📄 হায্ফেজ ইবনু হাজার রহ.-এর ব্যাখ্যা
ইমাম মুহাল্লাব বলেন, এই শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারির উদ্দেশ্য বৈধ পরিত্যাগের বিবরণ উপস্থাপন করা। পরিত্যাগের পরিমাণ অপরাধ অনুসারে ধার্য হয়। তাই অবাধ্যদের সাথে কথাবার্তা ত্যাগ করা যথাযুক্ত। যেমনটা হযরত কাব ও তার দুই সঙ্গীর ঘটনায় এসেছে। পরিবার অথবা ভাইদের মাঝে রাগারাগি হলে একজনের সামনে অপরজনের নাম উল্লেখ না করা কিংবা হাস্যোজ্জ্বল ও প্রসন্নচিত্তে সাক্ষাৎ না করা বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে একে অপরকে সালাম দেওয়া এবং কথাবার্তা ত্যাগ করা বৈধ নয়।
ইমাম কিরমানি রহ. বলেন, সম্ভবত তিনি শরিয়তের আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তিকে পরিত্যাগ করার বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়ম-নীতি অমান্যকারীর নাম পরিত্যাগের সাথে তুলনা করতে চেয়েছিলেন।
ইমাম তাবারি রহ. বলেন, হযরত কাব ইবনু মালেক রাযি.-এর ঘটনাটি অপরাধীদের পরিত্যাগের বিষয়ে একটি মৌলিক নির্দেশনা。
এই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ যে, বেদাতি এবং ফাসেককে পরিত্যাগ করা বৈধ এবং কাফেরকে পরিত্যাগ করা বৈধ নয়। অথচ কাফের তাদের তুলনায় অনেক বড় অপরাধী। কারণ, তারা তো কোনোভাবে হলেও আল্লাহতে বিশ্বাসী।
ইমাম ইবনু বাত্তাল রহ.-এর উত্তর এভাবে দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলার এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা বান্দাদের জন্য কল্যাণকর এবং তিনি সেগুলো সম্পর্কে ভালো জানেন। আর বান্দাদের করণীয় হলো এ ক্ষেত্রে তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্য করা। তাই এখানে সে এসবের ব্যাখ্যা না বুঝেই আল্লাহর হুকুম মেনে চলবে ও তার ইবাদত করবে।
অন্যরা উত্তর দিয়েছেন, পরিত্যাগ দুইভাবে হতে পারে: ১. হৃদয় দ্বারা পরিত্যাগ করা। ২. জিহ্বা দ্বারা পরিত্যাগ করা।
একজন কাফেরকে হৃদয় থেকে পরিত্যাগ করা হয়। তাই তার প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা, সহযোগিতা ও তাকে সমর্থন না করা। বিশেষত যদি সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফের হয়। কেননা তার সাথে কথাবার্তা বন্ধ করার দ্বারা সে তার অবিশ্বাস থেকে ফিরবে না। পক্ষান্তরে মুসলিম পাপীরা অধিকাংশ কথাবার্তা বন্ধ করার দ্বারাই বিরত থাকবে।
কাফের এবং পাপী উভয়ই আনুগত্যের প্রতি আহ্বান, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ইত্যাদি শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে সমান। আর বৈধতা কেবল অন্তরঙ্গ কথাবার্তা ইত্যাদি পরিত্যাগের সাথে সম্পৃক্ত।
হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারির অন্যত্র লেখেন, এই হাদিসে গুনাহগার ব্যক্তিকে তিনদিনের বেশি সালাম না করার বৈধতার বর্ণনা রয়েছে। আর তিনদিনের বেশি কথাবার্তা পরিত্যাগ করা নিষেধের হাদিসটি যার সাথে কথাবার্তা পরিত্যাগ করা বৈধ নয়, তার জন্য প্রযোজ্য।