📄 মন্দ সঙ্গী থেকে দূরে থাকা
অসৎ সঙ্গীদের থেকে দূরে থাকার আরও একটি দলিল হলো, লানতকারী পুরুষ ও নারীকে পৃথক করে দেওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদিস। অর্থাৎ একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করার কারণে কসম করে। অতঃপর সেই নারী তার পবিত্রতার ব্যাপারে কসম করে। এর বিশদ বর্ণনা সুরা নুরে লিআনের আয়াতে রয়েছে। এতে স্বামী কোনোকিছু প্রমাণের দাবি করে, আর স্ত্রী তা অস্বীকার করে। নিঃসন্দেহে তাদের একজন এ ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী। আর স্ত্রীর ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে। স্বামীর ওপরও অভিশাপ, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়। লানতকারী স্বামীর জন্য নির্দোষ স্ত্রীর সাথে বসবাস বৈধ নয়। তেমনই বৈধ নয় লানতকারী স্ত্রীর জন্য নিরপরাধ স্বামীর সাথে বসবাস করা। এটাই অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতামত যে, লানতকারীদের একে অন্য থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে。
এ বিষয়ে বুখারি ও মুসলিম শরিফের বর্ণনা, সাদ গোত্রের সাহল ইবনু সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত। আনসারদের জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে দেখতে পায়, তবে কি সে তাকে হত্যা করবে? অথবা কী করবে? এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত? এরপর আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে কুরআনে উল্লেখিত লিআনের বিধান অবতীর্ণ করেন। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন。
বর্ণনাকারী বলেন, আমি উপস্থিত থাকতেই তারা উভয়ে মসজিদে লিআন করল। উভয়ের লিআন সমাপ্ত হলে সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে রেখে দিই, তাহলে তার ওপর মিথ্যারোপ করেছি বলে সাব্যস্ত হবে? এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ দেওয়ার পূর্বেই সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনেই তারা পৃথক হয়ে গেল। তিনি বললেন, এই সম্পর্কচ্ছেদই লিআনের বিধান。
হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি.-এর একটি হাদিস বুখারি শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন পুরুষ ও নারীর মাঝে বিচ্ছেদ করে দিয়েছেন, যে পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে এবং তারা দুজন শপথ নিয়েছে।
অন্য আরেক বর্ণনায় এভাবে বর্ণিত হয়েছে,
لا عن النبي صلى الله عليه وسلم بين رجل وإمرأة من الأنصار وفرق بينهما.
অর্থ: হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারি একজন নারী ও পুরুষের মাঝে লিআন করানোর পর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ করে দেন।
কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার কারণে বনি ইসরাইলের কাফেরদের প্রতি আল্লাহ তাআলা লানত ও অভিসম্পাত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ. كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ. تَرَى كَثِيرًا مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ. وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ.
অর্থ: বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে দাউদ ও মরিয়ম-তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল। আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ। তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আজাবে থাকবে। যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তাহলে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার。
টিকাঃ
৫৫. বুখারি শরিফ: ৫৩০৯; মুসলিম শরিফ: ৩/৭১৬-৭১৭।
৫৬. ফাতহুল বারি: ৯/৪৫৮।
৫৭. ফাতহুল বারি: ৯/৪৫৮; মুসলিম শরিফ: ৩/৭২০।
৫৮. সুরা মায়িদা: ৭৮-৮১।
📄 বেদাতি ও প্রবৃত্তিপূজারীদের সাহচর্য নিন্দনীয়
এ জন্যই বেদাতিদের থেকে দায়মুক্তির বিষয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. বলে, হযরত ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার থেকে বর্ণিত। বসরার অধিবাসী মাবাদ জুহাইনাহ প্রথম ব্যক্তি; যে তাকদির অস্বীকার করে। আমি ও হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান উভয়ে হজ অথবা উমরার উদ্দেশে রওনা করলাম。
আমরা বললাম, যদি আমরা এ সফরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে-কোনো সাহাবার সাক্ষাৎ পেয়ে যাই, তাহলে ওইসব লোক তাকদির সম্বন্ধে যা কিছু বলে, সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করব। সৌভাগ্যক্রমে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি.-কে মসজিদে প্রবেশের পথে পেয়ে গেলাম। আমি ও আমার সাথি তাকে এমনভাবে ঘিরে নিলাম যে, আমাদের একজন তার ডান এবং অপরজন তার বামে থাকলাম। আমি মনে করলাম আমার সাথি আমাকেই কথা বলার সুযোগ দেবে। (কারণ, আমি ছিলাম বাকপটু)। আমি বললাম, হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে, তারা একদিকে কুরআন পাঠ করে অপরদিকে জ্ঞানের অন্বেষণও করে। ইয়াহইয়া তাদের কিছু গুণাবলির কথাও উল্লেখ করলেন। তারা বলে, তাকদির বলতে কিছু নেই এবং প্রত্যেক কাজ অকস্মাৎ সংঘটিত হয়。
ইবনু উমর রাযি. বললেন, যখন তুমি এদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দেবে যে, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আর আমার সাথেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন, এদের কারও কাছে যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান-খয়রাত করে দেয়, তাহলেও আল্লাহ তার এ দান গ্রহণ করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকদিরের ওপর ঈমান না আনবে。
ইমাম দারামি রহ. বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন,
لا تجالسوا أهل الأهواء ولا تجادلوهم؛ فإني لا أمن أن يغمسوكم في ضلالتهم، أو يلبسوا عليكم ما تعرفون.
অর্থ: তোমরা প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে উঠাবসা করবে না। তাদের সাথে বিতর্কে জড়াবে না। কেননা তাদের প্রতি আমার ভরসা হয় না যে, তারা তোমাদেরকে তাদের বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত করবে না বা তোমাদের জানা বিষয়ে সন্দেহে নিপতিত করবে না。
তিনি আইয়ুব থেকে আরও বর্ণনা করেন, আমাকে সায়িদ ইবনু যুবাইর রাযি. একবার তালাক ইবনু হাবিবের মজলিসে দেখতে পেলেন। অতঃপর তার সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, কী ব্যাপার আমি তোমাকে তালাক ইবনু হাবিবের মজলিসে বসা দেখতে পেলাম?! খবরদার!! কখনো তুমি আর তার মজলিসে বসবে না。
ইমাম দারামি রহ. হাসান বসরি ও ইবনু সিরিন রাযি. থেকে আরও বর্ণনা করেন, হযরত হাসান বসরি ও ইবনু সিরিন রাযি. তাদের শাগরেদদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তিদের সাথে উঠাবসা করবে না। তাদের সাথে বিবাদে জড়াবে না। আর তাদের থেকে কোনো হাদিসও বর্ণনা করবে না。
টিকাঃ
৫৯. মুসলিম শরিফ: ৮।
৬০. দারেমি: ১০৮।
৬১. দারেমি: ১০৮। তালাক বিন হাবিব শিয়াদের রজাআত অর্থাৎ হযরত আলি রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর পুনরায় প্রত্যাবর্তন করবেন এমন বিশ্বাস রাখেন বলে অভিযোগ ছিল।
৬২. দারেমি: ১১০।
📄 পাপীদের সমর্থন না করা
এ ছাড়াও পবিত্র কুরআন-হাদিসে অপরাধীদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা এবং তাদের প্রতি ভরসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ.
অর্থ: আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরও আগুনে ধরবে。
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ মান্য করে আল্লাহর কাছে দুআ করেন,
قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ.
অর্থ: তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না。
আর হযরত হাতেব ইবনু আবি বালতাআ রাযি. যখন তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে মুশরিকদের কাছে যুদ্ধের খবরাখবর পত্রমারফত প্রেরণ করে তাদের নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করলেন, আল্লাহ তাআলা তখন তার বিষয়ে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেন। যে ঘটনা বুখারি ও মুসলিম শরিফের নিম্নোক্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আলি রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের, মিকদাদ এবং আমাকে বিশেষ কাজে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী 'রওজা খাখ' স্থানে যাও। সেখানে উটের পিঠে আরোহী এক নারী আছে। তার কাছে একটি গোপন চিঠি আছে। তোমরা তার কাছ থেকে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে ছুটে চললাম। সেখানে গিয়ে আমরা এক নারীকে পেলাম。
আমরা তাকে বললাম, চিঠি বের করে দাও। সে বলল, আমার কাছে কোনো চিঠি নেই। আমরা বললাম, তোমাকে চিঠি বের করতেই হবে, অন্যথায় তোমার পোশাকাদি খুলে ফেলেতে হবে। এরপর সে তার চুলের বেণির মধ্য থেকে তা বের করে দিলো। তখন আমরা তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম। চিঠিতে দেখা গেল যে, হাতেব ইবনু আবু বালতা রাযি.-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতক মুশরিকের প্রতি লেখা ছিল। তিনি এই চিঠিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের গোপন তথ্য তাদের নিকট ফাঁস করে দিয়েছিলেন。
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতেব! তুমি এ কী কাজ করলে? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশের একজন লোক। " আর আপনার সঙ্গী মুহাজির সাহাবাদের অনেকের আত্মীয়স্বজন মক্কায় রয়েছে, তাদের মাধ্যমে নিজেদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছিল। তাই আমি মনস্থ করলাম, কুরাইশের সঙ্গে যখন আমার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, তখন তাদের প্রতি এমন কোনো (কাজ) উপকার করি, যার কারণে তারা আমার পরিবার-পরিজন রক্ষা করবে। আমি এ কাজটি এ জন্য করিনি যে, আমি কাফের হয়ে গেছি কিংবা দ্বীন থেকে মুরতাদ হয়েছি। আমি ইসলাম গ্রহণের পরে কুফরের প্রতি আসক্তও হইনি。
তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে। উমর রাযি. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শরিক হয়েছিল এবং তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ তাআলা বদরি সাহাবাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বলেছেন,
اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ.
অর্থ: তোমরা যা খুশি করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।
এরপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ.
অর্থ: হে মুমিনগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।
আরও শক্তিধর মহান রাব্বুল আলামিন কতক সম্প্রদায়ের প্রতি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করে বলেছেন,
أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
অর্থ: অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্য খুবই নিকৃষ্ট প্রতিদান。
এরা এমন সম্প্রদায়, যাদের হৃদয়ে বোধশক্তি সামান্য এবং যাদের পেটে চর্বির পরিমাণ বেশি। তাদের আড্ডা এবং কথাবার্তা থেকে বুঝে আসে, তারা কখনই কুরআনের উপদেশ শোনেনি। সুতরাং সাবধান হও, তাদের মতো লোকদের আড্ডায় বসো না。
বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দুজন কুরাইশি এবং একজন সাকাফি অথবা দুজন সাকাফি এবং একজন কুরাইশি ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষ্মজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন, তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন,
وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ.
অর্থ: তোমরা গোপন করতে পারবে না এ জন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে。
এমনইভাবে যখন হযরত নুহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় এমন বস্তুর অনুসরণ করেছিল, যা তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করেনি, তখন তারা বিপদ ও বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল। তারা ডুবে গিয়েছিল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করেছিল। আর তখন তারা আল্লাহ ছাড়া তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পায়নি。
টিকাঃ
৬৩. সুরা হুদ: ১১৩।
৬৪. সুরা কাসাস: ১৭।
৬৫. সুফিয়ান রহ. বলেন, তিনি কুরাইশের মিত্র গোত্রের ছিলেন, সরাসরি কুরাইশ গোত্রভুক্ত ছিলেন না।
৬৬. সুরা মুমতাহিনা: ১। আবু বকর ও যুহায়ের রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আয়াতের উল্লেখ নেই। ইসহাক রহ. তার বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফিয়ানের তেলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৬৭. সুরা কাহাফ: ৫০।
৬৮. সুরা ফুসসিলাত: ২২; বুখারি শরিফ: ৭৫২১; মুসলিম শরিফ: ৭৭৫।
📄 জালেমদের মৃত্যুর পরও তাদের নিকটে যাবে না
আর জালেমদের মৃত্যুর পরও উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে তাদের কাছে যাবে না। হযরত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হওয়া জাতির নিকট যেতে নিষেধ করেছেন। যদি কেউ যেতে চায় তাহলে কান্নারত অবস্থায় যেতে বলেছেন। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِ الْحِجْرِ لَا تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الْمُعَذِّبِينَ إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাবে হিজর (সামুদ সম্প্রদায়) সম্পর্কে সাহাবাদের বলেছেন, শাস্তিপ্রাপ্ত এ সম্প্রদায়ের ওপর দিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় তোমরা পথ অতিক্রম করবে। অন্যথায় (যদি তোমাদের কান্না না আসে) তাদের এলাকায় কিছুতেই প্রবেশ করবে না। যাতে এমনটি না ঘটে; যে আজাব তাদের ওপর নাজিল হয়েছিল, অনুরূপ তোমাদের ওপরও নাজিল হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলার বাণী,
وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُم مَّا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَد تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنكُم مَّا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ.
অর্থ: তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, যেমন আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবি ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবি উধাও হয়ে গেছে。
টিকাঃ
৬৯. বুখারি শরিফ: ৩৩৮১; মুসলিম শরিফ: ২৯৮০।
৭০. সুরা আনআম: ৯৪।