📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 অবাধ্যতা

📄 অবাধ্যতা


৩- অবাধ্যতা: কোন কোন শিশু-সন্তান মা-বাবার পক্ষ থেকে স্বভাবগত পরিমাণের চেয়ে একটু অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে থাকে। যেমন: সে অবিবাহিত ছেলে অথবা সে একমাত্র সন্তান অথবা সকল ভাই-বোনের মধ্যে সে একমাত্র ছেলে সন্তান। সুতরাং এটা তার মনে সকলের অপেক্ষা অনন্য মর্যাদাবোধ ও গুরুত্বানুভূতির জন্ম দেয় যা অনেক সময় তাকে মা-বাবার শিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের অবাধ্য হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে তার দাবী পূরণের জন্য জিদ ধরে ও তার দাবী বাস্তবায়নের জন্য যে কোন পথের আশ্রয় নিয়ে থাকে। যথা: দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করা, সজোরে চিৎকার করা, দরোজায় পিটানো, মেঝেতে পদাঘাত করা অথবা গৃহস্থালীর মালামাল ভাংচুর করা। বিশেষ করে অতিথি অথবা অপরিচিত লোকদের উপস্থিতিতে। যাতে তার অভিভাবক একটা অসুবিধায় পড়ে তার দাবী পূরণ করে দেয়। এ অবস্থায় শিশুটি তার বাবা অথবা মা উভয়ের মধ্যে তার দাবী পূরণে অপেক্ষাকৃত যে বেশি দুর্বল তার আশ্রয় নেয়। এ প্রেক্ষাপটে মা-বাবার ঐকমত্য নেহায়েত প্রয়োজন। কখনো বা তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে দাদা-দাদীর কোন একজনের অথবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয় নেয়। এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে অভিভাবককে হতে হবে একজন প্রাজ্ঞ শাসক। তার চিকিৎসা বা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বেই অবাধ্যতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
অতএব তাকে তুচ্ছ কিংবা প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। অথবা তার সকল আবদার পূরণেও অভ্যস্ত করা উচিৎ হবে না। যেমন: তার প্রতি এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, যা অনুচিত। সকল নিষিদ্ধ বিষয়ে এক মাপকাঠিতে আচরণ করা যাবে না। কারণ কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা শুধুমাত্র সদাচার ও চরিত্রের পূর্ণতা বিনষ্ট করে। আর কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা চরিত্র ও সদাচার সমূলে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে একভাবে মূল্যায়ন করলে চলবে না।
যখন এই মূলনীতিকে শক্তভাবে অবলম্বন করে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন, তখন আপনি সফল ও আপনার নিষেধাজ্ঞা হবে অব্যর্থ। শিশু কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রভাবান্বিতকারী উপকরণ অবলম্বনের সামনে পরাস্ত হলে চলবে না। কারণ প্রতিটি নিষেজ্ঞার সময় তাকে সাড়া দেয়া তদসংশ্লিষ্ট কাজ করতে তাকে প্ররোচিত করবে এবং এই আচরণটা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে থাকবে একেবারে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত।

৩- অবাধ্যতা: কোন কোন শিশু-সন্তান মা-বাবার পক্ষ থেকে স্বভাবগত পরিমাণের চেয়ে একটু অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে থাকে। যেমন: সে অবিবাহিত ছেলে অথবা সে একমাত্র সন্তান অথবা সকল ভাই-বোনের মধ্যে সে একমাত্র ছেলে সন্তান। সুতরাং এটা তার মনে সকলের অপেক্ষা অনন্য মর্যাদাবোধ ও গুরুত্বানুভূতির জন্ম দেয় যা অনেক সময় তাকে মা-বাবার শিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের অবাধ্য হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে তার দাবী পূরণের জন্য জিদ ধরে ও তার দাবী বাস্তবায়নের জন্য যে কোন পথের আশ্রয় নিয়ে থাকে। যথা: দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করা, সজোরে চিৎকার করা, দরোজায় পিটানো, মেঝেতে পদাঘাত করা অথবা গৃহস্থালীর মালামাল ভাংচুর করা। বিশেষ করে অতিথি অথবা অপরিচিত লোকদের উপস্থিতিতে। যাতে তার অভিভাবক একটা অসুবিধায় পড়ে তার দাবী পূরণ করে দেয়। এ অবস্থায় শিশুটি তার বাবা অথবা মা উভয়ের মধ্যে তার দাবী পূরণে অপেক্ষাকৃত যে বেশি দুর্বল তার আশ্রয় নেয়। এ প্রেক্ষাপটে মা-বাবার ঐকমত্য নেহায়েত প্রয়োজন। কখনো বা তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে দাদা-দাদীর কোন একজনের অথবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয় নেয়। এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে অভিভাবককে হতে হবে একজন প্রাজ্ঞ শাসক। তার চিকিৎসা বা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বেই অবাধ্যতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
অতএব তাকে তুচ্ছ কিংবা প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। অথবা তার সকল আবদার পূরণেও অভ্যস্ত করা উচিৎ হবে না। যেমন: তার প্রতি এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, যা অনুচিত। সকল নিষিদ্ধ বিষয়ে এক মাপকাঠিতে আচরণ করা যাবে না। কারণ কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা শুধুমাত্র সদাচার ও চরিত্রের পূর্ণতা বিনষ্ট করে। আর কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা চরিত্র ও সদাচার সমূলে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে একভাবে মূল্যায়ন করলে চলবে না।
যখন এই মূলনীতিকে শক্তভাবে অবলম্বন করে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন, তখন আপনি সফল ও আপনার নিষেধাজ্ঞা হবে অব্যর্থ। শিশু কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রভাবান্বিতকারী উপকরণ অবলম্বনের সামনে পরাস্ত হলে চলবে না। কারণ প্রতিটি নিষেজ্ঞার সময় তাকে সাড়া দেয়া তদসংশ্লিষ্ট কাজ করতে তাকে প্ররোচিত করবে এবং এই আচরণটা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে থাকবে একেবারে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা

📄 কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা


৪- কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা:
এ বিষয়ে শিশুর গবেষণার ক্ষমতা খুবই সীমিত। উত্তমরূপে শুধুমাত্র অর্থ অনুধাবন করার সামর্থ্যও সে রাখে না। অথচ এটা এমন একটি বিষয় যার প্রাচুর্য্য তাকে এমন তথ্যসমৃদ্ধ হতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে একজন অভিভাবক চিন্তা ও বুদ্ধির খোরাক যোগাতে চায়। সুতরাং অভিভাবকের কর্তব্য এ বয়সে তিনি শিশু ও উক্ত বিষয়ের মধ্যে এই পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন যে, শিশুটি ঐ অর্থ থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। তবে নেহায়েত প্রয়োজনের সময় কাছাকাছি অর্থের সহায়তা এবং শিশুর চতুপার্শ্বস্থ বাস্তব পরিবেশ থেকে উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যেমন: দূরত্ব ও সীমানার ক্ষেত্রে শিশুর আচরণ- তার সন্দেহের কারণে- তার বস্তুনিষ্ট মূল্যায়ন স্পষ্ট নয়। যেমন: সে কখনো বা পথে অথবা পথে আবর্তিত আন্দোলন বা স্পন্দন সম্পর্কে পরিচিত হতে চায়। তখন সে তার ঘরের জানালায় উঠে থাকে যা অনেক সময় ভূমি থেকে অনেক উঁচুতে হয়ে থাকে ও সেখান থেকে পথের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে আসন্ন বিপদাশঙ্কাও সে পরিমাপ করতে পারে না।
এহেন পরিস্থিতিতে একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় যে ভুলটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলো তাকে ধমক দিতে বা চিৎকার করতে উদ্যত হওয়া; যা তাকে শাস্তির ভয়ে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করবে। অথচ সে এর সাক্ষাত বিপদের ভয়াবহ পরিণতির কথা পরিমাপ করতে পারবে না। ফলে এমন অনাহুত ঘটনা সংঘটিত হয়ে যেতে পারে যার আশঙ্কাই অভিভাবক করছিল। তবে এ পর্যায়ে একজন অভিভাবকের একান্ত কর্তব্য হলো-সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পথ চলা যাতে সে তাকে দেখতে ও অনুভব করতেও না পারে-তাকে উক্ত অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনা ও নিরস্ত্র করা। তবে হ্যাঁ যদি এরূপ সতর্কতা অবলম্বন সম্ভব না হয় বরং শিশুটি তাকে দেখে ফেলে এবং বুঝতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি বা বিরক্তি প্রকাশ উচিত হবে না। বরং নীরব সমর্থন প্রকাশ করে যাবে। যাতে সে আস্বস্ত ও পরিতৃপ্ত হয়ে সেটা ছেড়ে দেয়।
এরপর তাকে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করবে অথবা পরিস্থিতির অনুকূল কোন শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন: একটি শিশুর এ বয়সে গৃহস্থালী সামগ্রী ঘরের বাইরে নিক্ষেপ করার প্রবণতা থাকে, যা পথচারীর বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জিনিসগুলো ভেঙ্গে কিংবা হারিয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে সম্ভব হলে জানালার ওপর লোহার গ্রীল দেয়া যেতে পারে। যেখান থেকে জিনিষপত্র বা শিশু যেন বের হতে না পারে। এটা শুধুমাত্র একটা সহজ উদাহরণ। অভিভাবক যার ওপর নির্ভর করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে কখনো এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।

৪- কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা:
এ বিষয়ে শিশুর গবেষণার ক্ষমতা খুবই সীমিত। উত্তমরূপে শুধুমাত্র অর্থ অনুধাবন করার সামর্থ্যও সে রাখে না। অথচ এটা এমন একটি বিষয় যার প্রাচুর্য্য তাকে এমন তথ্যসমৃদ্ধ হতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে একজন অভিভাবক চিন্তা ও বুদ্ধির খোরাক যোগাতে চায়। সুতরাং অভিভাবকের কর্তব্য এ বয়সে তিনি শিশু ও উক্ত বিষয়ের মধ্যে এই পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন যে, শিশুটি ঐ অর্থ থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। তবে নেহায়েত প্রয়োজনের সময় কাছাকাছি অর্থের সহায়তা এবং শিশুর চতুপার্শ্বস্থ বাস্তব পরিবেশ থেকে উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যেমন: দূরত্ব ও সীমানার ক্ষেত্রে শিশুর আচরণ- তার সন্দেহের কারণে- তার বস্তুনিষ্ট মূল্যায়ন স্পষ্ট নয়। যেমন: সে কখনো বা পথে অথবা পথে আবর্তিত আন্দোলন বা স্পন্দন সম্পর্কে পরিচিত হতে চায়। তখন সে তার ঘরের জানালায় উঠে থাকে যা অনেক সময় ভূমি থেকে অনেক উঁচুতে হয়ে থাকে ও সেখান থেকে পথের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে আসন্ন বিপদাশঙ্কাও সে পরিমাপ করতে পারে না।
এহেন পরিস্থিতিতে একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় যে ভুলটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলো তাকে ধমক দিতে বা চিৎকার করতে উদ্যত হওয়া; যা তাকে শাস্তির ভয়ে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করবে। অথচ সে এর সাক্ষাত বিপদের ভয়াবহ পরিণতির কথা পরিমাপ করতে পারবে না। ফলে এমন অনাহুত ঘটনা সংঘটিত হয়ে যেতে পারে যার আশঙ্কাই অভিভাবক করছিল। তবে এ পর্যায়ে একজন অভিভাবকের একান্ত কর্তব্য হলো-সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পথ চলা যাতে সে তাকে দেখতে ও অনুভব করতেও না পারে-তাকে উক্ত অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনা ও নিরস্ত্র করা। তবে হ্যাঁ যদি এরূপ সতর্কতা অবলম্বন সম্ভব না হয় বরং শিশুটি তাকে দেখে ফেলে এবং বুঝতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি বা বিরক্তি প্রকাশ উচিত হবে না। বরং নীরব সমর্থন প্রকাশ করে যাবে। যাতে সে আস্বস্ত ও পরিতৃপ্ত হয়ে সেটা ছেড়ে দেয়।
এরপর তাকে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করবে অথবা পরিস্থিতির অনুকূল কোন শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন: একটি শিশুর এ বয়সে গৃহস্থালী সামগ্রী ঘরের বাইরে নিক্ষেপ করার প্রবণতা থাকে, যা পথচারীর বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জিনিসগুলো ভেঙ্গে কিংবা হারিয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে সম্ভব হলে জানালার ওপর লোহার গ্রীল দেয়া যেতে পারে। যেখান থেকে জিনিষপত্র বা শিশু যেন বের হতে না পারে। এটা শুধুমাত্র একটা সহজ উদাহরণ। অভিভাবক যার ওপর নির্ভর করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে কখনো এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা

📄 আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা


৫- আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা:
আধিপত্যের মোহ প্রাণীকুলের স্বভাবজাত প্রবণতা। মানব শিশু এ থেকে মুক্ত নয়। একটি শিশুর ক্ষেত্রে এ স্বভাবটির বিকাশ এভাবে হতে পারে, তার জন্য কিছু জিনিষ নির্দিষ্ট করে দেয়া যাতে অন্য কারো অংশীদারিত্ব থাকবে না। এটার যত্ন ও সংরক্ষণের দায়িত্বটাও তার থেকে আদায় করে নিতে হবে। তবে কখনোই তার এ স্বভাব সুলভ প্রবণতাকে পদদলিত করা ঠিক হবে না। পক্ষান্তরে সে যদি অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তখন অবশ্যই এটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে কোন জিনিসটা নিজের জন্য নির্ধারিত আর কোনটা অন্যের এ পার্থক্য করতে পারে না। সে কারণে তার কাংক্ষিত বস্তুটি যে কোন উপায়ে পেতে চায়। চাই সেটা চুরি, ছিনতাই, কিংবা এ জাতীয় কোন অবাঞ্চিত পদ্ধতিতেই অর্জিত হোক না কেন। এবং সেটা সে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।
এর অন্যতম কারণ মা-বাবার উদাসীনতা ও শিশুর ছেলেমানুষি। কারণ, সে নিজের দাবী বাস্তবায়নে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম নয়। অথবা এ জাতীয় আচরণ যে করে শিশুটি তার অনুসরন করে। যেমন: তার আগ্রহ থাকে যে, সে তার সঙ্গীদের মত হবে, যা তাকে উদ্বুদ্ধ করে এমনটি করতে। কখনো কখনো শিশুকে নিরেট ধারণা শিখানোর সংকল্প করা হয় যা আদৌ ফলপ্রসু নয়। কাজেই অভিভাবকের কর্তব্য হবে উপদেশ দানের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। তার সংকল্পে পূর্ব দৃঢ়তা এ বিষয়ের কার্যরূপটাকে শক্তিশালী করবে। উদাহরণত অভিভাবক যদি শিশুর প্রিয় কোন বস্তু লুকিয়ে রাখে, অতঃপর শিশুটি সেটা তালাশ করার পরও না পায়, তাহলে নিশ্চয়ই এটা তার মনোকষ্টের কারণ হবে। এরপর তাকে যদি বলা হয়, যার প্রিয় বস্তু চুরি অথবা কোন মাল ছিনতাই হয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই তোমার মত কষ্ট লাগে। এখান থেকেই সে চুরি ও ছিনতাই এর যন্ত্রণাটা নিজের ওপর দিয়ে অনুভব করে নিতে পারবে।

৫- আত্মম্ভরিতা ও স্বার্থপরতা:
আধিপত্যের মোহ প্রাণীকুলের স্বভাবজাত প্রবণতা। মানব শিশু এ থেকে মুক্ত নয়। একটি শিশুর ক্ষেত্রে এ স্বভাবটির বিকাশ এভাবে হতে পারে, তার জন্য কিছু জিনিষ নির্দিষ্ট করে দেয়া যাতে অন্য কারো অংশীদারিত্ব থাকবে না। এটার যত্ন ও সংরক্ষণের দায়িত্বটাও তার থেকে আদায় করে নিতে হবে। তবে কখনোই তার এ স্বভাব সুলভ প্রবণতাকে পদদলিত করা ঠিক হবে না। পক্ষান্তরে সে যদি অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তখন অবশ্যই এটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ একটি শিশু এ বয়সে কোন জিনিসটা নিজের জন্য নির্ধারিত আর কোনটা অন্যের এ পার্থক্য করতে পারে না। সে কারণে তার কাংক্ষিত বস্তুটি যে কোন উপায়ে পেতে চায়। চাই সেটা চুরি, ছিনতাই, কিংবা এ জাতীয় কোন অবাঞ্চিত পদ্ধতিতেই অর্জিত হোক না কেন। এবং সেটা সে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।
এর অন্যতম কারণ মা-বাবার উদাসীনতা ও শিশুর ছেলেমানুষি। কারণ, সে নিজের দাবী বাস্তবায়নে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম নয়। অথবা এ জাতীয় আচরণ যে করে শিশুটি তার অনুসরন করে। যেমন: তার আগ্রহ থাকে যে, সে তার সঙ্গীদের মত হবে, যা তাকে উদ্বুদ্ধ করে এমনটি করতে। কখনো কখনো শিশুকে নিরেট ধারণা শিখানোর সংকল্প করা হয় যা আদৌ ফলপ্রসু নয়। কাজেই অভিভাবকের কর্তব্য হবে উপদেশ দানের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। তার সংকল্পে পূর্ব দৃঢ়তা এ বিষয়ের কার্যরূপটাকে শক্তিশালী করবে। উদাহরণত অভিভাবক যদি শিশুর প্রিয় কোন বস্তু লুকিয়ে রাখে, অতঃপর শিশুটি সেটা তালাশ করার পরও না পায়, তাহলে নিশ্চয়ই এটা তার মনোকষ্টের কারণ হবে। এরপর তাকে যদি বলা হয়, যার প্রিয় বস্তু চুরি অথবা কোন মাল ছিনতাই হয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই তোমার মত কষ্ট লাগে। এখান থেকেই সে চুরি ও ছিনতাই এর যন্ত্রণাটা নিজের ওপর দিয়ে অনুভব করে নিতে পারবে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছচারিতা

📄 বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছচারিতা


৬- বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছাচারিতা:
নিজ ব্যক্তি সত্ত্বার দিকে শিশুর অত্যধিক ঝোঁক থাকে। বিভিন্ন হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে সে নিজের মতের ওপর একগুঁয়েমি, স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির অপেক্ষা অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রথম কথা অথবা কোন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কোন তৎপরতা চালাতে থাকে। এগুলোর কোনটাই প্রকৃত সমস্যা নয়। বরং মূল সমস্যা তো তখনই দেখা দেবে যখন কতক শিশু নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সীমা লংঘনের পথে চলবে- যা কখনো বা অন্যের ওপর অবিচার আবার কখনো জিনিসপত্র বিনষ্টের নামান্তর হবে, যদিও সেটা তার নিজের মালিকানাধীনই হোক না কেন।
আবার কখনো তা অন্যের ওপর স্বেচ্ছাচার অবস্থার ক্রোধ অথবা জাত্যাভিমানের কারণে হয়ে থাকে। যেমন: জিনিসপত্র ভাংচুর বা নষ্ট করা, তার ব্যবহার না জানা কিংবা বুঝার অসমর্থতার কারণেও হয়ে থাকে। অবশ্য এতেও তার কষ্ট লাগে বটে। এটা বেশির ভাগ প্রকাশ পায়, যে খেলনাসামগ্রীর ব্যবহার সে বুঝে না বা তার থেকে উপকৃত হতে সমর্থ রাখে না সেক্ষেত্রে। সুতরাং আপনি দেখতে পাবেন কিছুক্ষণ পর সে ওটা নষ্ট করছে বা ফেলে দিচ্ছে।
কাজেই একজন অভিভাবককে জানতে হবে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সূচনা যদিও নাকি প্রথম পর্যায় শৈশবে শিশুর দৈহিক দুর্বলতার দরুণ হয়েছে। কিন্তু এখনই তার সার্বিক প্রতিকার করা না গেলে সাধারণত শিশুর বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে থাকবে। এ প্রেক্ষিতে একজন অভিভাবকের প্রয়োজন হবে শিক্ষামূলক কর্মশালার।
সার সংক্ষেপ হলো, বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে শিশুকে স্বেচ্ছাচার ও সীমা লংঘনের অপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে গল্প-সম্ভার থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে। যেখানে সীমালংঘন ও অত্যাচারের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ের ওপর নির্মিত ভিডিও, ক্যাসেট অথবা কম্পিউটারের নির্বাচিত অনুষ্ঠানের সহায়তা নেয়াতেও কোন অসুবিধা নেই। যেখানে সীমালংঘনের ক্ষতি এবং তার অশুভ পরিণতি বাস্তব কর্মরূপে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

৬- বিদ্রোহ ও স্বেচ্ছাচারিতা:
নিজ ব্যক্তি সত্ত্বার দিকে শিশুর অত্যধিক ঝোঁক থাকে। বিভিন্ন হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে সে নিজের মতের ওপর একগুঁয়েমি, স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির অপেক্ষা অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রথম কথা অথবা কোন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কোন তৎপরতা চালাতে থাকে। এগুলোর কোনটাই প্রকৃত সমস্যা নয়। বরং মূল সমস্যা তো তখনই দেখা দেবে যখন কতক শিশু নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সীমা লংঘনের পথে চলবে- যা কখনো বা অন্যের ওপর অবিচার আবার কখনো জিনিসপত্র বিনষ্টের নামান্তর হবে, যদিও সেটা তার নিজের মালিকানাধীনই হোক না কেন।
আবার কখনো তা অন্যের ওপর স্বেচ্ছাচার অবস্থার ক্রোধ অথবা জাত্যাভিমানের কারণে হয়ে থাকে। যেমন: জিনিসপত্র ভাংচুর বা নষ্ট করা, তার ব্যবহার না জানা কিংবা বুঝার অসমর্থতার কারণেও হয়ে থাকে। অবশ্য এতেও তার কষ্ট লাগে বটে। এটা বেশির ভাগ প্রকাশ পায়, যে খেলনাসামগ্রীর ব্যবহার সে বুঝে না বা তার থেকে উপকৃত হতে সমর্থ রাখে না সেক্ষেত্রে। সুতরাং আপনি দেখতে পাবেন কিছুক্ষণ পর সে ওটা নষ্ট করছে বা ফেলে দিচ্ছে।
কাজেই একজন অভিভাবককে জানতে হবে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সূচনা যদিও নাকি প্রথম পর্যায় শৈশবে শিশুর দৈহিক দুর্বলতার দরুণ হয়েছে। কিন্তু এখনই তার সার্বিক প্রতিকার করা না গেলে সাধারণত শিশুর বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে থাকবে। এ প্রেক্ষিতে একজন অভিভাবকের প্রয়োজন হবে শিক্ষামূলক কর্মশালার।
সার সংক্ষেপ হলো, বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে শিশুকে স্বেচ্ছাচার ও সীমা লংঘনের অপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে গল্প-সম্ভার থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে। যেখানে সীমালংঘন ও অত্যাচারের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ের ওপর নির্মিত ভিডিও, ক্যাসেট অথবা কম্পিউটারের নির্বাচিত অনুষ্ঠানের সহায়তা নেয়াতেও কোন অসুবিধা নেই। যেখানে সীমালংঘনের ক্ষতি এবং তার অশুভ পরিণতি বাস্তব কর্মরূপে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00