📄 দায়িত্বভার গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ
দায়িত্বভার গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ
এই স্তরে এসে সেই ছোট্ট শিশুটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণে পরিণত হয়ে গেল। ফলশ্রুতিতে শরিয়তের বিধানাবলি তার ওপর বাধ্যতামূলক হল। অর্থাৎ দায়িত্বভার বহণের পরিপূর্ণতা ও তার কৃত সকল কর্মতৎপরতার ফলাফল বের করতে সে সক্ষম হয়ে গেছে। সে কারণে তার দায়িত্বভার গ্রহণে সদা তৎপর থাকা নিতান্ত প্রয়োজন। যদি এ ক্ষেত্রে শিশু কোন ভুল করে বসে তারপরও অভিভাবক তাকে এ বিষয়ে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করবে। অভিভাবক অসংখ্য বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করে নিতে পারেন। তিনি তার কথা অনুযায়ী কাজ করবেন যদি তা শুদ্ধ প্রমাণিত হয়। তরণ সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের পরামর্শ তার এই অনুভূতি জাগ্রত করবে যে, তার মতামতের একটা মূল্য আছে এবং সেও নির্ভরশীল হওয়ার যোগ্য। তার দায়িত্বানুভূতি ও সম্পাদনের আগ্রহ এবং তা বহনে কষ্টসহিষ্ণুতাকে বেশ শক্তিশালী করবে। ফলে তার মত ও চিন্তাকে অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ পর্যায় নিয়ে পৌঁছাতে সে আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকবে। এর সম্পূর্ণ বিপরীত ফল হবে যদি তাকে অবজ্ঞা ও তার মতামতের দিকে ভ্রক্ষেপ করা না হয়। প্রকাশ থাকে যে, পরামর্শের পুনরাবৃত্তি তাদেরকে অনুগত নয় বরং যারা অপরের পেছনে চলে তাদেরকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ফলে তারা শ্রমসাধ্য কর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। তরণীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তরশদের মতই।
অভিভাবকের কর্তব্য হলো এগুলো শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে সে আহরণ করবে। নিশ্চয়ই মানুষের অনেক প্রয়োজন থাকতে পারে। তার একজন সাহায্যকারীরও প্রয়োজন আছে। এখন থেকেই যদি তরুণের দায়িত্বভার গ্রহণে তাকে অংশগ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে তৎপর না হওয়া যায়, তাহলে সে নিজেকে ঐ প্রয়োজনগুলোর আয়োজন সাধনে কষ্টের সম্মুখীন হবে। অথবা অন্য লোকদের সাহায্য নিতে প্রয়াস পাবে যারা তাকে সহায়তা করতে পারে। এর মধ্যে যদিও সাহায্য প্রার্থনার দিক থেকে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায় তা কখনো কখনো সন্তানদেরকে নিষ্কর্মা ও ব্যর্থ ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে ফেলবে। ফলে তাদের ভূমিকা হবে অন্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো। যার অশুভ পরিণতি হতে অভিভাবকগণও মুক্ত থাকতে পারবেন না।
যে সকল কাজ এই বয়সে তরুণদের সম্পন্ন করা কর্তব্য তার মধ্যে অন্যতম হলো, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন কাজ যা গাড়ী ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সে একই সঙ্গে তখন ড্রাইভ করার আগ্রহ দেখাতে পারে। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তদারক করা কর্তব্য। কারণ, অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য এটাই একমাত্র কারণ হয়ে থাকে। প্রথমেই তাকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেয়া কর্তব্য। তাকে গাড়ি ড্রাইভ করার অনুমতি দেয়া যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার নিজের ও অপরের জীবন কার্যতঃ সংরক্ষণে সক্ষম না হবে। তেমনিভাবে তাকে স্থায়ীভাবে গাড়ির চাবি দেয়া যাবে না। বরং তা ঘরে মা-বাবার সাথে থাকবে। কেবল প্রয়োজনের সময় তাকে তা দিতে হবে। তাও আবার বের হওয়া ও প্রত্যাবর্তনের সময় তদারকি করতে হবে। তরুণের কর্মতৎপরতা, কর্মের স্থীরতা ও গাড়ীটি যেন রীতি বহির্ভূতভাবে বের হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে সে ব্যপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত।
📄 শ্রমসাধ্য কর্ম, জ্ঞান ও তথ্য ভাণ্ডারের দিকে অগ্রগতি ও অনুরাগ মূল্যায়ন
শ্রমসাধ্য কর্ম জ্ঞান ও তথ্য ভাণ্ডারের দিকে তরুণ সন্তানের অগ্রগতি ও অনুরাগ মূল্যায়ন
মুসলিম বিশ্বের অনেক বরং সিংহভাগ দেশের শিক্ষাগত পরিস্থিতির দিকে লক্ষ করলে যা প্রতিভাত হয় তা হল: কোন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের সূচনা সাধারণত এই বয়োঃস্তরেই হয়ে থাকে। অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানের আগ্রহ সামর্থ্য ও তার প্রস্তুতির দিকে কোনরূপ ভ্রুক্ষেপ না করেই তাদের সন্তানদেরকে এমন অধ্যয়ন অথবা উচ্চ পর্যায়ের প্রবাস চাকুরীর দিকে দিকনির্দেশনা দিতে প্রয়াস পান-যাকে তারা অপেক্ষাকৃত উচ্চ মানের বলে জ্ঞান করে থাকেন। অতঃপর তারা এ বিষয়ে তরুণের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে থাকেন-যা অনেক সময় প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তি থেকে তাদেরকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেবে। বহু বাবা অথবা অভিভাবক রয়েছেন (যে বিষয়ে তার সন্তান ভালো অথবা সক্ষম নয় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে নিজ সন্তানের জীবন থেকে অনেকগুলো বছর নষ্ট করার কারণে) যারা অনুতাপ ও লজ্জায় আঙ্গুল কাঁটছেন।
এখানে আমাদের একথা বলে রাখা উচিত: প্রত্যেকটি উপকারী জ্ঞান অথবা কারিগরি বিদ্যা-চাই তা যে মানেরই হোক না কেন- মুসলিম উম্মাহর তা নিতান্ত প্রয়োজন। সন্তান যখন সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবে। সে ওখান থেকে যে ফল লাভ করতে পারবে তা পার্থক্যবোধহীন ভোগবাদী সমাজের দৃষ্টিতে এর চেয়ে কোন উৎকৃষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে প্রভুত অর্জনের চেয়ে অনেক মহৎ ও বড়। (উদাহরণ স্বরূপ) একজন অভিজ্ঞ মেকানিক্স অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের চেয়ে অনেক বেশি সমাজের উপকার করে থাকেন। সম্পদও তার চেয়ে বেশি উপার্জন করেন। সন্তানদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও ভর্তি করা অথবা মেধার দুর্বলতার দরশ যা অর্জন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তার জন্য চাপ প্রয়োগ অভিভাবকদের উচিত নয়। কারণ এর দ্বারা হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরং যে বিষয়ে উৎকর্ষ সাধন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সামর্থ্য কিংবা তাদের আগ্রহ পরিলক্ষিত হয় সেই দিকেই তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। কিন্তু সন্তানের আগ্রহশূন্যতা নিরসনকল্পে অভিভাবককে সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে হবে। এটা তার দুর্বলতা, সামর্থ্যহীনতা নাকি কর্মটা তার জন্য দুঃসাধ্য সেটা বুঝতে হবে।
ইবনে কাইউম রহ. এর এ সংক্রান্ত একটি উৎকৃষ্ট বাণী রয়েছে। তিনি বলেন, 'সন্তানের অবস্থা দেখে তার শিক্ষার বিষয়টি নির্ধারণ করা উচিত। এটা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিলে অন্যটা করতে সে উদ্যত হবে না।। সে যদি তার জন্য নির্ধারিত কর্মের বিপরীতটা করতে উদ্যত হয়, তাহলে কখনো সফলকাম হতে পারবে না। তার জন্য যা প্রস্তুত ছিল তাও হারিয়ে যাবে।
যদি দেখা যায় পড়াশুনা না করে সে অশ্বারোহণ, তীর নিক্ষেপ ও তীর নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করে। তাহলে তাকে আপনি অশ্বারোহণের উপকরণ ও এর ওপর অনুশীলন গ্রহণের সুযোগ দিন। কারণ এটা তার নিজের ব্যক্তি ও গোটা মুসলিম জাতির জন্য উপকারী। যদি দেখে তার নয়ন যুগল কোন কারিগরি পেশার দিকে উম্মোচিত, প্রস্তুত ও গ্রহণকারী হিসেবে দেখতে পায়। যা হবে বৈধ জনহিতকর কারিগরি পেশা, তাহলে তাকে এর জন্য সুযোগ দেয়া উচিত। এ সকল বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ভর্তি করাতে হবে ধর্ম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদানের পর। কারণ তা বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার প্রমাণ উপস্থাপন সহজ করে দেয়। যেহেতু বান্দার বিরুদ্ধে পেশ করার মত তাঁর রয়েছে অকাট্য প্রমাণ। যেমনিভাবে বান্দার ওপর তার রয়েছে অফুরন্ত নেয়ামত। আল্লাহ তাআলা সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত।
এ প্রসঙ্গে ইমাম শাতেবী রহ. এর রয়েছে মূল্যবান বক্তব্য, যা তিনি সবিস্তারে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকুলকে যখন সৃজন করেছেন তখন তারা নিজেদের পার্থিব ও পারলৌকিক প্রয়োজন ও কল্যাণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর ছিল। আপনি কি আল্লাহ তাআ'লার এই বাণীর দিকে লক্ষ করেননি?
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا. (النحل - 78 )
'আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না।
অতঃপর তাদেরকে প্রতিপালনের প্রয়োজন সাপেক্ষে আস্তে আস্তে এ সম্পর্কিত জ্ঞান দান করেছেন। একবার নবজাতকের অন্তরে প্রত্যাদেশ করেন। যেমন জননীর স্তন্য স্পর্শ করা ও তা চোষার প্রত্যাদেশ। দ্বিতীয় বার শিক্ষার মাধ্যমে। অতএব মানুষের জন্য সকল কল্যাণকর বিষয় গ্রহণ ও ক্ষতিকর বস্তু নিরসন করার জন্য তার শিক্ষাগ্রহণ ও জ্ঞান অন্বেষণ করা কর্তব্য। ঐ স্বভাবগত এবং আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিভাগুলো তার মধ্যে বিকশিত হওয়ার পর যা প্রতিফলিত হবে। কারণ, বিস্তারিত ও সামগ্রিক কল্যাণ আহরণের জন্য এটা হল যেন ভিত্তিমূল। তা হতে পারে কতগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিশ্বাস গত বিষয় অথবা ইসলামী ও অভ্যাসগত শিষ্টাচারসমূহ। এসবের প্রতি যত্নবান হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে তার জন্মগত স্বভাব ও তার প্রতি যে বিস্তারিত অবস্থা ও কর্মসমূহ প্রত্যাদেশ করা হয়েছে তা আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হতে থাকবে। ফলে এটা প্রকাশিত হয়ে যাবে তার মধ্যে প্রতিফলিত হবার সাথে সাথে তার ঐ সকল বন্ধুদের মধ্যেও প্রতিফলিত হবে যারা এ প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। সুতরাং বোধ ও বুদ্ধির এমন সমন্বয় আর কখনোই সূচিত হতে পারবে না। প্রাথমিক বয়সে যা তার জন্মগত স্বভাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তার বিপরীত কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া তার পৃষ্ঠে পরিস্ফুট হবে। যার ফলে আপনি লক্ষ করে থাকবেন: একজন প্রস্তুতি নিচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণের ও অন্যজন করছেন নেতৃত্বের অন্বেষণ। আর একজন প্রয়োজনীয় কারিগরি বিদ্যা ও অপর ব্যক্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন সকল বিষয়ে লড়াই ও তর্ক করার জন্য।
প্রত্যেকের মধ্যে যদি সামগ্রিক কর্ম তৎপরতা প্রোথিত করা হয়ে থাকে তাহলে এক অভ্যাসকে অপর অভ্যাসের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। ফলে তার আদিষ্ট হওয়াটা শিক্ষাপ্রাপ্ত ও শিষ্টাচার সমৃদ্ধ অবস্থায় হবে যার ওপর বর্তমানে সে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এমতাবস্থায় সেই আবেদনটি প্রত্যেক আদিষ্ট ব্যক্তির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে প্রযোজ্য হবে সেই কর্মকাণ্ডসমূহে সে তৎপর। ফলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সেই দিকে দৃষ্টিপাত নির্ধারিত হয়ে গেল। অতঃপর সামর্থ অনুযায়ী তার পরিচর্যা করবে। সুতরাং তাদেরকে এমনভাবে যত্ন নিতে হবে যেন অভিভাবকের হাতেই ওরা সঠিক পথের ওপর উঠতে পারে। এটা বাস্তবায়নে তাদের সহায়তা করবে। এরও অনেক পর স্থায়ীত্ব অর্জনের জন্য তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। যাতে প্রত্যেকের মধ্যে তার বিজিত চরিত্র প্রতিফলিত হয় এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে, সে দিকে তার ঝোঁক রয়েছে। এরপর তারা পরিবারের মাঝে থাকলে তাদের সাথে সুসামঞ্জস্য আচরণ করা যেতে পারে। ফলশ্রুতিতে তারা তার অধিকারী হয়ে যাবে যদি তা তাদের জন্যই হয়ে থাকে। যেমন জন্মগত গুণাবলি ও প্রয়োজনীয় অনুভূতিগুলো। ফলে সাধিত হবে প্রভুত কল্যাণ ও প্রকাশিত হবে উক্ত প্রতিপালনের ফলাফল।
উদাহরন স্বরূপ: ধরুন, কোন শিশুর মধ্যে উত্তম অনুভূতি, উৎকৃষ্ট বোধ ও শ্রুত বিষয়ের পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ইত্যাদি গুণাবলি প্রকাশিত হয়, যদিও এসব ছাড়া অপর গুণাবলিও তার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে তা সত্ত্বেও তাকে উক্ত মহৎ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করতে হবে। সার কথা হলো তার মধ্যে এ নিশ্চিত গুণাবলি তার মধ্যে শিক্ষার কল্যাণ সংক্রান্ত যে তৎপরতা প্রত্যাশা করছেন তার মূল্যায়ন করা নিতান্ত কর্তব্য। অতএব
শিক্ষা গ্রহণ ও সকল বিদ্যা সম্পর্কে সমন্বিত শিষ্টাচারে সমৃদ্ধি অর্জন তার কাছ থেকে কাম্য। সেখান থেকে অন্য দিকেও দৃষ্টি ফেরানো কর্তব্য। ফলে তার থেকে গ্রহণ ও তার সহায়তা নেয়া যাবে। কিন্তু তা একটা নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে হতে হবে। যে সম্পর্কে বিদগ্ধ ওলামায়ে কেরাম নির্দেশ করেছেন।
যখন উক্ত 'অন্য' এর মধ্যে প্রবেশ করবে তার স্বভাব বিশেষতঃ সে দিকেই ঝুঁকে পড়বে। ফলে তাকে অপরের থেকে বেশি ভালোবাসবে। তাকে এ ব্যাপারে সচেতন করা পরিবারের ওপর কর্তব্য। যাতে তাকে কোনরূপ অবজ্ঞা অথবা অবমূল্যায়ন ব্যতিরেকে তার কাছ থেকে সে পরিমিতভাবে গ্রহণ করতে পারে। এরপর সে যদি এখানেই অবস্থান করে তাহলে ভালো। যদি অভিভাবক অথবা অপরের থেকে আরো গ্রহণ কাম্য হয়। তাহলে সেক্ষেত্রে তার সাথে তেমন আচরণ করবে যা ইতিপূর্বে করা হয়েছে।
অনুরূপ এটার সমাপ্তি ও এ কথা বলা পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখবে 'অনুরূপ ক্রমবিন্যাস প্রযোজ্য হবে তার ক্ষেত্রেও যার পদক্ষেপ গ্রহণ, সাহসিকতা ও কর্ম পরিচালনার গুণাবলি ইতিমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং তাকেও ঐ দিকে ধাবিত করবে ও সামগ্রিক বিদ্যা সংক্রান্ত সমন্বিত শিষ্টাচার শিক্ষা দেবে। এরপর তাকে উন্নত থেকে উন্নততর ব্যবস্থাপনার পেশাগত দক্ষতার দিকে নিয়ে যাবে। যেমন: চিকিসা, সংগঠন, সমর, পথ প্রদর্শন অথবা নেতৃত্ব প্রভৃতি থেকে সে যেটার যোগ্য, তার ইচ্ছা, সেটা সে গ্রহণ করবে। সে কারণে প্রতিটি কর্মের ব্যাপারে তাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে, যেন তা সমগ্র জাতির দায়িত্ব। কারণ, সেই প্রথম এই সমন্বিত পথের অগ্রপথিক। অতএব অগ্রপথিক যদি দাঁড়িয়ে যায় এবং ভ্রমণে অপারগতা প্রকাশ করে, তাহলে তো প্রকারান্তরে তার জন্য অপেক্ষমান সমগ্র জাতিই দাঁড়িয়ে থাকবে। পক্ষান্তরে তার নিকট যদি এমন শক্তি থাকে যা সার্বজনীন কর্তব্যসমূহ পালন ও যে কর্মসমূহ সম্পাদনের জন্য ব্যক্তির দুষ্পাপ্যতা রয়েছে সে ক্ষেত্রে তার ভ্রমণকে গতিশীল করতে সক্ষম। যেমন : শরিয়তের বিধনাবলির বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপরিচালনার প্রচেষ্টা- যার মাধ্যমে পৃথিবীর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও পারলৌকিক আমলসমূহ সুস্থির ও সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। এ সকল ক্ষেত্রে তাকে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাতে সক্ষম।
এখানেই এই সংকলনের সমাপ্তি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করছি। তিনি যেন এর দ্বারা লেখক, পাঠক ও সকল মুসলিম সন্তানকে উপকৃত করেন। আমীন!
وصلى الله تعالى وسلم على نبينا محمد بن عبد الله النبي الخاتم وآله وصحبه ومن تبعهم بإحسان.
টিকাঃ
১. তুহফাতুল মওদুদ ফি আহকামিল মওদুদ: ২৪৩
১৮৪. সুরা নাহল: ৭৮
১. আল-মুওয়াফিকাত: ১/১৭৯-১৮১, মুসলিম সমাজের অবস্থা ও সম্প্রতিকালের ওলামায়ে কেরামের দিকনির্দেশনা সম্পর্কিত ইবনুল কায়্যুম র. ও শাতেবী র. এ বক্তব্য দু'টি দ্বরা প্রমাণিত হয় যে, আরো সকালেই সূচিত হয়। অর্থ্যাৎ বুঝসম্পন্ন শৈশব স্তরেই হয়। আমাদের বর্তমান সময়ে পরিস্থিতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হওয়ার কারণে আমি এখানে বিষয়টির আলোচনা করেছি। যেহেতু বর্তমানে উল্লেখিত বয়োঃস্তরের পূর্বে বিশেষজ্ঞ হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু দু একটা ব্যতিক্রম পরিস্থিতি তো থাকতেই পারে। তবে ব্যতিক্রমের জন্য কোন মূলনীতি হয় না।