📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 তার চিকিৎসায় সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালানো

📄 তার চিকিৎসায় সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালানো


এবং এর পাশাপাশি তাকে এই সম্পর্কে অবহিত করাও অত্যাধিক জরুরি। ইসলামিক মোটিভেশন দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসাকেন্দ্রিক এই প্রচেষ্টাও সমানতালে চলবে। আমি সারাহর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেরও অধিক ওষুধ আনিয়েছিলাম। তাকে বলতাম, 'মা, মালয়েশিয়া থেকে তোমার ওষুধ অচিরেই এসে পৌঁছবে। আমেরিকা থেকে তোমার ইনজেকশন রওনা দিয়েছে' ইত্যাদি। তাকে এই কথা বুঝতে দিয়েছি যে, আমার সাধ্যের যত চেষ্টা হতে পারে আমি তা করছি। হ্যাঁ, এসবের সাথে সাথে আমি তাকে আশার বাণীও শুনিয়েছি, প্রতিদান প্রাপ্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছি。

সুস্থতার সব মাধ্যম গ্রহণ করার পর সে আপনার কাছ থেকে উপদেশমূলক কথার অপেক্ষা করবে। কিন্তু পক্ষান্তরে কোনো বাবা যদি শুধুমাত্র কুরআন-হাদীসের কথা শুনিয়ে যান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ না করেন, ভাবুন তো তার প্রতি সন্তানের কী ধারণা সৃষ্টি হবে?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার এই দুর্বলতার সময়ে অনেক সুযোগসন্ধানী আপনাকে শিকারে পরিণত করতে চাইবে। বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ওষুধপত্র লিখে দিয়ে তারা অসহায় বাবাদের কাছ থেকে বিশাল অর্থমূল্য আদায় করে নেয়। এই বিষয়টিতে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন, এর বিপরীতে সদাকা করুন। সদাকায় সন্তানের আরোগ্যের নিয়ত করুন。

শেষ সময়গুলোতে সারাহ আমাকে বলত, 'বাবা, তা হলে কি আর কোনো উপায় নেই?' আমি উত্তরটা একটু ঘুরিয়ে দিয়ে বলতাম, 'মা, আমরা এখন এই ওষুধটা দিয়ে চেষ্টা করে দেখছি।' এভাবে তার আশা জিইয়ে রাখুন। তাকে বুঝতে দিন আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কথা বলতে যাবেন না, 'মা শা আল্লাহ, তোমার অবস্থা এখন অনেক ভালো।' না এভাবে মিথ্যে আশা দিলে একসময় গিয়ে তার হৃদয় একবারেই দু টুকরো হয়ে পড়বে। বরং ঘুরিয়ে উত্তর দিন, 'মা, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ যা চান তা-ই হবে।'

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 তাকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা

📄 তাকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা


তখন কাজের ব্যস্ততায় রোগের দুশ্চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করার সুযোগ পাবে না। ফলে সে কিছুটা স্বস্তিবোধ করবে, প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে。
সারাহর উপন্যাসের প্রতি খুব বেশি ঝোঁক ছিল। একবার একটি উপন্যাসের বই নিয়ে এসে আমার সামনে সে বইটি সম্পর্কে কিছু মন্তব্য পেশ করল। আমি সাথে সাথে তার সামনেই লেখককে ফোন দিয়ে বললাম, 'আপনার এই উপন্যাসের ব্যাপারে আমার মেয়ে এই এই মূল্যায়ন পেশ করেছে।' এভাবে কাজটি করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল, তাকে এই কথা বুঝতে দেওয়া যে আমার নিকট তার বক্তব্যের মূল্য আছে。
ঠিক এভাবে অভাবীদের প্রয়োজন পূরণে চ্যারিটি ফান্ড খুলে তাদেরকে এসব কাজে ব্যস্ত রাখা যায়। রোগের দুশ্চিন্তা ভুলে থাকতে তাদেরকে নিয়মিত স্কুলে যেতে উৎসাহ দেওয়া যায়। রোগের ক্লান্তি এভাবে কেটে ওঠে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন মস্তিষ্কে ভালো প্রভাব ফেলে। সারাহ কঠিন অসুস্থতা সত্ত্বেও বিভিন্ন ইসলামিক কোর্সে বেশ আগ্রহী ছিল। শত্রুর সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে মুসলিম নারী কীভাবে আত্মরক্ষা করবে সে সংক্রান্ত কোর্সগুলো করতে আমি তাকে উৎসাহ দিতাম। আমি মনে করি, খাবার-দাবার ও চিকিৎসা থেকে এই কাজ মোটেও কম গুরুত্বের নয়。

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 সন্তানকে বুঝাতে দিন, সে এখনো কাজ করতে সক্ষম

📄 সন্তানকে বুঝাতে দিন, সে এখনো কাজ করতে সক্ষম


তার অনেক কিছুই করার আছে। সন্তান কোনোকিছুর আবদার করলে তাকে এর বিনিময়ে কিছু দায়িত্ব দিন, দায়িত্ব পালন করলে তবেই আবদার পূরণ হবে। বেশ কয়েকমাস ধরে সারাহ মোবাইলের জন্য জেদ ধরেছিল, আমি বললাম, 'উপযুক্ত বয়স হলে তবেই দেবো।' অনেকেই তার পক্ষে সুপারিশ করল কিন্তু আমি অনড়। একসময় সারাহ কিছু গঠনমূলক পড়াশোনা শুরু করলে তাকে বললাম, 'মোবাইল দেবো তবে এক শর্তে। কুরআন হিফজ করতে হবে।' মোটকথা তাকে বুঝতে দিতে হবে যে, কাজ করলে তবেই আবদার পূরণ হবে, না হয় হবে না。

📘 সন্তানের ভবিষ্যৎ > 📄 সন্তানকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে তুলুন

📄 সন্তানকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে তুলুন


এর মাধ্যমে আল্লাহর কোনো লাভ হবে না; বরং এটি সন্তানকেই সবচেয়ে বেশি উপকার দেবে। আপনি এর মাধ্যমে যেন তার হৃদয়ে প্রশান্তি, সুখ ও আস্থার বরফ ঢেলে দিলেন। এই কারণে আমি সেই সমস্ত বাবাদের দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে পড়ি, যারা সন্তানদের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখেন না; কিন্তু এই আধ্যাত্মিক প্রশান্তির কোনো অংশ তারা তাদের দেন না। এই ধরনের সন্তান তো বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ই; এছাড়াও যদি কোনো কঠিন রোগবালাইয়ে তারা আক্রান্ত হয় সাথে সাথে ভেঙে পড়ে। আর তাদের বাবারা এভাবেই তাদের আখিরাত ধ্বংসের আগে দুনিয়াও ধ্বংস করে দেন。
প্রিয় ভাইয়েরা, অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সন্তানের সালাতে অবহেলা দেখাতে যাবেন না। অপরদিকে শারীআত তার ওপর যা চাপিয়ে দেয়নি, তা তার ওপর চাপাবেন না। সালাতের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। ওজু করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করবে, বসে পড়তে অক্ষম হলে শুয়ে পড়বে。
আলহামদুলিল্লাহ, সারাহ অনেক সময় রোগের তীব্রতায় চিৎকার করে উঠত। সে সময়েও আমি তাকে বলতে শুনেছি, 'বাবা, সালাত পড়িনি। ওজু করিয়ে দাও।' সালাতরত অবস্থায় যন্ত্রনায় সে কঁকিয়ে উঠত তবু সালাত ছাড়ত না। এই কারণে আপনাদের আবার জোর দিয়ে বলছি, সন্তানকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখুন। এমন কঠিন অবস্থায় একমাত্র এই সম্পর্কই তাকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00