📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 শিশুদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান

📄 শিশুদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান


শিশুদের মাঝে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান :
এমন কোন স্থান বা ঘর নেই যেখানে শিশুদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয় না। কখনো দুই বা ততোধিক ভাই একে অপরের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে, যেমনিভাবে ভাই ও বোনের সঙ্গে বিরোধ হয়ে থাকে ইত্যাদি। অনেক অভিভাবক আছেন এক্ষেত্রে প্রথম বারেই আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা, কঠোরতা ও অবয়ব বিকৃত করে চিৎকার করার দ্বারা ত্বরিত হস্তক্ষেপ করতে তৎপর হয়ে থাকেন। কারণ দ্রুত সন্দেহ নিরসনের বাসনা তার মধ্যে তখন জেঁকে বসে। এখন তার একটাই চিন্তা হয়ে গেছে, তাহলো সকল আওয়াজ নিস্তব্ধ করে দেয়া। যদিও এর একটা ভাল দিকও আছে, কিন্তু তারপরও সমস্যার পূর্ণ সমাধানে তা সহায়ক নয়। বরং অভিভাবক তাদের পর্যবেক্ষণ থেকে অনুপস্থিত থাকে তখন যে কোন সময় পুনরায় সেই লেজকাটা সমস্যাটি মাথাচারা দিয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েই যায়। সুতরাং মূল সমস্যা ও তা মূলোৎপাটনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানে অভিভাবকের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তবে তিনি যদি সামান্য সুযোগ দিতে পারেন ও যখন অপেক্ষা করলে কোন বিপদাশঙ্কাও না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে কোন হস্তক্ষেপ না করে বরং দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবেন। ফলে তিনি দেখতে পারবেন, কিভাবে শিশুরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করে থাকে ও এ পর্যায়ে তাদের সামর্থ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। ফলে অভিভাবকের জন্য এ জাতীয় সতর্ক পদক্ষেপ হবে যেন একটি খোলা জানালা; যেখান থেকে তিনি শিশুর চরিত্র, আচরণ ও সামর্থসমূহ দেখতে পারবেন। কিন্তু বিষয়টি যখন হস্তক্ষেপের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, সেখানে অপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই, তখন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা কর্তব্য।
কিন্তু কখনো ঘটনা এমনও ঘটে যেতে পারে যে, একপক্ষ এসে আপনার নিকট অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আপনার সাহায্য ও সমর্থন চাইবে। তখন যদি সে অত্যাচারিত না হয়ে থাকে তাহলে তাকে সহায়তা প্রদান আপনার উচিত হবে না। এতটুকু বিবেচনা ব্যতিরেকে তাকে সাহায্য করলে অন্যরা মনে করবে আপনি একজন অত্যাচারী। আপনি সন্তানদের মধ্যে একজনের তুলনায় অন্যজনকে বেশি ভালোবাসেন।
পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, আপনি একজনকে সাহায্য করলেন, আর অপরজন মনে করল আপনি তার প্রতি অবিচার করেছেন। তাহলে সে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়ে আপনাকে বলবে, 'আপনি আমার প্রতি অবিচার করেছেন।' এহেন পরিস্থিতিতে শুধু ঐ কথাটার জন্য এই ভিত্তিতে শাস্তি দেয়া যাবে না যে, সে বেয়াদবী করেছে। বরং এক্ষেত্রে হৃদয়ের উ'তা দিয়ে কথাটা গ্রহণ করা অভিভাবকের কর্তব্য ও তাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে যে, আপনি তার প্রতি কোন অবিচার করেননি। আর এটাই হলো মার্জিত সমাধান। এ প্রসঙ্গে আপনার নিকট বিদ্যমান প্রমাণগুলো পেশ করতে পারেন। শিশুকে প্রহার করা বা শাস্তি দেয়া অভিভাবকের কর্মের ওপর তার সিদ্ধান্ত টলাতে পারবে না। পক্ষান্তরে তথ্য প্রমাণসহ বিবরণ সত্যটাকে ফুটিয়ে তুলতে ও অভিভাবকের পদক্ষেপে তাকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হবে। উপরন্তু তার অন্তরে 'অত্যাচারিতকে সাহায্য করা উচিত' এ বিশ্বাস বদ্ধমূল করে দিতে পারে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 সুন্দরতম শব্দাবলীর ব্যবহার

📄 সুন্দরতম শব্দাবলীর ব্যবহার


সুন্দরতম শব্দাবলীর ব্যবহার: শিশুরাতো অবাঞ্চিত কর্মকাণ্ড করতেই পারে। তাদের এই প্রবণতা কখনো বা অভিভাবকদের বিশ্রী শব্দাবলী প্রয়োগে শিশুদের গালি দিতে উদ্যত করে থাকে। যেমন অভিসম্পাত করা অথবা কোন ইতর প্রাণীর নামে তাকে অভিষিক্ত করা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে এ আচরণটি নিঃসন্দেহে শিশুর মনের মধ্যে অবিলম্বে স্থান করে নেবে। এর ফলে সে তার ভাই-বোন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে।
'এটা বলো না! এটা বলো না!' একথা শতবার বলার চেয়ে আমাদের জন্য উত্তম ও কর্তব্য হলো এই শব্দগুলো যা থেকে আমরা শিশুদেরকে নিষেধ করি, সেগুলোকে আমাদের ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ না করা। অভিভাবক শিশুর ওপর ক্রোধান্বিত হলে তাকে গালি বা অভিশাপ দেয়ার স্থলে বলতে পারেন- আল্লাহ তাআ'লা তোমাকে সংশোধন করুন অথবা আল্লাহ তাআ'লা তোমার প্রতি দয়া করুন ইত্যাদি
উম্মুল ফজল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি একদিন স্বপ্নে দেখলাম আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীরের একটি অংশ পড়ে আছে। আমি এ দেখে অস্থির হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বপ্নের বিবরণ দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'ভাল! শীঘ্রই ফাতেমা'র একটি নবজাতক জন্ম নেবে, তোমার ছেলে 'কুছুম' এর সঙ্গে তার দুগ্ধপানের দায়িত্ব তোমার ওপর থাকবে।' তিনি (উম্মুল ফজল) বলেন, 'অবশেষে হাসান রা. জন্ম গ্রহণ করলো ও কথামত তার দুগ্ধপানের দায়িত্ব আমাকেই দেয়া হলো। এরপর তাকে আমি দুগ্ধ পান করালাম হাঁটা-চলা করা অথবা দুধ ছাড়া পর্যন্ত। অতঃপর হাসান রা. কে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হই এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোলে বসিয়ে দেই। তখন সে প্রশ্রাব করে দেয়; তখন আমি তার দুই কাঁধের মাঝখানে আঘাত করি। এবার তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে ছেলে, দয়াশীল হও, আল্লাহ তাআ'লা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করুন অথবা তোমাকে সংশোধন করে দিন।' এরপর আমাকে বললেন, 'তুমি আমার নাতীকে ব্যথা দিতে পারলে!' তিনি (উম্মুল ফজল) বলেন, 'তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার এই কাপড়টি খুলে অন্য একটি কাপড় পরিধান করে নিন যাতে আমি এটা ধুইয়ে দিতে পারি।' এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'কন্যা শিশুদের প্রশ্রাব ধৌত করতে হয় আর ছেলে শিশুদের প্রশ্রাবে শুধু পানির ছিটা দিলেই যথেষ্ট। ৬৭ মোদ্দা কথা অভিভাবকের এই দোয়া কখনো বা আল্লাহ তাআ'লা কবুল করে নিলে তা সন্তানের জন্য মঙ্গলই হবে। আর ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে তো শিশু নিজে এটা শিখতে পারবে যে, এজাতীয় পরিস্থিতিতে তাকে কি করতে হবে।
এমনিভাবে তাকে অভ্যস্ত করতে হবে, কিভাবে নান্দনিক শব্দাবলি প্রয়োগে তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড়দের সঙ্গে কথা বলতে ও সম্মান জনক উপাধিতে তাদেরকে ডাকতে হয়। যেমন জনাব, উস্তাদ, শায়খ ও কাকা ইত্যাদি। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, অনেক ছোট শিশু কোন বড় ব্যক্তিকে তার নাম ধরে ডাক দিয়ে বলছে: হে অমুক, একটি শিশু এর গুরুত্ব কি করে বুঝতে পারবে? এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দোষ অভিভাবকের, শিশুর নয়। কারণ তিনিই সময়মত তাকে এ বিষয়ে দিকনির্শেনা দেননি।

টিকাঃ
৬৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫৬৪১

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 শিশুর চরিত্র সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন

📄 শিশুর চরিত্র সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন


শিশুর চরিত্র সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন: শিশুর মধ্যে কখনো অমার্জিত চরিত্র ও অবাঞ্চিত আচরণ লক্ষ্য করা যায়। তা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবককে কালবিলম্ব না করে তা হতে শিশুকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কারণ যত দিন যাবে শিশুর মনের মধ্যে তা বদ্ধমূল ও স্থায়ী আসন গাড়তে থাকবে। এরপর তার মূলোৎপাটন অথবা পরিবর্তন একেবারে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'শিশুর জন্য তার চরিত্রের বিষয়ে গুরুত্বারোপ সর্বাপেক্ষা জরুরি। শৈশবে তার অভিভাবক যে চরিত্রের ওপর শিশুকে অভ্যস্ত করেছে সেই আদলেই তো সে গড়ে উঠবে। যেমন: অনুরাগ ও ক্রোধ, অস্থিরতা ও ত্বরা, প্রবৃত্তির সঙ্গে নমনীয়তা, দ্রুততা ও তীক্ষ্ণতা এবং লোভ ইত্যাদি। অতঃপর পরিণত বয়সে গিয়ে এর সংশোধন দুরুহ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ফলে এই মন্দ চরিত্রগুলো তার গুণাবলি ও ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে যাবে। সে যদি কোন ভাবে তা হতে সম্পূর্ণ রূপে আত্মরক্ষা করতে না পারে তাহলে সে লাঞ্ছিত হবে অন্তত একদিনের জন্য হলেও। সে কারণেই আপনি সমাজে অনেক বিকৃত চরিত্রের লোক দেখতে পাবেন যারা তাদের শৈশবের প্রতিপালন ও পরিচর্যার ফসল ও যার ওপর তারা বিকশিত হয়েছে।'৬৮ ঐ নিন্দিত চরিত্রসমূহ থেকে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যেমন: সরাসরি নয় ইশারা ইঙ্গিতে, ধমকি নয়, নম্রতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে মন্দ চরিত্র থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। কারণ নিন্দিত চরিত্রে স্পষ্ট ঘোষণা তার মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের পর্দা ছিড়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে অসংখ্য বিরুদ্ধাচারণের প্রতি দুঃসাহসের জন্ম দেয় ও সর্বোপরি তাকে একগুঁয়েমি করতে প্রলুব্ধ করে। ৬৯ এ প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার শিশুকে দুঃশ্চরিত্র শিশুদের সংশ্রব থেকে সম্পূর্ণ রূপে রক্ষা করতে হবে, যদি তারা আত্মীয়ও হয়ে থাকে।

টিকাঃ
240241 تحفة المودود فى أحكام المولود ص .
৬৯. এহয়ায়ে উলুমিদ্দিন-১/৫৭

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 বেশ-ভূষা, পরিচ্ছন্নতা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন দৃষ্টি রাখা

📄 বেশ-ভূষা, পরিচ্ছন্নতা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন দৃষ্টি রাখা


বেশভূষা, পরিচ্ছন্নতা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি সযত্নদৃষ্টি রাখা: শিশুরা এই ছোট বয়সে অন্যদের থেকে রোগব্যধিতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। ওরা তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণত নিজেদের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো ও স্বাস্থ্যের প্রতি ভালোকরে যত্ন নিতে জানে না। সুতরাং অনুসন্ধান করে তাদের স্বাস্থ্যগত ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা অভিভাবকের কর্তব্য। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুটির শীর্ণকায়তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন ও তাদের ওপর বদ নজরের প্রতিক্রিয়া দূর করার জন্য ঝাড় ফুঁকের পরামর্শ দিলেন। যখন তিনি নিশ্চিতভাবে অবগত হতে পারলেন যে, তাদের এ দূরাবস্থা কুদৃষ্টির কারণেই হয়েছে। এমনিভাবে তাদের বেশভূষা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথাও বললেন।
আব্দুল্লাহ বিন জাফর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাফর রা. পরিবারের তিন ব্যক্তিকে তাদের ওখানে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট আগমন করে বললেন, 'আজকের পর আমার ভাইয়ের ওপর কেউ ক্রন্দন করবে না।' অতঃপর বললেন, 'আমার ভাইয়ের সন্তানের জন্য তোমরা দোয়া কর!' এরপর আমাদেরকে আনা হলো যেন 'আমরা পাখির ছানা'। অতঃপর তিনি বললেন, 'তোমরা আমার কাছে একজন নাপিত ডেকে পাঠাও!' এরপর তাঁর নির্দেশে তিনি আমাদের মাথা মুণ্ডন করে দিলেন।
তাদেরকে পাখির ছানার সঙ্গে তুলনা করার কারণ, তাদের কেশগুচ্ছ ঠিক পাখির পালকের মত, তা হলো পাখির সর্বপ্রথম গজানো পালক। সে কারণে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাপিত আসার পর তাকে মাথামুণ্ডন করতে নির্দেশ করলেন। হজ ও উমারাহ ব্যতীত চুল রাখা উত্তম হওয়া সত্ত্বেও তাদের মাথা মুণ্ডন করিয়ে ছিলেন। তাদের মা আসমা বিনতে ওমাইস রা. এর স্বামী জা'ফর রা. যুদ্ধে নিহত হওয়ার কারণে তার অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে ছিল, যার দরুন সে তাদের কেশগুচ্ছ চিরদণী করার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল। বিষয়টা লক্ষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মাথায় ময়লা ও উঁকুনের আশঙ্কা করে ছিলেন।
শিশুর পোশাক ও শরীরের অবয়বের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। সুতরাং অভিভাবককে ভালো পরিচ্ছদ ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে দেখার সৌন্দর্য বর্ধনের প্রতিও সচেষ্ট হতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআ'লা নিজে সুন্দর ও সুন্দরকে তিনি ভালোবাসেন, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে তিনি পছন্দ করেন। সুন্দর অভিব্যক্তি ও সৌন্দর্য অর্জনের প্রয়াস, দুর্বোধ্য ও অনভিপ্রেত কবিতা আবৃত্তি থেকে বিরত রাখবে। যা রুচির বিকৃতি ও অপরিচিত বিষয়বস্তু উপস্থাপনের দিকে ইঙ্গিত করে থাকে।
সেকালের একটি গল্প যার নাম 'কযা'। আর তা হলো মাথার চুলের একাংশ কেটে অন্য অংশ রেখে দেয়া। এর একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। চুল কাটার এই প্রক্রিয়া তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহতভাবে অনুসৃত হয়ে আসছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা হতে নিষেধ করেছেন।
ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'কযা' হতে নিষেধ করেছেন।' ইবনে উমার রা. বলেন, 'আমি নাফে কে জিজ্ঞাসা করলাম-'কযা' কি? তিনি রা. বললেন, 'শিশুর মাথার একাংশ মুণ্ডন করা আর অন্য অংশ রেখে দেয়া। ' শিশুর যত্ন ও প্রতিপালনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির এ ধরনের চুল কাটার কাজে ছাড় দেয়া ঠিক হবে না এই যুক্তিতে যে, সে ছোট ও শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট নয়।
শিশুর জন্য উৎকৃষ্ট মানের পোশাকের ব্যবস্থা করা উচিত। তবে কোন অবস্থাতেই রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করানো যাবে না। কারণ অধিকাংশ সাহাবী ও আলেমগণ তা হতে নিষেধ করেছেন। যাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমরা তা বালকদের থেকে খুলে নিয়ে বালিকাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি।' ইসমাঈল বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুর রহমানের রা. এর সঙ্গে উমার রা. এর কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তার গায়ে রেশমের জামা ও হাতে একজোড়া কংকন ছিল। উমার জামাটি ছিঁড়ে ফেললেন ও কংকন জোড়া খুলে ফেলে বললেন, 'তুমি তোমার মায়ের কাছে যাও!' ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত- 'তার ছেলে রেশমের জামা পরিধান করে তার কাছে আসল, অবশ্য বালকটি তার এই পোশাকে প্রফুল্লতা অনুভব করছিল। অতঃপর যখন তাঁর একেবারে নিকটবর্তী চলে আসল তখন জামাটি তিনি ছিঁড়ে ফেলে বললেন, 'তোমার মায়ের কাছে চলে যাও! এবং গিয়ে তাকে বলো তোমাকে যেন অন্য আর একটি জামা পরিয়ে দেয়। '
ইবনু আবি শাইবাহ্ রহ. বিষয়টিকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন, 'ইবনে মাসউদ রা. যখন তার এক ছেলেকে রেশমের পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি তা ছিঁড়ে ফেলে বললেন, 'এটা মেয়েদের জন্য নির্ধারিত। ৭৬ সাঈদ বিন যুবায়ের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'হুযাইফাহ ইবনুল য়ামান রা. দীর্ঘ ভ্রমণ থেকে নিজ গৃহে প্রত্যবর্তন করে তার সন্তানগণকে রেশমের পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি সকল সন্তানের মধ্য হতে ছেলেদের গা হতে তা খুলে ফেলেন ও মেয়েদেরটা রেখে দেন। ' ৭৭ অতএব চুল কাটার উল্লেখিত পদ্ধতি, রেশমের পোশাক পরিধান অথবা স্বর্ণ ব্যবহার একটি শিশুর বিকাশ ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। কারণ, সে তখন বাহ্যিক বেশভূষায় মেয়েদের কাছকাছি চলে যায়, যা তাকে অনাকাংক্ষিত পরিণতির দিকে ধাবিত করে।

টিকাঃ
৭০. আবু দাউদ-৩৬৬০, নাসাঈ-৫১৩২,
৭১ আউনুল মা'বুদ-১১/১৬৪
৭২. মুসলিম-৩৯৫৯
৭৩. আবু দাউদ: ৩৫৩৭, এখানে ننزعه এর সর্বনাম الحرير এর দিকে এবং كنا এর সর্বনাম তার সঙ্গিদের দিকে ফিরেছে আর সঙ্গি হচ্ছে সাহাবায়ে কেরাম রা.।
৭৪. শরহে মাআ'নিল আছার ৪/২৪৮, ইবনু আবি শাইবাহ্ ৫/১৫২
৭৫. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১১/৭৭, মু'জামুল কাবীর; ৯/১৫৭
৭৬. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ্: ৫/১৫২
৭৭. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ-৫/১৫২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00