📄 পাপীদের সমর্থন না করা
এ ছাড়াও পবিত্র কুরআন-হাদিসে অপরাধীদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা এবং তাদের প্রতি ভরসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ.
অর্থ: আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরও আগুনে ধরবে。
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ মান্য করে আল্লাহর কাছে দুআ করেন,
قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ.
অর্থ: তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না。
আর হযরত হাতেব ইবনু আবি বালতাআ রাযি. যখন তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে মুশরিকদের কাছে যুদ্ধের খবরাখবর পত্রমারফত প্রেরণ করে তাদের নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করলেন, আল্লাহ তাআলা তখন তার বিষয়ে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেন। যে ঘটনা বুখারি ও মুসলিম শরিফের নিম্নোক্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আলি রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের, মিকদাদ এবং আমাকে বিশেষ কাজে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী 'রওজা খাখ' স্থানে যাও। সেখানে উটের পিঠে আরোহী এক নারী আছে। তার কাছে একটি গোপন চিঠি আছে। তোমরা তার কাছ থেকে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে ছুটে চললাম। সেখানে গিয়ে আমরা এক নারীকে পেলাম。
আমরা তাকে বললাম, চিঠি বের করে দাও। সে বলল, আমার কাছে কোনো চিঠি নেই। আমরা বললাম, তোমাকে চিঠি বের করতেই হবে, অন্যথায় তোমার পোশাকাদি খুলে ফেলেতে হবে। এরপর সে তার চুলের বেণির মধ্য থেকে তা বের করে দিলো। তখন আমরা তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম। চিঠিতে দেখা গেল যে, হাতেব ইবনু আবু বালতা রাযি.-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতক মুশরিকের প্রতি লেখা ছিল। তিনি এই চিঠিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের গোপন তথ্য তাদের নিকট ফাঁস করে দিয়েছিলেন。
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতেব! তুমি এ কী কাজ করলে? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশের একজন লোক। " আর আপনার সঙ্গী মুহাজির সাহাবাদের অনেকের আত্মীয়স্বজন মক্কায় রয়েছে, তাদের মাধ্যমে নিজেদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছিল। তাই আমি মনস্থ করলাম, কুরাইশের সঙ্গে যখন আমার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, তখন তাদের প্রতি এমন কোনো (কাজ) উপকার করি, যার কারণে তারা আমার পরিবার-পরিজন রক্ষা করবে। আমি এ কাজটি এ জন্য করিনি যে, আমি কাফের হয়ে গেছি কিংবা দ্বীন থেকে মুরতাদ হয়েছি। আমি ইসলাম গ্রহণের পরে কুফরের প্রতি আসক্তও হইনি。
তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে। উমর রাযি. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শরিক হয়েছিল এবং তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ তাআলা বদরি সাহাবাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বলেছেন,
اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ.
অর্থ: তোমরা যা খুশি করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।
এরপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ.
অর্থ: হে মুমিনগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।
আরও শক্তিধর মহান রাব্বুল আলামিন কতক সম্প্রদায়ের প্রতি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করে বলেছেন,
أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
অর্থ: অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্য খুবই নিকৃষ্ট প্রতিদান。
এরা এমন সম্প্রদায়, যাদের হৃদয়ে বোধশক্তি সামান্য এবং যাদের পেটে চর্বির পরিমাণ বেশি। তাদের আড্ডা এবং কথাবার্তা থেকে বুঝে আসে, তারা কখনই কুরআনের উপদেশ শোনেনি। সুতরাং সাবধান হও, তাদের মতো লোকদের আড্ডায় বসো না。
বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দুজন কুরাইশি এবং একজন সাকাফি অথবা দুজন সাকাফি এবং একজন কুরাইশি ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষ্মজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন, তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন,
وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ.
অর্থ: তোমরা গোপন করতে পারবে না এ জন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে。
এমনইভাবে যখন হযরত নুহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় এমন বস্তুর অনুসরণ করেছিল, যা তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি, তখন তারা বিপদ ও বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল। তারা ডুবে গিয়েছিল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করেছিল। আর তখন তারা আল্লাহ ছাড়া তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পায়নি。
টিকাঃ
৬৩. সুরা হুদ: ১১৩।
৬৪. সুরা কাসাস: ১৭।
৬৫. সুফিয়ান রহ. বলেন, তিনি কুরাইশের মিত্র গোত্রের ছিলেন, সরাসরি কুরাইশ গোত্রভুক্ত ছিলেন না।
৬৬. সুরা মুমতাহিনা: ১। আবু বকর ও যুহায়ের রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আয়াতের উল্লেখ নেই। ইসহাক রহ. তার বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফিয়ানের তেলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৬৭. সুরা কাহাফ: ৫০।
৬৮. সুরা ফুসসিলাত: ২২; বুখারি শরিফ: ৭৫২১; মুসলিম শরিফ: ৭৭৫।
📄 জালেমদের মৃত্যুর পরও তাদের নিকটে যাবে না
আর জালেমদের মৃত্যুর পরও উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে তাদের কাছে যাবে না। হযরত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হওয়া জাতির নিকট যেতে নিষেধ করেছেন। যদি কেউ যেতে চায় তাহলে কান্নারত অবস্থায় যেতে বলেছেন। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِ الْحِجْرِ لَا تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الْمُعَذِّبِينَ إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাবে হিজর (সামুদ সম্প্রদায়) সম্পর্কে সাহাবাদের বলেছেন, শাস্তিপ্রাপ্ত এ সম্প্রদায়ের ওপর দিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় তোমরা পথ অতিক্রম করবে। অন্যথায় (যদি তোমাদের কান্না না আসে) তাদের এলাকায় কিছুতেই প্রবেশ করবে না। যাতে এমনটি না ঘটে; যে আজাব তাদের ওপর নাজিল হয়েছিল, অনুরূপ তোমাদের ওপরও নাজিল হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলার বাণী,
وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُم مَّا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَد تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنكُم مَّا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ.
অর্থ: তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, যেমন আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবি ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবি উধাও হয়ে গেছে。
টিকাঃ
৬৯. বুখারি শরিফ: ৩৩৮১; মুসলিম শরিফ: ২৯৮০।
৭০. সুরা আনআম: ৯৪।
📄 হযরত কাব ইবনু মালেক ও তার সঙ্গীদের ঘটনা
হযরত কাব ইবনু মালেক রাযি. ও তার দুই সাথি যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে পড়লেন, তখন তাদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কুরআনে যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন, সেখান হতে এই বিষয়-সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষা এখানে আমাদের জন্য আলোচনা করা হলো。
হযরত কাব ইবনু মালিক রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তার মধ্যে তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত আমি আর কোনো যুদ্ধ থেকে পেছনে থাকিনি। তবে আমি বদর যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু উক্ত যুদ্ধ থেকে যারা পেছনে পড়ে গেছেন, তাদের কাউকে ভর্ৎসনা করা হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল কুরাইশ দলের সন্ধানে বের হয়েছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁদের এবং তাঁদের শত্রুবাহিনীর মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ সংঘটিত করেন। আর আকাবার রাতে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে ইসলামের ওপর অঙ্গীকার গ্রহণ করেন, আমি তখন তাঁর সঙ্গে ছিলাম। ফলে বদর প্রান্তরে উপস্থিত হওয়াকে আমি প্রিয়তর ও শ্রেষ্ঠতর বলে বিবেচনা করিনি। যদিও আকাবার ঘটনা অপেক্ষা লোকেদের মধ্যে বদরের ঘটনা বেশি প্রসিদ্ধ ছিল。
আর আমার অবস্থার বিবরণ এই-তাবুক যুদ্ধ থেকে আমি যখন পেছনে থাকি তখন আমি এত অধিক সুস্থ, শক্তিশালী ও সচ্ছল ছিলাম যে, আল্লাহর কসম! আমার কাছে কখনো ইতিপূর্বে কোনো যুদ্ধে একই সঙ্গে দুটো যানবাহন জোগাড় করা সম্ভব হয়নি, যা আমি এ যুদ্ধের সময় জোগাড় করেছিলাম। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অভিযান পরিচালনার সংকল্প গ্রহণ করতেন, বাহ্যত তার বিপরীত দেখাতেন। এ যুদ্ধ ছিল ভীষণ উত্তাপের সময়, অতি দূরের যাত্রা, বিশাল মরুভূমি এবং বহু শত্রুসেনার মোকাবিলা করার। কাজেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযানের অবস্থা এবং কোন এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করতে যাবেন তাও মুসলিমদের কাছে প্রকাশ করে দেন, যাতে তারা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারে। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুসলিমদের সংখ্যা অনেক ছিল এবং তাদের সংখ্যা কোনো নথিপত্রেও হিসাব করে রাখা হতো না。
কাব রাযি. বলেন, যার ফলে যে-কোনো লোক যুদ্ধাভিযান থেকে বিরত থাকতে ইচ্ছা করলে তা সহজেই করতে পারত এবং ওহিমারফত এ খবর না জানানো পর্যন্ত তা সংগোপন থাকবে বলে সে ধারণা করত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযান পরিচালনা করেছিলেন এমন সময়, যখন খেজুর পাকা ও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এবং তাঁর সঙ্গী মুসলিম বাহিনী অভিযানে যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ করে ফেলেন। আমিও প্রতি সকালে তাঁদের সঙ্গে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। মনে মনে ধারণা করতে থাকি যে, আমি তো যখন ইচ্ছা তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারব। এই দোটানায় আমার সময় কেটে যেতে লাগল। এদিকে অন্য লোকেরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলল। ইতোমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথি মুসলিমগণ রওনা করলেন অথচ আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না。
আমি মনে মনে ভাবলাম, আচ্ছা ঠিক আছে, এক-দুদিনের মধ্যে আমি প্রস্তুত হয়ে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হব। এভাবে প্রতিদিন বাড়ি হতে প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হই, কিন্তু কিছু না করেই ফিরে আসি। আবার বের হই, আবার কিছু না করে ঘরে ফিরে আসি। ইত্যবসরে বাহিনী অগ্রসর হয়ে অনেক দূর চলে গেল। আর আমি রওনা করে তাদের সঙ্গে রাস্তায় মিলিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতে লাগলাম। আফসোস! যদি আমি তাই করতাম! কিন্তু তা আমার ভাগ্যে জোটেনি। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওনা হওয়ার পর আমি লোকদের মধ্যে বের হয়ে তাদের মাঝে বিচরণ করতাম। এ কথা আমার মনকে পীড়া দিত যে, আমি তখন মদিনায়। মুনাফিক এবং দুর্বল ও অক্ষম লোক ব্যতীত অন্য কাউকে দেখতে পেতাম না। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমার ব্যাপারে আলোচনা করেননি। তাবুকে পৌঁছে তিনি লোকদের মাঝে বসে জিজ্ঞেস করলেন, কাব কী করল?
বনু সালামাহ গোত্রের এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তার ধন-সম্পদ ও অহংকার তাকে আসতে দেয়নি。
এ কথা শুনে মুআয ইবনু জাবাল রাযি. বললেন, তুমি যা বললে তা ঠিক নয়। হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর কসম, আমরা তাকে উত্তম ব্যক্তি বলে জানি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রইলেন। কাব ইবনু মালিক রাযি. বলেন, আমি যখন জানতে পারলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায় ফিরে আসছেন, তখন আমি চিন্তিত হয়ে গেলাম এবং মিথ্যা অজুহাত খুঁজতে থাকলাম। মনে মনে স্থির করলাম, আগামীকাল এমন কথা বলব, যাতে করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্রোধকে ঠান্ডা করতে পারি। আর এ সম্পর্কে আমার পরিবারস্থ জ্ঞানীগুণীদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে থাকি। এরপর যখন প্রচারিত হলো যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে পৌঁছে যাচ্ছেন, তখন আমার অন্তর থেকে মিথ্যা দূর হয়ে গেল। আর মনে দৃঢ় প্রত্যয় হলো যে, এমন কোনো উপায়ে আমি তাঁকে কখনো ক্রোধমুক্ত করতে সক্ষম হব না, যাতে মিথ্যার লেশ থাকে। অতএব আমি মনে মনে স্থির করলাম যে, আমি সত্য কথাই বলব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল বেলায় মদিনায় প্রবেশ করলেন। তিনি সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করে প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু-রাকাত নামাজ আদায় করতেন, তারপর লোকদের সামনে বসতেন。
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করলেন, তখন যারা পশ্চাদপদ ছিল তারা তাঁর কাছে এসে শপথ করে করে অপারগতা ও আপত্তি পেশ করতে লাগল। এরা সংখ্যায় আশির অধিক ছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহ্যত তাদের ওজর-আপত্তি গ্রহণ করলেন, তাদের বাইআত করলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। কিন্তু তাদের অন্তরের অবস্থা আল্লাহর হাওয়ালা করে দিলেন। কাব রাযি. বলেন, আমিও এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাজির হলাম। আমি যখন তাঁকে সালাম দিলাম তখন তিনি রাগান্বিত চেহারায় মুচকি হাসি হাসলেন। তারপর বললেন, এসো। আমি সেমতে এগিয়ে গিয়ে একেবারে তাঁর সম্মুখে বসে গেলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে তুমি অংশগ্রহণ করলে না? তুমি কি যানবাহন ক্রয় করোনি? তখন আমি বললাম, হ্যাঁ, করেছি। আল্লাহর কসম! এ কথা সুনিশ্চিত যে, আমি যদি আপনি ব্যতীত দুনিয়ার অন্য কোনো ব্যক্তির সামনে বসতাম, তাহলে আমি তার অসন্তুষ্টিকে ওজর-আপত্তি পেশের মাধ্যমে ঠান্ডা করার চেষ্টা করতাম। আর আমি বাকপটু মানুষ। কিন্তু আল্লাহর কসম আমি জানি যে, আজ যদি আমি আপনার কাছে মিথ্যা কথা বলে আমার প্রতি আপনাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি, তাহলে শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দিতে পারেন। আর যদি আপনার কাছে সত্য প্রকাশ করি যাতে আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তবুও আমি এতে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অবশ্যই আশা করি। না, আল্লাহর কসম! আমার কোনো ওজর ছিল না。
আল্লাহর কসম! সেই যুদ্ধে আপনার সঙ্গে না যাওয়ার সময় আমি সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্য কথাই বলেছে। তুমি এখন চলে যাও, যতদিনে না তোমার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ফয়সালা করে দেন। তাই আমি উঠে চলে গেলাম। তখন বনি সালামার কতিপয় লোক আমার অনুসরণ করল。
তারা আমাকে বলল, আল্লাহর কসম! তুমি ইতিপূর্বে কোনো পাপ করেছ বলে আমাদের জানা নেই; তুমি তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ হতে বিরত অন্যান্যদের মতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি ওজর পেশ করে দিতে পারতে না? আর তোমার এ অপরাধের কারণে তোমার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা প্রার্থনাই তো যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর কসম! তারা আমাকে বারবার কঠিনভাবে ভর্ৎসনা করতে থাকে। ফলে আমি পূর্ব-স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে গিয়ে মিথ্যা বলার বিষয়ে মনে মনে চিন্তা করতে থাকি। এরপর আমি তাদের বললাম, আমার মতো এ কাজ আর কেউ করেছে কি?
তারা জওয়াব দিলো, হ্যাঁ, আরও দুজন তোমার মতো বলেছে এবং তাদের ব্যাপারেও তোমার মতো একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, তারা কে কে? তারা বলল, একজন মুরারা ইবনু রবি আমেরি এবং অপরজন হলেন হেলাল ইবনু উমাইয়াহ ওয়াকেফি। এরপর তারা আমাকে জানাল যে, তারা উভয়ে উত্তম মানুষ এবং তারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। সে জন্য দুজনেই শীর্ষস্থানীয়। যখন তারা তাদের নাম উল্লেখ করল, তখন আমি পূর্বের মতের ওপর অটল রইলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যকার যে তিনজন তাবুকে অংশগ্রহণ হতে বিরত ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলতে মুসলিমদের নিষেধ। করে দিলেন। তদনুসারে মুসলিমরা আমাদের এড়িয়ে চলল। আমাদের প্রতি তাদের আচরণ বদলে ফেলল। এমনকি এ দেশ যেন আমাদের কাছে অপরিচিত হয়ে গেল。
এ অবস্থায় আমরা পঞ্চাশ রাত অতিবাহিত করলাম। আমার অপর দুজন সাথি তো সংকটে ও শোচনীয় অবস্থায় নিপতিত হলেন। তারা নিজেদের ঘরে বসে বসে কাঁদতে থাকেন। আর আমি যেহেতু অধিকতর যুবক ও শক্তিশালী ছিলাম তাই বাইরে বের হতাম, মুসলিমদের জামাতে সালাত আদায় করতাম, বাজারে চলাফেরা করতাম; কিন্তু কেউ আমার সঙ্গে কথা বলত না। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম দিতাম। যখন তিনি নামাজ শেষে মজলিসে বসতেন, তখন আমি মনে মনে বলতাম ও লক্ষ করতাম, তিনি আমার সালামের জবাবে তার ঠোঁটদ্বয় নেড়েছেন কি না। তারপর আমি তাঁর কাছাকাছি জায়গায় নামাজ আদায় করতাম এবং গোপন দৃষ্টিতে তাঁর দিকে দেখতাম যে, আমি যখন নামাজে মগ্ন হতাম তখন তিনি আমার প্রতি দৃষ্টি দিতেন, আর যখন আমি তাঁর দিকে তাকাতাম তখন তিনি দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতেন। এভাবে আমার প্রতি মানুষদের কঠোরতা ও এড়িয়ে চলা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকে。
একদা আমি আমার চাচাতো ভাই ও প্রিয় বন্ধু আবু কাতাদা রাযি.-এর বাগানের প্রাচীর টপকে ঢুকে তাকে সালাম দিই। কিন্তু আল্লাহর কসম! তিনি আমার সালামের জওয়াব দিলেন না। আমি তখন বললাম, হে আবু কাতাদা! আপনাকে আমি আল্লাহর কसम দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনি কি জানেন যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি? তখন তিনি নীরবতা পালন করলেন। আমি পুনরায় তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এবারও কোনো জবাব দিলেন না। আমি আবারো তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই ভালো জানেন। তখন আমার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। আমি আবার প্রাচীর টপকে ফিরে এলাম。
কাব রাযি. বলেন, একদা আমি মদিনার বাজারে হাঁটছিলাম। তখন সিরিয়ার এক বণিক মদিনার বাজারে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। সে বলছিল, আমাকে কাব ইবনু মালিককে কেউ পরিচয় করে দিতে পারে কি? তখন লোকেরা তাকে আমার প্রতি ইশারা করে দেখিয়ে দিলো। তখন সে এসে গাসসানি বাদশার একটি পত্র আমার কাছে হস্তান্তর করল। তাতে লেখা ছিল, পরসমাচার এই, আমি জানতে পারলাম যে, আপনার সাথি আপনার প্রতি জুলুম করেছে। আর আল্লাহ আপনাকে মর্যাদাহীন ও নিরাশ্রয় সৃষ্টি করেননি। আপনি আমাদের দেশে চলে আসুন, আমরা আপনার সাহায্য-সহযোগিতা করব。
আমি যখন এ পত্র পড়লাম তখন আমি বললাম, এটাও আর একটি পরীক্ষা। তখন আমি চুলা খুঁজে তার মধ্যে পত্রটি নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দিলাম। এ সময় পঞ্চাশ দিনের চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এক সংবাদবাহক আমার কাছে এসে বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি আপনার স্ত্রী হতে পৃথক থাকবেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দেব, না অন্য কিছু করব? তিনি উত্তর দিলেন, তালাক দিতে হবে না। বরং তার থেকে পৃথক থাকুন এবং তার নিকটবর্তী হবেন না। আমার অপর দুজন সঙ্গীর প্রতি একই আদেশ পৌঁছালেন। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, তুমি তোমার পিত্রালয়ে চলে যাও। আমার সম্পর্কে আল্লাহর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তুমি সেখানে থাকো。
কাব রাযি. বলেন, আমার সঙ্গী হেলাল ইবনু উমাইয়ার স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল! হেলাল ইবনু উমাইয়া অতি বৃদ্ধ, এমন বৃদ্ধ যে, তার কোনো খাদেম নেই। আমি তার খেদমত করি, এটা কি আপনি অপছন্দ করেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তবে সে তোমার বিছানায় আসতে পারবে না। সে বলল, আল্লাহর কসম! এ সম্পর্কে তার কোনো অনুভূতিই নেই। আল্লাহর কসম! তিনি এ নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে সর্বদা কান্নাকাটি করছেন。
কাব রাযি. বলেন, আমার পরিবারের কেউ আমাকে পরামর্শ দিলো যে, আপনিও যদি আপনার স্ত্রীর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি চাইতেন; যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলাল ইবনু উমাইয়ার স্ত্রীকে তার স্বামীর খেদমত করার অনুমতি দিয়েছেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি কখনো তার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি চাইব না। আমি যদি তার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি চাই, তাহলে তিনি কী বলেন তা আমার জানা নেই। আমি তো নিজেই আমার খেদমতে সক্ষম। এরপর আরও দশ রাত কাটালাম। এভাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন থেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেন, তখন থেকে পঞ্চাশ রাত পূর্ণ হলো। এরপর আমি পঞ্চাশতম রাত শেষে ফজরের নামাজ আদায় করলাম এবং আমাদের এক ঘরের ছাদে এমন অবস্থায় বসে ছিলাম, যে অবস্থার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণনা করেছেন। আমার জান-প্রাণ দুর্বিষহ এবং গোটা জগৎটা যেন আমার জন্য প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এমন সময় শুনতে পেলাম এক ঘোষকের চিৎকার। সে সালা পর্বতের ওপর চড়ে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করছে, হে কাব ইবনু মালিক! সুসংবাদ গ্রহণ করুন。
কাব রাযি. বলেন, এ শব্দ আমার কানে পৌঁছামাত্র আমি সেজদায় পড়ে গেলাম। আর আমি বুঝলাম যে, আমার সুদিন ও খুশির খবর এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ আদায়ের পর আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে আমাদের তাওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ প্রকাশ করেন। তখন লোকেরা আমার এবং আমার সঙ্গীদ্বয়ের কাছে সুসংবাদ দিতে থাকে এবং তড়িঘড়ি একজন অশ্বারোহী আমার কাছে আসে এবং আসলাম গোত্রের অপর এক ব্যক্তি দ্রুত আগমন করে পর্বতের ওপর আরোহণ করে চিৎকার দিতে থাকে। তার চিৎকারের শব্দ ঘোড়া অপেক্ষাও দ্রুত পৌঁছল। যার শব্দ আমি শুনেছিলাম, সে যখন আমার কাছে সুসংবাদ প্রদান করতে এল, তখন আমাকে সুসংবাদ প্রদান করার শুকরিয়াস্বরূপ আমার নিজের পরনের কাপড়-দুটো খুলে তাকে পরিয়ে দিলাম। আল্লাহর কসম! সে সময় ওই দুটো কাপড় ব্যতীত আমার কাছে আর কোনো কাপড় ছিল না। ফলে আমি দুটো কাপড় ধার করে পরিধান করলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রওনা হলাম। লোকেরা দলে দলে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে আসতে লাগল। তারা তাওবা কবুলের মুবারকবাদ জানাচ্ছিল। তারা বলছিল, তোমাকে মুবারকবাদ যে আল্লাহ তাআলা তোমার তাওবা কবুল করেছেন。
কাব রাযি. বলেন, অবশেষে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসা ছিলেন এবং তাঁর চারপাশে জনতার সমাবেশ ছিল। তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রাযি. দ্রুত উঠে এসে আমার সঙ্গে মুসাফাহা করলেন ও মুবারকবাদ জানালেন। আল্লাহর কसम! তিনি ব্যতীত আর কোনো মুহাজির আমার জন্য দাঁড়াননি। আমি তালহার ব্যবহার ভুলতে পারব না।
কাব রাযি. বলেন, এরপর আমি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম জানালাম, তখন তাঁর চেহারা আনন্দের আতিশয্যে চিকচিক করছিল। তিনি আমাকে বললেন, তোমার মাতা তোমাকে জন্মদানের দিন হতে যতদিন তোমার ওপর অতিবাহিত হয়েছে, তার মধ্যে উৎকৃষ্ট ও উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ করো। কাব রাযি. বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটা কি আপনার পক্ষ থেকে না আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বললেন, আমার পক্ষ থেকে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুশি হতেন তখন তাঁর চেহারা এত উজ্জ্বল ও ঝলমলে হতো, যেন পূর্ণিমার চাঁদের ফালি। এতে আমরা তাঁর সন্তুষ্টি বুঝতে পারতাম। আমি যখন তাঁর সম্মুখে বসলাম তখন আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার তাওবা কবুলের শুকরিয়াস্বরূপ আমার ধন-সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথে দান করতে চাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কিছু সম্পদ তোমার কাছে রেখে দাও। তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, খায়বারে অবস্থিত আমার অংশটি আমার জন্য রাখলাম। আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসول সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহ তাআলা সত্য বলার কারণে আমাকে রক্ষা করেছেন, তাই আমার তাওবা কবুলের নিদর্শন ঠিক রাখতে আমার বাকি জীবনে সত্যই বলব।
আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি এ সত্য বলার কথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জানিয়েছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমার জানামতে কোনো মুসলিমকে সত্য কথার বিনিময়ে এরূপ নেয়ামত আল্লাহ দান করেননি, যে নেয়ামত আমাকে দান করেছেন। কাব রাযি. বলেন, যেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে সত্য কথা বলেছি, সেদিন হতে আজ পর্যন্ত অন্তরে মিথ্যা বলার ইচ্ছাও করিনি। আমি আশা পোষণ করি যে, বাকি জীবনও আল্লাহ তাআলা আমাকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করবেন। এরপর আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ করেন,
لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَ الْمُهْجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوْهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوْبُ فَرِيْقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوْفٌ رَّحِيمٌ. و عَلَى الثَّلْثَةِ الَّذِينَ خُلَّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَ ضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا اَنْ لَّا مَلْجَا مِنَ اللهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوْبُوْا إِنَّ اللهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.
অর্থ: অবশ্যই আল্লাহ তাআলা নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে। তাদের মধ্যে এক দলের হৃদয় সত্যচ্যুত হওয়ার উপক্রম হবার পর। তারপর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু। আর সে তিনজনের (তাওবা কবুল করলেন), যাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এমনকি পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের নিকট তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। আর তারা নিশ্চিত বুঝেছিল যে, আল্লাহর আজাব থেকে তিনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তারপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন, যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
কাব রাযি. বলেন, আল্লাহর শপথ! ইসলাম গ্রহণের পর থেকে কখনো আমার ওপর এত উৎকৃষ্ট নেয়ামত আল্লাহ প্রদান করেননি যা আমার কাছে শ্রেষ্ঠতর, তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার সত্য বলা ও তাঁর সঙ্গে মিথ্যা না বলা, যদি মিথ্যা বলতাম তবে মিথ্যাচারীদের মতো আমিও ধ্বংস হয়ে যেতাম। সেই মিথ্যাচারীদের সম্পর্কে যখন ওহি অবতীর্ণ হয়েছে তখন জঘন্য অন্তরের সেই লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
سَيَحْلِفُوْنَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَ مَأْوَلَهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ. يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفُسِقِينَ.
অর্থ: যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাবে, তখন তারা শীঘ্রই তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদেরকে উপেক্ষা করো। সুতরাং তোমরা তাদেরকে উপক্ষো করো। নিশ্চয়ই তারা অপবিত্র এবং তারা যা অর্জন করত, তার প্রতিফলস্বরূপ জাহান্নাম হলো তাদের আশ্রয়স্থল। তারা শপথ করবে তোমাদের নিকট, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। অতএব তোমরা যদিও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসেক কওমের প্রতি সন্তুষ্ট হন না。
কাব রাযি. বলেন, আমাদের তিনজনের তাওবা কবুল করতে বিলম্ব করা হয়েছে, যাদের তাওবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবুল করেছেন যখন তারা তার কাছে শপথ করেছে, তিনি তাদের বাইআত গ্রহণ করেছেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আমাদের বিষয়টি আল্লাহর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থগিত রেখেছেন। এর প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'সেই তিনজনের প্রতিও যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল...' (সুরা তাওবা : ১১৮) কুরআনের এই আয়াতে তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়নি, যারা তাবুক যুদ্ধ থেকে পেছনে ছিল ও মিথ্যা কসম করে ওজর-আপত্তি জানিয়েছিল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তা গ্রহণ করেছিলেন। বরং এই আয়াতে তাদের প্রতি ইশারা করা হয়েছে, আমরা যারা পেছনে ছিলাম এবং যাদের প্রতি সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইমাম বুখারি রহমতুল্লাহি আলাইহি তার সহিহ বুখারিতে কিতাবুল আদব বা শিষ্টাচার অধ্যায়ে শিরোনাম লিখেছেন, 'অপরাধী ও গুনাহগারকে পরিত্যাগ করা কি বৈধ?' এরপর তিনি পূর্ববর্তী হাদিসের একটি অংশ উল্লেখ করেছেন এই শব্দে,
কাব বলেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যকার যে তিনজন তাবুকে অংশগ্রহণ হতে বিরত ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলতে মুসলিমদের নিষেধ করে দিলেন। নির্দেশ পালনার্থে মুসলিমরা তখন আমাদের এড়িয়ে চলল। আমাদের প্রতি তাদের আচরণ বদলে ফেলল। এমনকি এ দেশ যেন আমাদের কাছে অপরিচিত হয়ে গেল। এ অবস্থায় আমরা পঞ্চাশ রাত অতিবাহিত করলাম。
টিকাঃ
৭১. সুরা তাওবা: ১১৭-১১৭।
৭২. সুরা তাওবা: ৯৫-৯৬।
📄 হায্ফেজ ইবনু হাজার রহ.-এর ব্যাখ্যা
ইমাম মুহাল্লাব বলেন, এই শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারির উদ্দেশ্য বৈধ পরিত্যাগের বিবরণ উপস্থাপন করা। পরিত্যাগের পরিমাণ অপরাধ অনুসারে ধার্য হয়। তাই অবাধ্যদের সাথে কথাবার্তা ত্যাগ করা যথাযুক্ত। যেমনটা হযরত কাব ও তার দুই সঙ্গীর ঘটনায় এসেছে। পরিবার অথবা ভাইদের মাঝে রাগারাগি হলে একজনের সামনে অপরজনের নাম উল্লেখ না করা কিংবা হাস্যোজ্জ্বল ও প্রসন্নচিত্তে সাক্ষাৎ না করা বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে একে অপরকে সালাম দেওয়া এবং কথাবার্তা ত্যাগ করা বৈধ নয়।
ইমাম কিরমানি রহ. বলেন, সম্ভবত তিনি শরিয়তের আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তিকে পরিত্যাগ করার বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়ম-নীতি অমান্যকারীর নাম পরিত্যাগের সাথে তুলনা করতে চেয়েছিলেন।
ইমাম তাবারি রহ. বলেন, হযরত কাব ইবনু মালেক রাযি.-এর ঘটনাটি অপরাধীদের পরিত্যাগের বিষয়ে একটি মৌলিক নির্দেশনা。
এই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ যে, বেদাতি এবং ফাসেককে পরিত্যাগ করা বৈধ এবং কাফেরকে পরিত্যাগ করা বৈধ নয়। অথচ কাফের তাদের তুলনায় অনেক বড় অপরাধী। কারণ, তারা তো কোনোভাবে হলেও আল্লাহতে বিশ্বাসী।
ইমাম ইবনু বাত্তাল রহ.-এর উত্তর এভাবে দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলার এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা বান্দাদের জন্য কল্যাণকর এবং তিনি সেগুলো সম্পর্কে ভালো জানেন। আর বান্দাদের করণীয় হলো এ ক্ষেত্রে তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্য করা। তাই এখানে সে এসবের ব্যাখ্যা না বুঝেই আল্লাহর হুকুম মেনে চলবে ও তার ইবাদত করবে।
অন্যরা উত্তর দিয়েছেন, পরিত্যাগ দুইভাবে হতে পারে: ১. হৃদয় দ্বারা পরিত্যাগ করা। ২. জিহ্বা দ্বারা পরিত্যাগ করা।
একজন কাফেরকে হৃদয় থেকে পরিত্যাগ করা হয়। তাই তার প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা, সহযোগিতা ও তাকে সমর্থন না করা। বিশেষত যদি সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফের হয়। কেননা তার সাথে কথাবার্তা বন্ধ করার দ্বারা সে তার অবিশ্বাস থেকে ফিরবে না। পক্ষান্তরে মুসলিম পাপীরা অধিকাংশ কথাবার্তা বন্ধ করার দ্বারাই বিরত থাকবে।
কাফের এবং পাপী উভয়ই আনুগত্যের প্রতি আহ্বান, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ইত্যাদি শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে সমান। আর বৈধতা কেবল অন্তরঙ্গ কথাবার্তা ইত্যাদি পরিত্যাগের সাথে সম্পৃক্ত।
হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারির অন্যত্র লেখেন, এই হাদিসে গুনাহগার ব্যক্তিকে তিনদিনের বেশি সালাম না করার বৈধতার বর্ণনা রয়েছে। আর তিনদিনের বেশি কথাবার্তা পরিত্যাগ করা নিষেধের হাদিসটি যার সাথে কথাবার্তা পরিত্যাগ করা বৈধ নয়, তার জন্য প্রযোজ্য।