📄 বঞ্চিত করণ
শাস্তি-শাস্তি প্রদানে ত্রুটিসমূহ বহিস্কার করণ
কোন কোন কাজ থেকে অভিভাবক যখন তাকে বারণ করতে সক্ষম হবে না অথবা তার তরুণ সন্তানটি তার দিকনির্দেশনায় সাড়া দেবে না। সে কারণে তার ভরণ-পোষণ স্থগিত করে দেবেন অথবা তার ঘরে প্রবেশ করাতে নিষেধাজ্ঞা জারী করবেন। কিন্তু কখনো এটা সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এটা বরং তখন সমস্যার প্রকট আকার ধারণ ও বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর শাস্তির আশঙ্কায় অবশ্য এতে তরশটি অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। আবার এর যে কোন সমাধান নিজের থেকে খুঁজতে আরম্ভ করে দিতে পারে। অবশ্য তখন সর্বাপেক্ষা দ্রুত ও সহজ সমাধান হতে পারে বিপথে ভ্রমণের সূচনা। পরিচিত ভ্রমণটি হতে পারে তাদের পথে যাদেরকে বলা হয় মন্দ বন্ধুমহল। ফলতঃ তারাই হবে এ পথের মূল শিকার, যেখানে সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। চূড়ান্ত পর্যায় বাবা তাকে ফিরিয়ে আনার কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার আর কোন উপায়ই খুঁজে পাবে না। কিন্তু এরপর কি হবে?
📄 সন্তানকে অভিশাপ বা বদ-দোআ’ করা
সন্তানকে অভিশাপ বা বদ-দোয়া করা
মা-বাবা কর্তৃক সন্তানের জন্য সামগ্রিক কল্যাণের দোয়া করা যা নবী রাসূলগণের আমলে ঈমানদারদের সুন্নত ছিলো। দেখুন ইবরাহীম আ. যিনি বলতেন-
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَوةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي. (إبراهيم -40 )
'হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সালাত কায়েমকারী কর এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও।'
যাকারিয়া আ. বলতেন-
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً. (آل عمران - 38 )
'আমাকে তুমি তোমার নিকট হতে সৎ বংশধর দান কর।'
একজন ঈমানদারের প্রার্থনা-
وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي. (الأحقاف - 15 )
'আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদিগকে সৎকর্মপরায়ণ কর।'
ঈমানদারগণের প্রার্থনা-
هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ. (الفرقان - 74 )
'আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান কর যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর। '
সন্তানের সৌভাগ্যের অন্যতম সোপান মা-বাবার দোয়া। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী- 'তিনটি দোয়া আল্লাহর নিকট নিশ্চিত কবুল যোগ্য।' সেখানে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানের জন্য বাবার দোয়াকেও উল্লেখ করেছেন। ১৬৯ কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক মানুষ এই দোয়াকে সন্তানের উপকারের জন্য ব্যবহার করার পরিবর্তে তারা বিষয়টাকে সম্পূর্ণরূপে উল্টিয়ে দিতে অভ্যস্ত। যখন তারা ওদের ওপর ক্রোধান্বিত হয় অথবা সন্তানরা এমন কাণ্ড ঘটিয়ে বসে যা তাদের অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তখন তারা ওদেরকে অভিশাপ দেয়, বদ-দোয়া করে থাকে। বলে থাকে- 'আল্লাহ, ওকে ধ্বংস করে ফেল, ওকে শাস্তি দাও অথবা ওর ওপর অভিসম্পাত কর! কেন মৃত্যু তোকে চোখে দেখে না। কত মানুষকে আল্লাহ নিয়ে নেয়, তোকে নিতে পারে না?' এগুলো বলার স্থলে তারা বলতে পারেন: হে আল্লাহ, ওকে হেদায়েত দাও, ওকে সংশোধন করে দাও, ওকে পরিপাটি করে দাও এবং ওর তাওবা কবুল কর ইত্যাদি। কারণ এটা হলো উত্তম ও সর্বোৎकृष्ट পদ্ধতি। এর মধ্যে কারো জন্য কোন ক্ষতি নেই, বরং এতে সন্তান ও বাবা উভয়ের জন্য কেবল কল্যাণ আর কল্যাণই নিহিত রয়েছে। এমন দোয়া করা উচিত নয়, যদি তা বাস্তবায়িত হয়ে যায়, তাহলে মা-বাবা দুঃখ ও অনুতাপে তার হাতের আঙ্গুল কাটবে। ফলে সে হবে নিতান্ত লজ্জিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানদেরকে অভিশাপ দিতে নিষেধ করেছেন। কারণ এর মধ্যে এমন বিপদ নিহিত যেখানে কোন ধরনের উপকারিতা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- 'তোমরা তোমাদের নিজেদের, তোমাদের সন্তানদের ও তোমাদের সম্পদের ওপর অভিশম্পাত কর না। তোমরা ঐ সময়ের ব্যাপারে আল্লাহর সঙ্গে ঐক্যমত্যে যেওনা যখন আল্লাহর নিকট কোন দান প্রার্থনা করলে তিনি তা তোমাদের জন্য কবুল করে থাকেন।
টিকাঃ
১৬৫. সূরা ইবরাহীম, আয়াত - ৪০
১৬৬ সূরা আলে ইমরান, আয়াত- ৩৮
১৬৭ সূরা আহকাফ, আয়াত ১৫
১৬৮ সুরা ফোরকান: ৭৪
১৬৯ তিরমিজী- কিতাবুদ দাওয়াত। আবু দাউদ- কিতাবুস সালাত। ইবনে মাজা কিতাবুদ দাওয়াত
১৭০ মুসলিম: ৫৩২৮
📄 জরিমানা করা অথবা ছোট ভাই-বোনদের সামনে তাকে লজ্জিত করা
জরিমানা অথবা ছোট ভাই-বোনদের সামনে তাকে লজ্জিত করা
তরণ-তরুণীদের এ বয়সে আত্মমর্যাদাবোধ প্রবলভাবে উজ্জীবিত হয়ে থাকে। এই পথ অথবা পদ্ধতি তাদের উভয়কেই ভীষণভাবে আঘাত করে। যার ফলে অনেক সময় অভিভাবকদের সাথে তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। উপরন্তু এই পদ্ধতির বারংবার প্রয়োগ তাকে অবাধ্যতা ও তার কর্মকাণ্ডের বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন ও অভিভাবকের ভুলত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হতে উদ্যত করবে। অথচ অন্য দিকে অভিভাবকগণ কেবলমাত্র এতটুকু করেই ক্ষ্যন্ত থাকেন না। বরং তাদেরকে অপরিচিত ব্যক্তি অথবা সহপাঠি ও বন্ধুদের মত নিকটতম লোকদের সম্মুখে লজ্জা দেন ও তিরস্কার করে থাকেন। অথচ এর অবশ্যম্ভাবী অশুভ পরিণতি সম্পর্কে তার কোনই ভ্রুক্ষেপ নেই।
📄 অবমূল্যায়ন ও তুচ্ছ জ্ঞান করা
অবমূল্যায়ন ও তুচ্ছ জ্ঞান করা
ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত উভয় প্রকারের ভুল-ত্রুটি থেকে কেউই মুক্ত নয়। কোন কোন অভিভাবক রয়েছেন যারা চান যে, তার সন্তান হবে একেবারে নিষ্কলুষ ও নিষ্পাপ। ফলে কোন পদস্खলনকেই তারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে পারেন না। বরং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও কঠিন হিসাব নিয়ে থাকেন। এ কারণে অনেক সময় তরশ সন্তানটি অভিভাবককে তুচ্ছজ্ঞান ও অবমূল্যায়ন করতে পারে। যার বহিঃপ্রকাশ কয়েকভাবে ঘটতে পারে। যেমন কথাবার্তা অথবা কোন সময় কর্মের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ। যথা, ছোটদেরকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়া, তার উর্ধ্বতনের স্থানে তাকে স্থাপন করা, বড়কে উপেক্ষা ও তার দিকে কোনরূপ ভ্রক্ষেপ না করে ছোটদের সঙ্গে পরামর্শ করা ও তার মত অনুযায়ী কর্ম প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেন সে অনুপস্থিত প্রভৃতি।