📄 যা চাও নাও, তারপর কেটে পড়ো!
অনেক বাবা-ই সন্তানের সব রকম চাহিদা পূরণে সিদ্ধহস্ত থাকেন। তাদের ওপর বাড়াবাড়ি রকমের খরচ করেন। যেন তারা বলতে চান, 'যা চাও নাও, তারপর কেটে পড়ো!
বাবা-মা কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত সময় পার করেন, স্বপ্ন পূরণের পেছনে তারা দৌড়াতে থাকেন। সামান্য যেটুকু সময় ফুরসত পান সেগুলো বন্ধুবান্ধব ও কলিগদের সাথে আড্ডায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় হয়ে যায়। তাই সন্তানের তারবিয়াত ও তাদের দীক্ষাদানে খুব একটা সময় কুলিয়ে উঠতে পারেন না。
শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসেন, আবার তারা তাদের প্রতি 'যত্নশীল'ও বটে! তবে তাদের এই ভালোবাসা ও যত্ন বিভিন্ন প্রকার নামিদামি গিফট ও বিলাসবহুল জীবন উপহার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সন্তান এমন কিছু আবদার করে বসেছে, যা তার জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। আমি চাইলে তাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে পারি, তাকে আরেকটি বিকল্প বস্তু দিয়ে শান্ত করতে পারি; কিন্তু এটি বেশ জটিল ও বিরক্তিকর কাজ, সন্তানও গোঁ ধরে বসে আছে। ঠিক আছে দিয়েই দিই। এই যন্ত্রের মধ্যে সে ব্যস্ত থাকবে, আর এদিকে আমার সময়গুলোও বেঁচে যাবে। তাকে উপদেশ দিয়ে সময় নষ্ট না করে, এই সময়কে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কাজে লাগানো যাবে!
এভাবে অতিরিক্ত লাই দিয়ে রাখা বাবারা সন্তানদের সামনে ভালো বাবা হওয়ার প্রতিযোগিতা করেন। অথচ বাস্তবে তার কারণেই সন্তান ধ্বংসের পথে পা বাড়ায়, অন্ধকারে হারিয়ে যায়。
রাসূল-এর এই হাদীস শুনলেই আমি আঁতকে উঠি, মুষড়ে পড়ি। তিনি বলেছেন,
كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ تُضَيِّعَ مَنْ يَقُوْتُ
“একজন মানুষ পাপী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাদের জীবিকার ব্যাপারে দায়িত্বশীল তাদের অধিকার নষ্ট করে।”[৫৭]
এই হাদীস শুধু তাদের উদ্দেশ্যে নয় যারা সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাবার ও পোশাক দিতে কার্পণ্য করেন; বরং তারাও এর অন্তর্ভুক্ত যারা সন্তানদের সমস্ত চাহিদা লাগামহীনভাবে পূরণ করে যান, যারা তাদেরকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়ার সামান্যতম প্রয়োজনও অনুভব করেন না。
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন, 'কত মানুষই নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। তাদের অবহেলা করে, শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, নিজ প্রবৃত্তি দমনে তাদের সহযোগিতা করে না। এমন বাবার ধারণা, সন্তানকে সে সম্মান করছে, অথচ বাস্তবতা হলো তাকে সে লাঞ্ছিত করছে। ভাবছে তাকে দয়া করছে, অথচ বাস্তবে সে তার ওপর জুলুম করছে, তাকে বঞ্চিত করছে।'[৫৮]
সন্তান আবদার করার পরও যখন আপনি তাকে বস্তুটি দেবেন না তখন আপনার উচিত হলো, না দেওয়ার কারণ কী তাকে তা স্পষ্ট করে বলা। তাকে বলবেন, 'বাবা, তুমি যে যন্ত্রের বায়না ধরেছ আমি চাইলেই সেটা তোমাকে দিতে পারি। তোমাকে যন্ত্রটি কিনে দিলে তুমিও শান্ত হতে, আমিও তোমার হাত থেকে নিস্তার পেতাম। কিন্তু আমি জানি এটা তোমার জন্য কখনই কল্যাণকর হবে না। আমি মূলত তোমার কল্যাণের জন্যই যন্ত্রটি কিনে দিচ্ছি না। কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে নিয়ে ভাবী। প্রিয় ছেলে, অনেক সময় সন্তান যা চায় তা-ই তাকে দিয়ে দেওয়া সন্তানের প্রতি একপ্রকার অবহেলা। তাই তোমার উচিত, সহপাঠীদের হাতে যে যন্ত্র আছে সে কারণে তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত না হওয়া। বরং একসময় দেখবে তোমার প্রতি তোমার বাবার যত্ন ও গুরুত্বের কারণে তোমাকে দেখে তারাই ঈর্ষান্বিত হবে।'
টিকাঃ
[৫৭] আবূ দাউদ, ১৬৯২; আহমাদ, ৬৪৯৫。
[৫৮] তুহফাতুল মাওদূদ ফী আহকামিল মাওলুদ, ২৪২。
📄 লজ্জা এক দিনেই তৈরি হয় না
সমাজের একটি প্রচলিত দৃশ্য আমাকে বেশ যন্ত্রণা দেয়। ছোটো তবে খুব শীঘ্রই পর্দা ওয়াজিব হতে যাবে এমন অনেক মেয়ে অতিরিক্ত ছোটো কাপড়ে হাঁটাচলা করে, লজ্জা ও লাজুকতার সামান্য ধারও ধারে না। অনেক সময় আবার তাদের সাথে দেখা মিলে হিজাব পরিহিতা মায়ের!
এসব দেখে আমি মনে মনে বলি, 'বর্তমান মুসলিম মেয়েদের ওপর এগুলো তুর্কি টিভি সিরিজের কোনো প্রভাব নয়তো?'
পুরো পরিবারের সকলে একসাথে মিলে এই সিরিজগুলো দেখা হয়। বাবা ঘুণাক্ষরেও টের পান না যে, এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মাঝে নৈতিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপর শিশুরাও এগুলো স্বাভাবিকভাবেই দেখে, তারা এসবে কোনো অসুবিধা খুঁজে পায় না!
আজ আপনারা যারা বাবা-মা হয়েছেন! আজকের বালিকা ও আগামীর যুবতীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আল্লাহকে ভয় করুন সে কন্যার ব্যাপারে যে আর বছর দুয়েকের ভেতর প্রাপ্তবয়স্কে পরিণত হবে। এখন এই বেশভূষায় তাকে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেবেন, আবার এই ধারণা রাখবেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক হলে আপনাতেই সে হিজাব গ্রহণ করে নেবে। এটা কি সম্ভব? সে আচমকা একদিনেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে!
লজ্জা এমন একটি গুণ, যা শৈশব থেকেই অর্জিত হতে থাকে, এর জন্য ধারাবাহিকভাবে উৎসাহ দিতে হয়, তাদের সামনে নিজে পালন করে প্রায়োগিকভাবে তা শেখাতে হয়। সুতরাং কন্যাদের লাজুকতা তৈরিতে আপন কর্তব্য পালনে পিছপা হবেন না। কারণ মনে রাখবেন, লজ্জা এক দিনেই তৈরি হয় না।
📄 কন্যার কবরের সামনে শাইখের দেওয়া আবেগঘন নসীহা
আলহামদুলিল্লাহ, এতকিছু সত্ত্বেও আমার মেয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর একটিবারের জন্যও অসন্তুষ্ট হয়নি। আল্লাহর করুণা। সে গতকাল আমাকে বলেছিল, 'বাবা, জান্নাতের সৌন্দর্য বর্ণিত হয়েছে এমন কিছু আয়াত আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও।'
ফুসফুস অচল হয়ে যাওয়ার কারণে গতরাতে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আর সে তখন অবিরাম জপছিল, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। ইয়া আল্লাহ, ইয়া রব, সমস্ত প্রশংসা আপনার। আমার ধারণা আল্লাহ তাকে অনেক সম্মানিত করবেন। বিশেষ করে এই কারণে যে, সে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক নাবালেগা। ওয়াল্লাহ! আমার ধারণা আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেনই。
আমি ও আমার পরিবার বিষয়টি খুব সহজভাবে নিয়েছি। উত্তম আমল করার পর আমরা তার সাথে জান্নাতে মিলিত হব, ইন শা আল্লাহ। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيْمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ *
“যারা ঈমান আনে এবং যাদের সন্তানেরা ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের অনুগামী হয়, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী।”[৫৯]
আমি তো সেই বাবার কথা কল্পনা-ই করতে পারছি না যিনি সন্তানদের সঠিক তারবিয়াতে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন, অথচ সন্তান আল্লাহর অবাধ্যতা কিংবা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তার বাবার নিশ্চয় আফসোসের অন্ত থাকবে না, কারণ হতে পারে এটাই ছিল তার সাথে শেষ সাক্ষাৎ, যার পরে তাদের আর কখনো দেখা হবে না। একজনের আবাস হবে চিরস্থায়ী জান্নাত আর অপরজনের ঠিকানা চিরস্থায়ী জাহান্নাম। ওয়াল্লাহ! এটাই হলো প্রকৃত যন্ত্রণা。
قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِيْنَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَأَهْلِيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ .
“বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই যারা কিয়ামাতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।”[৬০]
কেউ হয়তো জান্নাতে যাবে, কিন্তু সে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। কারণ তারা জাহান্নামী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন。
ওয়াল্লাহ! আমার দুঃখ শুধু এটুকুই যে আমার কন্যা আমাকে ছেড়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার অন্তর এরচেয়েও বেশি প্রশান্তিতে ছেয়ে আছে। আল্লাহ তাকে এরকম উত্তম অবস্থায় জীবনের পরিসমাপ্তি দিয়েছেন। এ তো আল্লাহর বিশেষ করুণা ও রহমত。
প্রিয় ভাইয়েরা, আমি বারবার বলছি, আপনাদের প্রতি উপদেশ থাকবে, ভালোবাসার প্রিয়জনদের মৃত্যুর পূর্বে অন্তত তাদের হিদায়াতের প্রতি আগ্রহী হোন, তাদের কাছ থেকে তাওবা একপ্রকার ছিনিয়ে নিন। না হয় হতে পারে আপনি উদাসীন থাকার কারণে আপনার কোনো প্রিয় ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে। হয়তো সে সংশয় নিয়ে কিংবা আল্লাহর বিধানকে উপহাস করে পরকালে পাড়ি জমাবে, যা আপনার জন্য গ্লানি হয়ে থাকবে আর তার ঠিকানা হবে চিরযন্ত্রণার জাহান্নাম。
স্মরণ করুন প্রিয় নবি -এর ঘটনা। তিনি চাচা আবু তালিবের শিয়রে বসে তার মুখ থেকে কালিমা বের করার কত জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয় চাচা, শুধু একবার কালিমাটা পড়ুন, এর মাধ্যমে কিয়ামাতের দিন আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সুপারিশ করব। শুধু কালিমাটা পড়ুন, হয়তো আল্লাহ রহম করবেন।
যে চাচা নিজের জান-মাল-সন্তান তাঁর জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিল নবিজি ﷺ সেই চাচার সাথে জান্নাতে একত্রিত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আবদুল মুত্তালিবের ধর্মে মৃত্যুবরণ করলেন। সত্যিই এটি খুব করুণ পরিস্থিতি। আমি নিজে সহ্য করতে পারতাম না。
আল্লাহর অনুগ্রহ যে আমার মেয়ে ধৈর্যশীল ও সন্তুষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। শেষ সময়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীরেও সে বলেছিল, 'যোহরের সালাত পড়িনি, আমাকে ওজু করিয়ে দাও।'
নিজের হিজাব, লজ্জা ও লাজুকতার ব্যাপারে সে সদা সতর্ক ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কোনো বিধান নিয়ে উপহাস হতে দেখলে সে ক্রোধে জ্বলে উঠত আর বলত, 'বাবা দেখো! তারা রক্ষণশীলতা নিয়ে উপহাস করছে...। বাবা, দেখো ইসলাম নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে...।'
আমি আল্লাহর প্রতি এই সুধারণা রাখতে পারি যে, তিনি আমার কন্যাকে সম্মানিত করবেন। আমি আশা করি, আমাদের সান্নিধ্যের তুলনায় নিশ্চয় আল্লাহর সান্নিধ্য তার জন্য অধিক কল্যাণকর হবে। এখন আমার কাজ শুধু এটুকুই যে, জীবনের বাকি সময়গুলো উত্তম কাজে ব্যবহার করে তার সাথে মিলিত হওয়া。
এই উপস্থিতির কারণে আল্লাহ আপনাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন তিনি প্রিয়জনদের হিদায়াত দানের মাধ্যমে আপনাদের সম্মানিত করেন, কোনো রকম হিসাব ছাড়া তাদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্র করেন, আমীন。
টিকাঃ
[৫৯] সূরা তুর, ৫২: ২১。
[৬০] সূরা যুমার, ৩৯ : ১৫。
📄 কুরআনকে তাদের নিকট প্রিয় করুন
মাঝে মাঝে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে পরিবারের সবাই আমরা একটি ঘরে একত্র হই। তারপর সমস্বরে তিলাওয়াত করতে থাকি। এমনই একদিন আমার এক মেয়ে আমাকে বলল, ‘বাবা, সত্যি বলতে কুরআন তিলাওয়াতের সময় আমার মধ্যে একপ্রকার বিরক্তবোধ কাজ করে।’
'কেন মা?'
* 'কারণ কথাগুলো বুঝি না!'
* 'আচ্ছা আমরা তা হলে কিছু সূরার তাফসীর আরম্ভ করতে পারি। তোমার কী মনে হয়?'
* 'আচ্ছা। ঠিক আছে...'
এরপর থেকে ঘুমের আগে ছোট্ট একটি সময় নির্ধারণ করে প্রতিদিন আমরা তাফসীর পড়তে আরম্ভ করলাম। প্রথমে ছোটো ছোটো সূরাগুলো তারপর সূরা রহমান, আর সর্বশেষ সূরা হুজরাত। কিন্তু লক্ষ করলাম যে সূরাটি সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল, তা হলো সূরা ইউসুফ। এখানকার সব ঘটনা যেন তারা হা হয়ে গিলছিল, স্পষ্ট দেখতে পেলাম তাদের হৃদয়ে এগুলো রেখাপাত করছিল। তাদের কিশোর বয়সের উপযোগী হয় এমন আকীদাগত ও চারিত্রিক কিছু ছোটো ছোটো প্রাসঙ্গিক কথাও তাদেরকে শুনিয়ে দিলাম।
যেমন ধরুন, সূরা ইউসুফে আকীদাগত প্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে গিয়ে তাদেরকে বললাম, ‘দেখো, আল্লাহর নবি ইউসুফ -এর ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কেমন নির্যাতন চালানো হয়েছিল, এতকিছু সত্ত্বেও যখন তিনি দেখতে পেলেন তার কারাগারের এক সাথি অচিরেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে, তখন তিনি তাঁর সেই সাথিকে বাদশার নিকট সুপারিশ করতে বলার চেয়ে তাওহীদের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে অধিক গুরুত্বারোপ করলেন।'
চরিত্রগত বিষয়ে তাদেরকে বললাম, 'এক দূত এসে যখন ইউসুফ -কে জানাল যে, বাদশাহ তোমার সাথে দেখা করতে চায়। দেখো, তখন তিনি কেমন দৃঢ়তা ও আত্মমর্যাদার সাথে এই কথা বলেছিলেন যে, সকলের সামনে যতক্ষণ আমার দোষমুক্তি ঘোষণা করা না হবে ততক্ষণ আমি এখান থেকে বের হব না।'
তাই প্রত্যেক বাবা-মাকেই আমি পরামর্শ দেবো তারা যেন সূরা ইউসুফ দিয়েই সন্তানদের নিকট কুরআনকে প্রিয় করে তোলার এই প্রকল্প আরম্ভ করেন। আল্লাহ তাআলাই তাওফীকদাতা।