📘 সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ > 📄 নবীজির সাহচর্যে সাহাবাদের মধ্যে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে

📄 নবীজির সাহচর্যে সাহাবাদের মধ্যে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতি ও তাঁর কুরআন তেলাওয়াত সাহাবাগণকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছিল। আর যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বোত্তম রাসুল এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাবই সর্বোত্তম কিতাব, সেহেতু তাঁর জাতি সর্বোত্তম জাতি এবং তাঁর সাহাবাগণ হলেন সর্বোত্তম মানুষ। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে এত আগ্রহের সাথে বসতেন, যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। আর তারা পাখি যেন উড়ে না যায় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক। এরপর যখন তারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সাথে মিলতেন তখন তাদের পরকাল-ভাবনা তেমনটা থাকত না। যেমনটা সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে,
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন পত্রবাহক হানজালা আল-উসাইদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বকর রাযি. আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে হানজালা! তুমি কেমন আছ? আমি বললাম, হানজালা মুনাফিক হয়ে গেছে! তিনি (আশ্চর্য হয়ে) বললেন, সুবহানাল্লাহ! এ কী কথা বলছ? আমি বললাম, (কথা এই যে, যখন) আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থাকি, তিনি আমাদের সামনে এমন ভঙ্গিমায় জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করেন, যেন আমরা তা স্বচক্ষে দেখছি। অতঃপর যখন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে বের হয়ে আসি, তখন স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য (পার্থিব) কারবারে ব্যস্ত হয়ে অনেক কিছু ভুলে যাই। আবু বকর রাযি. বললেন, আল্লাহর কসম! আমারও তো এই অবস্থা হয়। সুতরাং আমি ও আবু বকর রাযি. গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! হানজালা মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কী কথা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যখন আপনার নিকট থাকি, তখন আপনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের কথা এমনভাবে শুনান; যেন আমরা তা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করছি। অতঃপর আমরা যখন আপনার নিকট থেকে বের হয়ে স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও কাজ-কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন অনেক কথা ভুলে যাই। (এ কথা শুনে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা সর্বদা এই অবস্থায় থাকতে, যে অবস্থাতে তোমরা আমার নিকটে থাকো এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতে, তাহলে ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের পথে তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। কিন্তু হে হানজালা! (সর্বদা মানুষের এক অবস্থা থাকে না) কিছু সময় (ইবাদতের জন্য) ও কিছু সময় (সাংসারিক কাজের জন্য) তিনি এ কথা তিনবার বললেন।

টিকাঃ
২৫. মুসলিম শরিফ : ২৭৫০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00