📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 পবিত্রতা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ

📄 পবিত্রতা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ


পবিত্রতা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ
তরুণ-তরুণীরা বয়োঃসন্ধিক্ষণে উপস্থিত হলে প্রত্যেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পবিত্রতা অর্জনের বিধানাবলি সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। কারণ এ স্তরে নতুন এমন অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয় যা ইতোপূর্বে ছিলো না। যে কোন মসজিদে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তাহারাতের বিধানাবলি বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা উচিত। সেখানে একজন বিজ্ঞ শিক্ষক দরস পরিবেশন করবেন। অপর দিকে একই সাথে তরণীদের জন্য কোন মহিলা শিক্ষক ক্লাশ নেবেন। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে সমস্যার প্রকৃত সমাধান। বিশেষ করে আলোচনাটা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয় বরং দলকে সম্মোধন করে হতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এর মধ্যে কোন সমস্যা নেই। বরং মসজিদে এজাতীয় প্রশিক্ষণের অনুষ্ঠান আলোচ্য বিষয়ের ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদাটাকে একটু বৃদ্ধি করে বৈকি। সুতরাং এ বিষয়ে কোন অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য অথবা অযৌক্তিক মন্তব্য করার আর কোন অবকাশ থাকল না। বরং সকলেই অনুভব করতে পারবেন যে, এই হলো প্রকৃত দ্বীন। কারণ এখানে তো একজন বিজ্ঞ আলেমের পক্ষ থেকে দ্বীন অথবা তালেবে ইলম সম্পর্কে আলোচনা হয়ে থাকে। তা আবার এমন স্থানে বসে যেটা কোরআন তেলাওয়াত ও সালাতের মত সৎ কর্ম সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নম্রতা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং কঠোরতা আরোপ না করা

📄 শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নম্রতা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং কঠোরতা আরোপ না করা


নম্রতা, অনুগ্রহ প্রদর্শন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ না করা
ছাত্রের উচ্চ স্থান অর্জনের আগ্রহ কখনো কখনো অভিভাবককে তার করণীয় পর্যন্ত ভুলিয়ে দিয়ে থাকে। ফলে তা শিক্ষার্থীর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে যায়। এমনকি শিক্ষার্থী এতে বেশ বিরক্ত হয়েও উঠে। কিন্তু তাদের ধারণ ক্ষমতার দিকে সযত্ন দৃষ্টি রাখলে তবে প্রশিক্ষণ ও প্রতিপালন ফলপ্রসূ হতে পারে। আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সমবয়স্ক একদল যুবক আসল। তারা তাঁর নিকট বিশটি রাত অবস্থান করল। অতঃপর যখন তিনি অনুধাবন করলেন যে, তাদের নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টা তাদের নিকট একটু কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে, তখন তাদেরকে অন্তিম উপদেশ দিলেন। এ প্রসঙ্গে আমাদের নিকট হযরত মালেক বিন হুওয়াইরিছ রা. হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আগমন করলাম, তখন আমরা সমবয়স্ক টগবগে যুবক ছিলাম। আমরা তাঁর নিকট বিশ দিন বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন কোমলহৃদয় ও বিনম্র প্রকৃতির মানুষ। এরপর যখন তিনি বুঝতে পারলেন আমরা নিজেদের পরিবারের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছি এবং আমাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা যাদের পেছনে রেখে এসেছি তাদের সম্পর্কে আমাদেরকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আমরা তার নিকট সবকিছু খুলে বললাম। তিনি বললেন- 'তোমরা তোমাদের পরিবারের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করো। তাদেরকে শিক্ষা দাও। তাদেরকে আদেশ করো।' আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা আমি মনে রাখতে পেরেছি অথবা আমার মনে নেই। 'তোমরা সালাত আদায় করো যেভাবে তোমরা আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ। অতএব যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে তখন তোমাদের মধ্যে একজন আযান দেবে ও তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞজন নামাজে তোমাদের ইমামতি করবে। '
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদের পরিবারের দিকে আগ্রহ লক্ষ্য করলেন তখন তাদেরকে সেদিকে ফিরিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে অনেক মূল্যবান উপদেশ দিলেন। এই হাদীস থেকে এ বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া ও তার প্রয়োজন সম্পর্কে অবহিত হওয়া তাদের প্রতি বিনম্র হওয়া ও মানবিক দুর্বলতাকে অবজ্ঞা না করা শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দের একান্ত কর্তব্য। সুতরাং তাদের সঙ্গে এরূপ আচরণ করবেন না যাতে তাদের কষ্ট হয়। তারা ফেরেস্তা নয়, বরং তারাও অন্য মানুষের মতই মানুষ।

টিকাঃ
১৮২. বুখারী: ৫৯৫

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 তাকে পুরুষদের সমাজে নিয়ে যাওয়া

📄 তাকে পুরুষদের সমাজে নিয়ে যাওয়া


তাকে পুরুষদের সমাজে নিয়ে যাওয়া
যার বয়োঃসন্ধির নিদর্শনগুলো ফুটে উঠেছে সেই তো একজন পুরুষ। এই ভিত্তিতে সে পূরুষদের সমাজে যেতে পারে। তার সঙ্গে এই দৃষ্টিতে আচরণ করতে হবে। তারা এখনো শিশু অথবা বাচ্চা এই ভিত্তিতে আচরণ করা কখনোই সমীচীন হবে না। অনুরূপ তরণীরাও। ফলে এই আচরণই তাদের কর্ম তৎপরতাকে পুরুষ অথবা মহিলাদের মত বড় ও তাৎপর্য মণ্ডিত করে দেবে। বড়দের সমাজে তাদের অংশগ্রহণকে সহজ করে দেবে। অন্য দিকে তাদের প্রাক্তন শৈশব সমাজকে খুব দ্রুত অতিক্রম করতে সহায়ক হবে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 দায়িত্বভার গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ

📄 দায়িত্বভার গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ


দায়িত্বভার গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ
এই স্তরে এসে সেই ছোট্ট শিশুটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণে পরিণত হয়ে গেল। ফলশ্রুতিতে শরিয়তের বিধানাবলি তার ওপর বাধ্যতামূলক হল। অর্থাৎ দায়িত্বভার বহণের পরিপূর্ণতা ও তার কৃত সকল কর্মতৎপরতার ফলাফল বের করতে সে সক্ষম হয়ে গেছে। সে কারণে তার দায়িত্বভার গ্রহণে সদা তৎপর থাকা নিতান্ত প্রয়োজন। যদি এ ক্ষেত্রে শিশু কোন ভুল করে বসে তারপরও অভিভাবক তাকে এ বিষয়ে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করবে। অভিভাবক অসংখ্য বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করে নিতে পারেন। তিনি তার কথা অনুযায়ী কাজ করবেন যদি তা শুদ্ধ প্রমাণিত হয়। তরণ সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের পরামর্শ তার এই অনুভূতি জাগ্রত করবে যে, তার মতামতের একটা মূল্য আছে এবং সেও নির্ভরশীল হওয়ার যোগ্য। তার দায়িত্বানুভূতি ও সম্পাদনের আগ্রহ এবং তা বহনে কষ্টসহিষ্ণুতাকে বেশ শক্তিশালী করবে। ফলে তার মত ও চিন্তাকে অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ পর্যায় নিয়ে পৌঁছাতে সে আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকবে। এর সম্পূর্ণ বিপরীত ফল হবে যদি তাকে অবজ্ঞা ও তার মতামতের দিকে ভ্রক্ষেপ করা না হয়। প্রকাশ থাকে যে, পরামর্শের পুনরাবৃত্তি তাদেরকে অনুগত নয় বরং যারা অপরের পেছনে চলে তাদেরকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ফলে তারা শ্রমসাধ্য কর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। তরণীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তরশদের মতই।
অভিভাবকের কর্তব্য হলো এগুলো শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে সে আহরণ করবে। নিশ্চয়ই মানুষের অনেক প্রয়োজন থাকতে পারে। তার একজন সাহায্যকারীরও প্রয়োজন আছে। এখন থেকেই যদি তরুণের দায়িত্বভার গ্রহণে তাকে অংশগ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে তৎপর না হওয়া যায়, তাহলে সে নিজেকে ঐ প্রয়োজনগুলোর আয়োজন সাধনে কষ্টের সম্মুখীন হবে। অথবা অন্য লোকদের সাহায্য নিতে প্রয়াস পাবে যারা তাকে সহায়তা করতে পারে। এর মধ্যে যদিও সাহায্য প্রার্থনার দিক থেকে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায় তা কখনো কখনো সন্তানদেরকে নিষ্কর্মা ও ব্যর্থ ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে ফেলবে। ফলে তাদের ভূমিকা হবে অন্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো। যার অশুভ পরিণতি হতে অভিভাবকগণও মুক্ত থাকতে পারবেন না।
যে সকল কাজ এই বয়সে তরুণদের সম্পন্ন করা কর্তব্য তার মধ্যে অন্যতম হলো, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন কাজ যা গাড়ী ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সে একই সঙ্গে তখন ড্রাইভ করার আগ্রহ দেখাতে পারে। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তদারক করা কর্তব্য। কারণ, অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য এটাই একমাত্র কারণ হয়ে থাকে। প্রথমেই তাকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেয়া কর্তব্য। তাকে গাড়ি ড্রাইভ করার অনুমতি দেয়া যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার নিজের ও অপরের জীবন কার্যতঃ সংরক্ষণে সক্ষম না হবে। তেমনিভাবে তাকে স্থায়ীভাবে গাড়ির চাবি দেয়া যাবে না। বরং তা ঘরে মা-বাবার সাথে থাকবে। কেবল প্রয়োজনের সময় তাকে তা দিতে হবে। তাও আবার বের হওয়া ও প্রত্যাবর্তনের সময় তদারকি করতে হবে। তরুণের কর্মতৎপরতা, কর্মের স্থীরতা ও গাড়ীটি যেন রীতি বহির্ভূতভাবে বের হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে সে ব্যপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00