📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 সাহসিকতা, অগ্রগামিতা ও কষ্টসাধ্য কর্মসম্পাদন

📄 সাহসিকতা, অগ্রগামিতা ও কষ্টসাধ্য কর্মসম্পাদন


এই বয়োঃস্তরে তরুণের শরীরে যে ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি সাধিত হয় ও তার নিকট গবেষণা করার যে ক্ষমতা অর্জিত হয়, তা-ই নিজের কাছেও ঐ শক্তি ও সামর্থের অনুভূতির জন্ম দেয়।
আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেন-
اللهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً. (الروم: 54)
'আল্লাহ, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায়, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।'
শৈশবের দুর্বলতা থেকে ক্রমান্বয়ে তারণ্য ও যৌবনের শক্তির দিকে সে রূপান্তরিত হয়। শক্তি ও সামর্থের অনুভূতি তাকে অগ্রগামিতা ও কষ্টসাধ্য কর্মসম্পাদনে অনুপ্রাণিত করে। সেহেতু অধিকাংশ সময় সে কোন প্রতিকূলতার প্রতি ভ্রুক্ষেপই করে না। এটা তার ভালো একটি দিক যদি তরশটি সত্যাশ্রয়ী হয়। পক্ষান্ত রে আবেগতাড়িত হয়ে যদি সঠিক দিক-নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যায় তাহলে এটা হবে তরশটির ধ্বংস ও মন্দ দিক। অতএব অভিভাবককে এক্ষেত্রে খুবই সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে তিনি তরুণটিকে কল্যাণের পথে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
সর্বকালেই এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে : একাধিক সাহাবায়ে কেরাম জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছেন অথচ এরপর তারা তারুণ্যে গমন করেছেন। তারা এক্ষেত্রে যার পর নাই উদগ্রীবও ছিলেন বটে। এমনকি তারা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য নিজেদের বয়স বেশী দেখানোর কৌশল অবলম্বন করতেন। সামুরাহ বিন যুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার মা বিধবা হওয়ার পর তিনি মদীনায় চলে আসলে লোকেরা তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। এরপর তিনি বলেন, 'এই অনাথের দায়িত্বভার যে ব্যক্তি গ্রহণ করতে রাজি হবে আমি শুধুমাত্র তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। অতঃপর তাকে এক আনসারী বিবাহ করলো। তিনি (হাদিসের বর্ণনাকারী) বলেন, 'প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আনসারী বালকদেরকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য পেশ করা হতো। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদের বয়স হয়েছে তাদেরকে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করে নিতেন। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী) বলেন, 'আমাকে এক বছর পেশ করা হলো। তখন এক বালককে ভর্তি করা হলো আর আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ রাসূল, আপনি ওকে ভর্তি করে নিলেন আর আমাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। অথচ আমি তার সঙ্গে কুস্তি ধরে তাকে ধরাশায়ী করতে পারি। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'তাহলে দেরি করছো কেন? কুস্তি ধরেই দেখাও না।' অতঃপর আমি কুস্তি ধরে তাকে ধরাশায়ী করে ফেলি। ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে নেন।' আব্দুল্লাহ বিন উমার রা. থেকে বর্ণিত, 'অহুদের দিন তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থাপিত করা হলো, অথচ সে তখন চৌদ্দ বছরের কঁচি বালক। তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অতঃপর দ্বিতীয় বার আমাকে খন্দকের দিন পেশ করা হলো, অবশ্য তখন আমার বয়স পনের বছর পূর্ণ হয়েছিলো। তখন আমাকে অনুমতি দেয়া হলো।' (হাদীস বর্ণনাকারী) নাফে' বলেন, 'আমি উমার বিন আব্দুল আজিজের দরবারে গেলাম, যখন তিনি মুসলিম জাহানের সম্রাট। অতঃপর এই হাদীসটি তার নিকট বর্ণনা করলে তিনি সকল প্রাদেশিক গভর্নরদের নিকট শাহী ফরমান লিখে পাঠালেন- 'পনের বছর পূর্ণ হয়েছে এমন বালকদের জন্য সেনাবাহিনীর তহবিল থেকে ভাতা নির্ধারণ করে দেয়া হোক।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উসামা বিন যায়েদ রা. এর হাতে আঠারো অথবা বিশ বছর বয়সে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলেন। এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাই অসংখ্য অপরাধ যা এমন লোকদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে যারা জীবনের এই ঈর্ষণীয় ও প্রসন্ন বয়সে উপনীত। এই প্রেক্ষাপটে এই বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত বয়সকে যথাযথ ব্যবহার করে শ্রমসাধ্য কল্যাণকর কর্ম সম্পাদনের জন্য তরুণকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এখান থেকে উপকৃত হওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। সাথে সাথে না দেখে না বুঝে কোন কাজে আসক্ত হওয়া ও নির্ভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হতে তাকে সতর্ক করতে হবে।

টিকাঃ
১৫৫. আর-রুম-৫৪
১৫৬ .মুস্তাদরেকে হাকেম-২/৬৯
১৫৭ বখারী-২৪৭০, মুসলিম-৩৪৭৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00