📄 আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা
৫- আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা:
আধিপত্যের মোহ প্রাণীকুলের স্বভাবজাত প্রবণতা। মানব শিশু এ থেকে মুক্ত নয়। একটি শিশুর ক্ষেত্রে এ স্বভাবটির বিকাশ এভাবে হতে পারে, তার জন্য কিছু জিনিষ নির্দিষ্ট করে দেয়া যাতে অন্য কারো অংশীদারিত্ব থাকবে না। এটার যত্ন ও সংরক্ষণের দায়িত্বটাও তার থেকে আদায় করে নিতে হবে। তবে কখনোই তার এ স্বভাব সুলভ প্রবণতাকে পদদলিত করা ঠিক হবে না। পক্ষান্তরে সে যদি অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তখন অবশ্যই এটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে কোন জিনিসটা নিজের জন্য নির্ধারিত আর কোনটা অন্যের এ পার্থক্য করতে পারে না। সে কারণে তার কাংক্ষিত বস্তুটি যে কোন উপায়ে পেতে চায়। চাই সেটা চুরি, ছিনতাই, কিংবা এ জাতীয় কোন অবাঞ্চিত পদ্ধতিতেই অর্জিত হোক না কেন। এবং সেটা সে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।
এর অন্যতম কারণ মা-বাবার উদাসীনতা ও শিশুর ছেলেমানুষি। কারণ, সে নিজের দাবী বাস্তবায়নে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম নয়। অথবা এ জাতীয় আচরণ যে করে শিশুটি তার অনুসরন করে। যেমন: তার আগ্রহ থাকে যে, সে তার সঙ্গীদের মত হবে, যা তাকে উদ্বুদ্ধ করে এমনটি করতে। কখনো কখনো শিশুকে নিরেট ধারণা শিখানোর সংকল্প করা হয় যা আদৌ ফলপ্রসু নয়। কাজেই অভিভাবকের কর্তব্য হবে উপদেশ দানের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। তার সংকল্পে পূর্ব দৃঢ়তা এ বিষয়ের কার্যরূপটাকে শক্তিশালী করবে। উদাহরণত অভিভাবক যদি শিশুর প্রিয় কোন বস্তু লুকিয়ে রাখে, অতঃপর শিশুটি সেটা তালাশ করার পরও না পায়, তাহলে নিশ্চয়ই এটা তার মনোকষ্টের কারণ হবে। এরপর তাকে যদি বলা হয়, যার প্রিয় বস্তু চুরি অথবা কোন মাল ছিনতাই হয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই তোমার মত কষ্ট লাগে। এখান থেকেই সে চুরি ও ছিনতাই এর যন্ত্রণাটা নিজের ওপর দিয়ে অনুভব করে নিতে পারবে।
৫- আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা:
আধিপত্যের মোহ প্রাণীকুলের স্বভাবজাত প্রবণতা। মানব শিশু এ থেকে মুক্ত নয়। একটি শিশুর ক্ষেত্রে এ স্বভাবটির বিকাশ এভাবে হতে পারে, তার জন্য কিছু জিনিষ নির্দিষ্ট করে দেয়া যাতে অন্য কারো অংশীদারিত্ব থাকবে না। এটার যত্ন ও সংরক্ষণের দায়িত্বটাও তার থেকে আদায় করে নিতে হবে। তবে কখনোই তার এ স্বভাব সুলভ প্রবণতাকে পদদলিত করা ঠিক হবে না। পক্ষান্তরে সে যদি অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তখন অবশ্যই এটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে কোন জিনিসটা নিজের জন্য নির্ধারিত আর কোনটা অন্যের এ পার্থক্য করতে পারে না। সে কারণে তার কাংক্ষিত বস্তুটি যে কোন উপায়ে পেতে চায়। চাই সেটা চুরি, ছিনতাই, কিংবা এ জাতীয় কোন অবাঞ্চিত পদ্ধতিতেই অর্জিত হোক না কেন। এবং সেটা সে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।
এর অন্যতম কারণ মা-বাবার উদাসীনতা ও শিশুর ছেলেমানুষি। কারণ, সে নিজের দাবী বাস্তবায়নে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম নয়। অথবা এ জাতীয় আচরণ যে করে শিশুটি তার অনুসরন করে। যেমন: তার আগ্রহ থাকে যে, সে তার সঙ্গীদের মত হবে, যা তাকে উদ্বুদ্ধ করে এমনটি করতে। কখনো কখনো শিশুকে নিরেট ধারণা শিখানোর সংকল্প করা হয় যা আদৌ ফলপ্রসু নয়। কাজেই অভিভাবকের কর্তব্য হবে উপদেশ দানের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। তার সংকল্পে পূর্ব দৃঢ়তা এ বিষয়ের কার্যরূপটাকে শক্তিশালী করবে। উদাহরণত অভিভাবক যদি শিশুর প্রিয় কোন বস্তু লুকিয়ে রাখে, অতঃপর শিশুটি সেটা তালাশ করার পরও না পায়, তাহলে নিশ্চয়ই এটা তার মনোকষ্টের কারণ হবে। এরপর তাকে যদি বলা হয়, যার প্রিয় বস্তু চুরি অথবা কোন মাল ছিনতাই হয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই তোমার মত কষ্ট লাগে। এখান থেকেই সে চুরি ও ছিনতাই এর যন্ত্রণাটা নিজের ওপর দিয়ে অনুভব করে নিতে পারবে।
📄 বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছচারিতা
৬- বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছাচারিতা:
নিজ ব্যক্তি সত্ত্বার দিকে শিশুর অত্যধিক ঝোঁক থাকে। বিভিন্ন হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে সে নিজের মতের ওপর একগুঁয়েমি, স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির অপেক্ষা অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রথম কথা অথবা কোন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কোন তৎপরতা চালাতে থাকে। এগুলোর কোনটাই প্রকৃত সমস্যা নয়। বরং মূল সমস্যা তো তখনই দেখা দেবে যখন কতক শিশু নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সীমা লংঘনের পথে চলবে- যা কখনো বা অন্যের ওপর অবিচার আবার কখনো জিনিসপত্র বিনষ্টের নামান্তর হবে, যদিও সেটা তার নিজের মালিকানাধীনই হোক না কেন।
আবার কখনো তা অন্যের ওপর স্বেচ্ছাচার অবস্থার ক্রোধ অথবা জাত্যাভিমানের কারণে হয়ে থাকে। যেমন: জিনিসপত্র ভাংচুর বা নষ্ট করা, তার ব্যবহার না জানা কিংবা বুঝার অসমর্থতার কারণেও হয়ে থাকে। অবশ্য এতেও তার কষ্ট লাগে বটে। এটা বেশির ভাগ প্রকাশ পায়, যে খেলনাসামগ্রীর ব্যবহার সে বুঝে না বা তার থেকে উপকৃত হতে সমর্থ রাখে না সেক্ষেত্রে। সুতরাং আপনি দেখতে পাবেন কিছুক্ষণ পর সে ওটা নষ্ট করছে বা ফেলে দিচ্ছে।
কাজেই একজন অভিভাবককে জানতে হবে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সূচনা যদিও নাকি প্রথম পর্যায় শৈশবে শিশুর দৈহিক দুর্বলতার দরুণ হয়েছে। কিন্তু এখনই তার সার্বিক প্রতিকার করা না গেলে সাধারণত শিশুর বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে থাকবে। এ প্রেক্ষিতে একজন অভিভাবকের প্রয়োজন হবে শিক্ষামূলক কর্মশালার।
সার সংক্ষেপ হলো, বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে শিশুকে স্বেচ্ছাচার ও সীমা লংঘনের অপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে গল্প-সম্ভার থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে। যেখানে সীমালংঘন ও অত্যাচারের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ের ওপর নির্মিত ভিডিও, ক্যাসেট অথবা কম্পিউটারের নির্বাচিত অনুষ্ঠানের সহায়তা নেয়াতেও কোন অসুবিধা নেই। যেখানে সীমালংঘনের ক্ষতি এবং তার অশুভ পরিণতি বাস্তব কর্মরূপে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
৬- বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছাচারিতা:
নিজ ব্যক্তি সত্ত্বার দিকে শিশুর অত্যধিক ঝোঁক থাকে। বিভিন্ন হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে সে নিজের মতের ওপর একগুঁয়েমি, স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির অপেক্ষা অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রথম কথা অথবা কোন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কোন তৎপরতা চালাতে থাকে। এগুলোর কোনটাই প্রকৃত সমস্যা নয়। বরং মূল সমস্যা তো তখনই দেখা দেবে যখন কতক শিশু নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সীমা লংঘনের পথে চলবে- যা কখনো বা অন্যের ওপর অবিচার আবার কখনো জিনিসপত্র বিনষ্টের নামান্তর হবে, যদিও সেটা তার নিজের মালিকানাধীনই হোক না কেন।
আবার কখনো তা অন্যের ওপর স্বেচ্ছাচার অবস্থার ক্রোধ অথবা জাত্যাভিমানের কারণে হয়ে থাকে। যেমন: জিনিসপত্র ভাংচুর বা নষ্ট করা, তার ব্যবহার না জানা কিংবা বুঝার অসমর্থতার কারণেও হয়ে থাকে। অবশ্য এতেও তার কষ্ট লাগে বটে। এটা বেশির ভাগ প্রকাশ পায়, যে খেলনাসামগ্রীর ব্যবহার সে বুঝে না বা তার থেকে উপকৃত হতে সমর্থ রাখে না সেক্ষেত্রে। সুতরাং আপনি দেখতে পাবেন কিছুক্ষণ পর সে ওটা নষ্ট করছে বা ফেলে দিচ্ছে।
কাজেই একজন অভিভাবককে জানতে হবে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সূচনা যদিও নাকি প্রথম পর্যায় শৈশবে শিশুর দৈহিক দুর্বলতার দরুণ হয়েছে। কিন্তু এখনই তার সার্বিক প্রতিকার করা না গেলে সাধারণত শিশুর বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে থাকবে। এ প্রেক্ষিতে একজন অভিভাবকের প্রয়োজন হবে শিক্ষামূলক কর্মশালার।
সার সংক্ষেপ হলো, বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে শিশুকে স্বেচ্ছাচার ও সীমা লংঘনের অপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে গল্প-সম্ভার থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে। যেখানে সীমালংঘন ও অত্যাচারের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ের ওপর নির্মিত ভিডিও, ক্যাসেট অথবা কম্পিউটারের নির্বাচিত অনুষ্ঠানের সহায়তা নেয়াতেও কোন অসুবিধা নেই। যেখানে সীমালংঘনের ক্ষতি এবং তার অশুভ পরিণতি বাস্তব কর্মরূপে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
📄 বিরক্তি ও অধৈর্য
৭- বিরক্তি ও অধৈর্য: এ বয়সে শিশুকে জাগ্রত করা ও তার অন্তরে কোন কিছু গেঁথে দেয়ার সময় যেন কোনভাবেই নির্ধারিত কয়েক মিনিটের বেশি অতিক্রম না করে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ কর্ম আরম্ভ করার কিছু সময় পরই বিরক্তি অনুভব করে থাকে। এবং সহজেই তার অভিভাবকের আনুগত্য পরিত্যাগ করে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যেমন তার খেলনাসামগ্রী নিয়ে খেলা করা, সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে ইত্যাদি।
অতএব অভিভাবকের দীর্ঘ কথার কারণেই শিশুর পক্ষ থেকে বেপরওয়া ভাব ও অমনোযোগী হওয়ার সমস্যা প্রকাশ পেল। সে কারণে উপযোগী হলো কোন বিষয় উপস্থাপনের সময় যেন নির্ধারিত কয়েক মিনিটের বেশী সময় অতিক্রম না করে যায়। এর সঙ্গে আলোচনার মাঝখানে এমন বিষয়ের অবতারণা করতে যত্নবান হতে হবে যা শিশুটিকে তার অভিভাবকের সঙ্গে অটুট বন্ধণে আবদ্ধ রাখতে এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হতে সহায়ক হয়। এক পর্যায়ে সে তার চেতনা জাগ্রত, মনোযোগ দেয়া ও সকল অহেতুক বস্তু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া অথবা খেলা করা ইত্যাদি ত্যাগ করতে যত্নবান হবে।
স্থবিরতা নিরসনের জন্য শিশুদের স্থান পরিবর্তন উপকারী হিসেবে প্রমাণিত। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ও অবস্থা অনুযায়ী দাঁড়ানো, বসা ও চলা ফেরার স্থানসমূহ পরিবর্তন করে দেয়া। সম্ভব হলে অভিভাবক তার 'পাঠ'কে কয়েকটি প্রিয়ডে বিভক্ত করে নেবেন। যাতে আড়ষ্ট অবস্থা দূর করার জন্য প্রতিটি প্রিয়ড ও পরবর্তি প্রিয়ডের মাঝে শিশু নতুন করে উদ্দীপনা পায়।
কোন সময় এমনও হয় যে, অভিভাবক শিশুর জন্য কোন বিষয়ের প্রতি বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করে অথবা তাকে নতুন কোন বিষয় শিক্ষা দিতে চায়; তখন শিশুটি হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করে বসতে পারে, আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে যার কোন সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে অভিভাবক বা শিক্ষক ভীষণভাবে রেগে যান, অথচ তার এ প্রশ্নের কারণতো অজ্ঞতাও হতে পারে। যেহেতু সে শিশু সুলভ বুদ্ধিমত্তার সঞ্চয় থেকে এমন বিষয় বের করে তার ব্যাখ্যা করেছে, যার সঙ্গে তার বক্তব্য সম্পৃক্ত।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেখানে শিশু বেশ আলোচনা করে থাকে শিশুকে ধমকি প্রদান বা তিরস্কার করা অনুচিত। যেহেতু অভিভাবক ও শিক্ষকের আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন অনেক দূরের বিষয় নিয়ে সে কথা বলছে। যেমন তার প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসাকে অবজ্ঞা করা, উত্তরের অযোগ্য গৌণ বিষয় অথবা সময়ের অপচয় বলে মনে করা সমীচীন নয়। কারণ অভিভাবক ও শিক্ষক যদি এই দিক-যা তার কৌতূহলকে জাগ্রত করেছে- থেকে শিশুর আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে না পারে তাহলে সে পুরোটা সময় ধরে অভিভাবক বা শিক্ষক থেকে বিমুখ হয়ে শুধু ঐ বিষয়টা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করতে থাকবে। যদিও বাহ্যতঃ তাকে দেখতে 'অনুকরণ করছে' বলে মনে হবে। বরং এক্ষেত্রে প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসার প্রতি তাকে উৎসাহ প্রদান এবং সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মাবলীর প্রতি লক্ষ্য রেখে যে জানে না, তাকে অজানা বিষয়ে প্রশ্ন করার ওপর ধন্যবাদ দেয়া উচিত। এ জাতীয় প্রেক্ষাপটে অভিভাবক ও শিক্ষককে দ্রুত কর্ম সম্পাদনে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ নেহায়েত জরুরি।
৭- বিরক্তি ও অধৈর্য: এ বয়সে শিশুকে জাগ্রত করা ও তার অন্তরে কোন কিছু গেঁথে দেয়ার সময় যেন কোনভাবেই নির্ধারিত কয়েক মিনিটের বেশি অতিক্রম না করে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ কর্ম আরম্ভ করার কিছু সময় পরই বিরক্তি অনুভব করে থাকে। এবং সহজেই তার অভিভাবকের আনুগত্য পরিত্যাগ করে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যেমন তার খেলনাসামগ্রী নিয়ে খেলা করা, সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে ইত্যাদি।
অতএব অভিভাবকের দীর্ঘ কথার কারণেই শিশুর পক্ষ থেকে বেপরওয়া ভাব ও অমনোযোগী হওয়ার সমস্যা প্রকাশ পেল। সে কারণে উপযোগী হলো কোন বিষয় উপস্থাপনের সময় যেন নির্ধারিত কয়েক মিনিটের বেশী সময় অতিক্রম না করে যায়। এর সঙ্গে আলোচনার মাঝখানে এমন বিষয়ের অবতারণা করতে যত্নবান হতে হবে যা শিশুটিকে তার অভিভাবকের সঙ্গে অটুট বন্ধণে আবদ্ধ রাখতে এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হতে সহায়ক হয়। এক পর্যায়ে সে তার চেতনা জাগ্রত, মনোযোগ দেয়া ও সকল অহেতুক বস্তু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া অথবা খেলা করা ইত্যাদি ত্যাগ করতে যত্নবান হবে।
স্থবিরতা নিরসনের জন্য শিশুদের স্থান পরিবর্তন উপকারী হিসেবে প্রমাণিত। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ও অবস্থা অনুযায়ী দাঁড়ানো, বসা ও চলা ফেরার স্থানসমূহ পরিবর্তন করে দেয়া। সম্ভব হলে অভিভাবক তার 'পাঠ'কে কয়েকটি প্রিয়ডে বিভক্ত করে নেবেন। যাতে আড়ষ্ট অবস্থা দূর করার জন্য প্রতিটি প্রিয়ড ও পরবর্তি প্রিয়ডের মাঝে শিশু নতুন করে উদ্দীপনা পায়।
কোন সময় এমনও হয় যে, অভিভাবক শিশুর জন্য কোন বিষয়ের প্রতি বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করে অথবা তাকে নতুন কোন বিষয় শিক্ষা দিতে চায়; তখন শিশুটি হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করে বসতে পারে, আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে যার কোন সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে অভিভাবক বা শিক্ষক ভীষণভাবে রেগে যান, অথচ তার এ প্রশ্নের কারণতো অজ্ঞতাও হতে পারে। যেহেতু সে শিশু সুলভ বুদ্ধিমত্তার সঞ্চয় থেকে এমন বিষয় বের করে তার ব্যাখ্যা করেছে, যার সঙ্গে তার বক্তব্য সম্পৃক্ত।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেখানে শিশু বেশ আলোচনা করে থাকে শিশুকে ধমকি প্রদান বা তিরস্কার করা অনুচিত। যেহেতু অভিভাবক ও শিক্ষকের আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন অনেক দূরের বিষয় নিয়ে সে কথা বলছে। যেমন তার প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসাকে অবজ্ঞা করা, উত্তরের অযোগ্য গৌণ বিষয় অথবা সময়ের অপচয় বলে মনে করা সমীচীন নয়। কারণ অভিভাবক ও শিক্ষক যদি এই দিক-যা তার কৌতূহলকে জাগ্রত করেছে- থেকে শিশুর আত্মাকে পরিতৃপ্ত করতে না পারে তাহলে সে পুরোটা সময় ধরে অভিভাবক বা শিক্ষক থেকে বিমুখ হয়ে শুধু ঐ বিষয়টা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করতে থাকবে। যদিও বাহ্যতঃ তাকে দেখতে 'অনুকরণ করছে' বলে মনে হবে। বরং এক্ষেত্রে প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসার প্রতি তাকে উৎসাহ প্রদান এবং সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মাবলীর প্রতি লক্ষ্য রেখে যে জানে না, তাকে অজানা বিষয়ে প্রশ্ন করার ওপর ধন্যবাদ দেয়া উচিত। এ জাতীয় প্রেক্ষাপটে অভিভাবক ও শিক্ষককে দ্রুত কর্ম সম্পাদনে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ নেহায়েত জরুরি।