📄 পর্যাপ্ত পুরুষ
অনেক সময় বিভিন্ন জরুরি কারণে পুরুষদের ঘরে অবস্থান করতে হয়। তখন ভালোবাসা বৃদ্ধির সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, সন্তানদের সামনে সেই কাজগুলো নিজে হাতে করা, যা সাধারণত ঘরের গৃহিণীরা করে থাকে। যেমন: ঘর পরিচ্ছন্ন করা, খাবার তৈরি করা, খাবার পরিবেশন করা ইত্যাদি। আর এসব কাজে সন্তানদেরও অংশীদার করানো উত্তম।
এর মাধ্যমে আপনি যেন আপনার স্ত্রীকে বললেন, 'আমি এই কাজগুলোকে ছোটো মনে করি না। সাধারণ দিনগুলোতে আমি অন্যান্য দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার কারণে এই দায়িত্ব তোমার কাঁধে এসে বর্তায়। এখন যখন তোমাকে সহযোগিতা করার সুযোগ পেলাম দেখ কত খুশি মনে কাজ করছি।' তখন স্ত্রীর হৃদয় আনন্দে আটখানা হয়ে পড়বে।
এই কাজের কারণে সন্তানদের নিকট যে বার্তা যাবে তা হলো, 'তোমরা তোমাদের মাকে সাহায্য করো। আমি এক্ষেত্রে তোমাদের আদর্শ। দেখো, তোমাদের আদেশ দেওয়ার আগে আমি নিজেই কাজটি করছি।'
অনেককেই পাবেন যারা এই কথাগুলোকে ঠিক মেনে নিতে পারেন না কিংবা উপহাস করেন; জেনে রাখবেন, এতটুকুই যথেষ্ট যে এই কাজটি 'সর্বোত্তম পুরুষ' ও নবি-রাসূলদের সর্দার নবি -এরও সুন্নাহ। যার প্রতিটি সময় ছিল সবচেয়ে মূল্যবান, আয়িশা -কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল,
مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟
'নবি ঘরে থাকাকালীন কী কাজ করতেন?'
তিনি জবাব দিয়েছিলেন,
كَانَ يَكُوْنُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ - تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ - فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ
“তিনি ঘরে পারিবারিক কাজগুলো করতেন—অর্থাৎ তাদেরকে সহায়তা করতেন—আর সালাতের সময় হলে সালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে যেতেন।”[৭১]
অন্য এক হাদীসে আয়েশা রাসূলুল্লাহ্ সম্পর্কে বলেছেন,
مَا كَانَ إِلَّا بَشَرًا مِّنَ الْبَشَرِ. كَانَ يَفْلِي ثَوْبَهُ - يَعْنِي يُنَظِّفُ ثَوْبَهُ وَيَحْلُبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ
“তিনি তো অন্যান্যদের মতো একজন মানুষই ছিলেন। নিজের কাপড় পরিষ্কার করতেন, বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করতেন।”[৭২]
নিজের পারিবারিক ভিতকে মজবুত করুন। স্ত্রী-সন্তানদের সাথে সহজ হয়ে উঠুন। 'পরিবার' নামক মজবুত এই দুর্গটিকে সুদৃঢ় করুন। পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন।
وَتَزَوَّدُوْا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى "তোমরা পাথেয় অবলম্বন করো। আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো আল্লাহভীতি।”[৭৩]
টিকাঃ
[৭১] বুখারি, ৬৭৬, ৬০৩৯。
[৭২] আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২৬১৯৪。
[৭৩] সূরা বাকারা, ২: ১৯৭。
📄 বাদানুবাদ
* 'সন্তানদের কিছু সময় দাও। তাদের সাথে একটু বসো।'
* 'আমি এখন ক্লান্ত। তুমি গিয়ে বসো।'
* 'মোবাইলটা একটু রাখো। ছেলেদের কিছু পড়াও।'
* 'মাত্র অফিস করে আসলাম। তুমি যাও না!'
* 'ছেলেদের সাথে কিছুক্ষণ খেল। এটা তাদের তারবিয়াতেরই একটি অংশ।'
* 'তুমি গিয়ে খেল। আমি সারাদিন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকি। এখন বিশ্রাম করব।'
প্রিয় বাবা-মা, হাতজোড় করে বলি, এই বাদানুবাদগুলো সন্তানদের সামনে করবেন না। তাদের ওপর চিৎকার চেঁচামেচি করা এবং তাদেরকে প্রহার করার তুলনায় এই ধরনের আলোচনা তাদের আরও বেশি ক্ষতি করে।
আপনি কখনো তাকে প্রহার করলেন, কখনো-বা রাগ ঝাড়লেন, কখনো মাত্রাতিরিক্ত শাসন করে ফেললেন; কিন্তু এসব ওপরে বর্ণিত বাদানুবাদের তুলনায় তুচ্ছ। কারণ আপনি যখন সন্তানের ওপর কঠোরতা দেখালেন, সে বুঝে নেবে এই কঠোরতা তার কল্যাণের জন্যই করা হয়েছে। কিন্তু 'তুমি সময় দাও। না, তুমি দাও' এই জাতীয় অনীহামূলক কথোপকথন তাকে একটি নেতিবাচক বার্তা দেবে। সে বুঝে নেবে যেন আপনারা তাকে বলছেন, 'আমাদের কাছে তুমি মুখ্য বিষয় নও। তোমাকে সময় দিয়ে আমরা কোনোভাবেই স্বস্তি পাই না। তাই আমরা উভয়ে তোমার বোঝা একে অপরের ঘাড়ে তুলে দিয়ে নিজে বাঁচতে চাই।'
লক্ষ করুন কত ভয়ংকর একটি বার্তা তাদের নিকট পৌঁছাচ্ছে! আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। সবসময় মনে রাখবেন,
كُلُّكُمْ رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مَّسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”[৭৪]
টিকাঃ
[৭৪] বুখারি, ২৪০৯; মুসলিম, ১৮২৯。
📄 কন্যা যদি আপনার চোখে আল্লাহর সম্মান দেখতে পেত!
আপনার মেয়ে এখন প্রাপ্তবয়স্ক। এই অবস্থায় এক-দুই বছর অতিবাহিত হলো। তবুও সে এখনো পর্দায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি。
☆ 'নিজের মেয়ের কিছু খবর রাখেন?'
☆ 'তার পর্দা করার ইচ্ছা আছে। তাই আমি আর চাপ দিতে চাই না।'
☆ 'চাপ দিতে চান না.. যখন তাকে হাম, পোলিও, বসন্ত ইত্যাদি রোগ থেকে বাঁচাতে টিকা কেন্দ্রে একপ্রকার জোর করে নিয়ে যান, তখন কি এই চাপের কথা মনে থাকে না?!'
কোনটি অধিক ভয়ংকর? এই রোগগুলো নাকি সে আগুন যা থেকে মহান আল্লাহ তাআলা আপনার মেয়েকে বাঁচানোর নির্দেশ দিয়েছেন?
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا قُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদের সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”[৭৪]
যদি আপনি আপনার মেয়েকে দুনিয়ার কোনো আগুনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখেন তখন তাকে কি এই কথা বলে ছেড়ে দেবেন, 'তার ওপর আমি চাপ প্রয়োগ করতে চাই না!?'
যদি আপনার মেয়ে এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যা অবহেলা করলে দিনের পর দিন মারাত্মক আকার ধারণ করবে, আপনি কি তাকে এক দুই বছর এজন্য ছেড়ে দেবেন যাতে সে নিজ সন্তুষ্টিতে চিকিৎসা করুক? নাকি তাকে পর্দাহীন ছেড়ে দিয়ে দিনের পর দিন আপনি যে গুনাহ কামাচ্ছেন তা দুনিয়ার এসমস্ত রোগবালাইয়ের তুলনায় আপনার নিকট অধিক তুচ্ছ?
বলতেই হয়, যদি মা-বাবা তাদের কন্যাকে শৈশব থেকেই আল্লাহর আনুগত্য ও লজ্জার ওপর গড়ে তুলতেন তা হলে কন্যা এই বয়সে পর্দা না করে পারত না। আচ্ছা অতীতে যা হওয়ার হয়েছে। আপনি অবহেলা করে কাটিয়েছেন। কিন্তু আজ যদি তার বয়ঃসন্ধিকালের এই সময়টাতে তাকে দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে কোমল স্বরে বলতেন, 'মা, তুমি এখন যথেষ্ট সুন্দরী হয়েছ। চলো, আজ তোমার জন্য হিজাব কিনব। এর মাধ্যমে তোমার সম্মান রক্ষা হবে, তুমি সুসংরক্ষিত থাকবে।' আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের নেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো।” [৭৬]
আপনি আল্লাহর হুকুমের সামনে বিনয়ী হয়ে যদি তাকে বোঝাতেন তা হলে সে আপনার দুচোখে আল্লাহ ও তাঁর অবতীর্ণ বিধানের প্রতি সম্মানবোধ দেখতে পেত। এই সম্মানবোধ একসময় তার মধ্যেও স্থান করে নিত।
অপরদিকে তার সাথে যদি এই বিষয়ে লজ্জিত হয়ে কথা বলেন, এমনভাবে কথা বলেন যে, আল্লাহ আপনাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছে তখন আল্লাহর বিধানকে ছোটো করে দেখার এই প্রবণতা তাকেও প্রভাবিত করবে। (অর্থাৎ এভাবে বলা, আমি আসলে তোমাকে বুঝাতে চাচ্ছি.. এখানে মূলত কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি নেই!)
আল্লাহ তাআলা এই কথাগুলো সেই বাবা-মায়ের কানে পৌঁছে দিক যারা সন্তানদের ভালোবাসেন, তাদের কথা ভাবেন। হতে পারে অতীতের ভুল তারা আজ শুধরে নেবেন。
টিকাঃ
[৭৫] সূরা তাহরীম, ৬৬ : ৬。
[৭৬] সূরা আহযাব, ৩৩: ৩৬。
📄 তাদের বুঝতে দিন, আপনি তাদের প্রতি যত্নশীল
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, 'এই যুগে সন্তানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করব কীভাবে? বিশেষ করে এই সময়ে যখন নেতিবাচক ও ভয়ংকর সব প্রভাব তাদের আচ্ছন্ন করে রাখছে?
উত্তরে আমি বলব, 'এর একমাত্র উপায় হলো, তাদের ভেতর এই অনুভূতি তৈরি করুন যে, আপনি তাদের গুরুত্ব দেন। তাদের বিষয়ে আপনি যথেষ্ট মনোযোগী ও যত্নশীল। দ্বীন, সুস্থতা, মানসিকতা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে আপনি তাদের জন্য সর্বোত্তমটাই কামনা করেন, এমনকি এর জন্য নিজেকে একপ্রকার বিলিয়ে দেন।'
অন্যান্য সব বস্তু যেভাবে তাদের মোহাবিষ্ট করে রেখেছে আমাদের হয়তো প্রভাব বিস্তারের সে শক্তিটুকু নেই, কিন্তু তাদের প্রতি আমাদের প্রকৃত মনোযোগ একসময় তাদের বাধ্য করবে আমাদের কোলে আশ্রয় নিতে। যতক্ষণ-না সন্তানদের প্রতি এই মনোযোগ আপনি দিতে পারছেন ততক্ষণ আপনি সফল পিতা হতে পারবেন না।
আপনি নিজ কন্যাকে পর্দার আদেশ দিলেন। কিন্তু কেন? কারণ সমাজ আপনাকে ভালো বলবে। 'বেপর্দা কন্যার বাপ' বলে আপনাকে তারা ভর্ৎসনা করবে না। ব্যস শুধুমাত্র এই কারণেই। তখন কন্যা মনে মনে ভাববে, 'এসব তোমার ব্যক্তিগত সমস্যা। তোমার কারণে আমি তো আর নিজের লাইফস্টাইল বদলাতে পারি না!' কন্যাকে তখন এই কথা বলে খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না যে, 'তোমার কল্যাণের কথা ভেবেই আমি পর্দার আদেশ দিচ্ছি।' প্রত্যুত্তরে হয়তো মনে মনে সে বলে উঠতে পারে, 'তুমি আবার কখন থেকে আমার প্রতি যত্নশীল হতে শুরু করলে!?'
হ্যাঁ হতে পারে, সন্তানদের আপনি সর্বোত্তম খাবার খাওয়ান, দোকানের সবচেয়ে দামি পোশাক কিনে দেন, ঘর-চিকিৎসা থেকে শুরু করে বেশ আরামেই তাদের রেখেছেন, হতে পারে চাইবার আগেই ট্যাব, আইফোন দিয়ে তাদের হাত ভরে রেখেছেন, শিক্ষার পেছনে লাখ লাখ টাকা ঢালছেন কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও তাদের চাহিদা মনোযোগ দিয়ে শোনার ফুরসতটুকু আপনার হয় না, সন্তানদের সামাজিক ও মানসিক সমস্যা সমাধানের কোনো চেষ্টা আপনি করেন না, তাদের প্রতিভা বিকাশে ও যোগ্যতা তৈরিতে কোনো সচেষ্ট ভূমিকা আপনি রাখেন না, এমনকি নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিতে কীভাবে তাকাতে হয় সেটি পর্যন্ত তাদের শেখান না। তারা আপনার সাথে কথা বলছে আর আপনি ডুবে আছেন মোবাইলে, কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে সফল প্রমাণ করতে আপনি ব্যস্ত!
এমনকি প্রিয় বোন, সন্তানকে পড়ানোর সময় আপনি বলে বসলেন, 'ভালো করে পড়াশোনা করো। তুমি ফেইল করলে সবাই আমাকে কী বলবে?!' যেন সন্তানেরা শুধুমাত্র আপনার 'ব্যক্তিগত চাকচিক্যের' অংশ, আপনার কাছে তার অস্তিত্বের যেন কোনো গুরুত্বই নেই!
এরপর কন্যা যখন তার প্রতি আপনার কোনো যত্ন ও গুরুত্ব দেখতে পাবে না, তখন শেষমেশ আপনি তাকে গুরুত্বহীন বাজে কোনো ছেলের সাথে মিশতে দেখবেন। যখন পুত্রকে গুরুত্ব দেবেন না, তখন সেও তার মতো করে অসৎ সঙ্গ খুঁজে নেবে।
সন্তান স্কুলের কোনো সমস্যার কথা আপনাকে জানালে সমাধানের উদ্দেশ্যে তাকে সাথে নিয়ে সশরীরে স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হোন। ফোন করে সমাধান করতে পারলে তবুও যান। এর মাধ্যমে আপনি যে তার আবেগ ও অনুভূতিকে মূল্যায়ন করেন সেটি প্রকাশ পাবে। অফিস থেকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে রাতে বাসায় ফেরার পর সন্তান যখন সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আপনাকে একটি বিষয় নির্বাচন করে দিতে বলবে তখন তাকে তা নির্বাচন করে দিন। সে আপনার গুরুত্বের বিষয়টি অনুভব করবে। মোটেও ভাবতে যাবেন না যে, এগুলো সময় নষ্ট। আপনি এসব কাজ করবেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে।
আমার ছেলে ফারুকের একটি ঘটনা বললেই বিষয়টির গুরুত্ব আপনারা অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। একদিন সে আমাকে বলল, 'বাবা, প্রত্যেককেই দেখি তারা এই এই কাজগুলো করছে, অথচ তুমি আমাকে সেসব করার অনুমতি দাও না কেন?'
আমি বললাম, 'দেখো বাবা, আমি চাইলেই একবাক্যে এসব করার অনুমতি তোমাকে দিতে পারতাম, তোমার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে একবাক্যে বলে দিতে পারতাম, আচ্ছা করো। কিন্তু আমি জানি, বিষয়টি তোমার ব্যক্তিত্ব, দ্বীন ও বোধবুদ্ধির জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। তাই সাময়িক কিছু যন্ত্রণা সহ্য করে হলেও তোমাকে সে বিষয়টি থেকে রক্ষা করি। কারণ তোমার ব্যাপারে আমি যত্নশীল। তোমার সবচেয়ে বেশি কল্যাণ রয়েছে যেখানে আমি সেখানেই আছি।'
এই কথাগুলো বলার পর লক্ষ করলাম, অত্যন্ত জেদি হওয়া সত্ত্বেও সে একেবারে চুপ হয়ে গেল।
অনেক সময় আমার মেয়ে সারাহ কোনো কাজে আমাকে ডাকলে আমি সাথে সাথে সাড়া দিই। অথচ আমি দেখতে পাচ্ছি, এই কাজটি সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়, তবুও। তখন সে আমার খুব ঘনিষ্ঠ হয় আর আদর করে মুখে চুমু এঁকে দেয়।
অতএব প্রিয় পাঠক, সন্তানদের বুঝতে দিন আপনি তাদের প্রতি যত্নশীল। তারা যেন জানতে পারে, আপনার নিকট তারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।