📄 সন্তানকে বুঝাতে দিন, সে এখনো কাজ করতে সক্ষম
তার অনেক কিছুই করার আছে। সন্তান কোনোকিছুর আবদার করলে তাকে এর বিনিময়ে কিছু দায়িত্ব দিন, দায়িত্ব পালন করলে তবেই আবদার পূরণ হবে। বেশ কয়েকমাস ধরে সারাহ মোবাইলের জন্য জেদ ধরেছিল, আমি বললাম, 'উপযুক্ত বয়স হলে তবেই দেবো।' অনেকেই তার পক্ষে সুপারিশ করল কিন্তু আমি অনড়। একসময় সারাহ কিছু গঠনমূলক পড়াশোনা শুরু করলে তাকে বললাম, 'মোবাইল দেবো তবে এক শর্তে। কুরআন হিফজ করতে হবে।' মোটকথা তাকে বুঝতে দিতে হবে যে, কাজ করলে তবেই আবদার পূরণ হবে, না হয় হবে না。
📄 সন্তানকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে তুলুন
এর মাধ্যমে আল্লাহর কোনো লাভ হবে না; বরং এটি সন্তানকেই সবচেয়ে বেশি উপকার দেবে। আপনি এর মাধ্যমে যেন তার হৃদয়ে প্রশান্তি, সুখ ও আস্থার বরফ ঢেলে দিলেন। এই কারণে আমি সেই সমস্ত বাবাদের দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে পড়ি, যারা সন্তানদের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখেন না; কিন্তু এই আধ্যাত্মিক প্রশান্তির কোনো অংশ তারা তাদের দেন না। এই ধরনের সন্তান তো বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ই; এছাড়াও যদি কোনো কঠিন রোগবালাইয়ে তারা আক্রান্ত হয় সাথে সাথে ভেঙে পড়ে। আর তাদের বাবারা এভাবেই তাদের আখিরাত ধ্বংসের আগে দুনিয়াও ধ্বংস করে দেন。
প্রিয় ভাইয়েরা, অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সন্তানের সালাতে অবহেলা দেখাতে যাবেন না। অপরদিকে শারীআত তার ওপর যা চাপিয়ে দেয়নি, তা তার ওপর চাপাবেন না। সালাতের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। ওজু করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করবে, বসে পড়তে অক্ষম হলে শুয়ে পড়বে。
আলহামদুলিল্লাহ, সারাহ অনেক সময় রোগের তীব্রতায় চিৎকার করে উঠত। সে সময়েও আমি তাকে বলতে শুনেছি, 'বাবা, সালাত পড়িনি। ওজু করিয়ে দাও।' সালাতরত অবস্থায় যন্ত্রনায় সে কঁকিয়ে উঠত তবু সালাত ছাড়ত না। এই কারণে আপনাদের আবার জোর দিয়ে বলছি, সন্তানকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখুন। এমন কঠিন অবস্থায় একমাত্র এই সম্পর্কই তাকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে。