📄 ছেলে আমার, এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো তো!
সন্তান বাবার জন্য সিগারেটের প্যাকেট ক্রয় করছে। দৃশ্যটি দেখে আমি যারপরনাই ব্যথিত হলাম। আরও ব্যথিত হলাম যখন দেখলাম বিক্রেতাও কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই তার হাতে প্যাকেট তুলে দিচ্ছে। বিক্রেতার এসবে কী আসে-যায়, তার তো প্রয়োজন শুধু পয়সা!
প্রিয় ধূমপায়ী ভাই, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলতে চাই। আশা করি ভেবে দেখবেন-প্রথমত ধূমপানের হুকুম কী সে বিষয়টি আজ না হয় আমরা এড়িয়ে যাই। এখন আপনাকে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার উপদেশও আমি দিতে যাব না। শুধু এটুকু বলব, 'ভেবে দেখেছেন, সন্তানের নিকট সিগারেটের প্যাকেট চেয়ে আপনি তার নিকট কতটা ভয়ংকর মেসেজ পৌঁছাচ্ছেন?'
আপনি মূলত তাকে নিম্নোক্ত শিক্ষাগুলো দিচ্ছেন:
১. ছেলে আমার, মন্দ কাজ থেকে মানুষদের বাধা দেবে না। কেউ গুনাহের আদেশ করলে তাকে বলবে না, 'না, আমি এটা করতে পারব না।' বরং বলতে গেলে আপনি তাকে মন্দকাজে শরীক হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছেন। তাকে স্রষ্টার অবাধ্যতামূলক কাজেও সৃষ্টির আনুগত্য করার আদেশ করছেন। তাকে বলছেন, 'কোনো ক্ষমতাধর কেউ যদি তোমাকে এমন কাজের আদেশ করে, যে কাজ আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করবে তুমি তার আদেশেও সাড়া দেবে! এমনকি যদি সে তোমাকে উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বলে তবুও!'
২. 'ছেলে, নিজের গুনাহকে ঢেকে রাখবে না! বরং যা করার প্রকাশ্যে করবে। অন্যদেরও এই কাজে অংশীদার করবে!'
৩. 'প্রিয় ছেলে, দেখো আমি তোমার আদর্শ। তোমাকে ভালো কাজের আদেশ দিয়ে, নিজে মন্দকাজ করছি। এমনকি এতে তোমাকেও অংশীদার করছি। তুমি কোনো কষ্টদায়ক কাজ করলে আমি তোমাকে বকাবকি করছি আর দিনশেষে আমিই তোমাকে সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে আসতে আদেশ করছি! আর এর মাধ্যমে নিজের ভেতর তো বটেই, সেই সাথে তোমার ভেতর, তোমার মা ও ভাই-বোনদের ভেতরও আমি বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছি।
অতএব নেফাক কাকে বলে আমার কাছ থেকে শিখে নাও। কীভাবে আল্লাহর অসন্তোষজনক কাজ করছি দেখে যাও!'
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ “মুমিনগণ, তোমরা এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা করো না? তোমরা যা করো না তা বলা, আল্লাহর দৃষ্টিতে বড়োই অসন্তোষজনক কাজ।”[৫৫]
৪. 'প্রিয় বৎস, আমি সিগারেটের সামনে বড়োই দুর্বল। আমার এই দুর্বলতা, গুনাহের সামনে নিয়ন্ত্রণহীনতা ও আসক্তি আমি তোমাকে দিয়ে যেতে চাই!'
প্রিয় ধূমপায়ী ভাই, আপনি নিজের অজান্তেই প্রতিদিন এই ভয়ংকর ও ক্ষতিকর বার্তাগুলো আপনার সন্তানের কাছে পাঠাচ্ছেন। এগুলোই দিনের পর দিন তার মস্তিষ্কে গেঁড়ে বসে। এমনকি কোনো একদিন যদি আপনি ধূমপান থেকে তাওবা করে ফিরেও আসেন, যদি কোনোদিন শরীর থেকে নিকোটিন বেরিয়েও যায় তবুও এই ক্ষতিকর দীক্ষার প্রভাব স্থায়ীভাবে আপনার সন্তানের মধ্যে থেকে যাবে। এরচেয়ে বড়ো আফসোস আর ক্ষতি কী হতে পারে?
এভাবেই কি আমরা আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলব? ইজ্জত ও মর্যাদা কি তারা এভাবেই ফিরে পাবে? তাদের ভবিষ্যতের জন্য কি আমরা এগুলোই প্রস্তুত করছি? আল্লাহর দোহাই! উম্মাহর কি আজ এগুলোই প্রয়োজন? আপনি তো এমন মানুষ তৈরি করে গেলেন যার নিজস্ব কোনো ইচ্ছা নেই, কেউ গুনাহের পথে ডাকলেও যে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে সাড়া দেয়।
প্রিয় ধূমপায়ী ভাই, হাতজোড় করছি। যদি ধূমপান করতেই হয় সন্তানদের থেকে লুকিয়ে করুন। তাদের বলবেন না, 'যাও, এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো।' বরং আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করুন, তিনি যেন তাদেরকে আপনার চেয়েও বেশি আনুগত্যশীল করেন। হতে পারে আমরা যা পারিনি তারা তা পারবে। হতে পারে তারা ক্ষমা চাইবে, আর আপনি ক্ষমা পেয়ে যাবেন。
টিকাঃ
[৫৫] সূরা সাফ, ৬১: ২-৩。
📄 কিন্তু আমি ব্যস্ত!
বিয়ে করে স্ত্রীর সাথে আপনি জীবনের এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করলেন। উভয়ে সন্তান জন্ম দিলেন। কিছুদিন অতিবাহিত হলো, আপনি নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পরিবারকে দেওয়ার মতো কোনো সময় বের করতে পারছেন না। স্ত্রীর সামনে এই বলে অজুহাত পেশ করছেন যে, 'আমি তো তোমাদেরই কল্যাণে কাজ করছি।'
হতে পারে আপনার এই কাজ দাওয়াহ পরিমণ্ডলেরই কোনো মোবারক কাজ। কিন্তু নিজ দাওয়াহতে পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করতে আপনি সক্ষম হননি। বরং এই দাওয়াহর কারণেই তাদের থেকে আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী যখন আপনার নিকট অনুযোগ করে তখন আপনার অজুহাত থাকে যে, উম্মাহর চিন্তায় আমি ব্যতিব্যস্ত... দাওয়াত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ....!
ঠিক বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে আপনি কাজ, দাওয়াহ ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত আছেন, আপনি এসবের মাধ্যমে নিজ সফলতার গল্প লিখতে চান। আপনার সফলতার এই গল্পে পরিবার ও সন্তানের কোনো অংশ নেই। পড়াশোনা ও কাজে আপনি মাত্রাতিরিক্ত সময় দিয়ে ফেলছেন। পারিবারিক কর্তব্য আদায় না করে নিজ চাহিদার পেছনে দৌড়াচ্ছেন। নিজকে তো বটেই অন্যদেরও এই বলে বুঝ দিচ্ছেন যে, আমি আসলে একপ্রকার নিরুপায়! আমি ব্যস্ত!
আপনি ধরে নিয়েছেন, তারবিয়াত ও সন্তানদের গড়ে তোলার সব দায়িত্ব স্ত্রীর, সে-ই এই দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সন্তানদের অবহেলা করার এই রোগ ধীরে ধীরে আপনার স্ত্রীকেও পেয়ে বসবে। সে-ও তখন সন্তানদের ছেড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে ও সাফল্যের গল্প লিখতে ব্যস্ত দিন কাটাবে, সোশ্যাল মিডিয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সময় ব্যয় করবে। এভাবে সন্তান একসময় মায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ থেকেও বঞ্চিত হবে。
পিতামাতার অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সন্তানেরা কলহ সৃষ্টি করবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা করে বেড়াবে। এমন সন্তানদের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে। এমনকি এই সন্তানদের কারণেই আপনার সাথে আপনার স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ-কলহ তৈরি হবে। উভয়েই একে অপরকে এই করুণ পরিস্থিতির জন্য দোষারোপ করে যাবেন। 'সন্তানের বোঝা' একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলবে! আর এসব ঘটবে সন্তানদের চোখের সামনেই। তাদের অন্তরে এই ঘটনা দাগ কাটবে। তারা মনে রাখবে বাবা-মা কীভাবে তাদের কাছে টেনে না নিয়ে ভারী বোঝার মতো দুঃসহ আচরণ করেছিল。
আপনিই তখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। হতে পারে, কর্মব্যস্ততা সামান্য কমিয়ে আপনি সন্তানদের গড়ে তোলার পেছনে মনোযোগ দিতে শুরু করবেন। কিন্তু আপনি আবিষ্কার করবেন, মায়ের যত্ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তাদেরকে আবার নিবিড় পর্যবেক্ষণে ফিরিয়ে আনা কতটা কঠিন কিংবা প্রায় অসম্ভব!
প্রিয় ভাই, এমন অনেক ভুল আছে এই দুনিয়ায় যেগুলোকে পরিপূর্ণভাবে শোধরানো আর সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। হতে পারে আপনার পূর্ববর্তী অবহেলা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। কিন্তু এই অবহেলার মাশুল আপনাকে পদে পদে দিয়ে যেতে হবে। দাওয়াহর ক্ষেত্রে নবিজি -এর চেয়ে অধিক আগ্রহী কেউ ছিলেন না, তবু তিনি কী বলেছেন শুনুন:
إِنَّ لِرَبِّكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأَعْطِ كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ
"তোমার ওপর তোমার রবের অধিকার রয়েছে। তোমার ওপর তোমার নিজের অধিকার রয়েছে। তোমার ওপর তোমার পরিবারেরও অধিকার রয়েছে। অতএব তুমি প্রত্যেককে আপন অধিকার বুঝিয়ে দাও।”[৫৬]
প্রত্যেককে আপন অধিকার বুঝিয়ে দাও!
আপনি ঘরের একজন পুরুষ। আল্লাহর দেওয়া অভিভাবকত্বের দায়িত্ব আপনার। ঘাড়ে। এই অভিভাবকত্বেরই দাবি হলো, স্ত্রীর সামনে প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদর্শে পরিণত হওয়া। স্ত্রীকে অতীত ভুলের খোঁটা না দিয়ে আল্লাহর ইচ্ছাকে মাথা পেতে নেওয়া। সুতরাং ঘরকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করুন। নতুন করে শুরু করুন এবং ‘প্রত্যেককে প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দাও’—এই মূলনীতি অবলম্বন করুন。
টিকাঃ
[৫৬] বুখারি, ৬১৩৯。
📄 একটি সুন্দর স্মৃতি
সন্তানেরা বড়ো হয়ে গেলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। একসময় তারা আপনার ঘর ছাড়বে। নতুন ঘর বাঁধবে。
তাই শৈশব থেকেই আপনার সাথে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি তাদের মানসপটে এঁকে দিন। যখন তারা ভুল পথে পা বাড়াবে, এই স্মৃতিগুলোই তখন তাদেরকে আপনার সাথে মজবুত করে জড়িয়ে রাখবে। এই স্মৃতিগুলোর সাহায্যেই তারা তাদের ঘরকে সফলতার রঙে রাঙাবে। এগুলোই আপনার মৃত্যুর পর তাদেরকে আপনার জন্য দুআ করতে বাধ্য করবে。
কোনো কাজের দোহাই দিয়ে এই স্মৃতি তৈরি থেকে বিরত থাকার মতো বোকামি করতে যাবেন না। সন্তানদের বস্তুগত সব চাহিদা পূরণ করবেন না। স্ত্রীর সাথে দ্বন্দ্ব ও কলহে জড়াবেন না। শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে সন্তানদের দীর্ঘকাল একঘরে করে রাখবেন না。
মনে রাখবেন! সন্তানদের অবহেলা করে উম্মাহর চিন্তায় অস্থির হয়ে দাওয়াহর পথে নেমে পড়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। আপনার কঠোর হৃদয়ের সংশয়গ্রস্ত সন্তান, উম্মাহর দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই বাড়াবে না。
فَأَعْطِ كُلَّ ذِي حَقٍ حَقَّهُ
"সুতরাং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দাও।”
📄 আমাদের সন্তানদের যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়
একটি ঘটনা সেদিন আমার হৃদয়ে দাগ কেটে দিলো। আমেরিকার একটি পরিবারের ঘটনা। সে পরিবারের বাবা-মা দুজন লেবানিজ মুসলিম। তাদের ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তাদের নতুন এক সন্তান হলো। কিন্তু তার শরীরে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা দিলো। তার মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মনে করল হয়তো তার মা তাকে মারে বলেই এমন অবস্থা। তারা পুলিশে খবর দিলো। পুলিশ এসে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাড়িতে গিয়ে অন্য সন্তানদের তাদের দাদীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কট্টর খ্রিষ্টান এক আমেরিকান পরিবারকে দিয়ে দিলো। তারা সন্তানদের নাম পরিবর্তন করে খ্রিষ্ট ধর্মে বড়ো করে তুলল। বাবা-মা নিজ সন্তানদের ফিরে পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। কী দিং মান চাঁপার চরনের দিকে।
এদিকে হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু হলো। হাসপাতাল তার ময়নাতদন্ত করে আবিষ্কার করল যে, তার এই অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো মূলত জেনেটিক রোগের কারণে, কোনো আঘাতের কারণে না। আদালত মা-বাবাকে নির্দোষ ঘোষণা করল。
আপনি কি কল্পনা করতে পারেন তখন বেচারি মায়ের অনুভূতি! তিনি আদালত থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে বলেছিলেন, 'আজ আমার সন্তানরা জানতে পারবে যে আমি নির্দোষ!'
কিন্তু এখানেই ছিল সারপ্রাইজ! কয় বছর পরে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন? সতেরো বছর! হ্যাঁ, সতেরো বছর পরে। ততদিনে তিন সন্তান আমেরিকার ভিন্ন ভিন্ন শহরে বড়ো হয়েছে। তাদের জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আমেরিকানদের জীবনযাত্রায় তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বাবা-মায়ের দ্বীনে তাদের আর বিশ্বাস নেই。
তাদের এক মেয়ের বয়স তখন উনিশ বছর। এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আপনার মা যে নির্দোষ প্রমাণিত হলো, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?’
তার উত্তর ছিল, ‘এই মহিলার সাথে এখন আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ওই পরিবারের সাথে বড়ো হয়েছি। ওদেরকেই আমার বাবা-মা মনে করি। ভবিষ্যতে হয়তো এই মহিলাকে গুরুত্ব দিতে পারি। তবে এখন আমার কোনো আগ্রহ নেই!’
খারাপ আচরণের সন্দেহে বাবা-মাকে সন্তান থেকে বঞ্চিত করা মানবরচিত আহম্মকি আইনের পরিণতি, যে আইন আল্লাহর শারীআত মানে না。
এর থেকে কঠিন শাস্তি আর হতে পারে না! হয়তো সন্তানদের হত্যা করাও এর চাইতে তুচ্ছ। কিন্তু এভাবে আপনার সন্তানকে হরণ করা হবে তারপর আইনের জোর খাটিয়ে এমন কিছু মানুষের কাছে রাখা হবে যারা তাদেরকে শিরকের ওপর, কুরআন ও নবিকে অস্বীকার করার ওপর বড়ো করে তুলবে, আর আপনি চেয়ে চেয়ে দেখবেন, কিছু করতে পারবেন না! অথচ ওরা আপনার সন্তান, আপনার কলিজার টুকরো! খুবই কষ্টের অনুভূতি! আল্লাহ, আমাদের ও মুসলিমদের নিরাপদ রাখুন。
পশ্চিমা দেশগুলোতে অবস্থানরত আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা প্রতিনিয়ত এই ঘটনাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু প্রিয় ভাইয়েরা, আমি যদি বলি, আমাদের মুসলিম দেশগুলোতে তো বটেই এমনকি খোদ নিজেদের ঘরেও এই ধরনের ঘটনা অনেক বেশি ঘটছে, তা হলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন? আচ্ছা কীভাবে?
কিছুদিন আগে আমি এক শিক্ষাবিদের সাথে বসে গল্প করছিলাম। তিনি আমাকে জানালেন, ‘শিশুদের এই জগতে আমার আট বছরের অভিজ্ঞতা। গত বছর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যে নৈতিক অবক্ষয় আমি লক্ষ করেছি ইতঃপূর্বে কখনো এমনটা চোখে পড়েনি! সবখানেই এখন অভিযোগ আর অভিযোগ। আমার এই স্কুলে শুধু নয়, সবখানেই। বাবারা তাদের সন্তানদের বাছবিচার ছাড়াই মোবাইল, ট্যাব, আইপ্যাড দিয়ে দিচ্ছেন। কোনোরকম দিকনির্দেশনা পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না। তাদের সন্তান এই যন্ত্র কোন খাতে ব্যয় করছে সেদিকে লক্ষ করছেন না। এই আধুনিক যন্ত্রগুলো আমাদের সন্তানদের মনমস্তিষ্ককে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রসিদ্ধ ইউটিউব চ্যানেলগুলো ইচ্ছামতো তাদের মন-মেজাজ তৈরি করছে। ট্রল, মিমস, রোস্ট, ঠাট্টা-মশকরা আর অশ্লীলতার ওপর গড়ে উঠছে এই প্রজন্ম। ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও মূল্যবোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এগুলোকে তাদের সামনে হাসিমজার বিষয়ে পরিণত করা হচ্ছে। এগুলোতেই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আমাদের স্বপ্নের সন্তানেরা!
সেই লেবানিজ পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার সাথে এগুলোর খুব একটা পার্থক্য নেই। আমাদের সন্তানদের চুরি করা হচ্ছে। তাদের ইসলামি পরিচয় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। স্বভাবজাত প্রকৃতি ও ফিতরাতকে পাল্টে ফেলা হচ্ছে। ইসলামবিদ্বেষী চিন্তা-চেতনা দ্বারা তাদের মস্তিষ্ক পরিপুষ্ট করা হচ্ছে。
প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা বাবা-মা, স্পষ্ট ভাষায় একটি উপদেশ দিই স্মরণ রাখুন, হয় সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলুন এবং তাদেরকে সময় দিন আর না হয় সন্তান জন্ম দেওয়া থেকেই বিরত থাকুন!