📄 শাস্তি- শাস্তি প্রদানে ত্রুটিসমূহ
শাস্তি
তরুণের এই বয়োঃস্তরে পৌঁছার সাথে সাথে সকল বিরুদ্ধাচরণ ও পাপাচার লিপিবদ্ধ হতে থাকে। আল্লাহ তাআলা পরকালে এর জন্য তাকে পাকড়াও করবেন যদি মৃত্যুর পূর্বে তা হতে তওবা না হয়ে থাকে অথবা পাপ মোচনকারী কোন নেক আমল তার না থাকে। কোন কোন পাপাচার তো পৃথিবীতে দণ্ডবিধি কার্যকর করণকে অবধারিত করে। এ শাস্তি প্রয়োগের জন্য কেবল অভিভাবকই যথেষ্ট নয়। অতএব এই বয়োঃস্তরে অভিভাবকের উক্ত অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া প্রতিপালনের কোন উপকরণ নয়। বরং তখন প্রতিপালন হবে দণ্ডবিধি কার্যকর করণের মাধ্যমে। কিন্তু অসংখ্য বিরুদ্ধাচরণ রয়েছে যার ইয়ত্তা নেই। এই সকল অপরাধের ক্ষেত্রে অভিভাবকের কর্তব্য হলো, অভিভবক যখন জানতে পারবে তখন তা হতে তাকে বারণ করবে যদিও তা শাস্তির মাধ্যমেই হোক না কেন। উল্লেখ্য যে, শাস্তির উদ্দেশ্য এখানে অবশ্যই প্রহার নয়। বরং কখনো তা হতে পারে ধমক দিয়ে, কখনো ক্রোধ প্রকাশ ও ভীতি প্রদর্শন করে, কখনো ত্যাগ করে অথবা এক দুই দিনের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করে। খেয়াল রাখতে হবে, বয়কট করাটা তার অবাধ্যতা বাড়িয়ে না দেয়। বিদাআ'তী ও পাপাচারীদের বয়কট করার বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানের একটা বিশাল অধ্যায় রয়েছে। অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে অভিভাবক তা প্রয়োগ করতে পারেন।
আব্দুল্লাহ বিন উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, 'মহিলাগণ মসজিদে আসার জন্য অনুমতি চাইলে তোমরা তাদেরকে বারণ করো না!' (হাদীস বর্ণনাকারী) বলেন, 'এ কথা শুনে তার ছেলে বিলাল বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আমরা অবশ্যই তাদেরকে বাধা দেব।' (হাদীস বর্ণনাকারী) বলেন, অতঃপর তার পিতা ইবনে উমার তার দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে খুব করে বকা দিলেন। অনুরূপ আর কাউকে কখনো তাকে বকা দিতে দেখিনি। ইবনে উমার রা. তাকে বললেন-'আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করছি। অথচ তুমি বলছো: 'আমরা অবশ্যই তাদেরকে বাধা দেব।'
লক্ষ করুন! সন্তান যখন সুন্নাতের সাথে সাংঘর্ষিক মত প্রকাশ করলো, তাকে সে জন্য শাস্তি দিলেন ও তার থেকে এটা শ্রবণ করার পর তাকে ছেড়ে দেননি। অপরাধ ও ত্রুটি বড় হওয়ার দরুণ তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছেন।
অনেক অভিভাবক আছেন যারা তরুণ-তরুণীদেরকে শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে এমন আচরণ করে থাকেন যা আদৌ ঠিক নয়। সে কারণে তাদের এ ক্ষেত্রে যে সকল ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হয়ে থাকে তার মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নে প্রদত্ত হলো:
টিকাঃ
১৬৪