📄 আপনি তো দেখি তারবিয়াতের সকল বোঝা নারীর ওপরই চাপিয়ে দিলেন!
প্রথমত, বোঝা নয়, বলুন সম্মান। সন্তান প্রতিপালন, চরিত্র সংশোধন ও মানবগঠন... এগুলো নবিদের দায়িত্ব। আর কর্মীর মর্যাদা কর্মের বড়োত্ব দ্বারাই মাপা হয়।
যেহেতু খরচের দায়িত্ব পুরুষের ঘাড়েই চাপে তাই এই দায়িত্ব পালনে স্বাভাবিকভাবেই তার ঘরের বাইরে কিছুটা সময় কাটাতে হয়। জানা কথা, সন্তানের সাথে আপনিই বেশি সময় অতিবাহিত করেন। তাই তারবিয়াতের সুযোগ আপনারই বেশি। তারপরও বলতে হয়, তারবিয়াত বা সন্তান প্রতিপালন পিতামাতার যৌথ দায়িত্ব। আর এতবড়ো দায়িত্ব নিশ্চয় উভয়ের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব।
আমার একটি ভিডিয়োর কমেন্ট সেকশনে অনেক ভাই আপত্তি জানিয়েছেন এই বলে যে,
'আপনি কি তা হলে এটা বলতে চান যে, আমরা বাইরে কাজকর্ম শেষে যখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরব তখন ঘরে বেকার (!) বসে-থাকা স্ত্রীরা আমাদের ওপর ছড়ি ঘুরাবে!? ঘরের বাইরে এত কাজ করার পরও আপনি বলছেন যে, ঘরে গিয়ে স্ত্রীকে সাহায্য করব?!'
আমরা বলি, 'প্রিয় ভাই, আপনার নিকট আমাদের দাবি হলো, স্ত্রীকে যথাসম্ভব সাহায্য করুন, তার নিকট চাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। যাতে তিনি একটি মহান দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করে দিন। মহান সে দায়িত্বটা কী? মানবগঠন। আপনারও উচিত এই দায়িত্ব পালনে তাকে সহযোগিতা করা। বিভিন্ন অজুহাত সামনে এনে তারবিয়াতের এই মহান দায়িত্বে মোটেও ত্রুটি করবেন না। এই কথা বলবেন না যে, 'আমি তো তোমাদের জন্যই ব্যবসা-বাণিজ্য করি। এসবে আমি সময় দিতে পারব না। তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করো, আর আমি আমারটা।' এমনকি দেখা যায়, বাড়িতেও আপনি যে সময়টা অতিবাহিত করছেন তাতে সন্তানদের সময় দেন না বরং মোবাইল ও নেট দুনিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
ইসলাম পুরুষের ওপর অভিভাবকত্বের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে সে দায়িত্বের একটি অংশ হলো, সমতা রক্ষা করা আর প্রত্যেককেই প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা। মনে রাখতে হবে, ওপরে বর্ণিত হাদীসে আল্লাহর রাসূল ﷺ হুমকি দিয়েছেন যে, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া যাবে না, তা শুধু নারীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি, পুরুষও এর মধ্যে শামিল। আর সন্তানদের তারবিয়াত বা তাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় আছে যা শুধু পুরুষেরই দায়িত্বে পড়ে, নারীর নয়।
بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ
“যেহেতু আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”[১২]
যে দায়িত্ব নারীর নয় তার কাছ থেকে তা প্রত্যাশা করা, তাকে জুলুম করার নামান্তর। অতএব প্রিয় ভাই, তারবিয়াতের এই প্রকল্পের নেতৃত্ব আপনারই দিতে হবে। এর সামনে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা আপনাকেই ভাঙতে হবে।
সত্য বলতে, সন্তানদের গড়ে তোলার এই যাত্রা শুরু হয় মূলত উপযুক্ত স্বামী ও উপযুক্ত স্ত্রী নির্বাচনের মাধ্যমে। ফলে তারা এই মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নে একে অপরকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।
প্রিয় বোন, ধরুন আপনার স্বামী তারবিয়াতের ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখছে না। আপনি তাকে চাপ দিয়েছেন, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়েছেন... কিন্তু সে নিরুত্তাপ। তখন আপনিও কি সন্তানদের মাঝপথে ছেড়ে দেবেন?
যদি আপনার স্বামী সন্তানদের পোলিও, হাম, ফক্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে না যায় তখন কি আপনি বলবেন, 'সে যেহেতু গুরুত্ব দিচ্ছে না আমিই-বা আর একাকী দায়িত্ব পালন করতে যাব কেন?' নাকি আপনার ভেতর থাকা মাতৃত্বের মায়া তাদেরকে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে বাধ্য করবে? অবশ্যই আপনি তাকে নিয়ে যাবেন।
যদি তার শরীরের ক্ষেত্রে আপনার এতই তাড়না থেকে থাকে তা হলে অন্তরের বিষয়ে কেন নয়?
কবি আল-বুসতি সুন্দর বলেছেন,
أَقْبِلْ عَلَى النَّفْسِ وَاسْتَكْمِلْ فَضَابِلَهَا فَأَنْتَ بِالنَّفْسِ لَا بِالْجِسْمِ إِنْسَانُ
অন্তরের দিকে মনোযোগ দাও, উত্তম গুণাবলিতে তা সাজাও। কেননা শরীরের কারণে নয়, তুমি মানুষ হয়েছ সুস্থ হৃদয় দিয়ে।
তারবিয়াতের এই দায়িত্ব কখনোই সহজ দায়িত্ব নয়। কিন্তু যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে গেলে আল্লাহ তাআলার সামনে জবাবদিহি করার সুযোগ পাবেন; কিন্তু কোনো চেষ্টাই না করলে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর কোনো পথ থাকবে না। আর তারবিয়াতের ক্ষেত্রে বাবার ঘাটতি পূরণ করতে চাইলে আপনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সৎসঙ্গ বা কর্মশালার সহযোগিতাও নিতে পারেন।
টিকাঃ
[১২] সূরা নিসা, ৪: ৩৪।
📄 তারবিয়াতের অনেক বিষয় তো আমি নিজেই ধারণ করতে পারিনি!
*আচ্ছা, স্পষ্ট করেই বলি, আপনি ওপরে তারবিয়াতের যে বিষয়গুলো উল্লেখ করলেন তার মধ্যে অনেক বিষয় তো আমার নিজের মধ্যেই নেই। আমি সেগুলো নিজেই ধারণ করতে পারিনি। তা হলে সন্তানদের কীভাবে এর ওপর গড়ে তুলব? যা আমার নিজের মধ্যেই নেই, তা কীভাবে অন্যকে প্রদান করব?
* ঠিক বলেছেন। আমাদের উচিত হবে, তারবিয়াতের সব বিষয় নিজে ধারণ করে তবেই সন্তানদের এর ওপর গড়ে তোলা। জীবনের পথচলা এমনই হয়। সবকাজেই ধারাবাহিক শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম আর সবশেষে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয়。
আমি আমার জীবনে যত লেখালেখি করেছি, যত লেকচার প্রদান করেছি সেগুলো মূলত নিজের ভেতর তারবিয়াতের বিষয়গুলো ধারণ করার উদ্দেশ্যেই করেছি। আর তা ছাড়া অনেক অনেক মুরব্বীরও শরণাপন্ন হয়েছি, যারা আমার ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দান করে জীবনপথে চলার ম্যাপ সুচারুরূপে এঁকে দিয়েছেন।
আমরা এখন এক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি। এই লড়াই মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লড়াই। নফস ও মস্তিষ্ক, ফিতরাত ও স্বভাবকে প্রভাবমুক্ত করার লড়াই। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ফিরিয়ে আনার লড়াই। এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে আপনি এক অদ্ভুত বিষয় আবিষ্কার করবেন। দেখবেন, সন্তানদের গড়ে তুলতে গিয়ে যেন আপনি নিজেকেই স্বয়ং গড়ে তুলছেন। আপনার ভেতরের আত্মা যাকে আপনি দেখতে পান না, সন্তানদের তারবিয়াত দিতে গিয়ে আপনি তাকে দেখতে পাবেন। নিজের ভেতরের দোষত্রুটি, বোধবুদ্ধি আপনার নিকট স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেবে। সর্বোপরি তারবিয়াতের সৌন্দর্যে আপনি বিমোহিত হয়ে পড়বেন।
তারবিয়াতের এই পথচলায় আমরা যেন ধীরে ধীরে নিজেদেরই আবিষ্কার করতে থাকব। আল্লাহর দেওয়া মানবহৃদয়ের এই সৌন্দর্য আমাদের অভিভূত করবে। মানবহৃদয়ে প্রথমে বীজ বপন, তারপর ওহির পানিতে সিঞ্চন, সর্বশেষ ফসল উত্তোলন। এ যেন এক সুখের আবেশ। আপনি স্পষ্ট দেখতে পাবেন, অন্তর কীভাবে ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক ও ধর্মহীনতার প্রভাব থেকে মুক্তি পাচ্ছে।
📄 তারবিয়াতের এই বিষয়টি কি আরেকটু সহজ হতে পারত না?
* কিন্তু তারবিয়াতের এই বিষয়টি কি আরেকটু সহজ ও সরল হতে পারত না? প্রত্যেক শিশুই তো ফিতরাত ও স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর জন্মগ্রহণ করে।[১৩] ইসলামের প্রথম দিকের প্রজন্ম কি এতসব 'কাঠিন্যের' ওপর বেড়ে উঠেছিলেন?
* প্রিয় বোন, মুসলিম বিশ্ব থেকে সামরিক ঔপনিবেশ যখন বিদায় নিচ্ছিল তখন সবচেয়ে ভয়ংকর যে বিষয়টি ঘটেছিল তা হলো, মুসলিমরা এই ধারণা করে বসলেন যে, তারা এখন মুক্ত ও স্বাধীন। তাদের এই ধারণার অবশ্য একটি কারণ ছিল। রাস্তায় রাস্তায় আর ভিনদেশী সৈনিকদের মহড়া দেখতে না পেয়েই মূলত তাদের এই চিন্তার উদয় ঘটেছিল। তারা যে চিন্তা ও মূল্যবোধগত ঔপনিবেশের শিকার, সে বিষয়টি তখন আর উপলব্ধি করতে পারেননি। যেহেতু তারা নিজেদের বন্দিই ভাবেননি, তাই স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন হওয়ার আর চেষ্টাও চালাননি।
কবি সুন্দর বলেছেন :
وَأَقُولُ كُلُّ بِلَادِنَا مُحْتَلَةٌ ... لَا فَرَقَ إِنْ رَحِلَ الْعِدَا أَوْ رَانُوْا مَاذَا نُفِيْدُ إِذَا اسْتَقَلَّتْ أَرْضُنَا *** وَاحْتُلَتِ الْأَرْوَاحُ وَالْأَبْدَانُ سَتَعُوْدُ أَوْطَانِي إِلَى أَوْطَانِهَا *** إِنْ عَادَ إِنْسَانًا بِهَا الْإِنْسَانُ
শত্রু অবস্থান করুক কিংবা প্রস্থান, আমাদের ভূমি আজও বিরান।
যখন বন্দি আমাদের অন্তরাত্মা, কী কাজে আসবে দেশের স্বাধীনতা?
প্রকৃত স্বাধীনতা তো সেদিন হবে
যেদিন মানুষ মানুষ হয়ে উঠবে।
ইসলামের প্রথম দিকের প্রজন্ম ছিল স্বভাবজাত প্রকৃতি ও মানসিক ভারসাম্যের ওপর লালিত একটি প্রজন্ম। ব্যাপকভাবে আল্লাহর দাসত্ব বাস্তবায়ন করেই তারা জীবনযাপন করতেন। যেহেতু এটিই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য, তাই এটি তাদের কর্মকাণ্ডেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। তাদের সমস্ত কাজ নির্ভেজাল স্বভাব থেকে উৎসারিত হতো। এতে বিন্দু পরিমাণ কৃত্রিমতাও জড়িয়ে থাকত না।
তাদের অন্তর ছিল, ওহির শক্তিতে বলীয়ান। সীমাহীন আস্থায় পরিপূর্ণ। তারা জাহিলিয়াতের প্রতি ঘৃণা রাখতেন, সে পথে চালনাকারী সমস্ত উপায় ও মাধ্যমকে তারা মিটিয়ে দিতেন। আল্লাহ প্রদত্ত মানদণ্ডকে সামনে রেখে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যেকোনো ধরনের মতবাদের ওপর তারা দ্বিতীয়বার চোখ বুলাতেন। পূর্বেকার জাহিলিয়াত তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য আচ্ছন্ন করলে, তারা সাথে সাথেই এর স্বরূপ টের পেয়ে যেতেন। নব্য জাহিলিয়াত[১৪] থেকে মুক্তি পাওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাতেন। তারা গুনাহে পতিত হতেন, কিন্তু গুনাহকে গুনাহ বলেই জানতেন।
কিন্তু আজকের শিশুকে দেখুন। তারা ফিতরাত ও স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর জন্মগ্রহণ করে ঠিকই কিন্তু দখলদার ঔপনিবেশিক শক্তি তাদেরকে চিন্তাচেতনা ও মূল্যবোধগতভাবে হয় পশ্চিমা চিন্তাধারায় প্রভাবিত করে, না হয় পূর্বেকার চিন্তাধারায়। ধেয়ে আসা বিভিন্ন ফিতনা ও সংশয়ের প্লাবনে তাকে নিমজ্জিত রাখে। হকের সাথে বাতিলকে মিশিয়ে তার সামনে উপস্থাপন করে। অথচ এতসব কিছুর প্রতিরোধে 'আল্লাহর দাসত্ব' নামক যে চুম্বকের প্রয়োজন ছিল, তার কোনো দেখা নেই। তাই সন্তানদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া আজকের সময়টাতে এতটা কঠিন মনে হচ্ছে।
বিশৃঙ্খল আত্মাকে শৃঙ্খলায় আনতে পারে আল্লাহর দাসত্বের চুম্বক। যেহেতু এখন এটি অনুপস্থিত, তাই এই আত্মা জাহান্নামীদের হাতের খেলনায় পরিণত হয়েছে। কুরআন একসময় সকলে বুঝতে সক্ষম হতো। খুব সহজে মানবহৃদয়ে এটি গভীর প্রভাব বিস্তার করত। কিন্তু এখন খোদ অধিকাংশ আরবদেরর নিকটেই এই কুরআন দুর্বোধ্য।
প্রিয় বোন, এখন সময় আপনার। সন্তানের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর আবর্জনার যে স্তর তৈরি হয়েছে সেটিকে এক ঝটকায় ঝেড়ে ফেলুন। তাদের সামনে এমন লক্ষ্য স্থাপন করুন, যা তাদের বিশৃঙ্খল হৃদয়কে সুশৃঙ্খল করবে, ওহির বাণীকে তাদের নিকট সহজবোধ্য করে তুলবে।
টিকাঃ
[১৩] ফিতরাত বা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো, সে সমস্ত অভ্যাস ও স্বভাব যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশুরা মিথ্যা বলতে জানে না। কারণ আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন সত্য বলার ওপর। কিন্তু পরবর্তীতে পরিবেশ থেকে সে মিথ্যা বলা শিখে। ঠিক এভাবে, ভালো কাজকে পছন্দ করা, উপকারকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা, নোংরা জিনিসের প্রতি ঘৃণা ইত্যাদি। এই ফিতরাতের ক্ষেত্রে আস্তিক-নাস্তিক, কাফির-মুসলিম সকলে সমান। যেমন, আমানতদারিতাকে সবাই পছন্দ করে, পরনিন্দাকে সবাই ঘৃণা করে। ইসলাম হলো ফিতরাতের ধর্ম। যেহেতু ইসলামের প্রত্যেকটি বিধান ফিতরাত ও স্বভাবজাত প্রকৃতি থেকে উৎসারিত তাই এটি মানুষকে টানে। কিন্তু মানুষের ফিতরাতই যদি পালটে যায় তা হলে ভাবুন কেমন পরিস্থিতি হবে। তখন বিকৃত ফিতরাতের মানুষটিকে ইসলামের স্বচ্ছ ও নির্মল আবেদন আর আকর্ষণ করবে না। এই বইয়ের 'পচন যখন মূলে' শিরোনামের লেখাটিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে, ইন শা আল্লাহ।
[১৪] জাহিলিয়াত কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নাম নয়। নবিজি-এর আগমন-পূর্ব-পৃথিবীই শুধু এর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং যারাই ওহির আদেশকে প্রত্যাখ্যান করবে, আল্লাহর আইনকে ছুঁড়ে ফেলে মানবরচিত সংবিধান অনুযায়ী চলবে তারা প্রত্যেকেই জাহিলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। তাই উচিত জাহিলিয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে নতুনভাবে আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূল-এর সুন্নাহয় ফিরে আসা।
📄 এখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমার শংকা হচ্ছে!
* এই কথাগুলো শুনে আমার তো এখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েই শংকা হচ্ছে। বলতে গেলে, সন্তান নিতেই আর সাহস পাচ্ছি না।
* আমি আপনাকে বলবঃ আল্লাহ এই উম্মাহকে শেষমেশ বিজয় দেবেন বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন। রোম (ভ্যাটিকান) বিজয়ের আগাম সুসংবাদ, [১৫] প্রত্যেক ঘরে ঘরে ইসলাম প্রবেশের ভবিষ্যদ্বাণী আল্লাহ এই উম্মাহর সন্তানদের হাতেই বাস্তবায়ন করবেন। মুসলিমরা নিষ্কর্ম হয়ে বসে থাকবে আর ভিন্ন গ্রহের কেউ এসে এই দ্বীনকে সাহায্য করে যাবে এমনটা তো আর সম্ভব নয়। রাসূল -এর দেওয়া আগাম সুসংবাদগুলোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল, আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তির পরש বুলিয়ে দেওয়া। যেন জীবন চলার পথে আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাই। যেন সন্তানদের সঠিক তারবিয়াতের ওপর গড়ে তুলে তাদের হাতে যুদ্ধের পতাকা উঠিয়ে দিতে পারি। তারাই একসময় বিজয়ের এই পরিক্রমা সম্পন্ন করবে, ইন শা আল্লাহ।
وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আর শেষ পরিণতি খোদাভীরুদেরই।”[১৬]
টিকাঃ
[১৫] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ৮৬৬২।
[১৬] সূরা আ'রাফ, ৭: ১২৮।