📄 ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁরই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। তাঁরই কাছে সাহায্য চাই ও তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই আমাদের নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকে। তিনি যাকে পথহারা করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনইভাবে ভয় করতে থাকো এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।'
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا.
অর্থ: হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য কামনা করে থাকো এবং আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।২
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا.
অর্থ: হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।
হামদ ও সালাতের পর, অবশ্যই আল্লাহর কিতাবই সর্বাধিক সত্য বাণী এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত ও পথনির্দেশনাই সর্বাধিক উত্তম হেদায়েত ও পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীন ও ধর্মে নতুন কিছুর উদ্ভাবন করা। অবশ্যই দ্বীনের ক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত সকল কিছুই বেদাত। আর প্রত্যেক বেদাতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামের উপকরণ。
আমরা মুসলিম জাতি আল্লাহ তাআলার গোলাম। আমরা আমাদের মধ্যে ইসলাম এবং উবুদিয়্যাত-এই দুই গুণের সমাহার ঘটিয়েছি। ইসলাম শব্দের অর্থ আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ ও তাঁর আনুগত্য। আর উবুদিয়্যাহ অর্থ আল্লাহর সমীপে নিজেকে অবনত করা ও তুচ্ছজ্ঞান করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা ও আনুগত্য করা।
আল্লাহকে আমাদের রব এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে আমরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের নবী ও রাসুল হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত।
আল্লাহর গোলাম হওয়াতেই আমরা খুশি ও আনন্দিত। বরং আমরা আল্লাহর গোলাম হওয়াতেই গর্ববোধ করি। এ জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করি। তাই আমরা যা চাই তা করতে পারি না। যেভাবে ইচ্ছা কথা বলতে পারি না। যেভাবে ইচ্ছা চলতে পারি না। মুক্ত ও স্বাধীন চিন্তা করতে পারি না। যার-তার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারি না এবং যেখানে-সেখানে বসতে পারি না। বরং আমরা সেভাবেই বসব, যেভাবে আল্লাহ তাআলা বসতে নির্দেশ করেছেন। সেখানেই বসব, যেখানে বসতে আদেশ করেছেন। তাদের সাথেই বসব, যাদের সাথে বসতে বলেছেন।
আমরা সেভাবেই কথা বলব যেভাবে আল্লাহ তাআলা কথা বলতে বলেছেন এবং যেখানে বলতে বলেছেন। আমাদের রব যেসব কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকব। আমরা সেভাবেই চিন্তা করব, যেভাবে চিন্তা করাকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। সেদিকেই তাকাব, যেদিকে তাকাতে তিনি বলেছেন। যেসব কথা তিনি শুনতে বলেছেন, সেগুলো শুনব। যেগুলো তিনি উপেক্ষা করতে বলেছেন, সেগুলো উপেক্ষা করব।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
অর্থ: নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।
সুতরাং আমরা আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি কদম উঠাব না, একটি পদক্ষেপও নেব না, একটি শব্দও উচ্চারণ করব না, এক পলকও দৃষ্টি প্রসারিত করব না এবং একটি শব্দও শুনব না। যখনই আদেশ হবে আমরা তখনই তাই শুনব এবং মানব। আর যখনই নিষেধ করা হবে আমরা বিরত থাকব এবং বাধ্য থাকব। এ সবকিছুই ইসলাম ও উবুদিয়্যাতের চাওয়া ও দাবি।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا.
অর্থ: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে অধীকার নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلُّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ.
অর্থ: রাসুল বিশ্বাস রাখেন ওই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং গ্রহণ করেছি। আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ.
অর্থ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে, তারাই কৃতকার্য।'
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا.
অর্থ: অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, তারা ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নেবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ. إِنَّهُمْ لَنْ يُغْنُوا عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ.
অর্থ: এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরিয়তের ওপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আল্লাহর সামনে তারা আপনার কোনো উপকারে আসবে না। জালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ মুত্তাকিদের বন্ধু।"
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ. وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করো এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনে না।১০
এই প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য আয়াত রয়েছে। এটি আমাদের দ্বীন ও ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলোর অন্যতম।
এ জন্যই পূর্বে বলেছি যে, আমরা যার সাথে ইচ্ছা, তার সাথে বসতে পারি না। বরং তার সাথে বসি, আল্লাহ তাআলা যার সাথে বসার আদেশ করেছেন। সেই ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করি, আল্লাহ তাআলা যার সঙ্গ ত্যাগ করার আদেশ করেছেন। সেই ব্যক্তিকে বর্জন করি, আল্লাহ তাআলা যাকে বর্জন করতে বলেছেন। সেই ব্যক্তির বন্ধুত্ব গ্রহণ করি, আল্লাহ তাআলা যার বন্ধুত্ব গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এতেই আমাদের সম্মান ও মর্যাদা নিহিত। যে কেউ আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও আনুগত্যে যত এগিয়ে যাবে আল্লাহর কাছে সে তত সম্মানিত হবে। এ জন্যই পবিত্র কুরআনে ফেরেশতাদের প্রশংসা করে 'ইবাদুম মুকরামুন' বা 'সম্মানিত বান্দাগণ' বলা হয়েছে। কেননা তারা সৃষ্টিজীবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুগত। তারা আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করেন না এবং তিনি তাদের যা বলেন তারা তাই করেন।
তাই আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ.
অর্থ: আমি কোনো কিছু লিখতে বাদ দিইনি, অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।”
তিনি সুস্পষ্ট ও সমুজ্জ্বল বক্তব্যে কুরআনুল হাকিমের বিভিন্ন আয়াতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা কার সাথে বসব, কোথায় বসব, কাদের থেকে দূরে থাকব এবং কাদের পরিত্যাগ করব। দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সঙ্গী ও তার সাহচর্যের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বহু দুর্ভাগার দুর্ভাগ্যের কারণ তার অসৎ সঙ্গী; যাকে সে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছিল। বহু পথভ্রষ্ট লোকের বিভ্রান্তির কারণ তার মন্দ ও দুষ্ট সঙ্গী; যার সাহচর্যের মন্দ প্রভাব তাকে নষ্ট ও ধ্বংস করে দিয়েছে।
এ জন্যই তুমি যদি জেলখানায় গিয়ে বন্দিদেরকে জেলে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করো, তাহলে দেখবে তাদের অধিকাংশই বলবে, তাদের জেলে আসার পেছনে এবং তারা যে সকল অপরাধ ও অন্যায় করেছে, তার জন্য তাদের সেই দুষ্ট বন্ধুরা দায়ী। তারাই তাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দোষী।
আখেরাতেও এমনটা হবে। বহু মানুষ তার অসৎ সঙ্গীর কারণে জাহান্নামের শাস্তির মহাদুর্ভোগে নিপতিত হবে। যেখানে সে না মরতে পারবে, আর না পারবে বেঁচে থাকতে। কত মানুষ মুসলমান হয়ে সরল পথে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু লাঞ্ছিতরা তাকে লাঞ্ছিতের উপযুক্ত বানিয়েছে এবং নষ্টরা তাকে ধ্বংস করেছে। ফলে সে জাহান্নামি হয়েছে।
পক্ষান্তরে সৎ লোকদের সাহচর্য অবলম্বনের কারণে বহু মানুষকে আল্লাহ তাআলা সৌভাগ্যমণ্ডিত করেছেন। জান্নাতসমূহের মালিক বানিয়েছেন এবং তার অপরাধসমূহ ক্ষমা করেছেন। তার দোষগুলো গোপন করেছেন।
সঙ্গী-সাথি ও তাদের সাহচর্য গ্রহণে নিজের ও অন্য ভাইদের আল্লাহর হুকুম মনে রাখার জন্য এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু বাণীর ব্যাখ্যাস্বরূপ কয়েকটি পৃষ্ঠা লিখলাম।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি এর দ্বারা আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করুন এবং আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন ও স্বীয় রহমতে তাঁর নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদেরকে নেককারদের সাথে মৃত্যু দান করুন এবং কেয়ামতের দিন তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহিদ ও সৎ লোকদের সাথে আমাদের একত্রিত করুন। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই-না উত্তম!
আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(আবু আবদুল্লাহ) মুস্তফা ইবনু আল-আদাবি
মিনয়াত, সামনুদ, আজা, দাকাহলিয়াহ, মিশর
টিকাঃ
১. সুরা আলে ইমরান: ১০২।
২. সুরা নিসা: ১।
৩. সুরা আহযাব: ৭০-৭১।
৪. সুরা ইসরা: ৩৬।
৫. সুরা আহযাব: ৩৬।
৬. সুরা বাকারা: ২৮৫।
৭. সুরা নূর: ৫২।
৮. সুরা নিসা: ৬৫।
৯. সুরা জাসিয়াহ: ১৯।
১০. সুরা আনফাল: ২০-২১।
১১. সুরা আনআম: ৩৮।
📄 লেখক পরিচিতি
শাইখ মুস্তফা আল আদাবি। মিশরের অন্তর্গত কাহলিয়া থানাধীন মানিয়াহ সামানুদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি তার গ্রামের আলেমগণের নিকট হিফজুল কুরআন সমাপ্ত করেন। হিফজুল কুরআন সমাপ্তির পর তিনি নিয়মতান্ত্রীক পড়ালেখা শুরু করেন এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। অতঃপর তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। ১৩৯৭-৯৮ হিজরী শিক্ষাবর্ষে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সমাপ্ত করেন।
অতঃপর তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন এবং একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি বুখারী, মুসলিম এবং ফিকহ ও তাফসির শিক্ষাদান শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে তার খ্যাতি ও ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে মসজিদ ও পাঠাগার স্থাপন করেন। ফিকহ, উসুলে ফিকহ, হাদিস, মুসতলাহুল হাদিস ও তাফসিরসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার রচিত বহু গ্রন্থাদি রয়েছে।
যেমন: আল জামে লি-আহকামিন নিসা, আল জামিউল আম ফিল ফিকহি ওয়াল আহকাম, আল বায়ান ফি মাআনি কালিমাতিল কুরআন, আন নুরুস সারি শরহুল বুখারী প্রভৃতি।
বর্তমানে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন। আল্লাহ তাআলা তার হায়াতে বরকত দান করুন। আমিন।
https://t.me/islamic_fdf