📄 শিশুর প্রয়োজনে সাড়া দেয়া
শিশুর প্রয়োজনে সাড়া দেয়া: শিশুর রকমফের প্রত্যাশা থাকে যা সে অর্জন করতে চায়। সেখান থেকে কয়েকটা বিষয় এমনও রয়েছে যা গ্রহণযোগ্য প্রয়োজন হিসেবে বিবেচিত। যেমন: তার খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র, তাকে গুরুত্ব প্রদান ও মূল্যায়নের অনুভূতি, তার প্রতি অনুগ্রহ ও পারিবারিক ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ ইত্যাদির সংস্থান। শিশুর এ সকল প্রয়োজনে সাড়া দেয়া ও তা পূরণে সচেষ্ট হওয়া উচিত। অনেক বিষয় এমন আছে যা গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন: পূর্বে উল্লেখিত বিষয়ে অতিরঞ্জন যা ভারসাম্যের সীমা অতিক্রম করে যায়। আর কিছু বিষয় আছে যা শুধু উত্তমের পরিপন্থী অথবা অশোভন এর পর্যায় পড়ে। অতএব অভিভাবককে সকল প্রয়োজনের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা অথবা সেটা গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে একই পথে চলা উচিত হবে না। বরং প্রত্যেকটাকে তার উপযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
উক্ত প্রয়োজনাবলির বিভিন্ন রকমের সাড়া শিশুর নিকট বিষয়গুলোর শুদ্ধাশুদ্ধের ইঙ্গিতবাহী হবে; যার কিছু হবে প্রশংসনীয় আর কিছু হবে দোষণীয়। তার প্রতিটি আবেদনে সাড়া দেয়াও উচিত হবে না। বিশেষ করে যেটা শরিয়তের দৃষ্টিতে ত্রুটিযুক্ত যার মধ্যে শিশুর ক্ষতি নিহিত আছে ও পার্থিব দিক থেকে শিশুর কাঁধকে ভারী করে দেবে। এ প্রেক্ষিতে শিশুকে কোন রকমের ক্রোধ প্রদর্শন, গালি ও প্রহার ইত্যাদি (যা অধিকাংশ অভিভাবক করে থাকেন বিশেষ করে শিশুর কঠিন জিদের সময়) না করে তাকে সঠিক পথের দিশা দিতে হবে।
📄 একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বিধান করা
একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বিধান করা: লিঙ্গের কারণে শিশুদের মধ্যে পার্থক্য না করা প্রতিপালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আচার-ব্যবহার অথবা দানের ক্ষেত্রে ছেলেকে মেয়ের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয়, এটা ঠিক নয়। অথবা মেয়ের তুলনায় ছেলের যত্ন ও বিকাশের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ এসবই অবিচার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন এক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বলেছিলেন যে তার এক সন্তানকে বিশেষভাবে সম্পদ দান করেছিল, 'তোমার প্রত্যেকটি সন্তানকে কি তার মত দান করেছো?' সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তাহলে এটা ফিরিয়ে নিয়ে যাও!' অন্য বর্ণনায় এসছে- 'এ ছাড়া তোমার কি আর কোন সন্তান আছে?' সে বলল, হ্যাঁ; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- 'তাদের প্রত্যেককে কি তুমি এর মত দান করেছো?' সে বলল- না। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী বানিও না। কারণ আমি অন্যায়ের সাক্ষ্য দেই না। ' সন্তান-সন্ততির মধ্যে সমতা বিধানের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান কর! তোমরা তোমাদের সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার কর!'
একই লিঙ্গের সকল ব্যক্তির মধ্যে সমতা বিধানের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত, যেমনিভাবে এক সন্তানকে অপর সন্তানের চেয়ে অতি বেশি গুরুত্ব না দেয়া উচিত। অথবা অতিরিক্ত ভালবাসা প্রকাশ করা উচিত নয়। যেমন সায়্যেদুনা হযরত ইউসুফ আ. এর ঘটনা। তাঁকে অন্য সন্তানদের তুলনায় তার পিতা অপেক্ষাকৃত বেশি ভালোবাসার কারণে অন্য ভাইয়েরা তার সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেন-
إِذْ قَالُوا لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَى أَبِينَا مِنَّا ...... ( يوسف - 8 )
'ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়.......। ' অতঃপর তাদের বাবাকেই তারা একথা বলে অপবাদ দিলো-
إِنَّ أَبَانَا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ. (يوسف-8 )
'নিশ্চয়ই আমাদের পিতা সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে অবস্থান করছেন। '
এরপর তারা সমস্যার সমাধান চেয়েছেন একথা বলে -
اقتلوا يوسف أو اطرحوه ارضاً يخل لكم وجه ابيكم وتكونوا من بعده قوماً صالحين. (يوسف-9)
'তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন স্থানে ফেলে আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে এবং তার পর তোমরা ভালো লোক হয়ে যাবে। ' সুতরাং সকলকে রেখে বিশেষ কোন সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও গুরুত্বারোপ হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয় যা তাদের কাউকে সেই প্রাধান্যপ্রাপ্ত সন্তানের বিরুদ্ধে চক্রান্তকরতে পর্যন্তউদ্যত করে থাকে। যাতে হিংসার যন্ত্রনা থেকে তারা পরিত্রাণ পেতে পারে। তবে কখনো কখনো এই প্রাধান্যদানের ক্ষেত্রে বাবার পক্ষ থেকে সত্যিকারার্থে অসংখ্য বৈধ কারণও থাকতে পারে। কিন্তু সন্তানরা সাধারণত তা ঝুঝতে পারে না। কাংক্ষিত সমতাবিধান পার্থিব বিষয়াদিতে অসম্ভব নয়, কিন্তু বিষয়টা হলো অপার্থিব বিষয়গুলোর মধ্যে তা সীমা অতিক্রম করে যায়। যেমন চেহারার প্রফুল্লতা, স্নেহেরদৃষ্টি ও স্মিতহাসি এমনকি তার আদিষ্ট কর্মসমূহ ও শিশুদের পার্থিব অপার্থিব সকল চাহিদার সুষম বণ্টন। অভিভাবক কর্তৃক শিশুদের মধ্যে সমতা বিধান তাদেরকে পরস্পরে এই নান্দনিক চরিত্র মাধুর্য বিতরণে উদ্বুদ্ধ করবে।
টিকাঃ
৬১ বুখারী-২৩৯৭
৬২. মুসলিম: ৩০৫৬
৬৩. আবু দাউদ: ৩০৭৭, সন্তান বলতে ছেলে মেয়ে উভয়কে বুঝায়।
৬৪. সুরা ইউসুফ: ৮
৬৫. সুরা ইউসুফ: ৮
৩. সুরা ইউসুফ, আয়াত-৯
📄 শিশুদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান
শিশুদের মাঝে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান :
এমন কোন স্থান বা ঘর নেই যেখানে শিশুদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয় না। কখনো দুই বা ততোধিক ভাই একে অপরের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে, যেমনিভাবে ভাই ও বোনের সঙ্গে বিরোধ হয়ে থাকে ইত্যাদি। অনেক অভিভাবক আছেন এক্ষেত্রে প্রথম বারেই আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা, কঠোরতা ও অবয়ব বিকৃত করে চিৎকার করার দ্বারা ত্বরিত হস্তক্ষেপ করতে তৎপর হয়ে থাকেন। কারণ দ্রুত সন্দেহ নিরসনের বাসনা তার মধ্যে তখন জেঁকে বসে। এখন তার একটাই চিন্তা হয়ে গেছে, তাহলো সকল আওয়াজ নিস্তব্ধ করে দেয়া। যদিও এর একটা ভাল দিকও আছে, কিন্তু তারপরও সমস্যার পূর্ণ সমাধানে তা সহায়ক নয়। বরং অভিভাবক তাদের পর্যবেক্ষণ থেকে অনুপস্থিত থাকে তখন যে কোন সময় পুনরায় সেই লেজকাটা সমস্যাটি মাথাচারা দিয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েই যায়। সুতরাং মূল সমস্যা ও তা মূলোৎপাটনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানে অভিভাবকের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তবে তিনি যদি সামান্য সুযোগ দিতে পারেন ও যখন অপেক্ষা করলে কোন বিপদাশঙ্কাও না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে কোন হস্তক্ষেপ না করে বরং দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবেন। ফলে তিনি দেখতে পারবেন, কিভাবে শিশুরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করে থাকে ও এ পর্যায়ে তাদের সামর্থ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। ফলে অভিভাবকের জন্য এ জাতীয় সতর্ক পদক্ষেপ হবে যেন একটি খোলা জানালা; যেখান থেকে তিনি শিশুর চরিত্র, আচরণ ও সামর্থসমূহ দেখতে পারবেন। কিন্তু বিষয়টি যখন হস্তক্ষেপের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, সেখানে অপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই, তখন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা কর্তব্য।
কিন্তু কখনো ঘটনা এমনও ঘটে যেতে পারে যে, একপক্ষ এসে আপনার নিকট অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আপনার সাহায্য ও সমর্থন চাইবে। তখন যদি সে অত্যাচারিত না হয়ে থাকে তাহলে তাকে সহায়তা প্রদান আপনার উচিত হবে না। এতটুকু বিবেচনা ব্যতিরেকে তাকে সাহায্য করলে অন্যরা মনে করবে আপনি একজন অত্যাচারী। আপনি সন্তানদের মধ্যে একজনের তুলনায় অন্যজনকে বেশি ভালোবাসেন।
পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, আপনি একজনকে সাহায্য করলেন, আর অপরজন মনে করল আপনি তার প্রতি অবিচার করেছেন। তাহলে সে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়ে আপনাকে বলবে, 'আপনি আমার প্রতি অবিচার করেছেন।' এহেন পরিস্থিতিতে শুধু ঐ কথাটার জন্য এই ভিত্তিতে শাস্তি দেয়া যাবে না যে, সে বেয়াদবী করেছে। বরং এক্ষেত্রে হৃদয়ের উ'তা দিয়ে কথাটা গ্রহণ করা অভিভাবকের কর্তব্য ও তাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে যে, আপনি তার প্রতি কোন অবিচার করেননি। আর এটাই হলো মার্জিত সমাধান। এ প্রসঙ্গে আপনার নিকট বিদ্যমান প্রমাণগুলো পেশ করতে পারেন। শিশুকে প্রহার করা বা শাস্তি দেয়া অভিভাবকের কর্মের ওপর তার সিদ্ধান্ত টলাতে পারবে না। পক্ষান্তরে তথ্য প্রমাণসহ বিবরণ সত্যটাকে ফুটিয়ে তুলতে ও অভিভাবকের পদক্ষেপে তাকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হবে। উপরন্তু তার অন্তরে 'অত্যাচারিতকে সাহায্য করা উচিত' এ বিশ্বাস বদ্ধমূল করে দিতে পারে।
📄 সুন্দরতম শব্দাবলীর ব্যবহার
সুন্দরতম শব্দাবলীর ব্যবহার: শিশুরাতো অবাঞ্চিত কর্মকাণ্ড করতেই পারে। তাদের এই প্রবণতা কখনো বা অভিভাবকদের বিশ্রী শব্দাবলী প্রয়োগে শিশুদের গালি দিতে উদ্যত করে থাকে। যেমন অভিসম্পাত করা অথবা কোন ইতর প্রাণীর নামে তাকে অভিষিক্ত করা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে এ আচরণটি নিঃসন্দেহে শিশুর মনের মধ্যে অবিলম্বে স্থান করে নেবে। এর ফলে সে তার ভাই-বোন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে।
'এটা বলো না! এটা বলো না!' একথা শতবার বলার চেয়ে আমাদের জন্য উত্তম ও কর্তব্য হলো এই শব্দগুলো যা থেকে আমরা শিশুদেরকে নিষেধ করি, সেগুলোকে আমাদের ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ না করা। অভিভাবক শিশুর ওপর ক্রোধান্বিত হলে তাকে গালি বা অভিশাপ দেয়ার স্থলে বলতে পারেন- আল্লাহ তাআ'লা তোমাকে সংশোধন করুন অথবা আল্লাহ তাআ'লা তোমার প্রতি দয়া করুন ইত্যাদি
উম্মুল ফজল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি একদিন স্বপ্নে দেখলাম আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীরের একটি অংশ পড়ে আছে। আমি এ দেখে অস্থির হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বপ্নের বিবরণ দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'ভাল! শীঘ্রই ফাতেমা'র একটি নবজাতক জন্ম নেবে, তোমার ছেলে 'কুছুম' এর সঙ্গে তার দুগ্ধপানের দায়িত্ব তোমার ওপর থাকবে।' তিনি (উম্মুল ফজল) বলেন, 'অবশেষে হাসান রা. জন্ম গ্রহণ করলো ও কথামত তার দুগ্ধপানের দায়িত্ব আমাকেই দেয়া হলো। এরপর তাকে আমি দুগ্ধ পান করালাম হাঁটা-চলা করা অথবা দুধ ছাড়া পর্যন্ত। অতঃপর হাসান রা. কে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হই এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোলে বসিয়ে দেই। তখন সে প্রশ্রাব করে দেয়; তখন আমি তার দুই কাঁধের মাঝখানে আঘাত করি। এবার তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে ছেলে, দয়াশীল হও, আল্লাহ তাআ'লা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করুন অথবা তোমাকে সংশোধন করে দিন।' এরপর আমাকে বললেন, 'তুমি আমার নাতীকে ব্যথা দিতে পারলে!' তিনি (উম্মুল ফজল) বলেন, 'তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার এই কাপড়টি খুলে অন্য একটি কাপড় পরিধান করে নিন যাতে আমি এটা ধুইয়ে দিতে পারি।' এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'কন্যা শিশুদের প্রশ্রাব ধৌত করতে হয় আর ছেলে শিশুদের প্রশ্রাবে শুধু পানির ছিটা দিলেই যথেষ্ট। ৬৭ মোদ্দা কথা অভিভাবকের এই দোয়া কখনো বা আল্লাহ তাআ'লা কবুল করে নিলে তা সন্তানের জন্য মঙ্গলই হবে। আর ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে তো শিশু নিজে এটা শিখতে পারবে যে, এজাতীয় পরিস্থিতিতে তাকে কি করতে হবে।
এমনিভাবে তাকে অভ্যস্ত করতে হবে, কিভাবে নান্দনিক শব্দাবলি প্রয়োগে তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড়দের সঙ্গে কথা বলতে ও সম্মান জনক উপাধিতে তাদেরকে ডাকতে হয়। যেমন জনাব, উস্তাদ, শায়খ ও কাকা ইত্যাদি। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, অনেক ছোট শিশু কোন বড় ব্যক্তিকে তার নাম ধরে ডাক দিয়ে বলছে: হে অমুক, একটি শিশু এর গুরুত্ব কি করে বুঝতে পারবে? এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দোষ অভিভাবকের, শিশুর নয়। কারণ তিনিই সময়মত তাকে এ বিষয়ে দিকনির্শেনা দেননি।
টিকাঃ
৬৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫৬৪১