📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 বাবা, সবাই তখন আমাকে পতিত বলে ডাকবে!

📄 বাবা, সবাই তখন আমাকে পতিত বলে ডাকবে!


* 'বাবা জানো, স্যার আজ আমাদের এক ইয়াহুদির ঘটনা শুনিয়েছেন। সে নবিজির ঘরের দরজায় আবর্জনা স্তূপ করে রাখত।'
* 'না বাবা, ঘটনাটি সঠিক নয়। স্যার যখনই তোমাদের কোনো হাদীস শুনাবেন তাকে সম্মানের সাথে বলবে, 'স্যার, দয়া করে জানাবেন, হাদীসটি কি সহীহ?'
* 'আচ্ছা ঠিক আছে। তিনি আমাদের আরও বলেছেন যে, বুধবারে নখ কাটা একেবারেই অনুচিত।'
* 'না বাবা, এই কথাটিও সঠিক নয়। যখন স্যার তোমাদের কোনোকিছু সম্পর্কে হালাল-হারাম বা উচিত-অনুচিত বলবেন তাকে জিজ্ঞেস করবে, 'স্যার, এর স্বপক্ষে দলীল কী?'
* 'আচ্ছা বাবা, সেদিন অন্য এক শিক্ষক ব্যাংকের সুদকে সাধারণ বিষয় বলেছিলেন। বলেছিলেন এগুলোর নাম সুদ নয়, মুনাফা।'
* 'তাকে বলবে, 'স্যার, আপনি যেটিকে মুনাফা বলছেন মহান আল্লাহর দ্বীনে এর হুকুম কী?'
* 'কিন্তু বাবা, সব কিছুতে এভাবে প্রশ্ন তুললে সবাই আমাকে নিয়ে উপহাস করবে। তারা বলবে, 'পণ্ডিত হয়ে গেছ নাকি?!'
* 'আমি তোমাকে একটি প্রশ্ন করি—ধরো, তোমাদের স্কুলে কোনো আইকিউ টেস্ট হলো আর তুমি সর্বোচ্চ মার্কস অর্জন করলে, তখন সবাই তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করল, তোমাকে মেধাবী বলে ক্ষেপাতে লাগল, 'এই যে মেধাবী' বলে ডাকতে লাগল তখন তুমি লজ্জিত হবে নাকি গর্বিত?'
☆ 'গর্বিত হব।'
* 'তারা এসমস্ত কথা বলার কারণে তাদেরকে ভালো মনে হবে নাকি তাদের ওপর করুণা হবে তোমার? কারণ তারা তোমার মেধাকেও উপহাসের বস্তু বানিয়ে নিয়েছে।'
☆ 'তাদের ওপর করুণা হবে।'
* 'ঠিক এরকমই দাঁড়ায় যখন তারা তোমার কোনো সুন্দর বা ভালো দিক নিয়ে হাসিমজা করে। ঠিক আছে?'
☆ 'হুম। তবে বাবা, নিজের সৌন্দর্য, মেধা, সম্পদ—এসবের জন্য গর্ব করতে নেই। কারণ এগুলো সবই আল্লাহর অনুগ্রহ, আমার নিজস্ব অর্জন নয়। ঠিক বলেছি?'
* 'জি। তবে যে বিষয়টি নিয়ে তুমি সত্যিই গর্ব করতে পারো সেটি হলো, তোমার মুসলিম পরিচয়। যে মুসলিম আল্লাহকে সম্মান করে, নিজের প্রতিটি চালচলনে তাঁর বিধানকে গুরুত্ব দেয়। এমন মুসলিম হয়ে তুমি গর্ববোধ করতে পারো যে প্রতিটি তথ্যকে যাচাই-বাছাই করে দেখে, একজন জ্ঞানী মুসলিম তো এমনই হয়।'

তাই ছেলেরা যখন তোমাকে ‘পণ্ডিত হয়ে গেছ নাকি’ বলে ক্ষেপাবে তখন স্পষ্টভাবে তাদের বলবে, ‘দেখো, আমি একজন মানুষ যার জীবনে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। সবাই তো জানো যে, আল্লাহ আমাকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি, তাঁর নিকট আমার ফিরে যেতেই হবে। তাই তাকে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়টিকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। কারণ তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন ও তুচ্ছ। সহজ কথায় একেই মুসলিম বলে। কী তোমরাও কি মুসলিম হতে চাও না নাকি?’

সন্তানকে ইসলাম নিয়ে গর্বিত হতে শেখান।

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 মাপকাঠি

📄 মাপকাঠি


কোনো এক মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রীদের মাঝে ছেলে-মেয়ের পারস্পরিক মেলামেশার বিষয়ে মতানৈক্য দেখা দিলো। একদল মনে করে 'ভালো উদ্দেশ্য' থাকলেই যথেষ্ট হবে, কিন্তু অপরপক্ষের মত হলো শারীআতের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মানতেই হবে。
'আমরা তো এখনো ছোটো।'
* 'ছোটো কিংবা বড়ো হওয়াটা কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে? তা ছাড়া প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল, শারীআত তার ওপর দায়িত্ব চাপিয়েছে কি না? তার কাছ থেকে হিসেব গ্রহণ করা হবে নাকি সে বিনা হিসেবে পার পেয়ে যাবে?'
* 'যা-ই বলো না কেন, মেলামেশার কাজটা অত খারাপ কিছু না।'
☆ "খারাপ কিছু না' কোন হিসেবে বললে? সমাজ নাকি শারীআতের মানদণ্ডে?'
* 'তুমি দেখছি মাত্রাতিরিক্ত হুজুর হয়ে গেছ!'
আলোচনা এখানে এসে থেমে গেল। একসময় ঘটনা শিক্ষিকার কান পর্যন্ত পৌঁছল। তিনি ক্লাসরুমে আসলেন। কোনো রকম ভূমিকাতে না গিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলেন, 'এই টেবিলটি ছোটো নাকি বড়ো?'
একজন বলল, 'বড়ো।' সাথে সাথে অপর পাশ থেকে উত্তর এল, 'না, ছোটো।' তৃতীয়জন বলল, 'মাঝামাঝি।'
শিক্ষিকা : 'তোমরা এভাবে মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়লে! এখন মেয়েরা বলো, এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কী?'
* একজন বলল, 'ছোটো আর বড়োর সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে।'
* 'বাহ! এবার বলো, সংজ্ঞা নির্ধারণের পর কী করতে হবে?'
* 'একটি স্কেল লাগবে। যাতে মেপে নির্ধারণ করে বলা যায় যে, জিনিসটা ছোটো নাকি বড়ো।'
* 'মা শা আল্লাহ! বেশ ভালো বলেছ। এভাবেই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি স্কেলের প্রয়োজন। মাপকাঠি না থাকলে আমরা মতানৈক্য করেই যাব। মেয়েরা, এখন বলো তো দেখি, কোন সে স্কেল যেটা দিয়ে আমরা জীবনের সবকিছু মাপতে পারি?'
'সমাজ।'
* 'আচ্ছা। কিন্তু সমাজ যদি পালটে যায়?' ছাত্রীরা সবাই চুপ。
একজন বলল, 'তা হলে আমাদের বাবা-মা যে শিক্ষা দিয়েছেন সেটি।'
* 'কিন্তু তারাও যদি তোমাদের মতো মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়ে।'
* 'তা হলে, বোধবুদ্ধি।'
* 'সবার বোধবুদ্ধি কি এক রকম?'
* 'না।'
* 'তা হলে তখন কার বোধবুদ্ধি দিয়ে আমরা চলব?' সবাই চুপ। আরেকজন বলল, 'তা হলে যুক্তি দিয়ে বিচার করব।'
* 'তোমার নিকট যেটা যুক্তির, সেটা কি সবার নিকট যুক্তিপূর্ণ বলে গণ্য হবে?'
* 'না।' আবার সবাই চুপ。
* 'আচ্ছা তোমরাই বলো, সমাজ, প্রচলন, পারিবারিক শিক্ষা, বোধবুদ্ধি, যুক্তি এসব তোমাদের সঠিক পথ দেখাবে বলে কোনো নিশ্চয়তা কি আছে?' মেয়েরা চুপচাপ ভাবছে। শেষমেশ 'মাত্রাতিরিক্ত হুজুর হয়ে যাওয়া' মেয়েটি বলল,
'আমরা শারীআ দিয়েই সবকিছু মাপব।'
* 'একদম ঠিক বলেছ। আমার মেয়েরা, আমরা সবাই মুসলিম। তোমরা কি জানো, মুসলিম বলতে কী বুঝায়? মুসলিম হলো যারা একমাত্র আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করে। টু শব্দটিও করে না। আল্লাহ তাআলা কী বলেছেন শোনো-
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তের নেওয়ার ক্ষমতা নেই।”[৭৭]
وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيْهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ
“আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, এর ফয়সালা আল্লাহর নিকটেই সোপর্দ।”[৭৮]
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا *
“যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তা হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামাত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।”[৭৯]
আমার মেয়েরা, আমরা অনেক সময় ভুল করি, কখনো-বা শারীআতের বিধানকে অমান্য করি কিন্তু একটি বিষয় একেবারে স্পষ্ট থাকা উচিত। আর তা হলো : শারীআতের বিধানই হলো একমাত্র সঠিক ও নির্ভুল।
আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিতা শিক্ষিকাকে কবুল করুন। তাদের মতো ব্যক্তি আরও বৃদ্ধি করুন। আহ, তাদের সংখ্যা কতই-না কম!
আপনার সন্তানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষাটি দেবেন তা হলো : শারীআতই আমাদের জীবনের মাপকাঠি। সবকিছু পরিচালিত করতে হবে কেবল শারীআত নির্ধারিত পদ্ধতিতেই。

টিকাঃ
[৭৭] সূরা আহযাব, ৩৩: ৩৬。
[৭৮] সূরা শূরা, ৪২: ১০。
[৭৯] সূরা নিসা, ৪:৫৯。

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 বাবা, তুমি আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ করে ফেলেছো!

📄 বাবা, তুমি আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ করে ফেলেছো!


পুত্র : 'বাবا, আমাকে একটি অ্যান্ড্রয়েড সেট কিনে দাও।'
পিতা: 'কিন্তা বাবা, এখন তুমি এর জন্য মোটেও উপযুক্ত নও। কেন নও সেটা এর আগেও ব্যাখ্যা করেছি। আমি তোমার কল্যাণ চাই আর তোমার ব্যাপারে একদিন আল্লাহর দরবারে আমি জিজ্ঞাসিত হব।'
পুত্র : 'বাবা, এর মাধ্যমে তুমি আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ করে ফেলছো।'
কন্যা: 'বাবা, ঈদ উপলক্ষে আমার এই পোশাকটা চাই-ই চাই।'
পিতা: 'না মা, এটা উলঙ্গ কাপড়। ইসলামসম্মত নয়।'
কন্যা: 'বাবা, এর মাধ্যমে তুমি আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ করে তুলছো।'
স্ত্রী : 'সন্তানদের এভাবে চাপে রেখো না। কেন শুধু শুধু তাদের সামনে দ্বীনকে এভাবে কষ্টের বানিয়ে ফেলছো?...'
মা (সন্তানদের দাদী) : 'এভাবে চাপ দিয়ো না। দ্বীনের ব্যাপারে তারা বিরক্ত হয়ে পড়বে।...'
পিতা: 'সবাই বসো। আমি কী বলছি মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমার দায়িত্ব হলো, সন্তানদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূল -এর আনুগত্যের ওপর গড়ে তোলা। যে বিষয়ে আমি তাদের আদেশ করব সে ক্ষেত্রে আমিই তাদের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত হব। যদ্দুর সম্ভব তাদের নিকট আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর দ্বীনকে প্রিয় করে তুলব। সেসাথে আমার আরও দায়িত্ব হলো, তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা, দুনিয়া বা আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন বিষয় থেকে তাদের রক্ষা করা, তাদের সঙ্গ দেওয়া, সঠিক বিকল্প খুঁজে দেওয়া এবং যদ্দুর সম্ভব উপকারী বস্তু দ্বারা তাদের জীবনকে পূর্ণতা দেওয়া। এতসব কিছু করার পর, যে দ্বীনকে আপন করে নেবে সে সফল, অপরদিকে যে ঘৃণার চোখে দেখবে তার ব্যাপারে,

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ
"আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না।” [৮০]

'বেশি চাপ দিয়ো না, তারা দ্বীন থেকে উদাসীন হয়ে পড়বে' এমন কথা আপনারা আমাকে বলবেন না। তখন তারা সুযোগ পেয়ে যাবে, আমাকে আল্লাহর অবাধ্য হতে বাধ্য করবে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমরা দ্বীন থেকে বিমুখ হবে ভেবে আমি আমার রবের অবাধ্য হতে পারি না। আল্লাহ তাঁর নবি-কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِوَكِيْلٍ *

“আপনি বলুন, 'হে লোকসকল, তোমাদের রবের কাছ থেকে তোমাদের নিকট সত্য চলে এসেছে। কাজেই যারা সৎপথ অবলম্বন করবে তারা তো নিজেদের মঙ্গলের জন্যই সৎপথ অবলম্বন করবে, আর যারা পথভ্রষ্ট হবে তারা পথভ্রষ্ট হবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য এবং আমি তোমাদের ওপর কর্মবিধায়ক নই।” [৮১]

“আমি তোমাদের ওপর কর্মবিধায়ক নই”-এর অর্থ হলো, তোমাদের সঠিক পথে চলতে বাধ্য করার দায়িত্ব আমার ওপর বর্তায় না। বরং তোমাদের বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ। তিনিই তোমাদের মধ্যে যাকে চান, সঠিক পথে অটল রাখবেন。

তাই তোমাদের প্রতি আমার যা কর্তব্য রয়েছে আমি তা পালন করেই যাব। এই ক্ষেত্রে আল্লাহর অবাধ্যতা আমি করতে পারব না। যে ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে আমি তোমাদের বাধ্য করব। আমি চাই আল্লাহ তোমাদের সঠিক পথ দেখান, নিশ্চয় আল্লাহ যা চান তা-ই করেন。

[বি. দ্র. : এটি একটি সাধারণ সংলাপ। আমার সাথে এমন কিছু ঘটেনি, আলহামদুলিল্লাহ। এক ভাই এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন বিধায় ভাবলাম এদিকে একটু ইঙ্গিত দিই。]

টিকাঃ
[৮০] সূরা কাসাস, ২৮: ৫৬。
[৮১] সূরা ইউনুস, ১০: ১০৮。

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 বাবা, সাওম পালন করতে আমার ভালো লাগে না

📄 বাবা, সাওম পালন করতে আমার ভালো লাগে না


'বাবা, সাওম পালন করা আমার একেবারেই পছন্দ না।'
'না মা, এমনটি করা হারাম। সাওমকে তোমার পছন্দ করতেই হবে। কারণ আল্লাহ এর নির্দেশ দিয়েছেন।'
প্রিয় বাবা/মা, এই ধরনের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আপনি মূলত আপনার সন্তান ও তার ঈমানকে হুমকিতে ফেলে দিলেন, অথচ আপনি ভেবেছেন, তার উপকারই করেছেন। কারণ আপনার এই উত্তর নিম্নোক্ত সম্ভাবনাগুলো তৈরি করে :
এর মাধ্যমে যেন আপনি তাকে শেখালেন, সে যেন দ্বীনের বিষয়ে নিজের অনুভূতি ও মনের ভাব প্রকাশ না করে। যদি দ্বীনের কোনো বিষয়ে তার বিরক্তিভাব তৈরি হয়, তা হলে সে যেন তার বিরক্তিভাব নিজের মধ্যেই পুষে রাখে। যার ফলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে নিফাকের ডালপালা বিস্তৃত হতে থাকবে!
যেন আপনি তাকে জানালেন, ইসলাম হলো সম্পূর্ণ অবাস্তবিক একটি দ্বীন। সাধারণত অন্তর যা অপছন্দ করে, ইসলাম তা পছন্দ করতে একপ্রকার বাধ্য করে!
'আচ্ছা, তা হলে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব কী হবে?'
তাকে বলবেন, 'বাবা, সাওম পালনের কারণে চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা হয়, আর এটিই তোমার অপছন্দের তাই তো। তুমি খেতে চাইলে কেউ তোমাকে বাধা দিক সেটি তোমার পছন্দ না। না খেতে পেয়ে শরীরে দুর্বলতা আসুক, যা তোমার ভালো লাগে না। স্বাভাবিক, ভালো না লাগারই কথা। কিন্তু দেখো, মহান আল্লাহ তাআলা কী বলেছেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهُ لَّكُمْ
“তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয়।”[৮২]
এই অনুভূতির সাথে কিন্তু আরেকটি অনুভূতিও রয়েছে। আল্লাহর আনুগত্য করতে পারার সুখানুভূতি। নিজের পছন্দকে বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ পেশ করতে পারার এক অনাবিল আনন্দের অনুভূতি। সাওমের বিনিময়ে আল্লাহ তোমাকে যে জান্নাত দান করবেন সে সম্পর্কে ভাবতে পারার আনন্দ। এই অনুভূতিগুলোর স্বাদ কতই-না সুমিষ্ট, সেই কষ্টের তুলনায় যা তুমি আল্লাহর জন্য পরিত্যাগ করো।'
'বাবা, খাবার থেকে বিরত থাকার প্রতি তোমার যে অপছন্দভাব রয়েছে, আনন্দের এই অনুভূতি একে হার মানাবে। তবুও যদি তোমার মনে হয় যে, আনন্দের অনুভূতি অপছন্দভাবকে হার মানাতে পারছে না তা হলে আগের সে অর্থগুলোকে আবার স্মরণ করো। দেখো, আল্লাহ তাআলা কীভাবে বলেছেন,
وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوْا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
"তোমরা যা অপছন্দ করো, হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যা পছন্দ করো, হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।”[৮০]
ঠিক এভাবেই একদম সহজ করে বিষয়টি তাদের নিকট স্পষ্ট করুন। এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করুন, যা তাদের মনের ভাব প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে না, আপনার জবাব শুনে ইসলামকে তাদের নিকট অবাস্তবিক কিছু মনে হবে না। ঠিক এভাবেই তাদেরকে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝিয়ে বলুন যখন রমাদান শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদেরকে আনন্দিত হতে দেখবেন。

টিকাঃ
[৮২] সূরা বাকারা, ২: ২১৬。
[৮৩] সূরা বাকারা, ২: ২১৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00