📄 তাওহীদ এর বৃহত্তর অর্থের বিশ্লেষণ
তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ব্যাখ্যা
শিশুর নিকট ছোট বেলা থেকেই তাওহীদের বৃহত্তর অর্থ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকা অভিভাবকের কর্তব্য। শিশুর বয়োঃপ্রাপ্তি বা বড় হওয়ার সময়ের জন্য এ বিষয়গুলো রেখে দেবে না। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তার কর্ণকুহরে এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে হবে: 'আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আবার আমাদের জন্য আহার্যের যোগান দিয়েছেন, তার কোন অংশীদার নেই। নিশ্চয়ই তিনি মহামহিমান্বিত, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, তবে সৃষ্টিকুল সকলেই তার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআ'লা প্রজ্ঞাময় ন্যায়পরায়ণ, তিনি মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করেন না। ইত্যাদি বিষয়গুলো শিশুর অন্তরে গেঁথে দিতে হবে। আল্লাহ তাআ'লা'র নান্দনিক ও বিমূর্ত গুণাবলি যেমন: মহত্ব, বড়ত্ব, ক্ষমতা, শক্তি, শ্রবণ ও দৃষ্টি ইত্যাদিকে আমরা তার জন্য নিশ্চিত করি। এক্ষেত্রে তার কর্ণকুহরে কালামুল্লাহর পুনরাবৃত্তির চেয়ে অতিরিক্ত অন্য কিছুর দরকার নেই। যেখানে সান্নিবেশিত রয়েছে তার নান্দনিক গুণাবলি ও তাওহীদের ব্যাপক অর্থ। এ বিষয়ে কোন বিশ্লেষণে যাবো না, যেহেতু এগুলো হলো এমন বিষয় যার ওপর সাধারণ মানুষের স্বভাবজাত সত্তা গড়ে উঠেছে। সুতরাং এটা শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়া। এর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। ব্যাখ্যা অনেক পরের বিষয়। সময়ের পূর্বে ব্যাখ্যা শ্রোতাকে কখনো কখনো ভুলত্রুটির মধ্যে নিমজ্জিত করে ফেলে থাকে।
এই গুরুত্ববোধের কারণে হাদীস শরীফে এসেছে, শিশুর ভূমিষ্ট হওয়ার পর তার কানে সর্বপ্রথম তাওহীদের শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি করবে; যদিও সে তখন এর অর্থ বুঝতে পারবে না। উবায়দুল্লাহ বিন আবু রাফে' তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'ফাতেমা রা. যখন হযরত হাসান রা. কে প্রসব করলেন; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তার কানে নামাজের আযান দিতে আমি নিজে দেখেছি। ' আযানের সকল শব্দই তাওহীদ ও কল্যাণের দিকে উদাত্ত আহ্বান।
বর্ণিত আছে, উমার বিন আব্দুল আজিজের রহ. এর একটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তাকে একটি কাপড়ের টুকরায় ধরে ডান কানে আযান ও বাম কানে ইক্বামত দিলেন এবং সেই স্থানেই তার নাম রাখলেন। ' ৪৫ এটা একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে একত্ববাদের বাণী ও কল্যাণের আহ্বান শোনানোর প্রশিক্ষণ। যদি সে তার অর্থ বুঝতে নাও পারে। এটা তার-ই মত যে তার অবুঝ শিশুকে বিদেশী ইংরেজী স্কুলে ভর্তি করে এ উদ্দেশ্যে যে, যদিও তার পড়াশুনার বয়স হয়নি তবুও সে ঐ স্কুলে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশের সাথে পরিচিত হবে।
টিকাঃ
৪৪. সুনানে আবি দাউদ-৪/৩২৮
৪৫ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/৩৩৬
📄 সাহসিকতা ও বীরত্বে অভ্যস্ত করা
সাহসিকতায় অভ্যস্ত করা
সাহসিকতা একটি বড় গুণ। সাহসিকতার বদৌলতে অনেক দুঃসাধ্য সাধন করা সম্ভব। সে কারণে শিশুদেরকে এই বিষয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও তাদেরকে এর প্রতি অভ্যস্ত করা উচিত। পিতা কর্তৃক তার সন্ত নিদের মধ্যে খেলাচ্ছলে পরস্পর কুস্তি লড়াইয়ের আয়োজন করতে পারেন তাদেরকে সাহসিকতায় অভ্যস্ত করার জন্য। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যে, বিষয়টা এর মধ্য দিয়ে যেন কাংক্ষিত লক্ষ্যের বাহিরে চলে না যায়।
মুহম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'হাসান রা. ও হুসাইন রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মুখে কুস্তি ধরে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে লাগলেন, 'এটা হাসান (ভাল)।' তখন ফাতেমা রা. তাঁকে বললেন- 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি হাসানের পক্ষ নিচ্ছেন? সে যেন আপনার নিকট হুসাইনের চেয়ে বেশি প্রিয়। উত্তরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'জিব্রীল হুসাইনের রা. পক্ষ নিয়েছেন সুতরাং আমি হাসানের পক্ষ নেয়াকে পছন্দ করেছি।
সেই বীরত্বের প্রতিফলন যা হুসাইন রা. বর্ণনা করেন- 'একদিনের ঘটনা, যা ঘটেছিল আমিরুল মু'মিনীন উমার বিন খাত্তাবের রা. সঙ্গে যখন তিনি মুসলিম জাহানের খলিফা তখন সে ছিল বয়সে খুব ছোট। হুসাইন বিন আলী রা. বলেন, 'আমি উমরের রা. নিকট উপস্থিত হলাম তিনি তখন মিম্বরের উপরে ভাষণ দিচ্ছিলেন। অতঃপর আমি উঠে তার নিকট গিয়ে বললাম, আমার বাবার মিম্বর থেকে নেমে আপনার বাবার মিম্বরে গিয়ে বসুন!' উত্তরে উমার রা. বললেন, 'আমার বাবারতো কোন মিম্বর নেই।' এরপর আমাকে নিয়ে তার সঙ্গে বসালেন অথচ আমি তখনোও হাতের মধ্যে পাথরের টুকরা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম। অতঃপর তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে আমাকে নিয়ে তার গৃহে চলে গেলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, 'তোমাকে এটা কে শিখিয়েছে?' আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহর শপথ আমাকে কেউ শেখায়নি।' তিনি বললেন, 'আমার পিতা উৎসর্গ হোক! তুমি চাইলে আমাকে ঢেকে ফেলতে পারতে।' হাসান রা. আরো বলেন, 'আমি উমার বিন খাত্তাব রা. এর নিকট এসেছি, যখন তিনি মুয়া'বিয়া ও ইবনে উমার-কে নিয়ে দরজায় নির্জনে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর ইবনে উমার রা. তথা হতে প্রত্যাগমন করলেন আমিও তার সঙ্গে ফিরে গেলাম। এর কিছুদিন পর তাঁর (উমার রা.) সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলে তিনি আমাকে বললেন, 'তোমাকে দেখিনা কেন?' আমি বললাম, 'হে আমিরুল মু'মিনীন, আমি তো আপনার কাছে এসেই দেখি আপনি মুআ'বিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে আছেন। সে কারণে আমি ইবনে উমরের রা. সঙ্গে ফিরে যাই। অতঃপর তিনি বললেন, 'ইবনে উমার রা. অপেক্ষা তোমার প্রবেশাধিকার অগ্রগণ্য। তুমি আমাদের মস্তিষ্কে যা দেখছো তা রোপন করেছে আল্লাহ তাআ'লা, এরপর তোমরা।
অভিভাবকের প্রতি শিশুর ভালোবাসাকে তার সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খবরদারী করা ও তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণের ধারক হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না। তাকে এমন বিষয় ভীতি প্রদর্শন করা যা তাকে হত্যা করে ফেলবে অথবা এই চরিত্রটি তার মধ্যে আসার পর খুব তাড়াতাড়ি মানসিকভাবে তাকে দুর্বল করে ফেলবে। অতঃপর কোন উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখী হলে সে আর শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে না। অথবা কোন বিশুদ্ধ বস্তু দিয়ে তাকে ভীতি প্রদর্শন করা, যাতে প্রকৃতপক্ষে কোন ভীতি বা আশঙ্কার উদ্রেক না হয়। তাহলে এর বিপরীতে তার নিকট নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হবে।
অতএব কখনোই শিক্ষক, চিকিৎসক ও পুলিশের লোক ইত্যাদির মাধ্যমে শিশুকে ভীতি প্রদর্শন করা উচিত নয়। কারণ এটা তাকে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গকে অপছন্দ ও তাদের কর্মসমূহকে ঘৃণা করতে উদ্যত করবে। যেমনিভাবে তাকে উদাহরণ স্বরূপ; বিপদ-মৃত্যু, ভূত-প্রেত অথবা চোর-ডাকাতের ভয় দেখানো উচিত নয় যা তার মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে থাকবে। ফলে সে অপরিচিত স্থান অনুসন্ধান করার সাহস হারাবে, অথবা অন্ধকারের ভয় দেখানো হলে অন্ধকার স্থান অতিক্রম করার শক্তি পাবে না ইত্যাদি। আমার এ কথার অর্থ এই নয় যে, বাস্তবিকই যেখানে বিপদাশঙ্কা রয়েছে সেক্ষেত্রেও শিশুকে সতর্ক করা যাবে না অথবা বিপদের সকল উপকরণ উপস্থিত হওয়ার পরও তা হতে তাকে বিরত রাখা যাবে না। কেবলমাত্র ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন যা তাকে মিথ্যা বলতে প্ররোচিত করবে অথবা কোন বিষয় সম্পর্কে ভীতিপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মিথ্যা বলা- বাস্তবে যার কোন অস্তিত্ব নেই- নিষিদ্ধ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'যখন রাতের আঁধার নামে অথবা রজনী ডানা মেলে দেয়, তোমাদের বাচ্চাদেরকে তোমরা প্রত্যাহার করে নাও! কারণ শয়তানের দল তখন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন রাতের একটা অংশ অতিবাহিত হয় তখন তাদেরকে ছেড়ে দাও!' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বানী- 'যখন রাতের অন্ধকার নামে বা রাত ডানা মেলে দেয়।' অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর রাতের আগমন। তাঁর বাণী-'তোমাদের বাচ্চাদের প্রত্যহার করে নাও!' অর্থাৎ এ সময়টায় তাদের বের হতে বারণ কর।
ইবনে হাজার রহ. বলেন, 'ইবনুল জাওযী রহ. বলেছেন, 'ঐ সময়টায় শিশুদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। কারণ শয়তানের দল যে অপবিত্রতার মধ্যে নিমজ্জিত থাকে সাধারতঃ ঐ সময় তা তাদের সঙ্গে বিদ্যমান থাকে। যে সকল যিকির আযকার এর থেকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম তা সাধারণত শিশুদের জানা থাকে না। আর শয়তানের দলতো ছড়িয়ে পড়ার সময় যাকে পায় তার সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে নেয়। সে কারণে ঐ সময়ে বাচ্চাদের ব্যাপারে ভয় করা হয়েছে। '
টিকাঃ
৪৬ মুসনাদে হারেছ, যাওয়ায়েদুল হাইছামি-২/৯১০
৪৭. আল-এসাবাহ-২/৭৮
৪৮. মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, বুখারী-৩০৩৭, মুসলিম-৩৭৫৬
৪৯. ফাতহুল বারী-৬/৪৩১
📄 মনের মধ্যে আত্মপ্রত্যয়ের বীজ বপন করা
মনের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় বপণ করা:
শিশুর কর্মসম্পাদনের সুপ্তসামর্থ ও নির্বাচন ক্ষমতার উপলব্ধি প্রয়োজন। এটা শিশুর লুক্কায়িত ভালো বিষয়সমূহের অন্যতম। সুতরাং এ বিষয়ে অভিভাবকের কোনরূপ দুশ্চিন্তা অনুভব করার প্রয়োজন নেই।
বরং শিশুর শক্তি ও সামর্থের অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর দায়িত্ব যদি তাকে প্রদান করে এর জন্য যদি সময়ও নির্ধারণ করে দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে এর মধ্য দিয়ে তার প্রতি অভিভাবক বা শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবে ও নিজের সম্পর্কে একটা ইতিবাচক চিত্র তার হৃদয়ে ফুটে উঠবে। কিন্তু শিশু অধিকাংশ সময় নিজে নিজেই কার্যকর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়। যেমন : সে কখনো এমন পণ্য সামগ্রী নিয়ে খেলাধুলা করে যার মধ্যে কখনো বা বিপদাশঙ্কাও থাকতে পারে। কাজেই সার্বক্ষণিক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
বিপদের ধরনটা এমনও হতে পারে যে সম্পর্কে পূর্ব থেকে তাকে সতর্ক করা অথবা কোন রকম সমস্যা সৃষ্টি না করে যার ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। এ জাতীয় প্রেক্ষাপটে তাকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ছেড়ে দিন। কারণ এটা 'এ জাতীয় কর্ম সম্পাদনের সামর্থ তার রয়েছে' নিজের প্রতি এই আস্থা স্থাপন ও তাকে আত্মপ্রত্যয়ী হতে সাহায্য করবে। মূলকথা তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত ফলাফল অভিভাবক কর্তৃক প্রদত্ত অসংখ্য আলোচনা ও দিকনির্দেশনা থেকে শ্রেয়।
উদাহরণ স্বরূপ : কখনোবা শিশু গর্ত থেকে কাঠ উঠিয়ে নিয়ে তা প্রজ্জ্বলিত করার সংকল্প করে বসে। কখনো বা তাকে আপনার প্রতিরোধ করার প্রয়াস তাকে ঐ কাজের প্রতি আরো বেশি উৎসাহ সৃষ্টি করে থাকবে। অতএব আপনি যদি তাকে ছেড়ে দেন এবং সে যা করতে চায় তা আপনার তত্বাবধানে করতে থাকে। এক্ষেত্রে যদি সে সফল হয় তাহলে তার মনের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হবে। তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে নতুন বিষয় সংযোজিত হবে। যদি উক্ত কাঠটি প্রজ্জলিত করার সময় তাকে ঝলসে দেয় অথবা দগ্ধ করে ফেলে, তথাপি তার এ কর্ম সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে যা তাকে অদূর ভবিষ্যতে উত্তরোত্তর সফলতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করবে। অথবা এটা অভিভাবকের অবর্তমানেও উক্ত অভিজ্ঞতা দ্বিতীয়বার বাস্তবায়ন করা হতে তাকে নিরৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।
এটা ও পূর্বেরটার মধ্যে পার্থক্য এতটুকু যে, আপনি হলেন দাবী উত্থাপনকারী- হে অভিভাবক, আপনি এমন কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করবেন না যাতে সে আপনার অনুসরণ করতে না পারে। আর দ্বিতীয়টি হলো সে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সেটা সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। সে কারণে উভয় অবস্থার বিচিত্রতার দরশ দিক-নির্দেশনাও বিভিন্ন রকম হয়েছে। ঝলসে যাওয়ার কারণে যে সকল প্রতিক্রিয়া আবর্তিত হয় যা শিশুর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। সুতরাং শিশুকে এক্ষেত্রে ছাড় দেয়া যাবে না।
📄 প্রতিপালনের অনুকূল সময় নির্বাচন ও ধীরতা অবলম্বন
প্রতিপালনের অনুকূল সময় নির্বাচন ও ধীরতা অবলম্বন :
শিশুকে অনেক বিষয় শিক্ষাদান অভিভাবকের কর্তব্য; তাদেরকে শিক্ষা দিবেন কয়েকটি নান্দনিক চরিত্র ও সুন্দরতম শিষ্টাচার। কিন্তু সেটা যেন তাকে কোনভাবেই তালীম তরবিয়তের মধ্যে বিদ্যমান যোগসূত্রকে অবমূল্যায়ন অথবা এক্ষেত্রে একটার পর অন্যটা সম্পন্ন করতে হবে এরকম ক্রমানুবর্তিতা অবলম্বনে বাধ্য করা উচিত হবে না। তাহলে এর তুলনা হবে সেই ব্যক্তির সঙ্গে যে নিজের ওপর একটি গুরুদায়িত্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে অথচ তার কষ্ট থেকে সে একসঙ্গে পরিত্রাণ পেতে চায়। বরং এর জন্য উপযুক্ত সময় ও পাত্র মনোনীত করে পর্যায়ক্রমে এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হলো তার কর্তব্য।
ধরুন আপনি একটি শিশুকে আহারের শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে চান - অপরিচ্ছন্ন হাত ধোয়া, আহার্য গ্রহণের প্রারম্ভে বিসমিল্লাহ বলা, ডান হাত দিয়ে ও তার নিকটস্থ খাদ্য হতে আহার্য গ্রহণ, পাত্রের মধ্যখান থেকে নয় একপার্শ্ব থেকে আহার করা, অপরের পূর্বে খাদ্যের প্রতি অগ্রসর না হওয়া, আহার্য ও ভক্ষণকারীর প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে না তাকানো : খাদ্য গ্রহণে তাড়াহুড়া না করা, আহার্য উত্তমরূপে চিবানো, বিরতিহীনভাবে খাবার গ্রহণ না করা, হাত ও কাপড়ে না লাগানো এবং পানাহারান্তে আহার্যদাতা আল্লাহ তাআ'লার প্রশংসা করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে তার ও আপনার নিজের খাদ্য গ্রহণ শুরুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এ শিক্ষা প্রদান করা। এগুলো সব একসঙ্গে তার ওপর আরোপ করবেন না। খাদ্যে প্রতিটি প্রকরণে তার সঙ্গে এর পুনঃ পুনঃ উল্লেখ করা, তাহলে সে বিরক্ত কিংবা ক্লান্ত হবে না। এমনি করে এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। শিশুকে আহার্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখবে যতক্ষণ সে এর অনুশীলন না করছে। যে বিসমিল্লাহ না বলে আহার করে শয়তান তার নিকট এসে তার সঙ্গে আহার করতে সক্ষম হয়।
এমনিভাবে নিদ্রাগমনের শিষ্টাচার শিক্ষা দিবেন। ঘুমের ইচ্ছা অথবা নিদ্রাগমনের সময় নিকটবর্তী হলে তাদেরকে একটি মাত্র শিষ্টাচার শিক্ষাদানের মাধ্যমে আরম্ভ করবেন। যাতে তারা তৃপ্ত হয় একাধিক শিষ্টাচার থেকে যার ওপর তারা পরে অভ্যস্ত হয়ে থাকবে। তাদেরকে উক্ত শিষ্টাচারটি শিক্ষা দেয়ার পর অপর শিষ্টাচার শিক্ষাদানে পর্যায়ক্রমে মনোনিবেশ করবেন। এভাবে এই ধারা অব্যাহত গতিতে চলতে থাকবে। একপর্যায়ে তার জ্ঞাত সকল শিষ্টাচার তাদেরকে শিক্ষা দিতে পারবেন যা তারা অনুশীলন করবে। তবে কখনো ঐগুলোও সব তাদেরকে একবারে শিক্ষা দেয়ার প্রয়াস চালানো যাবে না। কারণ তাহলে তারা কখনো তা স্মরণ রাখতে ও ধারণ করতে পারবে না। আমলবিহীন ইলম নয়, অনুশীলনই হলো প্রতিপালন ও প্রশিক্ষণের আসল উদ্দেশ্য। যদি তারা এর মধ্যে যে কোনভাবে একবারে গ্রহণ করেও থাকে, তাহলে আবার তা একবারে পরিত্যাগ করার আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিশুদ্ধ ও সংক্ষিপ্ত দোয়াগুলো নির্বাচন করা যেতে পারে যা সহজে মুখস্ত করা যায়।
টিকাঃ
৫০ মুসলিম-৩৭৬১, আবু দাউদ-৩২৭৪