📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ 📄 অসৎ সঙ্গী সত্যকে সন্দেহযুক্ত করে উপস্থাপন করে

📄 অসৎ সঙ্গী সত্যকে সন্দেহযুক্ত করে উপস্থাপন করে


لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ.
অর্থ: যদি তোমাদের সাথে তারা বের হতো, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করত না, আর অশ্ব ছুটাত তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুত আল্লাহ জালেমদের ভালোভাবেই জানেন。

অনুরূপভাবে অসৎ সঙ্গীরা সত্য ও সঠিক বিষয়ে সন্দেহ এবং সংশয়ে ফেলার চেষ্টা করবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَقَالَت طَائِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ.
অর্থ: আর আহলে-কিতাবদের একদল বলল, মুসলমানদের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর দিনের শেষভাগে অস্বীকার করো, হয়তো তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে。

অসৎ সঙ্গী মূলত অভিশপ্ত শয়তানের অনুসারী। আর শয়তান আদম সন্তানের কল্যাণের সকল পথে ওত পেতে বসে থাকে এবং তাকে সেখান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে ও তাকে বাধা দেয়।

হাদিস শরিফে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলে, তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দ্বীন ও তোমার বাপ-দাদার দ্বীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দ্বীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলে, তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলে, তুমি কি জিহাদ করবে? এ তো নিজেকে এবং নিজের ধন-সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন। আর যে ব্যক্তি শহিদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারি তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত。

অবশ্যই শয়তান তার রবকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল,
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ.
অর্থ: সে বলল, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব। তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না。

পবিত্র কুরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে,
وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ.
অর্থ: আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্ররোচনা দেয়, যাতে তারা তোমাদের সাথে বিবাদ করে। আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক。

এ জন্যই কল্যাণের যত পথ রয়েছে অসৎ মানুষ এবং জিন শয়তান তাতে ওত পেতে বসে থাকে। মানুষদেরকে কল্যাণ থেকে দূরে রাখে ও বাধা দেয়। এ কারণেই আল্লাহর নবী হযরত শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,
وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا.
অর্থ: আর যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখাতে, আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না।

এ জন্যই কোনো মানুষ যখন দ্বীনের পথে অটল-অবিচল থাকার জন্য অগ্রসর হয়, সেখানে সে তার অসৎ সঙ্গীদেরকে পায়; যারা তাকে এ পথের কষ্ট, দুঃখ ও বিপদ-আপদের ভয় দেখিয়ে তার কাছে বিষয়টি কঠিন করে তোলে। কেউ যখন দান-খয়রাত করার ইচ্ছা করে তার অসৎ সঙ্গী তাকে বিরত রাখে এবং সম্পদ জমা করতে উদ্বুদ্ধ করে। যখন কেউ হজের ইচ্ছা করে অসৎ সঙ্গীরা তাকে চেপে ধরে এবং নিরুৎসাহিত করে সময়ক্ষেপণ করে। এভাবেই শয়তানের অনুসারী অসৎ সঙ্গীরা সর্বদাই মানুষদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে বাধা দেয় এবং বিরত রাখে。

টিকাঃ
৮৫. সুরা তাওবা: ৪৭।
৮৬. সুরা আলে ইমরান: ৭২।
৮۷. নাসায়ি শরিফ: ৬/২১-২২; মুসনাদু আহমদ: ৩/৪৮৩।
৮৮. সুরা আরাফ: ১৬-১৭।
৮৯. সুরা আনআম: ১২১।
৯০. সুরা আরাফ: ৮৬।

لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ.
অর্থ: যদি তোমাদের সাথে তারা বের হতো, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করত না, আর অশ্ব ছুটাত তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুত আল্লাহ জালেমদের ভালোভাবেই জানেন。

অনুরূপভাবে অসৎ সঙ্গীরা সত্য ও সঠিক বিষয়ে সন্দেহ এবং সংশয়ে ফেলার চেষ্টা করবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَقَالَت طَائِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ.
অর্থ: আর আহলে-কিতাবদের একদল বলল, মুসলমানদের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর দিনের শেষভাগে অস্বীকার করো, হয়তো তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে。

অসৎ সঙ্গী মূলত অভিশপ্ত শয়তানের অনুসারী। আর শয়তান আদম সন্তানের কল্যাণের সকল পথে ওত পেতে বসে থাকে এবং তাকে সেখান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে ও তাকে বাধা দেয়।

হাদিস শরিফে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলে, তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দ্বীন ও তোমার বাপ-দাদার দ্বীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দ্বীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলে, তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলে, তুমি কি জিহাদ করবে? এ তো নিজেকে এবং নিজের ধন-সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন। আর যে ব্যক্তি শহিদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারি তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর অবধারিত。

অবশ্যই শয়তান তার রবকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল,
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ.
অর্থ: সে বলল, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব। তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না。

পবিত্র কুরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে,
وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ.
অর্থ: আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্ররোচনা দেয়, যাতে তারা তোমাদের সাথে বিবাদ করে। আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক。

এ জন্যই কল্যাণের যত পথ রয়েছে অসৎ মানুষ এবং জিন শয়তান তাতে ওত পেতে বসে থাকে। মানুষদেরকে কল্যাণ থেকে দূরে রাখে ও বাধা দেয়। এ কারণেই আল্লাহর নবী হযরত শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,
وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا.
অর্থ: আর যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখাতে, আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না।

এ জন্যই কোনো মানুষ যখন দ্বীনের পথে অটল-অবিচল থাকার জন্য অগ্রসর হয়, সেখানে সে তার অসৎ সঙ্গীদেরকে পায়; যারা তাকে এ পথের কষ্ট, দুঃখ ও বিপদ-আপদের ভয় দেখিয়ে তার কাছে বিষয়টি কঠিন করে তোলে। কেউ যখন দান-খয়রাত করার ইচ্ছা করে তার অসৎ সঙ্গী তাকে বিরত রাখে এবং সম্পদ জমা করতে উদ্বুদ্ধ করে। যখন কেউ হজের ইচ্ছা করে অসৎ সঙ্গীরা তাকে চেপে ধরে এবং নিরুৎসাহিত করে সময়ক্ষেপণ করে। এভাবেই শয়তানের অনুসারী অসৎ সঙ্গীরা সর্বদাই মানুষদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে বাধা দেয় এবং বিরত রাখে。

টিকাঃ
৮৫. সুরা তাওবা: ৪৭।
৮৬. সুরা আলে ইমরান: ৭২।
৮۷. নাসায়ি শরিফ: ৬/২১-২২; মুসনাদু আহমদ: ৩/৪৮৩।
৮৮. সুরা আরাফ: ১৬-১৭।
৮৯. সুরা আনআম: ১২১।
৯০. সুরা আরাফ: ৮৬।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ 📄 অসৎ সঙ্গীদের থেকে বেঁচে থাকো

📄 অসৎ সঙ্গীদের থেকে বেঁচে থাকো


অসৎ সঙ্গী হলো জাহান্নামের দরজাসমূহে দাঁড়িয়ে তার দিকে আহ্বানকারী। সুতরাং যে অসৎ সঙ্গীর আহ্বানে সাড়া দেবে, সে তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে। বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. বলেন, লোকেরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ-বিষয়ক প্রশ্ন করত, আর আমি অকল্যাণে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় অনিষ্ট ও অমঙ্গল সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা মূর্খতা ও অকল্যাণে ডুবে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে এই কল্যাণ দান করলেন। কিন্তু এই কল্যাণের পর আবারও অকল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, অতঃপর ওই অকল্যাণের পর আবারও কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আর তা হবে ধোঁয়াটে। আমি বললাম, তার মধ্যে ধোঁয়াটা কী? তিনি বললেন, এমন এক সম্প্রদায় আসবে, যারা আমার প্রদর্শিত পথ ছাড়া অন্যের অনুসরণ করবে এবং আমার নির্দেশিত পথ ছাড়া ভিন্ন পথে মানুষকে পরিচালিত করবে। যাদের কিছু কাজ ভালো হবে এবং কিছু কাজ অন্যায় হবে। আমি বললাম, এর পরও কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা হলো জাহান্নামের দরজাসমূহে দণ্ডায়মান আহ্বানকারীরা। যে ব্যক্তি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তাকে তার মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের পরিচয় বলে দিন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই স্বজাতি হবে এবং আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, যদি আমি সে সময় পাই, তাহলে আমার ব্যাপারে আপনার কী উপদেশ? তিনি বললেন, মুসলিমদের জামাত ও ইমামের পক্ষাবলম্বন করবে। আমি বললাম, কিন্তু যদি মুসলিমদের জামাত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, ওই সমস্ত দল থেকে দূরে থাকবে; যদিও তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে থাকতে হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার ওই অবস্থাতেই মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়েছে。

টিকাঃ
৯১. ধোঁয়া দ্বারা এখানে সর্বদা পাপ-পঙ্কিলতায় জর্জরিত অন্তর উদ্দেশ্য-ইমাম নববি।
৯২. গোমরাহি ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারী শাসকবর্গ এবং দরবারি আলেম এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
৯৩. বুখারি শরিফ: ৩৬০৬; মুসলিম শরিফ: ১৮৪৭।

অসৎ সঙ্গী হলো জাহান্নামের দরজাসমূহে দাঁড়িয়ে তার দিকে আহ্বানকারী। সুতরাং যে অসৎ সঙ্গীর আহ্বানে সাড়া দেবে, সে তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে। বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. বলেন, লোকেরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ-বিষয়ক প্রশ্ন করত, আর আমি অকল্যাণে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় অনিষ্ট ও অমঙ্গল সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা মূর্খতা ও অকল্যাণে ডুবে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে এই কল্যাণ দান করলেন। কিন্তু এই কল্যাণের পর আবারও অকল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, অতঃপর ওই অকল্যাণের পর আবারও কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আর তা হবে ধোঁয়াটে। আমি বললাম, তার মধ্যে ধোঁয়াটা কী? তিনি বললেন, এমন এক সম্প্রদায় আসবে, যারা আমার প্রদর্শিত পথ ছাড়া অন্যের অনুসরণ করবে এবং আমার নির্দেশিত পথ ছাড়া ভিন্ন পথে মানুষকে পরিচালিত করবে। যাদের কিছু কাজ ভালো হবে এবং কিছু কাজ অন্যায় হবে। আমি বললাম, এর পরও কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা হলো জাহান্নামের দরজাসমূহে দণ্ডায়মান আহ্বানকারীরা। যে ব্যক্তি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তাকে তার মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের পরিচয় বলে দিন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই স্বজাতি হবে এবং আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, যদি আমি সে সময় পাই, তাহলে আমার ব্যাপারে আপনার কী উপদেশ? তিনি বললেন, মুসলিমদের জামাত ও ইমামের পক্ষাবলম্বন করবে। আমি বললাম, কিন্তু যদি মুসলিমদের জামাত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, ওই সমস্ত দল থেকে দূরে থাকবে; যদিও তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে থাকতে হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার ওই অবস্থাতেই মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়েছে。

টিকাঃ
৯১. ধোঁয়া দ্বারা এখানে সর্বদা পাপ-পঙ্কিলতায় জর্জরিত অন্তর উদ্দেশ্য-ইমাম নববি।
৯২. গোমরাহি ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারী শাসকবর্গ এবং দরবারি আলেম এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
৯৩. বুখারি শরিফ: ৩৬০৬; মুসলিম শরিফ: ১৮৪৭।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ 📄 যখন সহযোগিতার প্রয়োজন তখন অসৎ সঙ্গীরা অপদস্থ করে

📄 যখন সহযোগিতার প্রয়োজন তখন অসৎ সঙ্গীরা অপদস্থ করে


অসৎ সঙ্গীরা তাদের বন্ধুদেরকে নিজ দেশ থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বিতরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তাদেরকে সেই বিপদের মুহূর্তে সাহায্য- সহযোগিতার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَتَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا تُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا وَإِن قُوتِلْتُمْ لَتَنصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ. لَئِنْ أُخْرِجُوا لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِن قُوتِلُوا لَا يَنصُرُونَهُمْ وَلَئِن نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُنَّ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ.
অর্থ: আপনি কি মুনাফিকদের দেখেননি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদের বলে, তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করব। আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। যদি তারা বহিষ্কৃত হয়, তাহলে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না, আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তাহলে তারা তাদের সাহায্য করবে না। যদি তাদের সাহায্য করে, তাহলে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোনো সাহায্য পাবে না。

টিকাঃ
৯৪. সুরা হাশর: ১১-১২।

অসৎ সঙ্গীরা তাদের বন্ধুদেরকে নিজ দেশ থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বিতরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তাদেরকে সেই বিপদের মুহূর্তে সাহায্য- সহযোগিতার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَتَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا تُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا وَإِن قُوتِلْتُمْ لَتَنصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ. لَئِنْ أُخْرِجُوا لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِن قُوتِلُوا لَا يَنصُرُونَهُمْ وَلَئِن نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُنَّ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ.
অর্থ: আপনি কি মুনাফিকদের দেখেননি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদের বলে, তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করব। আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। যদি তারা বহিষ্কৃত হয়, তাহলে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না, আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তাহলে তারা তাদের সাহায্য করবে না। যদি তাদের সাহায্য করে, তাহলে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোনো সাহায্য পাবে না。

টিকাঃ
৯৪. সুরা হাশর: ১১-১২।

📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ 📄 আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের ঘটনা

📄 আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের ঘটনা


মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনে সালুল ওহুদ যুদ্ধে যাত্রাপথ থেকে বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি সঙ্গী নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সঙ্গ দেওয়া থেকে সরে আসে।

বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত যায়েদ ইবনু সাবিত রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, ওহুদের উদ্দেশে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলে যারা তাঁর সঙ্গে বের হয়েছিল তাদের কিছুসংখ্যক লোক ফিরে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ তাদের ব্যাপারে দু-দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল বললেন, আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। অপরদল বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না। এ সময় অবতীর্ণ হয়,
فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوا.
অর্থ: তোমাদের কী হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু-দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের কৃতকর্মের দরুন।

এরপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা পবিত্র স্থান। আগুন যেমন রুপার ময়লা দূরে করে, তেমনই মদিনাও গুনাহকে দূর করে দেয়।

হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারিতে লেখেন, একজন লোক তার সাথি-সঙ্গীসহ ফিরে আসে। হাদিসের অংশের উদ্দেশ্য হলো, আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার সাথি-সঙ্গীরা ফিরে আসে। কিতাবুল মাগাজিতে মুসা ইবনু উকবার বর্ণনায় তাদের নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে। শুরুতে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিমতের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বলেছিল, মদিনায় থেকে যুদ্ধ করা হোক। এরপর যখন অন্যরা মদিনার বাহিরে বের হয়ে যুদ্ধের পরামর্শ দিলো, আর রাসুল সেই পরামর্শ গ্রহণ করে মদিনা থেকে যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার সাথি-সঙ্গীদের বলল, সে তাদের কথা শুনল আর আমাকে উপেক্ষা করল। আমরা কি নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেব? তখন সে এক-তৃতীয়াংশ বাহিনী নিয়ে ফিরে আসে। ইবনু ইসহাক তার বর্ণনায় লেখেন, তাদের অনুসারীদের মধ্যে জাবের রাযি.-এর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনে হারামও ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের মতো তিনিও ছিলেন খাজরাজ গোত্রের। তারা যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন তিনি তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা এতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদেরকে লক্ষ্য করে তিনি তখন বদদুআ করে বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ধ্বংস করুন! তোমরা আল্লাহ তাআলার নবীকে একাকী যুদ্ধের ময়দানে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছ!

টিকাঃ
৯৫. সুরা নিসা: ৪/৮৮।
৯৬. বুখারি শরিফ: ৪০৫০; মুসলিম শরিফ: ২৭৭৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px