📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অসৎ সঙ্গ নিজের প্রতি অপবাদ আরোপে প্ররোচনা দেয়

📄 অসৎ সঙ্গ নিজের প্রতি অপবাদ আরোপে প্ররোচনা দেয়


সন্দেহবাদী, মন্দ ও ফেতনাবাজ লোকদের সাথে উঠাবসাকারী ব্যক্তি তার প্রতি অন্যকে অপবাদ আরোপে প্ররোচিত করে এবং মানুষের মনে তার নিজের সম্পর্কে সন্দেহ জাগায়।

বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসারি সাহাবি হযরত ইতবান ইবনু মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি নবীজির নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তিতে কমতি অনুভব করছি। এ ছাড়া আমার ও আমার গোত্রের মধ্যকার উপত্যকাটি বৃষ্টি হলে প্লাবিত হয়ে যায়। তখন তা পার হওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়। তাই আমার একান্ত আশা যে, আপনি এসে আমার ঘরের এক স্থানে নামাজ আদায় করবেন। আমি সে স্থানটি নামাজের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করে নেব।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাই করব। সুতরাং পরের দিন সূর্যের তাপ যখন প্রবল হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রাযি. আমার বাড়িতে এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার নামাজ পড়া তুমি পছন্দ করো? আমি যে স্থানে তাঁর নামাজ পড়া পছন্দ করেছিলাম, সেই স্থানের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলাম।

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবির বললেন। আমরা সারিবদ্ধভাবে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দু- রাকাত নামাজ পড়ে সালাম ফেরালেন। তাঁর সালাম ফেরানোর সময় আমরাও সালাম ফেরালাম। তারপর তাঁর জন্য যে 'খাযির' প্রস্তুত করা হচ্ছিল, তা খাওয়ার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করালাম। ইতিমধ্যে মহল্লার লোকেরা শুনল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাড়িতে। সুতরাং তাদের কিছু লোক এসে জমায়েত হলো। এমনকি বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম হলো। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালেক ইবনু দুখশুন কোথায়? একজন জবাব দিলো, সে মুনাফিক! আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কথা বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে? সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই অধিক জানেন। তবে আল্লাহর কসম! আমরা তাকে মুনাফিকদের সাথেই ভালোবাসা ও আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত দেখতে পাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে。

টিকাঃ
১১৭. চর্বি ও আটা দিয়ে প্রস্তুত এক প্রকার খাবার।
১১৮. বুখারি শরিফ: ১১৮৬, মুসলিম শরিফ: ১৫২৮।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 সন্দেহ-সংশয় দূর করাই আমাদের আদর্শ

📄 সন্দেহ-সংশয় দূর করাই আমাদের আদর্শ


আমরা নিজেদের থেকে সন্দেহ ও সংশয় দূরে রাখার প্রতি আদিষ্ট হয়েছি। কিন্তু যে ব্যক্তি অসৎ ও মন্দ লোকদের সাথে উঠাবসা করে, সে নিজেকে সন্দেহ থেকে দূরে রাখে না।

বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে হযরত সাফিয়‍্যাহ বিনতু হুয়াই রাযি. হতে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাত্রিকালে সাফিয়্যাহ রাযি. ইতেকাফরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে দেখা করার জন্য এলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর তিনি বাসায় ফিরতে গেলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পৌঁছে দিতে তার সাথে বের হলেন। পথে আনসারদের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা হলে তারা দ্রুত চলতে লাগল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওহে! কে তোমরা? শোনো। আমার সাথের এ মহিলা হলো আমারই স্ত্রী সাফিয়‍্যাহ বিনতে হুয়াই। তারা বলল, আল্লাহর পানাহ! সুবহানাল্লাহ! আপনার ব্যাপারেও কি আমরা কোনো সন্দেহ করতে পারি? মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বলছি না যে, তোমরা কোনো কু-ধারণা করে বসবে। কিন্তু আমি জানি যে, শয়তান আদমসন্তানের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়। আমার ভয় হয় যে, সে তোমাদের মনে কোনো কু-ধারণা সৃষ্টি করবে。

মুসলিম শরিফে হযরত আনাস ইবনু মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের কোনো একজনের সাথে ছিলেন। সে সময় তাঁর নিকট দিয়ে এক লোক যাচ্ছিল। তিনি তাকে ডাকলেন। সে কাছে এলে তিনি বললেন, ওহে! এটা আমার অমুক স্ত্রী। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! অপর কারও সম্বন্ধে আমি মন্দ ধারণা করলেও হয়তো করতাম, কিন্তু আপনার সম্বন্ধে তো মন্দ ধারণা করতাম না। সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় চলাফেরা করে থাকে。

টিকাঃ
১১৯. বুখারি শরিফ: ৩২৮১, মুসলিম শরিফ: ২১৭৫।
১২০. মুসলিম শরিফ: ২১৭৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অসৎ সঙ্গীরা সামনে এক রকম পেছনে অন্য রকম

📄 অসৎ সঙ্গীরা সামনে এক রকম পেছনে অন্য রকম


অসৎ সঙ্গীরা তোমার সামনে থাকবে একরকম, আর তোমার পেছনে থাকবে অন্য রকম। তোমরা সম্মুখে প্রশংসা করবে, আর পেছনে নিন্দা করে বেড়াবে।

বুখারি এবং মুসলিম শরিফে আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে দুই রূপধারী মানুষকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাবে। এক দলের নিকট আসে এক রূপ নিয়ে, আর অন্য দলের কাছে যায় ভিন্ন রূপ নিয়ে।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ.
অর্থ : আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা একান্তে মিলিত হয়, তোমাদের ওপর রাগে আঙুল কামড়ায়。

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ.
অর্থ : আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো মুসলমানদের সাথে উপহাস করি মাত্র。

অসৎ বন্ধু আপনার অগোচরে আপনার পরিবারের মাঝে বিভিন্ন অনিষ্ট ও খারাপ বিষয়ের প্রবেশ ঘটাবে。

টিকাঃ
১২১. বুখারি শরিফ: ৩৪৯৩; মুসলিম শরিফ: ২৫২৬।
১২২. সুরা আলে ইমরান: ১১৯।
১২৩. সুরা বাকারা: ১৪।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 অসৎ বন্ধুরা তাদের অনুসরণ করতে বাধ্য করে

📄 অসৎ বন্ধুরা তাদের অনুসরণ করতে বাধ্য করে


অসৎ বন্ধুদের সাহচর্য তাদের অনুকরণ, অনুসরণে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে তাদের স্বভাব-চরিত্র ও আকিদা-বিশ্বাস নিজের মধ্যে ধারণ করতে শুরু করে। ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. তার 'ইকতিজাউস সিরাতুল মুস্তাকিম' কিতাবে লিখেছেন, বাহ্যিক চাল-চলন অনুসরণের কারণে দুই ব্যক্তির মাঝে পারস্পরিক সাদৃশ্যতা ও সামঞ্জস্যতা তৈরি করে। এটি একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়। কেননা জ্ঞানীগুণীদের পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধানকারী তার ভেতর জ্ঞানীগুণীদের মতো শক্তি খুঁজে পায়। তেমনই উদাহরণস্বরূপ সৈনিকদের পোশাক পরিধানকারী ভেতরে ভেতরে তাদের স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী হয় এবং তাদের অনুরূপ কাজের প্রতি ধাবিত হয়। তবে কোনো এক অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা তাকে বিরত থাকতে বাধ্য করে ও তাকে এ কাজে বাধা দেয়।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রহ. আরও বলেন, এটা এ জন্য যে, আল্লাহ তাআলা মানুষসহ সমস্ত সৃষ্টিজগৎকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তারা সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি জিনিস পরস্পরে প্রভাবান্বিত হয়। তাই পারস্পরিক সাদৃশ্যতা যখন অনেক বেশি হয়, তখন তাদের মাঝে পারস্পরিক আচরণ ও চরিত্রগত প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গতা থাকে। এমনকি এক পর্যায়ে তাদের একজনকে অন্যজন থেকে চোখে দেখা ছাড়া পার্থক্য করা সম্ভব হয় না।

আর যেহেতু মানুষের পরস্পরে জাতিগত ঐক্য রয়েছে, তাই তাদের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বেশি হয়ে থাকে। আর মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের মাঝে সত্তাগত এবং জাতিগত মধ্যম পর্যায়ের অংশীদারত্ব ও সাদৃশ্যতা থাকায় তাদের মধ্যে সে অনুপাতে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ ছাড়া মানুষ ও অন্যান্য উদ্ভিদের মাঝে জাতিগত ও সত্তাগত দূরতম সম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া তেমনটাই হয়ে থাকে।

এই মূলনীতির ভিত্তিতে মানুষদের মাঝে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া হয়। আচার-ব্যবহার ও আকৃতিগত সাদৃশ্যতা একজন অন্যজন থেকে লাভ করে। এ জন্যই মানুষ যখন কোনো জন্তু বা প্রাণীর সাথে বসবাস করে, তখন সে তার কিছু স্বভাব এবং চরিত্র পায়। আর তাই উট এবং ঘোড়া পালনকারীরা অহংকারী হয়ে থাকে। ভেড়া পালনকারীরা শান্তশিষ্ট হয়। উট, খচ্চর ও কুকুর পালনকারীদের মধ্যে উট, খচ্চর ও কুকুরের খারাপ অনেক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব-চরিত্র দেখা যায়। অনেক গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে মানুষদের স্বভাব- চরিত্র থেকে সামাজিকতা, সহানুভূতি ও মানুষের কাছাকাছি থাকার স্বভাব দেখা যায়।

বাহ্যিক সাদৃশ্যতা ও সামঞ্জস্যতা গোপনভাবে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ সাদৃশ্যতা এবং সামঞ্জস্যতাকে আবশ্যক করে। আর তাই মুসলমানদের সাথে বসবাসরত ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় কুফরি কাজকর্ম কম দেখা যায়। অনুরূপ ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের সাথে বসবাসরত মুসলমানদেরকে অন্যান্য মুসলমানদের তুলনায় ইসলাম পালনে দুর্বল ও কমজোর দেখা যায়। বাহ্যত আচার-ব্যবহার অনুসরণের কারণে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সৌহার্দ্যতা তৈরি হয়। যদিও তাদের মাঝে স্থান এবং সময়ের দূরত্ব থাকে। এটিও একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়। সুতরাং তাদের আনন্দ উৎসবগুলোতে তাদের অনুসরণ ও তাদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ সামান্য পরিমাণে হলেও তাদের অভিশপ্ত স্বভাব-চরিত্র গ্রহণের একটি কারণ এবং এটি সূক্ষ্ম ও গোপন অনিষ্টতার একটি ক্ষেত্র। তাই শরিয়ত এর সাথে হুকুমকে সংযুক্ত করেছে এবং এ ভিত্তিতে শরিয়ত তাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। কেননা বাহ্যিকভাবে তাদের অনুসরণ ও অনুকরণ তাদের নিন্দনীয় কাজকর্ম এবং স্বভাব-চরিত্রের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যতা রাখার একটি কারণ। শুধু তাই নয়, বরং আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও এসব কারণে তাদের অনুসরণ করা হয়। তবে এসবের প্রভাব প্রকাশ্য ও সুনির্ধারিত হয় না। প্রকৃত সমস্যা ও অনিষ্টতা তাদের অনুসরণ-অনুকরণ এবং সাদৃশ্যতার কারণে হয়ে থাকে। যা প্রকাশ পায় না এবং সুনির্ধারিত হয় না। আর তাদের সাদৃশ্যতার কারণে সৃষ্ট এই সমস্যা ও অনিষ্টতা দূর করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়। আবার কখনো অসম্ভব হয়ে যায়, সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি সমস্যার কারণ বোঝা সত্ত্বেও। এ জন্যই প্রত্যেক এমন সমস্যা ও অনিষ্টের কারণগুলোকেও শরিয়ত হারাম করেছে। এটাই এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্ধারিত মূলনীতি।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রহ. আরও বলেন, বাহ্যিক অনুসরণের কারণে মানুষের ভেতরে ভেতরে ভালোবাসা, মহব্বত এবং সহানুভূতি জন্ম নেয়। যেমন: কারও প্রতি ভেতরে ভালোবাসা থাকার কারণে বাহ্যিকভাবে তাকে অনুসরণের আগ্রহ তৈরি হয়। আর বাস্তবিক অর্থেই এটি একটি পরীক্ষিত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়। এমনকি কোনো এক শহরের দু-জন ব্যক্তি যখন দূরের কোনো এক অপরিচিত জায়গায় একত্রিত হয়, তখন তাদের মাঝে ভালোবাসা এবং সম্পর্ক অনেক বেশি থাকে। যদিও এলাকায় থাকাকালীন তারা পরস্পরকে চিনত না, বা জানত না। কিংবা তারা সেখানে একে অন্য থেকে পৃথক পৃথক থাকত। এটা এ জন্য যে, একই শহরের অধিবাসী দুজন হওয়ার কারণে বিশেষ এক সম্পর্ক দূরবর্তী এই শহরে তাদেরকে বিশেষায়িত করে দিয়েছে। বরং এমনকি সফরে কিংবা দূরবর্তী কোনো শহরে দুজন ব্যক্তি যদি একত্রিত হয়, আর তাদের মাঝে পাগড়ি, পোশাক-আশাক, চুলের স্টাইল ইত্যাদি দিক থেকে সাদৃশ্যতা থাকে, তাহলে এটা তাদের মাঝে অন্যদের তুলনায় পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব তৈরি করে। যেমনটা দুনিয়ার পেশাদার শ্রেণির মাঝে হয়। তাদের একে অপরের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ থাকে। অন্যদের সাথে যেমনটা থাকে না। এমনকি কখনো এটি রাজত্ব কিংবা ধর্মের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও যুদ্ধের কারণ হয়। রাজা-বাদশাদের ন্যায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মাঝেও এমনটা দেখা যায়। যদিও তাদের মাঝে দূরত্ব অনেক বেশি থাকে এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের হয়, তবুও তাদের মাঝে এমন একটি সম্পর্ক থাকে, যাতে তারা পরস্পর এক ও অমিল হয়ে থাকে। একে অপরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হয়। এ সবকিছুই তবিয়ত ও স্বভাবজাত বিষয়। তবে যদি এ ক্ষেত্রে ধর্ম অথবা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সে কথা ভিন্ন।

টিকাঃ
১২৪. ইকতেজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম: ৪৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00