قال الرجال قصيدة أضموا وقالوا ابن الأبيرق قالها ؟!
অর্থ: যখনই তোমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীকে ব্যঙ্গ করে কোনো কবিতা কাউকে গাইতে শুনবে, কবিতার সব টুকরো একত্রিত করে বলে দিয়ো, এগুলো আবয়াকের মুনাফেক পুত্রই বানিয়েছে।

হযরত কাতাদা রাযি. বলেন, হিজরতের প্রাথমিক যুগে সাধারণ মুসলমানরা দারিদ্র্য ও অনাহারে দিনাতিপাত করতেন। তাদের খাদ্য ছিল যবের আটা। খেজুর কিংবা গমের আটা খুব দুর্লভ ছিল এবং মদিনায় প্রায় পাওয়াই যেত না। সিরিয়া থেকে চালান এলে কেউ কেউ মেহমানের জন্য কিংবা বিশেষ প্রয়োজনের জন্য ক্রয় করে রাখত। আমার চাচা হযরত রেফাআহ ইবনু জায়েদ কিছু গমের আটা কিনে তার পানশালায় রেখে দিয়েছিলেন। সেখানে তার কিছু অস্ত্র-শস্ত্রও ছিল। সেগুলোর মধ্যে দুটি বর্ম, দুটি তরবারি এবং আরও কিছু অস্ত্রশস্ত্র। রাতে কেউ একজন পানশালায় সিঁদ কেটে বস্তা ও অস্ত্রশস্ত্র বের করে নেয়। সকালে আমার চাচা হযরত রেফাআহ আমার নিকট এসে বললেন, হে ভাতিজা! গত রাতে কেউ আমাদের সঙ্গে শত্রুতাবশত আমাদের পানশালায় সিঁদ কেটে খাবার ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সবাই মিলে ঘরে ও বাহিরে খোঁজ করলাম। কেউ কেউ বলল, আজ রাতে আমরা বনি উবায়রাকের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেছি। মনে হয় সে খাদ্যই পাকানো হয়েছে।

বর্ণনাকারী বলেন, বনি উবায়রাক নিজেরাই এসে বলল, এটা লাবিদ ইবনু সাহলের কাজ। আমরা তো তাকে খাঁটি মুসলমান বলেই জানতাম। খবর পেয়ে লাবিদ তরবারি কোষমুক্ত করে বললেন, তোমরা আমাকে চোর বলছ? শুনে নাও, চুরির রহস্য উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এ তরবারি কোষাবদ্ধ করব না। বনি উবায়রাক লাবিদকে বলল, আল্লাহর কসম! আপনি নিশ্চিত থাকুন, আপনার নাম কেউ নেয়নি। তাই আপনাকে কেউ সন্দেহও করবে না।

আমার চাচা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা বিস্তারিত বলতে তাহলে ভালো হতো। কাতাদা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, তারা আমার চাচার অস্ত্র-শস্ত্র এবং খাবার-খাদ্য চুরি করেছে। আপনি তাদেরকে আমাদের অস্ত্রগুলো ফিরিয়ে দিতে বলুন। খাদ্যের প্রয়োজন আমাদের নেই। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জন্য তাদের অপেক্ষা করতে বললেন।

বনি উবায়রাক এই সংবাদ পেয়ে তাদের বংশীয় এক লোক উসাইর ইবনু উরওয়ার বাড়িতে সবাই একত্রিত হলো। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সবাই এসে অভিযোগ করল যে, কাতাদা ইবনু নুমান এবং তার চাচা আমাদের বিরুদ্ধে শরিয়তসম্মত প্রমাণ ছাড়াই চুরির অপবাদ আরোপ করেছে।

কাতাদা বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, তুমি বিনা প্রমাণে একটি মুসলমান পরিবারকে চুরির জন্য দোষারোপ করছ। এতে হযরত কাতাদা খুবই দুঃখিত হলেন এবং আফসোস করে বললেন, আমার সম্পদ গেলেও এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোনো কিছু না বলাই ভালো ছিল। অতঃপর আমি আমার চাচা রেফাআর নিকট এলে তিনি বললেন, তুমি কী করেছ? জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য শোনালাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ সহায়!

সেই দিন অতিবাহিত হতে না হতেই এ ব্যাপারে কুরআন পাকের একটি পূর্ণ রুকু অবতীর্ণ হয়,
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا. وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا. وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا. يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا. هَا أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَنْ يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْ مَنْ يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا. وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا. وَمَنْ يَكْسِبُ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا. وَمَنْ يَكْسِبُ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا. وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ أَنْ يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا. لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করো সে অনুযায়ী, যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না। আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আর যারা নিজেদের প্রতি খেয়ানত করে তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন না তাকে, যে খেয়ানতকারী পাপী। তারা মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চায়, আর আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে চায় না। অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে, যা তিনি পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন। হ্যাঁ, তোমরাই তো তারা, যারা দুনিয়ার জীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করেছ। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে কে বিতর্ক করবে? কিংবা কে হবে তাদের তত্ত্বাবধায়ক? আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে পাপ কামাই করবে, বস্তুত, সে তো নিজের বিরুদ্ধেই তা কামাই করবে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আর যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ বা পাপ অর্জন করে, অতঃপর কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর তা আরোপ করে, তাহলে সে তো মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য গুনাহের বোঝা বহন করল। আর তোমার ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না হতো, তাহলে তাদের মধ্য থেকে একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। আর তারা নিজেদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তারা তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাজিল করেছেন কিতাব ও হেকমত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান। তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় সদাকা কিংবা ভালো কাজ অথবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার। আর যে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করবে, অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব。

সুতরাং যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো, তখন বনি উবায়রাক বাধ্য হয়ে অস্ত্রশস্ত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসে। তখন তিনি রেফাআহকে তা ফিরিয়ে দিলেন।

হযরত কাতাদা রাযি. বলেন, আমি যখন চাচার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার কাছে এলাম, তখন তিনি সেগুলো জিহাদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন। আমার চাচা রেফাআহ জাহেলি যুগেই বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। আমি তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে জানতাম। এ ঘটনার পর তার ইসলাম আল্লাহর নিকট গৃহীত হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস আমার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেল। এদিকে বনি উবায়রাকের চুরি ফাঁস হয়ে গেলে বাশির ইবনু উবায়রিক মদিনা থেকে পলায়ন করে মক্কার কাফেরদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে সাদ ইবনু শুহাইদের কন্যার ঘরে আশ্রয় নেয়। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ করেন,
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا. إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا.
অর্থ : যে কেউ রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করবে, তার নিকট সরল পথ প্রকাশ পাওয়ার পরও এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা খুবই মন্দ। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরিক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে সে তো ঘোর পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো。

এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে হযরত হাসসান রাযি. তাকে নিয়ে কবিতা রচনা করলে সালাফার মেয়ে বাশিরের জিনিসপত্র মাথায় করে ইবতা নামক স্থানে রেখে আসে। আর তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে, তোমার কারণে আমাকে নিয়ে হাসসান কবিতা লিখেছে, আল্লাহর শপথ আমার কাছে তুমি অকল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নিয়ে আসোনি。

টিকাঃ
১২৬. সুরা নিসা: ১০৫-১০৯।
১২৭. তাফসিরে তাবারি: ১০/৪১৬।
১২৮. সুরা নিসা: ১০৫-১১৪।
১২৯. সুরা নিসা: ১১৫-১১৬।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সৎ সঙ্গী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না

📄 সৎ সঙ্গী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না


সৎ সঙ্গী থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নেয় শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করে এবং তাকে ও তার মজলিসকে শয়তান ঘিরে নেয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ أَنَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَى أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا الله كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ لَهُ أَصْحَابُ يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى ائْتِنَا قُلْ إِنَّ هُدَى اللهِ هُوَ الْهُدَى وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ.
অর্থ : আপনি বলে দিন আমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুকে আহ্বান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। আর আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ওই ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তানরা বনভূমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে, আর সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছে, এসো, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিন, নিশ্চয়ই আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই。

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُهُمْ أَزَّا.
অর্থ : আপনি কি লক্ষ করেননি যে, আমি কাফেরদের ওপর শয়তানদের ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে মন্দ কর্মে উৎসাহিত করে。

অর্থাৎ শয়তান তাদেরকে গুনাহ ও অপরাধে বাধ্য করে এবং সেদিকে তাদের সে টেনে নিয়ে যায়。

টিকাঃ
১৩০. সুরা আনআম: ৭১।
১৩১. সুরা মারয়াম: ৮৩।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 কেয়ামতের দিন অসৎ সঙ্গীদের শত্রুতা প্রমাণিত হবে

📄 কেয়ামতের দিন অসৎ সঙ্গীদের শত্রুতা প্রমাণিত হবে


অসৎ সঙ্গী ও মন্দ লোকদের পারস্পরিক শত্রুতা কেয়ামতের দিন প্রমাণিত হবে; যেদিন সাক্ষীদের উত্থান হবে। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেন,
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ .
অর্থ : বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়。

পবিত্র কুরআনে আরও ইরশাদ হয়,
وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا. رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا.
অর্থ : তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন。

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنَ النَّارِ. قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ.
অর্থ : যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দুর্বলরা অহংকারীদের বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত্ত করবে কি? অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন。

টিকাঃ
১৩২. সুরা যুখরুফ: ৬৭।
১৩৩. সুরা আহযাব: ৬৭-৬৮।
১৩৪. সুরা গাফের: ৪৭-৪৮।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অসৎ সঙ্গী কেয়ামতের দিন পলায়ন করবে

📄 অসৎ সঙ্গী কেয়ামতের দিন পলায়ন করবে


আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ. وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ. قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ. تَاللهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ. إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ. وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ. فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ. وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ.
অর্থ: অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে এবং ইবলিস বাহিনীর সকলকে। তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম। যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য গণ্য করতাম। আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল। অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই এবং কোনো সুহৃদ বন্ধুও নেই。

অসৎ সঙ্গীরা কেয়ামতের দিন তার সঙ্গী থেকে পলায়ন করবে। সেদিন কাফেররা বলবে,
فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ. وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ.
অর্থ: অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই এবং কোনো সুহৃদ বন্ধুও নেই。

এতৎসত্ত্বেও কেয়ামতের দিন কাফেররা তাদের বন্ধুদের দেখতে পাবে। তবে তারা তাদের কোনো সাহায্য করার ক্ষমতা রাখবে না। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا. يُبَصَّرُونَهُمْ.
অর্থ: বন্ধু বন্ধুর খবর নেবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে。

অর্থাৎ কেয়ামতের দিন বন্ধু তার বন্ধুকে দেখতে পাবে এবং সে তাকে চিনবে। তবে কোনো কিছু সে জিজ্ঞাসা করতে পারবে না। কেননা কোনো সাহায্য চাইলে এর কী জবাব দেবে, তা পূর্ব থেকেই জানা থাকবে。

টিকাঃ
১৩৫. সুরা শুআরা: ৯৪-১০১।
১৩৬. সুরা শুআরা: ১০০-১০১।
১৩৭. সুরা মাআরিজ: ১০-১১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00