📄 দ্বিতীয় অধ্যায় : অন্তরায় ও সমস্যাবলী
পূর্ববর্তী স্তরগুলোয় যখন উত্তম রূপে একজন যুবকের প্রতিপালন ও পরিচর্যা সাধিত হবে। তখন পূর্ববর্তী অন্তরায় ও সমস্যাগুলোও দূরীভূত বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই স্তর সংশ্লিষ্ট প্রকট একটি সমস্যা প্রকাশিত হতে পারে। তা হলো তরুণ তরুণীদের বয়োঃসন্ধি সংশ্লিষ্ট সমস্যা। আর এটা শুধুমাত্র উত্তম পরিচর্যা ও প্রতিপালনের অভাবেই দেখা দিতে পারে। অথবা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে সেই নষ্ট পরিবেশের কারণে যেখানে সেই তরুণ-তরণীরা বসবাস করছে। আল্লাহ তাআলা তো এই সুন্দর বসুন্ধরাটাকে আবাদ ও মানব প্রজন্মকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে মানুষের মধ্যে কামোত্তেজনা ও সঙ্গমের সামর্থ প্রোথিত করে রেখেছেন। পক্ষান্তরে এটা যদি নিরেট একটা কর্ম হতো যেখানে কোন কামভাব থাকবে না, উপভোগ করা যাবে না তা সম্পাদনে কোন স্বাদ তাহলে কেউ বিবাহ করতে কিংবা এর ব্যয় ভার বহন করতে অগ্রসর হতো না। ফলে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে মানব প্রজাতি বিলুপ্তির মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী ধ্বংস ডেকে আনতো। অনন্তর আল্লাহ তাআলা এই বিশ্বকে এই জন্য সৃষ্টি করেননি। কিন্তু এই কামভাবকে যদি শরিয়তের বিধানাবলির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না করা হয়, তখনই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। আর তা হলো তরুণ-তরুণীদের অবৈধ পথে কামক্ষুধা চরিতার্থ করা। ইসলাম এই সম্ভাব্য সমস্যার অসংখ্য উপকারী ও ফলপ্রসূ সমাধান দিয়েছে। অভিভাবকদের এই সমাধানগুলো থেকে উপকৃত হওয়া ও তা প্রয়োগ করা কর্তব্য। কারণ এইগুলোই আল্লাহর ইচ্ছায় উক্ত সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। তা হতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নে প্রদত্ত হলো:
১- মহিলাদের গৃহ অভ্যন্তরে অবস্থান করা ও শরিয়ত সম্মত প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া।
২- শরিয়ত সম্মত প্রয়োজনে বের হওয়ার সময় মহিলাদের পোশাকের ব্যাপারে সমাজকে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করা। বের হওয়ার সময় বাঞ্ছনীয় কর্ম: আবৃত হওয়া ও সৌন্দর্য প্রকাশ না করার প্রতি যত্নবান হওয়া।
৩- দৃষ্টি অবনত রাখা। আল্লাহ তাআলা যে দিকে তাকাতে নিষিদ্ধ করেছেন সে দিকে না তাকানো।
৪- উম্মোচিত হওয়া, দ্রষ্টব্য হওয়া অথবা স্পর্শকৃত হওয়া থেকে লজ্জা স্থানকে সংরক্ষণ করা।
৫- তরুন-তরুণীদের মধ্যে সংশ্রব না ঘটা। চাই তা পথে, ঘরে অথবা কর্মক্ষেত্র যেখানেই হোক না কেন।
৬- নির্জনতা পরিহার করা, অর্থাৎ কোন তরুণ তরুণীর সঙ্গে একান্তে মিলিত হবে না। কারণ শয়তান হয় তখন তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি। ফলে সে তাদেরকে অবৈধ কাজের জন্য কুমন্ত্রণা দেবে ও তাদেরকে অপকর্মের দিকে ভালো করে ঠেলে দিতে সক্ষম হবে।
৭- সময় হলে বিবাহ কর্ম দ্রুত সম্পন্ন করা ও এতে বিলম্ব না করা।
৮- যার বিবাহ করার আর্থিক সামর্থ নেই তার জন্য রোজাব্রত পালন করা।
৯- উত্তেজনাবর্ধনকারী বিষয় থেকে দূরে থাকা। যেমন : উপন্যাস, সিনেমা ও গান-বাজনা ইত্যাদি।
১০- একাকীত্ব ও সমাজ বিমুখতা পরিহার করা। কারণ তখন মানুষের ওপর শয়তানের প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।
১১- শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বৈধ শরীর চর্চার প্রতি যত্নবান হওয়া।
১২- গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান ও তাকে কর্মের মধ্যে ব্যস্ত রাখা।
১৩- সৎ সঙ্গ অবলম্বন করা। যা তাকে পুণ্য ও সংযমের কাজে সহায়তা করবে এবং পাপাচার ও সীমা লংঘনের কাজে বাধা দেবে।
১৪- ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া। যা মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অনুভূতি জাগ্রত করে। যেমন: তাহাজ্জুদ নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত।
১৫- আল্লাহ থেকে লজ্জার দিকটাকে বেশি শক্তিশালী করা। আল্লাহ তাআলা বান্দার দিকে তাকিয়ে আছেন। ফলে বান্দার কোন কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন থাকতে পারে না।
১৬- আল্লাহর নিকট দোয়া করার ক্ষেত্রে কাকুতি-মিনতি করা ও সন্তানাদি তথা ছেলে- মেয়েদের সার্বিক হেফাজতের জন্য তার কাছে প্রার্থনা করা।
সুতরাং কিভাবে এই সমাধানগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে তার পদ্ধতিসমূহ খুঁজে বের করা একজন দায়িত্বশীল অভিভাবকদের কর্তব্য। আর তা হলো এমন তৎপরতা যা তরুণ- তরুণীদের মনের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করতে সক্ষম। যেহেতু তা জন্মগত স্বভাবের অনুকূল যার ওপর তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কারণেই এর প্রভাব যারা ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পছন্দ করে তাদের প্রভাবের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
পক্ষান্তরে উল্লেখিত উপকরণের মাধ্যমেও যদি অভিভাবক এই সমস্যাটির সমাধান করতে না পারেন। তাহলে এক্ষেত্রে শিথিলতার পরিণাম তিন দিকে আবর্তিত হবে। সমাজ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। প্রত্যেকেই তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বহন করবে। সে কারণে এ প্রেক্ষিতে সফলতার কার্যকর রূপ তখনই প্রতিফলিত হবে, যখন এই মৌলিক উপাদানত্রয় একই দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করবে। এই তিনটি মৌলিক উপাদানের যে কোন একটির মধ্যে যদি কোন দুর্বলতা অথবা বিচ্ছিন্নতা সংঘটিত হয়, তাহলে অবশিষ্ট দুটি উপাদানকে আল্লাহর ইচ্ছায় জাহাজের পাল তুলে মুক্তি তীরে নিয়ে নোঙ্গর করতে হবে (যদি এক্ষেত্রে কোন দুর্বলতা থাকে)। কিন্তু বিপদ প্রকট আকার ধারণ করবে যখন দুটি উপাদানের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও দুর্বলতা সংঘটিত হয়ে যাবে। কারণ অচিরেই এটা তৃতীয় উপাদানকেও সংক্রমিত করে ফেলবে। আল্লাহ ভাল কাজের সহায়ক।
📄 তৃতীয় অধ্যায় : উপকরণ ও পদ্ধতিসমূহ
একটি তরুণ এই বয়োঃস্তরে পৌঁছেই আদিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা অবলম্বনই হবে তার একমাত্র কাজ ও এটাই তার কাছ থেকে কাম্য। প্রথম পদক্ষেপেই সংঘটিত শিথীলতার জন্য তাকে জবাবদিহী করতে হবে। এর অর্থ হলো তার ওপর বাঞ্চনীয় কর্ম সম্পাদনে প্রচেষ্টা চালানো তার কর্তব্য। যেমন: ইল্ম, আমল ও আদব। সুতরাং তখন তরুণের প্রতিপালনের মহৎ কর্মটি তরুণ ও তার অভিভাবকের মধ্যে যৌথভাবে শিক্ষা দিতে হবে উপদেশ ও উদাহরণ উপস্থাপনের মাধ্যমে। সৎ কাজের
আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে- যা কোরআনে কারীম বিরুদ্ধাচারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য অসংখ্যবার প্রয়োগ করেছে। আল্লাহ তাআলা এই উদাহরণ প্রসঙ্গে বলেন,
وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ. (العنكبوت - 43 )
'এই সকল দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য দেই; কিন্তু কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই এটা বুঝে।'
যেমনিভাবে একটি তরুণের অনুসন্ধিৎসা ও রহস্য উদ্ঘাটনের আগ্রহ থেকে তার প্রতিপালন ও জ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে উপকৃত হওয়া সম্ভব। চাই তা অভিজ্ঞতা, পঠন, অধ্যয়ন অথবা শিক্ষা সফর ইত্যাদি প্রয়োগ করেই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা মিথ্যাবাদীদেরকে ভ্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তারা জানতে পারে তিনি কিভাবে সৃষ্টি আরম্ভ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ (العنكبوت 20 )
'বল, 'তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং অনুধাবন কর কিভাবে তিনি সৃষ্টি আরম্ভ করেছেন?' এবং তিনি তাদের মৃত্যু সংবাদ দিলেন যারা তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি থেকেও কোন শিক্ষা গ্রহণ করেননি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ كَانُوا مِنْ قَبْلِهِمْ (غافر-21)
'তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহলে দেখতে পেতো তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিলো। '
জ্ঞান অন্বেষনের জন্য ভ্রমণ আলেম-উলামাদের নিকট প্রসিদ্ধ। তাদের লেখনীতে এ বিষয়ের ওপর 'অধ্যায়: জ্ঞান অন্বেষণে ভ্রমণ' নামে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ লিপিবদ্ধ করেছেন। এই ভ্রমণকাহিণীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ মুসা আ. এর শিক্ষা সফর। যখন তিনি খিযির আ.-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করলেন। তার সাক্ষাতের আবেদন করলেন, যাতে তার নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন। কারণ মুসা আ. জানতে পেরেছেন, তার নিকট এমন জ্ঞান রয়েছে যা তিনি জানেন না।
টিকাঃ
১৫৮. সূরা আন-কাবুত: ৪৩
২. আ. ড. আঃ আজিজ বিন মুগম্মদ নুগাইমিশী কৃত আল-মুরাহিকুন দেরাসাহ নাফিসাহ ইসলামিয়াহ, পৃষ্ঠা: ১১৭-১২৪ দ্রষ্টব্য।
১.আল-আনকাবুত-২০
২.গাফের-২১
📄 চতুর্থ অধ্যায় : পুরস্কার ও শাস্তি
পুরস্কার
তরণ যদিও সে এখন পুরুষের স্তরে উপনীত হয়েছে তথাপি পুরস্কারের প্রয়োজনীয়তা থেকে সে উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। কোরআনে কারীমের অসংখ্য আয়াত রয়েছে যেখানে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও মহিলার নেক আমলের বিনিময় পুরস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সুতরাং তরুণ ও তরুণীদের ব্যাপারে এটাকে গুরুত্বহীন ভাবা কোন অবস্থাতেই ঠিক হবে না। বিশেষ করে কষ্টসাধ্য কর্ম সম্পাদনে এবং যে কাজের জন্য বিরাট সাহসিকতার প্রয়োজন হয়। খন্দক যুদ্ধের ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম সৈন্যদের মধ্য হতে এমন কাউকে চাচ্ছিলেন, যে শত্রু সৈন্যদের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে পারবে। সে জন্য তিনি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এ প্রসঙ্গে আমাদেরকে হুজায়ফাহ রা. হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'আহযাব যুদ্ধের রজনী, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে দেখতে পেলেন। (প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া) তীব্র ও শীতল বায়ু আমাদেরকে স্পর্শ করে গেলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বললেন- 'এমন কেউ আছো কি? যে শত্রুবাহিনীর খবরাখবর এনে আমাকে দিতে সক্ষম, তাহলে আল্লাহ তাআ'লা কিয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গী করে উঠাবেন। তখন আমরা সকলে চুপ হয়ে গেলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কোন উত্তর দিলো না। অতঃপর (দ্বিতীয় বার) তিনি সাল্লাল্লাহু আমাদেরকে বললেন- 'এমন কেউ কি নেই? যে শত্রুবাহিনীর খবরাখবর এনে আমাকে দিতে পারবে তাহলে আল্লাহ তাআ'লা কিয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গী করে উঠাবেন। তখন আমরা সকলে চুপ হয়ে গেলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কোন উত্তর দিলো না। অতঃপর (তৃতীয় বার) তিনি আমাদেরকে বললেন- 'এমন কেউ কি নেই? যে আমাকে শত্রুবাহিনীর খবরাখবর এনে দিতে পারবে তাহলে আল্লাহ তাআ'লা কিয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গী করে উঠাবেন। তখন আমরা সকলে চুপ হয়ে গেলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কোন উত্তর দিলো না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বললেন- 'হুজাইফা, তুমি দাঁড়াও, যাও তুমি গিয়ে শত্রুবাহিনীর খবরাখবর নিয়ে এসো।' আমার নাম ধরে আহ্বান করার পর আমি কোন উপায়ান্তর না দেখে অগত্যা দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বললেন- 'যাও শত্রুবাহিনীর খবর নিয়ে এসো! তাদেরকে তোমার পরিচয় বুঝতে দিও না।'১৬২ সেই রাতে প্রচণ্ড ও তীব্র শীতল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছিলো। সে কারণে উক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য দুর্দান্ত সাহসিকতা ও শক্তির প্রয়োজন ছিলো। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুঃসাহসিক কর্ম সম্পাদনের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। কাজেই যে তার ইচ্ছা পূরণ করবে তার সম্পর্কে তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গী করবেন।' তিনি কাউকে শুরুতেই এ ব্যাপারে নির্দেশ করেননি। কল্যাণকর কাজে সাহাবীদের আগ্রহ ও তা বাস্তবায়নে তাদের চূড়ান্ত প্রয়াস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সঙ্গে এই মহান মর্যাদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করা পর্যন্ত কেউ দাঁড়ায়নি। যা সেই দিনের তীব্র শীত ও প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ার দরুণ সৃষ্ট দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে দুঃসাহসিক দায়িত্ব পালনের দিকেই ইঙ্গিত করে। সে কারণে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রয়োজন হয়েছে, তিনি নিজেই সেনাপ্রধান হিসেবে নির্দেশ করেন। সকল দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে যার আনুগত্য অপরিহার্য কর্তব্য। তিনি এই দুঃসাহসিক কাজের দায়িত্ব হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. কে অর্পণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ ভূমিকা অহুদের যুদ্ধেও নিয়েছিলেন যখন তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কতিপয় সাহাবীকে মুশরিকরা অবরোধ করে ফেলেছিলো। আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহুদের দিন সাত জন আনসারী ও দুই কোরাইশকে নিয়ে একাকী হয়ে পড়লেন। অতঃপর তারা যখন সন্ধিক্ষণে উপস্থিত হলো, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'কে আছে যে আমাদের পক্ষ হয়ে শত্রুদের প্রতিহত করবে, ফলে বিনিময়ে তার জন্য রয়েছে জান্নাত অথবা সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে। '১৬০ এমনিভাবে অভিভাবকের কর্তব্য হলো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা। আর যে কাজটি আল্লাহ তাআলা আবশ্যক করেছেন তার প্রতিদান তো সেটাই যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা তার সংযমী বান্দাদের সঙ্গে করেছেন।
টিকাঃ
১৬২.মুসলিম-৩৩৪৩
📄 পঞ্চম অধ্যায় : নির্দেশনা ও উপদেশাবলী
পঞ্চম অধ্যায়: নির্দেশনা ও উপদেশাবলি
(পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আলোচিত দিকনির্দেশনা ও উপদেশবালির সঙ্গে পার্থক্য নির্ণয়সহ একটি সংযোজন।)